Posts

Showing posts from May, 2020

তৈমুর খান

Image
তৈ মু র  খা ন  বিশ্বাসের ক্রম সন্ধ্যায়  যন্ত্রণার কার্নিশে জ্যোৎস্না গড়ায় চাঁদ  আমি কল্পনাদের উহ্য রাখি  না বাজুক আজ তাদের হাতের চুড়ি  ক্ষুধার্ত আত্মা জ্যোৎস্নার আমানি চেয়ে চেয়ে  মধ্যযুগের কোনো অস্পষ্ট কাঠবেড়ালি  যার শব্দে কোনো শস্য নেই  নিষ্ফল মন্বন্তরে নিরুচ্চার কাতরানি  কোন্ আলো আর কোন্ ধর্মোৎসবে যাবে সে?  সবই নষ্ট ঈশ্বরের পদাবলী, ঘৃণিত আবেগ  ঝড়ের দাপট সহ্য করে ঘনঘোর বর্ষণ ক্লেশে  নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে অটুট সংবেদনায়  ভিখিরি যুগের সংকটে আবিল ছায়ার দহন পাক খায়  নিষিক্ত জ্বরের ঘামে ক্লান্ত উল্লাস  কোথাও পৌরুষ নেই শুধু বিহ্বলতা কাঁপে  মানুষের কাছে চূর্ণ মানব, ক্ষয়িষ্ণু বীর্য  অযোগ্য আদিম প্রশ্রয় পড়ে আছে — এক তস্তরি উত্তরণ অথবা চুমুকে চুমুকে নিগূঢ় আত্মজোশ  আজ বিশ্বাসের ক্রম সন্ধ্যায় যদি নামে  !  বিদ্যুতের দেশ  সে একটি বিদ্যুতের দেশ  বিস্ময় চিহ্নের পরে আর কী চিহ্ন হতে পারে  ভাবতে ভাবতে একটি বিশ্বস্ত হ্রদ পেরিয়ে যাই  পুরোনো যুগের কোনো আয়নায় নিজেকে দেখি  চেনা যায় না যদিও তবু পূর্ণচ্ছেদ বসিয়ে রাখি  পূর্ণচ্ছেদের ইহজাগতিক করুণা বিলাস  বিস্ময় চিহ্নের বিন্দুটি ঠিক স

সায়ন

Image
সা য় ন বাঁধনের খেলা খোলা মাঠের উপর কয়েক মুহূর্ত  শুয়ে থাকতে দাও, বৃষ্টি এসে ধুয়ে দিক আমার শরীর জোড়া কাদা আর বিষ, অন্ধকার গা ভরা খোলা চামড়ার  চাদর থাকুক, নখের লাল রঙ খুঁজতে দরজা ভেঙে দিই অন্ধ ঘুমের ভিতর প্ল্যাটফর্মের শেষ ট্রেন তোমার অপেক্ষা নিয়ে চলে যায়, মেঘের ঘাটে ডুবে আছে পা  খোলা পিঠ পেটে কামড়ানো চাঁদ তোমার চোখে কান্নানদীর জল মুখ দেখতে পারিনি, তার আগেই  বুকের কাছে পাপ বেঁধে নিলে তুমি ঈশ্বর পাথর , হাতের স্পর্শে তবুও শিখার আলোয় শিশির ফুটে থাকে আগুনজ্বলা অতল শরীর দিয়ে পেটে গেল অন্ন, শাক,আনাজ ছাল মাংস খুলে স্নান করাল দেশ সংবিধান মানুষের জীবন তথ্যের মধ্যে থাকে তার হৃদয় দেওয়ালে থাকে মানচিত্র ভারতবর্ষ একটা মহাকাব্যের নাম সুষুম্নাকাণ্ডের সঙ্গে ছন্দের বারান্দায় পাখির জলপান বিস্কুটরং সকাল জনতা কার্ফু যুদ্ধের মাঝে আমরা খাওয়া দাওয়া  শেষ করে ফেলেছি খুনিদের পাশ কাটিয়ে বিছানা করে নিয়েছি নিরিবিলি ছিন্ন মাথার পাশে ভোর হবে খোলা চোখের পাশে সূর্যের পুরনো আলো ঘর আবার ঝড় হবে শক্ত করে ঘর বাঁধো গুপ্তধন লুকিয়ে রাখো মাটিতে একদিন ওটাই দেশ হয়ে যাবে সবাই মিলে পাহারা দিই আকাশ

