জ্বলদর্চি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ২২৬

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ২২৬
সম্পাদক - স্বাগতা পাণ্ডে 
from 116th floor of worlds 5th tallest building in Shenzhen.  চিত্র গ্রাহক: ডাঃ প্রবোধ পঞ্চাধ্যায়ী

সম্পাদকীয় 

ছোট্ট বন্ধুরা, 
কেমন আছো সবাই,  আজ তোমাদের সাথে একটা মজার খেলা খেলবো। কি গো সবাই রাজি তো ? সবাই কম বেশী নিজের বা বাড়ির বড়দের মোবাইল একটু-আধটু ব্যবহার করেই থাকো, সে পড়াশোনা,  খেলা, অবকাশ যাপন যে কারণেই হোক না কেন। আজ আমরা মা দূর্গা র একশো আটটা নাম নিয়ে খেলা করবো। আচ্ছা আমি প্রথমে কয়েকটা বলছি, ভবপ্রীতা, আর্যা, আদিপ্রভা, ত্রীনয়না, পিনাকধারিনী, চিত্রা,  চন্ডঘন্টা, মহাতপা, চিত্তরূপা, চিতি, প্রত্যয়া, চঞ্চলা, ভব্যা, অশ্বী, মধুক্ষমা, স্বাধ্বী। এবার বাকিটা তোমরা আমাকে মেসেজ করে জানাবে। আমি কিন্তু গুগল এর সাহায্য নিয়েছি, তাই তোমরাও নিতে পারো। তোমাদের সয়য় কিন্তু আসছে শনিবার পর্যন্ত। ভালো থাকো সবাই। 
ইতি তোমাদের স্বাগতা দি।

"চল বেড়িয়ে আসি"
অরূপ কুমার পাল 

সকালে ঋক, বললে দিদি-
      "পড়লে এবার ছুটি,
চল বেড়াতে সবাই মিলে 
       দক্ষিণের ওই উটি,
নীল পাহাড়ের উপর গিয়ে 
       খানিক মজা লুটি।

অথবা চল পাশের জেলায় 
        দীঘা মন্দারমণি,
আগের থেকেই জানি সাগর 
        মহানন্দের খনি,
বাতাস জোরে বইলে শুনবি 
        ঢেউয়ের সুরের ধ্বনি।"

জানায় অলি - "চল মানালি
        বরফ দেখে আসি,
জষ্টি মাসেও চারদিকেতে 
        তুষার রাশি রাশি,
নীল আকাশের নীচে পাহাড় 
        পাইন পাশাপাশি।

কুল কুল করে বইছে নদী 
        বুকে শীতল ধারা,
চাইবি জলে পা ভিজাতে 
        বলবি দিদি দাঁড়া,
দেখলে হাজার তুলবি ছবি 
        দৃশ্য নজর কাড়া।

জানিস রে ভাই এই দেশেতে 
        হাসে শশী অরু,
আছে সবুজ বন বনানী 
        ঊষর শীতল মরু,
চাইলে আরো দেখতেই পারি 
        ফুল পাখি ও তরু।"
দেবপূর্বা সুরাল । ষষ্ঠ শ্রেণী । বিদ্যাসাগর শিশু নিকেতন পশ্চিম মেদিনীপুর 
           
গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ 
উনচল্লিশ পর্ব

রতনতনু ঘাটী

মনের ভিতর কথাটা শুধু জমেই থাকল না নবনীতস্যারের। তিনি লোক খুঁজতে লাগলেন, কাকে প্রথম এই ফাইনাল খবরটা দেওয়া যায়। মুকুলকৃষ্ণবাবু তো সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে গেলেন লোকন দাসের বাড়ি। এই খবরের একমাত্র সমঝদার মানুষ তিনিই। ফোন করে একবার ডি এম কর্ণার্জুন পালকেও খবরটা দেওয়া দরকার। 

