বিবেক দাস
গন্তব্য
ফেরার পথে
হঠাৎ একদিন কালবৈশাখী ঝড়ে
অচেনা এক ছাদের আশ্রয়ে দাঁড়িয়ে মনে হলো
এই ঝড় এই বৃষ্টি,
সব কিছু ভুলে
এই যে ক্ষণিকের থেমে যাওয়া;
এ বড্ড জরুরি।
জীবনের সব বাধা অতিক্রম করতে নেই।
বিলম্ব হলেও
মানুষ তার নিজস্ব গন্তব্যে ঠিক পৌঁছে যায়।
শৈশব
লোডশেডিং হলে
আমরা ছোটরা সমস্ত পাড়া ঘুরে
পৌঁছতাম গুনা দাদুর বাড়ির উঠোনে।
দাদু বিছিয়ে দিতেন স্নেহ মাখা ছেঁড়া চাটাই।
কুঁড়ে ঘর, অশ্বত্থ গাছ, তুলসী তলা
প্রশস্ত উঠোনে ঝলমল করত জ্যোৎস্নার মায়া;
রূপকথার গল্প শোনাতেন দাদু।
রাক্ষষ খোক্কস, রাজা রাণী, হাতি ঘোড়া
যুদ্ধ শেষে দুয়ো রাণীকে জিতিয়ে দিয়ে
আমাদের হাতে তুলে দিতেন গুড় বাতাসা।
অশ্বত্থ গাছের তলে প্রদীপ জ্বালিয়ে
তার ডালে একটি করে লাল সুতো বাঁধত দাদু।
জিজ্ঞাসা করলে বলত
"এখানে বেঁধে রাখছি তোদের।"
আজ মায়াময় জ্যোৎস্না হারিয়ে
স্মৃতির চৌকাঠ পেরিয়ে, দেখি
দাদু তার ছেঁড়া চাটাই ও অশ্বত্থ গাছ নিয়ে
ফিরে গেছে রূপকথার দেশে; তার প্রশস্ত উঠোন
ঘিরে ফেলেছে উত্তর পুরুষ। অথচ
আমাদের শৈশব বাঁধা আছে অশ্বত্থের ডালে।
স্নিগ্ধ আশ্রয়
ভিজে হাওয়ায় ভেসে আসে পাকা ধানের ঘ্রাণ।
কার্তিকের মাঠে, নিভু নিভু বিকেলে
মিশে আছে কামরাঙা আলোর সিম্ফনি।
নরম হিম ছুঁয়ে যাচ্ছে জল জমিন
প্রান্তিক তালসারি; ঘরে ফেরা পাখিদের ডানা।
অরবে ঝরছে সোনাঝুরি।
হেমন্তের এই নিবিড় পাঠ,
চোখের তারায় এ স্নিগ্ধ আশ্রয়;
কবি সংসারী না হলে বাড়ি ফিরবে না।
3 Comments
Very nice poem.
ReplyDeleteThoughtful
ReplyDeleteঅসাধারণ
ReplyDelete