তুলসীদাস মাইতি / পর্ব -২

Image
হাজার বছরের বাংলা গান।। ২ পর্ব তু ল সী দা স   মা ই তি জয়দেবের গীতগোবিন্দ : বাংলা বৈষ্ণব গানে প্রবেশ বাঙালি কবি জয়দেব নিজেই তাঁর সংগীতসমূহকে 'মধুরকোমলকান্ত পদাবলীং' ও 'মঙ্গলউজ্জ্বল' গীতি বলে অভিহিত করে বাংলা গানের একান্ত আত্মীয় প্রসঙ্গটি তৈরি করেছেন। শুধুমাত্র এইটুকু কারণেই নয়, বহুকৌণিক তাৎপর্যে জয়দেবের 'গীতগোবিন্দ'কে বাদ দিয়ে বাংলা গানের সূচনাপর্বের আলোচনা অসম্পূর্ণ থাকে। বাংলা গান তার নিজস্বতা নিয়ে যখন প্রকাশিত হতে উন্মুখ তখন বাঙালি মননে ধর্মীয় জট। বৌদ্ধ ধর্মের অবশেষ, হিন্দু ধর্মের প্রবল নিয়ম, কোথাও কোথাও জৈন আবহ। সর্বোপরি তুর্কি আক্রমণের ফলে মুসলিম সংষ্কৃতির অভিঘাত। শিল্প সংগীত সাময়িক হকচকিয়ে গেলেও থেমে থাকল না। বাংলা গান একটা নতুন পথে এগোতে থাকলো। হিন্ধু ধর্মের ভেতর শৈব ও শাক্ত ধারার সঙ্গেই  চর্যাগানের অব্যবহিত পরবর্তী বাংলায় বৈষ্ণব সংষ্কৃতি  প্রবল হয়ে উঠলো। রাধাকৃষ্ণকেন্দ্রিক প্রেমভাবের অনুষঙ্গ সমকালীন সংগীতে রসসঞ্চার  করলো। জয়দেব-পূর্ব পর্যায়ে  বৃহৎ বাংলাদেশেই রাধাকৃষ্ণ লীলার অনুশীলন গভীরভাবেই ছিল। এই বিষয়ক বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছিল। শ্রীমদ্ভাগবত ও

গোলাম রসুল

Image
গো লা ম  র সু ল ঝড়ের মানচিত্র অন্ধ চিত্রকরের আঁকা এই দুঃসময় দেয়ালে টাঙানো ছবি থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে আর একটি ভয় গোল হয়ে ঘুরছে সূর্যের চারদিকে রাস্তায় নদীর ছায়া এখানে  কদিন আগে প্লাবন ছিলো  বেশ বোঝা যায় দু ধারের বাড়িগুলো  ভিন্ন গ্রহের পূর্বজন্মের মেঘ এসে ঘুরে বেড়ায় তারপর তুমুল বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে চলে গেলো একটি এ্যাম্বুলেন্স ঝড়ের মানচিত্র জীবনের অনেক আসবাবপত্রের মধ্যে ঠাণ্ডা মাথায় সন্তানের গায়ে হাত রাখলো পিতা ঠিক যেমন একটি রোগমুক্ত পৃথিবী আমাদের ভবিষ্যৎ একটি বালক নক্ষত্র   মনীষীদের মূর্তি গুলো চেয়ে রয়েছে পৃথিবীর বিরলতম সময় আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে আসছে সূর্য পর্বত উড়ছে বিপদ সংকেত আর সমুদ্র মুড়ে নিচ্ছে তার  ভিজে পালক সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে এবার মর্মর মূর্তি গুলো বেজে উঠবে মোলায়েম পাথরের ওপরে ভেসে উঠবে অনেক দূরের সুর কে গাইছে অমরত্বের গান ছোট একটি পিয়ানোয় আলো জ্বলছে সন্ধ্যাতারা যা আমাদের সান্ত্বনার মতো আঙুলের সিঁড়িতে বসে  আমি আকাশ দেখছিলাম যে আকাশ আমার নয় গর্ব বোধের মতো মেঘ  আর  কোথায়ও বৃষ্টি হচ্ছে মনুষ্যজাতির   কান্না  রাত্রি  চমকে দিচ্ছে প্রকাণ্ড গাছে