   হেডস্যার তাঁর অফিস ঘরের জানলা দিয়ে বাইরে তাকালেন উদাস চোখে। এখন সবে দুপুর জ্বলজ্বল করছে আকাশে। অনেকটা দূরে তিথিবকুল গ্রামের অমূল্য ধরবাবুর বড় পুকুরের পাড়ের লম্বা তালগাছের দঙ্গলে বাবুইপাখিদের কবে থেকে নতুন করে ওড়াউড়ি শুরু হয়েছে। বর্ষা কবেই বিদায় নিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ওদের বাসা বানানোর কাজে মন দেওয়ার কথা। এবার তা সম্ভব হয়নি। বর্ষা যাই-যাই করেও কতদিন থেকে গেল এবার। ওরা এখন তাই এবার নতুন করে বাসা সারাইয়ের কাজে মন দিয়েছে। এর পর ডিম পাড়ার ব্যস্ততা শুরু হবে ওদের মধ্যে।

   হেডস্যারের মনটা আনমনা হয়ে উঠল লোকন দাসের কথা ভেবে। মুকুলবাবু গিয়েছেন লোকনের দিদি পারুলমণির অসুখের খোঁজ নিতে। মনে-মনে ভাবলেন, তাঁরও তো একবার লোকনের বাড়ি যাওয়া দরকার। ছেলেোটা অত ভাল ক্রিকেট খেলে। একদিন লোকন বৈভব সূর্যবংশার মতো নাম করবে হয়তো। ওতে তো আমাদেরই সাপোর্ট দেওয়া দরকার। যেই ভাবা অমনি তক্ষুনি ঘণ্টিদাদু সম্মতিচরণ দাসকে কলিংবেল বাজিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নিলেন। তক্ষুনি ঘণ্টিদাদু আসতে হেডস্যার বললেন, ‘সম্মতিচরণ, আমি বেরোচ্ছি! লোকন দাস আজ স্কুলে আসেনি। দেখি, লোকনের দিদির জ্বর হয়েছিল। এখন কেমন আছে? ওই জন্যেই হয়তো লোকন দিদিকে একা ঘরে রেখে স্কুলে আসতে পারেনি! স্কুলের কোনও দরকার পড়লে বা কোনও স্যার আমাকে খুঁজলে বোলো, আমি লোকনের বাড়ি থেকে এক্ষুনি ফিরে আসছি।’

   ঘণ্টিদাদু ঘাড় নেড়ে সায় দিল। হেডস্যার রুম থেকে বেরিয়ে সাইকেলটা নিয়ে রওনা দিলেন লোকনের বাড়ির দিকে। মাঠে নামতেই দেবোপমস্যারের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। দেবোপমস্যার স্কুলের মাঠের শেডের কাজটা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নজর করছিলেন। হেডস্যার জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী গো দেবোপম, কাজ ঠিকঠাক হচ্ছে তো?’

   দেবোপমস্যার উচ্ছ্বসিত গলায় বলে উঠলেন, ‘আমাদের মাঠের শেডের কাজ নিয়ে কিছুই বলার নেই স্যার! মনোজ চাকলাদারের কাজ নিয়ে সত্যিই কিছুই বলার নেই। এই তো উনি নির্ধারিত দিনের আগেই শেডের কাজটা সেরেই ফেললেন প্রায়।’

   হেডস্যার ঘাড় উঁচু করে শেডের মাথার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন, ‘আমি এখন লোকনের বাড়ি যাচ্ছি। ফিরে এসে তোমার সঙ্গে একটা জরুরি বিষয় নিয়ে কথা বলব।’

   ‘কেন স্যার, লোকনের বাড়ি যাচ্ছেন কেন? ওর দিদির কি বাড়াবাড়ি হয়েছে নাকি? আজ তো লোকন স্কুলেও আসেনি?’

   ‘মুকুলকৃষ্ণবাবু লোকনের বাড়ি গেছেন খানিক আগে। আমি ভাবলাম, আমারও একবার লোকনের দিদিকে দেখতে যাওয়া দরকার, কী বলো? ওইটুকু ছেলে, একা সংসারটাকে কেমন করে সামলাচ্ছে?’

