জ্বলদর্চি

১৪৩৩ সুষমা মহান্তী স্মৃতি সম্মান

১৪৩৩ সুষমা মহান্তী স্মৃতি সম্মান 


প্রতি বছরের মতো এবারও জ্বলদর্চি শারদ উৎসবে প্রদান করা হবে 'সুষমা মহান্তী স্মৃতি সম্মান'। এবছর এই সম্মান পাচ্ছেন কবি প্রভাত মিশ্র এবং লেখক চিন্ময় দাশ। 

সুষমা মহান্তীর জন্ম ২৭.১১.১৯৫০ বাঁকুড়া জেলার বিক্রমপুর গ্রামে। শৈশবের অনেকটা সময় কেটেছিল বিহারের চাকুলিয়া শহরে (এখন ঝাড়খণ্ডের অন্তর্গত)। অল্প বয়সেই বিয়ে হয়ে যায়। স্বামীর নাম ভবতোষ মহান্তী। সেই জন্য প্রথাগত  পড়াশোনা বেশিদূর এগোয়নি। বয়স কম থাকার জন্য বিয়ের সঙ্গে সঙ্গে শ্বশুর বাড়িতে আসেননি, এসেছিলেন কয়েক বছর পর। তিনি ছিলেন তিন সন্তানের জননী। এক পুত্র ও দুই কন্যা।

সুষমা মহান্তী ছিলেন মাটির কাছের মানুষ। এই জটিল ও হিংসায় ভরা পৃথিবীকে তিনি চিনতেন না। চেনার চেষ্টাও করেননি। ঈশ্বরে বিশ্বাস ছিল তাঁর মজ্জায়, সেই সঙ্গে সনাতন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি ছিল অগাধ শ্রদ্ধা ও ভক্তি। প্রত‍্যহ জীবনযাত্রায় ন‍্যায় নীতি ও নিষ্ঠায় তিনি তাঁর বিশ্বাসে অটল এবং কর্তব্য পালনে একাগ্র ছিলেন। রন্ধন শিল্পে তাঁর বিশেষ নৈপুণ্য ছিল। মানুষকে রেঁধে খাওয়াতে ভালোবাসতেন। কম কথা বলতেন, সন্তানদের মানুষ করার ব‍্যাপারে অতিরিক্ত বকাবকি করতেন না। তাঁর চোখ সব সময় কথা বলত। সেই চোখের ভাষায় একদিকে ছিল শাসন, অন্য দিকে ভালোবাসার আশ্রয়।

নিজের মধ্যেই গড়ে নিয়েছিলেন এক মায়াভরা জগৎ -  এক আদর্শ মায়ের রূপ! ফুটে উঠত অপূর্ব জ‍্যোতি। যার সামনে অন্ধকার সরে যেত। তাঁর সাহচর্যে পরিচিত জনরা পেয়েছে পথ চলার আনন্দ ও আলো। সেই আলো নিভে গেছে ৯ই জুলাই ২০২৫।

তাঁর স্মরণে  ২০২৫ থেকে শুরু হয়েছে 'সুষমা মহান্তী স্মৃতি সম্মান'।  এই বছর 'সুষমা মহান্তী স্মৃতি সম্মান ২০২৬' প্রদান করা হবে জ্বলদর্চির শারদ অনুষ্ঠানে।
প্রভাত মিশ্র

জন্ম ৩০ অক্টোবর, ১৯৫০, অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার কাঁথি মহকুমার গোপালচক গ্রামে। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর এবং কলা ও বাণিজ্য বিভাগের প্রাক্তন ডীন। ১৯৭০-এর কাছাকাছি সময় থেকে এই কবির লেখা প্রকাশিত হতে থাকে বিভিন্ন পত্রিকায়। প্রকাশিত কবিতা গ্রন্থ: হাওয়া রাতের কথা (১৯৮২), পোকামাকড়ের দেশে (১৯৮৪), সাজানো সকাল (১৯৮৫), জলজননী (১৯৯৩), আড্ডাদুপুর সান্ধ্য মজলিস (যৌথ ১৯৯৩), ভোরে একদিন (১৯৯৭), অস্তসূর্যের মেয়ে আভা(২০০৩), পুরানো আখরগুলি (নির্বাচিত কবিতা সংগ্রহ ২০১৬), কবিতা সংগ্রহ (২০২২)।