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
হ রিৎ  ব ন্দ্যো পা ধ্যা য়  শতাব্দী প্রাচীন বাড়িতে শতাব্দী প্রাচীন বাড়িতে মাঠের রাত্রির মতো শুয়ে আছে গোপন বিড়াল কালো পথে এসেছিল  কালো ঘাড় বেয়ে উঠেছিল বসতি প্রদেশে তবু কেউ দেখেনিকো  পথে পথে পায়ে পায়ে পড়েনিকো দাগ মরুঝড় থেমে গেলে ক্ষতে ক্ষতে ফুলে ওঠে রোগের প্রদেশ শুধু এইটুকুতেই পড়ে ফেলা যায় কোনো একদিন দুপুরের মাঝে উঠেছিল ঝড় ঝড় থেকে পেড়ে নেবে জল ----- এই পথে হেঁটেছিল যারা তারা সব চোখ বুজে নিয়েছিল ভেবে বিনা রক্তপাতেই বুঝি দেখে নেওয়া যাবে রক্ত মাংসের ভিন্ন ভিন্ন সংসার মাটির বুকে যারা কান পেতেছিল  শিশিরপাতের শব্দের মতো মাংসল পায়ের যাতায়াতে তারা জেনেছিল, কালো কাপড়ের ভেতরের রাজ্যে ব্যক্তিগত জীবনের স্বৈরাচারী আঁশটে গন্ধের রহস্য সমতলের নিম্নগতির সকালে নদীপথ জুড়ে জড়ো হয়ে থাকে মাংস রক্তের খণ্ড খণ্ড কেলাসিত রূপ নববধূর ঘোমটার আড়াল থেকে মুহূর্তের সকালের মতো আকাশের রুগ্ন আলোয়  দেখা যায় শতাব্দী প্রাচীন বাড়ির পাণ্ডুর রূপ।  দুঃখঘর মাটির যাবতীয় দুঃখঘর আমাদের ব্যর্থতা সাতসকালে গান গেয়ে যে মাঝি চলে গেছে  আলোর দুয়ার দিয়ে ঝরনা রোদের পাতায় পাতায় তাকে দেখেনিকো কে

তুলসীদাস মাইতি

Image
তু ল সী দা স  মা ই তি বাবার দেখানো পথ বাবা বলতেন বাঁদিকে চলো, হাঁটতাম পুব থেকে উত্তরে। শোভাগড়ের হাট ,গোলদিখির মাঠ পেরিয়ে কাজুবাদামের বাগান।।  অর্ধবিস্মৃত জনপদের ভাঙা দেউল ডানদিকে রেখে পলাশতলা ঘাট। আবহমান জলে ভেসে যাচ্ছে স্মৃতি।বাবার দেখানো পথে  আবছায়া বৃক্ষরা  এখন আমার বিহ্বল বন্ধু,কেউ বা সৌখিন পরিজন। বসন্ত এলে একটা বিশেষ পাখির দল কৃষ্ণচূড়ার মগডালে খানিকটা জিরিয়ে অদৃশ্য হয়ে যেত। ইচ্ছেমতো এদিক ওদিক হাঁটতে হাঁটতে রাজারপুকুরের জলে স্নান। বাবার অঙ্গের স্পর্শ লেগে আছে সেই  অতল  দৃশ্যের অবগাহনে।  বেসরকারি রাস্তার ধুলোয় রহস্যময় গোধূলি। তাঁর ছায়া ই বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে এতকাল। সড়কে এখন বিজলিবাতি। অন্ধকার  গভীর না হলে তাঁকে আর খুঁজে পাই না। মৃত্যুর ঘুম নেই রাত্রি নামে।নগর পেরিয়ে কালিন্দি শ্মশানঘাট, পাশে ছায়াদীঘি ।থৈ থৈ কান্নার কোলাহল অন্ধকারে মিশে যায়। ছোট ডিঙাটি এখনো ছুঁয়ে আছে মুগ্ধগোধূলির ছায়া। পারাপার শেষে মাঝিদের সুগভীর ঘুম। অদূরে শস্যখেত।একা-চাঁদের সাথে খেলা করে বইছুট রাখালের বাঁশি। আবার আসিবে সে,এই বিশ্বাসে, সুদীর্ঘ ভ্রমণ শেষে চলে গেছে সাহসী ডানার পরিযায়ী দল। আহ্নিকগতি