   ‘আপনি তা হলে লোকনের বাড়ি থেকে ফিরে আসুন। আমি আপনার জন্যে অপেক্ষা করছি।’

   হনহন করে তক্ষুনি হেডস্যার সাইকেলের প্যাডেলে চাপ দিয়ে বেরিয়ে গেলেন। সেদিকে তাকিয়ে দেবোপমস্যার মনে-মনে ভাবলেন, হেডস্যার ফিরে এসে মনে হয় আমাদের স্কুলের ফাইনাল ক্রিকেট ম্যাচ নিয়েই আলোচনা করবেন। ফাইনালের কথা মনে হতেই দেবোপমস্যারের মুখটা খুশিতে ঝলমল করে উঠল। হুট করে তিন বছর আগে যেদিন এই স্কুলে জয়েন করেন। সেই দিনটার কথা তাঁর মনে পড়ে গেল। হেডস্যার তাঁর রুমে ডেকে সেদিন বলেছিলেন, ‘দেবোপম, তোমাকে ‘স্যার’ বলব না। যদিও তুমি আমাদের স্কুলের ম্যাথসের টিচার। তবু তোমাকে নাম ধরেই ডাকব। শুনেছি, তুমি কলেজে পড়ার সময় নাকি ক্রিকেটের ভীষণ ভক্ত ছিলে? একসময় কলকাতার ইডেনে ক্রিকেট দেখতে ছুটে যেতে বাড়ি থেকে। তোমার বিষয় যদিও অঙ্ক, কিন্তু তোমাকে আমার দরকার স্কুলের গেমস টিচারের কাজে। ভালই হল, তোমারও খেলা নিয়ে একটা ভালবাসা তো আছেই। তুমি কাগজে-কলমে আমাদের গগনজ্যোতি স্কুলের ম্যাথসের টিচার হিসেবেই জয়েন করো! কিন্তু তোমাকে স্কুলের গেমস টিচারের ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি আমাদের স্কুল কমিটির মিটিংয়ে এই প্রস্তাবটা বলে নেব। তুমি আমাদের স্পোর্টস টিচার। দরকার হলে অঙ্কের ক্লাসও নেবে না এমন নয়। কিন্তু আমাদের স্কুলে একটা ভালমতো ক্রিকেট টিম গড়ে তোলার ইচ্ছে আমার অনেক দিনের। জানি না কবে পারব। দেখি তো চেষ্টা করে। তুমিও আমার পাশে থাকো।’

🍂

    সেই থেকে ছাত্রছাত্রীরা সকলেই জানে, দেবোপমস্যার আসলে স্পোর্টস টিচারই। মনের মতো চাকরিটা হয়েছে তাঁর, এই আনন্দে গগনজ্যোতি স্কুলের স্পোর্টেটাকে ঢেলে সাজিয়েছেন তিনিই। 

   তারপর বছর ঘুরতে না-ঘুরতেই একদিন স্কুল কমিটির মিটিংয়ে মনের কথা খুলে বললেন হেডস্যার। সকলে এক কথায় সায় দিয়েছিলেন। স্কুলের সেক্রেটারি বিজয়মাধব সেন শুধু জানতে চাইলেন, ‘তা হলে নবনীতস্য্যার, আমাদের স্কুলের জন্যে একজন স্পোর্টসের টিচার চেয়ে পাঠাতে হবে নবান্নে? কেননা, আমাদের স্কুলে তো স্পোর্টসের কোনও টিচারই নেই?’

   তখন হেডস্যার গর্বের গলায় বিজয়মাধববাবুকে বললেন, ‘সেকথা কি ভাবিনি স্যার? আমাদের নতুন ম্যাথসের টিচার দেবোপম দত্তকে অলিখিত ভাবে স্কুলের টোটাল স্পোর্টসের দায়িত্বটা দেব। আপনি জানেন না হয়তো, দেবোপমস্যার কলেজে পড়ার সময় ক্রিকেট খেলতেন জেলার টিমে। সময়-সুযোগ পেলে দৌড়ে চলে যেতেন ইডেনে ক্রিকেট খেলা দেখতে। ওঁর সঙ্গে আমি এ নিয়ে কথাও বলেছি, দরকার হলে উনি অঙ্কেরও ক্লাসও নেবেন। কিন্তু ভাবছি, স্পোর্টসের টোটাল দায়িত্ব ওঁকেই দিয়ে দেব।’

   মিটিংয়ে সকলে একবাক্যে রাজি হয়ে গেলেন। মনে-মনে ভীষণ খুশি দেবোপমস্যার মুখ নিচু করে বসেছিলেন। তাঁর মুখে চলকে পড়ছিল চাপা আনন্দের স্রোত।

   এতক্ষণ পরে দেবোপমস্যারের যেন সম্বিৎ ফিরে এল। তিনি মাঠের মাঝখান দিয়ে হেঁটে তাঁর ক্রীড়াকৌমুদী রুমের দিকে এগিয়ে গেলেন। চেয়ারে বসতে-না বসতে ক্লাস এইট এ-সেকশানের রোরো মজুমদার এসে বলল, ‘মে আই কামিং স্যার?’

