জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা /শান্তা কর রায়


গুচ্ছ কবিতা 
শান্তা কর রায়


 দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় বিশ্বাস

সবটাই রঙের আবেগ হতে পারতো
বনসাই লাগানো ঘরটায় শিস দিচ্ছে অজগর।
পুরোহিত এসে তোমার কাছে হাত পেতেছে
যথারীতি কণ্ঠ প্রতিবাদী হতে চায়।
চরিত্রগুলো রৌদ্রস্নাত রাধা।

ব্রহ্মাস্ত্র প্রবৃত্তির দিকে এগিয়ে যায়,
অন্তরীক্ষে সবুজ সূর্য যন্ত্রণায় এড়িয়েছে পরিচয়,
জলদেব বিকর্ণের আহ্বান শোনে।
একমুঠো বাঁশি হাতে দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় বিশ্বাস।
অনন্ত হাত দিয়ে সুর
নীরবতা লেবুফুলের গন্ধে বিভোর।

লাগাম চিনেছে অলস রোদ,
তবুও সম্পর্ক-দরজা বন্ধ করতে ভুলে যায়
অবেলায় হঠাৎ বাগানের ক্যাকটাসে ফুল ফোঁটে।
ফেরিওয়ালির চোখদুটো পুকুর হয়েছিল গ্রীষ্মদুপুরে।

সিরাজের শহরে মিথ্যা হাজারদুয়ারীর গল্প শোনা মেয়েটা
রামধনু ঘেরা শিসমহল।
কেটে নেওয়া আঙুলের পাশে ছবি তোলার ঈশারায়
বুকে নেয় নদীর জল,
আর কতটা গ্রাস করলে কবরের নিচের গুনগুন শোনা যেত!

কিভাবে কেড়ে নেওয়া স্বাধীনতায়
অবলীলায় স্বেচ্ছাচারী জীবনগুলো কুল খোঁজে।
গোলাপের লাল রঙের থেকেও গাঢ়
হাজার দুয়ারের গল্প মৃদু সুরে গান গায়।
ঝর্ণায় প্রসারিত হাত সমুদ্র স্বাদ দিতে অপারগ
অস্পষ্ট মেঘলায় কেউই সুস্বাদু কবিতা লেখেনি।


🍂
অপেক্ষার কবরে বকুল

ছায়াটাই চিনিয়ে দিচ্ছে
হাড়ের টুকরোয় লেখা সমবেত প্রতিজ্ঞায় পুঁতে দেওয়া বিষ।
ছিনিয়ে নিচ্ছে প্রতিদিন যুদ্ধ অহংকার,
কিছু বলার আগে ছায়াটায় রক্তচক্ষু হয়।

টেবিলের নিচের চুম্বকটাই লিখিয়ে নেয় সূর্যবলয়।
ভাগ্যের সমাধিটুকু কৃষ্ণচূড়ায় ভিজবে,
মঞ্চে উঠতে হবে,
ছাল ছাড়ানো পিছনের বোধ জ্বলজ্বল করবে জিভে,
প্রত্যাশায়।

এডিট করা পাদুটো অবতারের আবহাওয়া বোঝে
ভিতরে সতর্ক হলেই নতুন ব্রিজের উদ্বোধন।
অতিরিক্ত লম্বা অনুপ্রবেশ চিনে নেয়
বিড়ালের মতো শুয়ে ছিল অপেক্ষার কবরে,
কোনোদিনও এখানে বকুল ফুটবে না।

শূন্যতায় লুঠ হওয়া ভালোবাসা,
সলতে ভিজিয়ে রাখে নাচের ভঙ্গিতে।
সোনাঝুরি দূরতম দ্বীপ হলে
মুহূর্ত নষ্ট করে পাপ ভর্তি কলসে স্থাপত্য।


কোল পাততে ভুলে যাই

গজিয়ে ওঠা ঘাসের মতোই
শরশয্যার মৃত্যুকে পাহাড়া দেওয়ার কৌশল।
ওরা চিনে যায় নক্ষত্র শাখা-প্রশাখায়।

দেখানো হয়নি কেমন কাটলো সেদিন!
সেলফিতে তিলোত্তমা অথবা মেকি গন্ধ।
দেখানো হয়নি কেমন করে হাত পেতেছি।
গানে গল্পে স্নেহে শাসনে,
আর মনে এসেছে অনেক প্রশ্ন।

সেই সময় পেটের ভিতর আদরে নড়েছিল যে,
কোল পাততে ভুলে যাই সারাক্ষণ।
ঘুরঘুর করি কি যেন বলা হয়নি কৈফিয়ত হিসেবে
অন্যেরা পাশে বসলে তৃপ্ত সুখটা মনে পড়ে


পৌঁছনোর আগেই বাটোয়ারা

উঠোনওয়ালা বড় ঘরে বিয়ে
তুলসিতলায় প্রদীপ,
কোলাব্যাঙের সংসারে মা লক্ষ্মী,
একটা শঙ্খ, ঝাঁপি, কোষাকুষি আর আসন।
এটুকুই আশীর্বাদ হিসেবে পাওয়া
বাকি সব বাটোয়ারা হয়েছে পৌঁছনোর অনেক আগে।

কয়েক বছর যেতে না যেতেই জানতে পারলাম
গাড়িবারান্দা থেকে দূরে চাতাল ভাঙার সুর।
ভিটে ছাড়তে হল,
না ভাঙ্গার অঙ্গিকারে,লক্ষ্মীকে ভিটেছাড়া করিনি সেদিন।
সে আছে প্রতিমুহূর্তের অনন্য আন্দোলনের সাক্ষী হয়ে তেমনি।

ইচ্ছেপূরণ আপনি হয়,
সব রাখা থাক
পিছু ডাকে ছায়া
জয় করে অলক্ষ শ্বাস।

Post a Comment

0 Comments