মধুমিতা মহাপাত্র

Image
ম ধু মি তা  ম হা পা ত্র  মহান দেশসেবক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় দেশ সেবার মহান ব্রত নিয়ে ভারতমাতার যে কৃতিসন্তানগণ আবির্ভূত হয়েছিলেন রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় তাঁদের মধ্যে অন্যতম।যিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর জনজীবনের নানাবিধ সমস্যাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করে, তার সমাধানে প্রয়াসী হয়েছিলেন। সেবাব্রত এর সূত্র ধরে তাঁর সাময়িক পত্র সম্পাদনায় মনোনিবেশ।শেষ পর্যন্ত সাময়িকপত্র সম্পাদনার জগতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সমর্থ হয়েছিলেন।দেশপ্রেমিক, সাহিত্য রসিক, শিল্পানুরাগী রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় আজীবন যে মহান আদর্শকে অনুসরণ করেছিলেন তা বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বহুপ্রতিভাধর রামানন্দ ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দের ২৯শে মে বাঁকুড়া জেলার এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা বাঁকুড়া জেলার জেলর শ্রী নাথ চট্টোপাধ্যায় মাতা  হরসুন্দরী দেবী।তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী রামানন্দ প্রথমে টোলে ভর্তি হলেও বাঁকুড়ার একটি বাংলা স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করেন।তারপর বাঁকুড়ার ইংরেজি স্কুল থেকে ১৯৮৩ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।সেন্ট জেভিয়ার্স থেকে এফ. এ ও সিটি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি

শম্ভু রক্ষিত স্মরণে শুভঙ্কর দাস

Image
শু ভ ঙ্ক র  দা স  কবি শম্ভু রক্ষিত  শ্রদ্ধা ও স্মরণে   মাটির পৃথিবীতে যিনি শুধু কবিতার দরজা খুলেছিলেন, মহাপৃথিবী হয়ে উঠবেন বলে! "আমি ইন্দ্রিয়ের করতালি শুনতে পাই না কেবল শব্দের,কেবল ভাষার ভাষাহীনতায় রিক্ত চতুর্দিক কেবল শব্দ,কেবল ভাষার জন্য সব চিহ্ন অর্থহীন নিরন্তর দুয়ার বন্য বরাহের মত ঈশ্বরের পৃথিবীতে কোন লোভ দম্ভ নেই আমার" কবিতার জন্য এমন পবিত্র  আগুনে উচ্চারণ একমাত্র কবি শম্ভু রক্ষিত করতে পারেন। তিনি কবিতার ভেতর চাল-ডাল আলু-তরকারী, মাথার ওপর ছাদ আর লজ্জা ঢাকবার কৌপিনটুকু সংগ্রহ করতেন। আর তাও যদি না সংগ্রহ করতে পারতেন, তখন নিজের নামের যে সুগভীর অর্থ, তাতেই সুস্থিত থাকতে পারতেন। অর্থাৎ  'শম্ভু'র অাভিধানিক 'শম্' মানে শান্তি, চিত্তের স্থিরতা আর 'ভূ' হল ভূমি বা ভূমা। তাতেই আত্মস্থ থাকা। এই আত্মস্থ হওয়ার মন্ত্র বা মন্দির কী? তা হল কবিতা। কবিতাই কবি শম্ভু রক্ষিতের রক্ষাকবচ। কর্ণ যেমন হস্তে তা পরিধান করেছিলেন তেমনই শম্ভু রক্ষিত নিজের অন্তরে তা বেঁধে রেখেছিলেন। আমৃত্যু কোনো প্রলোভনে বা প্রচারের লালসায় তা খুলেননি! সেই রক্ষাকবচের দরুন এমন এক বলয় নির