   ‘এসো, এসো! বলো কী বলবে?’ মুখ তুলে জানতে চাইলেন দেবোপমস্যার।

   ‘স্যার, আজ কি আমাদের ক্রিকেট কোচিং হবে বিকেলে?’

   ঘাড় নেড়ে স্যার বললেন, ‘হ্যাঁ। আর তো ফাইনাল ম্যাচের বেশি দেরি নেই? আমাদের স্কুলের মাঠের শেডের কাজও প্রায় শেষ। স্টেডিয়ামের সাইনবোর্ডও টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। সকলকে বলে দাও, আজ থেকে কোচিং শুরু হবে।’

   লাফাতে লাফাতে ছুটল রোরো মজুমদার এই সংবাদটা সকলের কাছে ঘোষণা করে দিতে। স্কুলে যেন আচমকা আনন্দের দমকা বাতাস বইতে শুরু করে দিল।

   মনোজ চাকলাদার তাঁর কাজের লোকদের নির্দেশ দিলেন, আজ যেন দুপুরের ভিতর ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা কাঠকুটো, লোহালক্কড় সহ একধারে গুছিয়ে ফেলা হয়। তিনি তাঁর ম্যানেজার বীরূপাক্ষকে ডেকে বলেও দিলেন, ‘দেখো রীরূপাক্ষ, আজ বিকেল থেকে স্কুলের মাঠে ক্রিকেট কোচিং শুরু হবে। দেবোপমস্যার সেরকম কথাই বললেন। তুমি মাঠটাকে কোচিং চলার উপযুক্ত করে পরিষ্কার করে দাও। ভাল করে দেখে নিও, কোথাও যেন লোহালক্কড় বা পেরেকের টুকরো যেন পড়ে না থাকে। তা হলে ছেলেমেয়েদের পায়ে ফুটলে সে এক মহা বিপত্তির কাণ্ড হবে।’

   লোকনের জন্যে দেবোপমস্যারের মনটাও খানিক বিচলিত হয়ে উঠল। গোটা ক্রিকেট টিমের মধ্যে লোকনই সেরা। ওকে খানিকটা সাপোর্ট দিতে পারলে একদিন লোকন অনূর্ধ্ব-সতোর ক্রিকেট টিমে চান্স পেতে পারে। অবশ্য তার অনেক দেরি আছে। একবার মুকুলকৃষ্ণবাবুকে বলে রাখতে হবে লোকনের ব্যাপারে। লোকন ক্লাস টেনে উঠলেই তোড়জোড় শুরু করে দিতে হবে। তার আগে লোকনকে কলকাতায় ছোটখাটো ক্লাবে খেলতে হবে। সেরকম ক্লাবের সঙ্গে মুকুলকৃষ্ণবাবুর চেনাজানাও আছে। কিন্তু এত গরিব বাড়ির ছেলের পক্ষে কলকাতার ক্লাবে গিয়ে ক্রিকেট খেলা খুব সহজ কথা নয়। তার আগে এবার স্কুলের ফাইনাল ম্যাচে ভাল খেলুক লোকন। তখন সুপারিশ করতে হবে লোকনের জন্যে।

   মাঠ সাফাই করে দিলেন মনোজ চাকলাদের ম্যানেজার বীরূপাক্ষবাবু। দেখে পছন্দ হল দেবোপমস্যারের। হঠাৎ দূরে বড় রাস্তার দিকে চোখ চলে যেতে দেবোপমস্যার দেখতে পেলেন, হেডস্যার বাঁইবাঁই করে সাইকেল চালিয়ে স্কুলের দিকেই আসছেন। উনি এসে মাঠে দেবোপমস্যারের সামনে সাইকেল থেকে নেমে পড়লেন।

   দেবোপমস্যার উৎসাহী গলায় বললেন, ‘স্যার, আমি মনোজচাকলাদারের ম্যানেজারকে দিয়ে মাঠটা পরিষ্কার করিয়ে নিয়েছি। ভাবছি, আজ থেকে আমাদের মাঠেই ক্রিকেট কোচিং শুরু করে দিই? অনেক দিন হল ছেলেমেয়েরা ক্রিকেট প্র্যাকটিস করার সুযোগই পায়নি।’

   ‘আমিও তো তোমাকে সে কথাই বলব বলে ভেবে তাড়াতাড়ি লোকনের বাড়ি থেকে চলে এলাম!’

