আগমনী কর মিশ্র
ঘড়িটা চলছে
মোহনিদ্রা ভাঙছে সময়ের।
নপুংসক ঘড়িটা আবার চলতে শুরু করেছে।
এতদিন একটা জমাট খনির ভিতর ঘুমিয়েছিল সে।
তারই প্রেত-গুহার ওপর দিয়ে
গড়িয়ে গড়িয়ে সরে গেছে
কত শত পঙ্গু হিসেব নিকেশ।
কাতারে কাতারে নরককীট বিশ্রী ভাবে
দাঁত দেখিয়ে ঘুরেছে ফিরেছে।
তাদের সকলের দাঁতের গোড়া ক্ষয়ে গেছে ভীষণ
তবুও তারা ঘুমন্ত ঘড়ির
হাঁটুর ওপর দিয়ে ...বুকের ওপর দিয়ে
হোঁচট খেতে খেতে এগিয়ে গেছে...
কোথায় ?
জন্নতের দুয়ার আটকে হরতাল করতে।।
অলিখিত
আকাশটা অনেক বড়।
তুমি তোমার মতো করে যে কোন দিকে উড়ে বেড়াও।
চোখ খোল
দেখ, চারদিকে সবাই উড়ে বেড়াচ্ছে
একদম নিজের মতো করে উড়ছে ওরা।
কেউ কাউকে ধাক্কা দিচ্ছে না
কারুর রাস্তায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না।
তুমি কেন এত উতলা হও ?
নিজের রাস্তা তৈরি করো
নিজের মতো করে চলো।
অন্যকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা ছাড়ো ।
কেউ তোমার পথে তোমার পেছন পেছন চলবে—
এসব অবান্তর ভাবনা কেন?
ছাড়ো,
এসব ভাবনা ছাড়ো।
আর যদি নিতান্তই স্বভাবদোষে এসব ছাড়তে না পারো
তবে নিশ্চিন্ত ছাদের ঘরে শীতঘুম দাও।
আকাশ যে তোমার নয়, এটা মেনে নেওয়া তোমার জন্য ভালো।
অনাহার
একটা নিতান্ত অনাহারের ভিতর ঢুকে যাচ্ছি ক্রমশ।
খাচ্ছি
দাচ্ছি
ঘুমোচ্ছি
কাজ করছি।
তবু
তবুও কোথাও একটা হাঁ করা ক্ষিদে যেন গিলে খাচ্ছে।
যেন অসীম আকাশের মতো তার ব্যাপ্তি
যেন সে বলে চলেছে
'যতই পালিয়ে বেড়াও না কেন, তোমার মুক্তি নেই।'
দুটো হাত আছে,
হাতে হাত রাখার জন্য বেশ কয়েকটা মানুষ আছে।
সেই মানুষদের ভালোবাসা আছে।
অভিমান
রাগ
সব আছে।
এসবই তো চাই আমরা!
পাওয়াগুলো মারাত্মক পরিপূর্ণ।
তাও
অনাহারের দহন মোচড় দিয়ে ওঠে বারবার।
কিসের অনাহার বুঝি না।
মন কি ?
আচ্ছা,
তাকে মেপে দেখবার কোন
থার্মোমিটার
বা
ব্যারোমিটার
বা
অন্য কোন মিটার পাওয়া যায় ?
খুব মাপতে ইচ্ছে করে।
মেপে দেখতে চাই অনাহারে ঝুঁকে পড়ার আসল কারণ!
0 Comments