নিমাই জানা

Image
নি মা ই  জা না ডাইমেনশনাল ও চাঁদ প্যারাসিটামলের মতো দুপুর  ঘুমিয়ে পড়ে ভেজা ঘামে  শরীর জুড়ে বৈতরণী খেয়া-পারাপার  সাঁকোর নিচে --, দাঁড়িয়ে আছে শিউলিপুর আর  কালিদহের ইজেল , অ্যাবস্ট্রাক্ট আবেগের ধূলো এসে লাগে ঠোঁটে ধোঁয়া ওড়ে পাশের চিতায় তিলক মাখে প্রতিটি ঈশ্বর দাগে--- ইন্দ্রিয় জুড়ে ঈশ্বর পুরুষ খেলা করে কাঁধ থেকে নেমে আসে অশরীর কলস জল বিবর্ণ সুখের শ্রী জুড়িয়ে আছে চাঁদ কৃষ্ণচূড়ার দুঃখ মানেই থ্রি ডাইমেনশনাল  বেঁচে আছি নিঃশেষ দুপুর এক  একটি শরীর থাকে এক একটি অ্যাপসে  যুবতী মেপে নিচ্ছে উষ্ণ দুপুর  অ্যান্ড্রয়েড পারদে।  অ্যাসপিরিন আমরা সবাই শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভুগছি  পেন্ডুলাম মেপে নেয় হৃদপিন্ডের মাপ কালো কালো প্রিয় জন  মাথার সারি এগিয়ে আসে, আমার দিকে , তাদের মায়া নেই মোক্ষ নেই দাবী নেই পরপার কথা মুখে মুখে, অতৃপ্ত কথা শরীরজুড়ে। মৃত্যুর স্বর গন্ধ ছায়ার মত চাঁদ  অপূর্ণতার যন্ত্রণা লিখে চলে স্বর্গসুখে  মায়েদের সুখ ঝুলে থাকে স্যালাইনের মতো। অদৃশ্য নিরাময় পালক বুকে গুঁজে নিয়ে চারদেওয়াল হয়ে যায়, মৃত্যুর আগেই জেনে যায় সকল মৃত্যুর কথা, চার দেওয়াল জুড়ে  এসপিরিন, স্টের

অলক জানা

Image
অ ল ক জা না আগাছা আমিও একদিন অন্তরের স্পর্শতা পেলে  তোমার খোঁপায় চাঁদ গুঁজে দিতে পারি যিনি প্রথম নাম দিয়েছিলেন তুমি দিন তুমি রাত্রি ----- সেই ভাবেই ভাগ হয়েছিল ফসল এবং আগাছার মধ্যে তুমি কি কোনদিন আগাছার শস্য খেয়েছ কী বিচিত্রময় আস্বাদ কত অবহেলা, মমতা মাকিয়ে তৈরি করি এক একটি শস্য-সন্তান তোমাদের পক্ষপাতিত্বের অঙ্গার হয়ে জানিনা আর কতদিন পুড়ব। অবিশ্বাস্য মুখটাকে বিশ্বাস করা যায না কখন যে কি বলে বসে---- গতকাল ওমুক বাবুকে শালা বলতেই একটা ঠাস করে চড় বসিয়ে দিলেন। হাতটাকে বিশ্বাস করা যায় না কখন যে কি করে বসে--- সেদিন চোখ ঘষে লাল হওয়ায় অনেক টাকার ঔষধ খেতে হ'ল। পা-টাকে বিশ্বাস করা যায় না কখন যে কি মাড়িয়ে বসে---- হঠাৎ দেখি বোমায় পড়েছে তার গতি আছাড় খেয়ে পড়ল মাটিতে। চোখটাকে বিশ্বাস করা যায় না কখন যে কি দেখে বসে--- রাস্তায় ধর্ষিতা নারী বিবস্ত্রে কাঁদছে সূর্যের আলোয় খুন হচ্ছে শয়ের পর শ মানুষ। বন্ধু রোদ পোড়ায় ঘাসের কাঁথা মাটি রক্ষা করে স্বাগত শেকড় ধোঁয়া হয়ে উড়ে যায় সবুজ জীবন দহন থেকে ব্রহ্ম ধোঁয়া----- ফাটল মাটির রচনা মোছে বৃষ্টি পার্বণ।  বিভাব তোমার সাক্ষাতে পুনর্জন্ম আমার কথা