   ‘আমি স্কুলের ছেলেদের মাঝে রোরো মজুমদারকে দিয়ে খবরটা পাঠিয়ে দিয়েছি!’

   তারিফ করে হেডস্যার দেবোপমস্যারকে বললেন, ‘তুমি যে আমার কত ভাবনা এগিয়ে দাও! আমি মনে-মনে ভরসা পাই। বেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছ।’

   হেডস্যারের কথার ফাঁকে দেবোপমস্যার জিজ্ঞেস করলেন, ‘কেমন দেখলেন পারুলমণিকে? লোকন কাল-পরশু থেকে স্কুলে আসতে পারবে তো?’

   ‘আমি লোকনকে বলে এসেছি, ও যদি দিদিকে একা বাড়িতে রেখে স্কুলে না-ও আসতে পারে, তবে একবার করে অন্তত বিকেলে ক্রিকেট কোচিংটা অ্যাটেন্ড করতে আসে।’

   ‘সে কথা আমিও বলতে যাচ্ছিলাম স্যার।’

   ‘তবে লোকন প্র্যাকটিসের একটা ব্যবস্থা শুরু করেছে। সকালের দিকে ওর দিদি যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন লোকন বিজনডিহি গ্রামের ক্রিকেট মাঠে ওর গ্রামের বন্ধুদের নিয়ে ঘণ্টা দুয়েক ক্রিকেট প্র্যাকটিস করে বাড়ই ফেরে। ওখানে লোকনের মুখ থেকে শুনলাম, নয়ন, বিজয়, হারান দাস আছে ওদের গ্রামের ক্রিকেট টিমে। আর আছে বিল্টু কামিলা। ছেলেটা নাকি দারুণ ব্যল করতে পারে। আর দারুণ একজন ব্যাটার আছে, অনিল দুবে। সে নাকি লোকনেক সঙ্গে টক্কর দেয়! এদের সঙ্গে প্র্যকটিস ভালই হবে বলে মনে হয়। এর মধ্যে আমি পারুলমণিকে বলে এসেছি, সে যেন তার রান্নার লোক রাধাপিসিকে বলে ব্যবস্থা করে, যে ক’দিন লোকন বিকেলে আমাদের মাঠে কোচিংয়ে আসবে, সে ক’দিন রাধাপিসি যেন বিকেল থেকে সন্ধে পর্যন্ত লোকনের বাড়িতে এসে থাকে। এর জন্যে সে যদি কিছুটা বেশি টাকা চায়, আমি বলে এসেছি, সেই বেশি টাকা আমিই তাকে দিয়ে দেব! কী, ঠিক কি না?’

   দেবোপমস্যার তারিফ করলেন, ‘আপনি ভেবে ভেবে ঠিকই করেছেন স্যার। এর মধ্যে পারুলমণি সেরে উঠবে নিশ্চয়ই। আজ কি লোকন প্র্যাকটিসে আসবে?’

   হেডস্যার বললেন, ‘আমি তো আসতে বলেছি লোকনকে। মনে হয় আসবে! ওর ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসা এত গভীর যে, ও কিছুতেই কোচিংয়ে ছুটি করতে চায় না!’

   হেডস্যার কথাক’টি বলে তাঁর রুমের দিকে রওনা দিলেন। দেবোপমস্যার চললেন তাঁর ক্রীড়াকৌমুদী রুমে। কিছুদিন প্র্যাকটিস হয়নি। উইকেট, ব্যাট সব গুছিয়ে রাখতে লাগলেন। ততক্ষণে হেডস্যারের রুম থেকে ডাক এল দেবোপমস্যারের। ঘণ্টিদাদু সে খবর দিয়ে চললেন, মাঠের দিকে। মনটা তাঁরও আজ আনন্দে থইথই। তিনি মনে-মনে ভাবলেন, আজ বিকেল থেকে স্কুলের মাঠ আবার ভরে উঠবে। আর তো ক’দিন পরেই স্কুলের ফাইনাল ক্রিকেট ম্যাচ!

