'মহাচান' নিয়ে কলম ধরেছেন অনামিকা তেওয়ারী
লেখক সঞ্জীব ভট্টাচার্যের অণুগল্প সংগ্রহ "মহাচান" যেন দৈনন্দিন জীবনের রোজনামচা। এই সংকলনে ২৮ টি অনুগল্প ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের হলেও,সবকটির প্রেক্ষাপট আমাদের খুব চেনা। দৈনন্দিন জীবনের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা অভিজ্ঞতাকে লেখক সযত্নে একটি মলাটের ভেতরে সাহিত্যের আঙ্গিকে সাজিয়েছেন। প্রতিটি গল্পই ভাল লাগলো। তারমধ্যে সবচেয়ে ভাল লেগেছে “সিঁড়ি” এবং
“একটি না আত্মহত্যা”।
“ সিঁড়ি” গল্পে মানুষের বার্ধক্য, যৌবনের প্রতি আকর্ষণ ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে।
গল্পের প্রধান চরিত্র একজন বয়স্ক মানুষ, যিনি নিজের বয়সকে ভুলে যৌবনের অনুভূতিতে ভেসে যেতে চান।
তাঁর স্ত্রী মমতা বারবার তাঁকে বয়সের কথা মনে করিয়ে দেন।
তবুও তিনি সিঁড়ি দিয়ে নামার সিদ্ধান্ত নেন এবং তরুণী রিসেপশনিস্টের প্রতি আকৃষ্ট হন।
কিন্তু সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে তাঁর শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তিনি হাঁপিয়ে ওঠেন।
তরুণীটি তাঁকে সাহায্য করে বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করায়।
তখন তাঁর চোখে তরুণীকে ঘিরে থাকা আগের রহস্য আর থাকে না।
সিঁড়িটি এখানে শুধু ওঠানামার পথ নয়, জীবনের এক প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে।
সিঁড়ির ধাপগুলি যেন মানুষকে যৌবন থেকে বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়।
গল্পটি আমাদের নিজের বয়স ও শারীরিক সামর্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকার শিক্ষা দেয়।
“একটি না আত্মহত্যা “এই গল্পটির মূল বক্তব্য আত্মসম্মান, মানসিক আঘাত এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।
অরূপ সমাজের শিক্ষিত ও সম্মানীয় মানুষের আচরণে অত্যন্ত আহত হয়।
তবুও সে নিজের কষ্টকে দুর্বলতার কারণ না করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করে।
ঘটনাটি দেখায়, মানুষের কথায় মানসিকভাবে আঘাত পেলেও ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখা জরুরি।
নিজের সমস্যার সমাধান নিজেকেই খুঁজে নিতে হয় এবং প্রয়োজনে আপনজনের সাহায্য নেওয়া উচিত।
জীবন অত্যন্ত মূল্যবান—তাই সাময়িক কষ্ট বা অপমানের কাছে হার না মেনে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
এই গল্পটি আমাদের আত্মবিশ্বাসী, সহনশীল ও জীবনমুখী হতে শেখায়। ঠিক সেইভাবেই নিজের মানবিক বোধকে শেষপর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখে, বিবেককে আত্মহত্যার হাত থেকে রক্ষা করতে পারলেন গল্পের অন্যতম চরিত্র অরূপ।
পাঠক সমগ্র সংকলনটি পড়ে দেখলে এমন অনেকগুলি জীবনমুখী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে পারবেন, এই আশা রাখি।
0 Comments