প্রায় ৫৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলা কবিতাচর্চায় মগ্ন। এই গ্রন্থ গুলিতে যে কবিতা গ্রন্থবদ্ধ হয়েছে তার বাইরে থেকে গেছে অনেক কবিতা। কখনো তা প্রকাশিত হয়েছিল কোনো পত্রিকায় আবার অনেক কবিতা অপ্রকাশিত অবস্থায় থেকে গেছে। তাঁর কবিতা রচনা নিয়ে তিনি নিজে জানিয়েছেন: 'আমার কবিতা জীবনের সূচনাপর্বে এক অস্থির সময়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সমাজ, রাষ্ট্র, প্রেম, প্রতিবাদ - সব কিছুই তখন এক অস্থিরতার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছিল। অবশ্য আজও সেই অস্থিরতার ঘোর কাটেনি, কেবল তার চরিত্রের পরিবর্তন হয়েছে। এই অস্থিরতাই এসেছে আমার কবিতায় - পর্বে, পর্বান্তরে। তবে যে কাব্যভাষায় আমার অভিজ্ঞতাগুলি, অনুভবগুলি প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম বা চেয়েছি - তা আমি আজও অর্জন করতে পেরেছি বলে মনে হয় না। এই কারণে কবিতাগুলির দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বারে বারে আমার মনে হয়, লেখাই হল না এই জীবনে আমার।' যে কোনো বড় কবিরই এই অতৃপ্তি থাকে। সেই অতৃপ্তি নিয়েই তিনি এখনো কবিতা লিখে চলেছেন।

চিন্ময় দাশ

কংসাবতী, কেলেঘাই আর হলদি নদীর ত্রিবেণী সঙ্গমের দক্ষিণ অববাহিকায়। নন্দীগ্রাম থানার গড়বেড়িয়া গ্রামে ১৯৪৭ সাল ২২ ফেব্রুয়ারি চিন্ময় দাশের জন্ন। কলেজ শেষ না করেই ভূমি বিভাগে চাকরিতে চলে যান। পরে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম.এ.করেছেন। চাকরির সুবাদে পুরুলিয়ার আদিবাসী জীবন দেখেছেন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। মেদিনীপুরে ফিরে এসে দীর্ঘ সময় কেটেছে লোক ও জীবন চর্চায়  -  ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ সংগ্রহে। লৌকিক দেবদেবী সমীক্ষা। গ্রামীণ মেলা, লোকগল্প সংগ্রহ ইত্যাদি বিষয়ে। বহু প্রবন্ধ লিখেছেন লোকজীবন নিয়ে। ২২টি জমিদার বংশাবলী, ৮০টি গ্রাম বিবরণী প্রকাশ করেছেন। ছড়া এবং দেশ-বিদেশের গল্প সাজিয়েছেন ছোটদের জন্য। অনুবাদ কর্মেও সিদ্ধ হস্ত। বিগত ২০১৪ সাল থেকে অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার প্রাচীন মন্দির সমীক্ষা এবং গবেষণায় যুক্ত আছেন। সমীক্ষা করেছেন ৮৫০ এর বেশি মন্দির। স্থানীয় সব্যসাচী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে সাড়ে ৭ শতর বেশি আর্টিকেল। মন্দির সমীক্ষায় এখন সারা জেলার গ্রাম-গ্রামান্তরে এই ৮০ বছর বয়সী তরুণের নিরন্তর পরিক্রমা। প্রকাশিত গ্রন্থ: 'দূরদেশের লোকগল্প', 'মন্দির-স্থাপত্য সংকলন' ইত্যাদি।

প্রিয় দুই লেখককে সম্মানিত করার সুযোগ পেয়ে জ্বলদর্চি গর্বিত। 

🍂

Post a Comment

1 Comments