(এর পর ৪০ পর্ব)


মনের পাঠশালা 10

দীপালি সাহু 

গতসংখ্যায় তোমাদের অর্ণব এর সমস্যার কথা বলেছিলাম।এবার অর্ণব এর সমস্যার ব্যাখ্যায় আসি। 

Carl Rogers' Self-Concept থিওরি

আমেরিকান সাইকোলজিস্ট  Carl Rogers-এর মতে, Self-Concept হলো, একজন ব্যক্তি নিজের সম্পর্কে কী ভাবেন, অনুভব করেন এবং বিশ্বাস করেন তার সমষ্টি।

অর্থাৎ, "আমি কে?" এবং "আমি কেমন মানুষ?"—এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই Self-Concept গঠন করে।

Self-Concept-এর তিনটি প্রধান অংশ

1. Real Self (Actual Self)বর্তমানে অর্ণব যেমন -

পরীক্ষার আগে ভয় পায়

কখনও ভুল করে,

সবসময় আত্মবিশ্বাসী নয়'

সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারে না' 

ধৈর্য কম।


2. Ideal Self

অর্ণব যেমন হতে চায় 

সবসময় সফল হবে

কখনও ভুল করবে না

সবাই তাকে প্রশংসা করবে

সবার চেয়ে সব সময় এগিয়ে থাকবে।

3. Self-Worth (Self-Esteem)

নিজের মূল্য সম্পর্কে ধারণা।অর্ণব কি নিজেকে সম্মান করে ?

 সীমাবদ্ধতা সহ নিজেকে গ্রহণ করে ?

যাদের Self-Worth বেশি, তারা নিজেদের ভুল-ত্রুটি সত্ত্বেও গ্রহণ করতে পারেন।

Congruence vs Incongruence

Congruence

যখন Real Self এবং Ideal Self কাছাকাছি থাকে।

ফলাফল:  আত্ম-গ্রহণ,আত্মবিশ্বাস, মানসিক শান্তি, সুস্থ সম্পর্ক

Incongruence

যখন Real Self এবং Ideal Self-এর মধ্যে বড় ব্যবধান থাকে।

ফলাফল:  উদ্বেগ, হতাশা,  আত্ম-সমালোচনা, কম আত্মমর্যাদা

এখানে  Rogers-এর মূল বার্তা

"Good psychological adjustment is achieved when the concept of the ideal self is not too different from the concept of the real self."

এই ব্যবধানের মাত্রা প্রত্যেকের আলাদা আলাদা।  এছাড়াও এমন ঘটনার অনেক কারণ থাকতে পারে। মোটিভেশনাল স্পিকার প্রত্যেকের ব্যক্তিগত গল্প জানেন না।

তাই অন্য কারুর সাথে তুলনা নয়। তুলনাটা নিজের সাথে নিজের।কারণ আত্মবিকাশের পথ প্রতিযোগিতার নয়।এটি আত্ম-গ্রহণের পথ।যদি ব্যবধান, চলার গতি, পদ্ধতি বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন এমন মানুষের কাছে সাহায্য নিতে দ্বিধা নয়। সব্বাই পুজো ভালো কাটাও । এক আকাশ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা  নিও।


ক্যুইজ ২৫ 

১. দক্ষিণ আমেরিকার "মাচু-পিকচু" শহর কারা তৈরী করেছিল? 

2. "পার্থেনন" সৌধ টি কোথায় তৈরী হয়েছিল? 

৩. "সিলভার সিটি ওফ ইন্ডিয়া" কোন শহরকে বলা হয়? 

৪. ভারতের বৃহত্তম জেলা কোনটি? 

৫. মেদিনীপুর এর পাথরার প্রাচীন মন্দিরের স্থাপত্য শৈলী তে মূলত কি ধরনের কাজ দেখা যায়? 

গত সপ্তাহের ক্যুইজ এর উত্তর: 

১. নারায়ণ দেবনাথ 

2. পাঠশালা সর্বসাধারণের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র। টোল সংস্কৃত ব্যাকরণ, সাহিত্য, দর্শন শেখানোর উচ্চ তর শিক্ষার কেন্দ্র । 

৩. শিবপ্রসাদ রায় 

৪. সিয়াচেন হিমবাহ 

৫. ফ্যালকন


Post a Comment

0 Comments