শুভঙ্কর দাস

Image
শু ভ ঙ্ক র  দা স  এক ভুবনের ভার ধানপুরুষ বলে যা ভেবেছ, তা আসলে মাটিতে ঘর্মাক্ত পায়ের ছাপ।  নারীছায়া বলে যা ভেবেছ, তা আসলে মাটিগর্ভের সবুজ আঁচল। জন্ম আর মৃত্যুর মাঝে যদি ঘটে যায় চক্ষুদান তবে দেখতে পাবে মাঠে মাঠে শস্য নয়,প্রণাম ফলে আছে! প্রেম চোখের জলে গাছ হয় না,কিন্তু ছায়া হয়। সেই ছায়ায় যাকে ভালো লাগে,তাকে প্রেমপ্রস্তাব দাও সফল যদি নাও হও,মনে রেখো,প্রত্যাখ্যানও এক ধরণের সম্পর্ক। কী এমন ক্ষতি হৃদয় যেখানে হারে, সেভাবে দেখলে,ছাদে যাওয়ার দরজাটাও প্রেমিকা হতে পারে! বাঁশি ভিক্ষে করে বাঁশি হয়তো পাওয়া যেতে পারে, সুরটি নয়। সুরের জন্য বুকের শ্বাস লাগে। চুম্বনেও তাই। বাঁশি যদি বাজাতেও নাও পারো অন্তত বাঁশিটি হয়ে ওঠো,অশ্রুতে,অনুরাগে। সুখফকির জন্ম থেকে কান্না পেয়েছ তাই সত্যিকারের হাসতে দেখলে দিনটা সেই হাসি ছুঁয়ে ছুঁয়ে আলো হয়ে যায়! বুদ্ধ বললেন,জগতের দুঃখ দূর করব। মহম্মদ বললেন,মানুষকে ভালোবাসলেই দুঃখ দূর হয়। শ্রীরামকৃষ্ণ বললেন,দুঃখ থাকলে লীলাখেলা পোস্টাই হয়। ভাতে কান্না, রাতে কান্না, হাতে কান্না অতি চমৎকার!  মা বললেন,আঁচলে দুঃখের পাশে একটু জায়গা করে শুয়ে পড় বাবা গল্প শোন,রূপকথার

স্বনির্বাচিত কবিতাগুচ্ছ : চার

Image
মৃণালকান্তি দাশ      https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_61.html শঙ্খশুভ্র পাত্র          https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_88.html শ্যামল জানা          https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_92.html বিশ্বজিৎ কর         https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_34.html সুভান                  https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_67.html অসীম ভুঁইয়া          https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_55.html মনোতোষ আচার্য    https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_58.html ঔরশীষ                https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_23.html দুঃখানন্দ মণ্ডল       https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_44.html ভবেশ মাহাতো      https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_3.html

স্বনির্বাচিত কবিতাগুচ্ছ : পাঁচ

Image
সন্দীপ কাঞ্জিলাল       https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_50.html আশরাফুল মণ্ডল       https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_24.html অর্ণব পণ্ডা              https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_65.html লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল        https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_25.html বেবী সাউ             https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_5.html সিদ্ধার্থ সাঁতরা        https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_26.htm l কার্তিক মাইতি        https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_62.html অরিন্দম প্রধান       https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_78.html খুকু ভূঞ্যা             https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_59.html অমৃতা ভট্টাচার্য       https://jaladarchi.blogspot.com/2020/05/blog-post_56.html

দুঃখানন্দ মণ্ডল

Image
দুঃ খা ন ন্দ  ম ণ্ড ল  দাগ ৩৩ মৃত্যু কি এমন ভাবে আসে! আমার জানা নেই। আমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে ঘুম আমি স্বপ্নে দেখি মাথার সামনে মৃত্যুদূত অপেক্ষারত ঘুম ছাড়ছে না, ভোরের আলোও ফুটেনি এখনো একটু ঘুমতে দাও। কত কথা স্বপ্নে তোমার সাথে মাথার সামনে অপেক্ষা করছে আত্মাবাহক। জীবনযাপন শেষ। সময় ধার দেওয়ার কোনো সুজন নেই দেহটি ঘুমিয়ে আছে। ভোরের আলো পড়ছে জানালা দিয়ে। এখন আর চেনা যায় না আবছা মুখটা।  অনেক দিন ধরে জলের গ্লাসটা খালি পড়ে আছে।   দাগ ৩৪ খোঁজ পায়ে এগিয়ে যাই আমার ছেলেবেলার দিকে কি যেন বাঁধা আছে আমার শরীরে খুব ভারী হয়ে আসছে ওরা খেলছে ওদের বইগুলো হওয়ায় উড়ছে আমি খুঁজছি, কি যেন খুঁজছি, ওরা খেলছে রোদটা কমে আসছে। দাগ ৩৫ ছোটবেলার কথা খুব ছোটবেলার স্কুলে যাই ক্লাস করি টিফিনে মাঠময় ছুটে বেড়াই তারপর বাড়ি ফিরে আসি বিকেলের ক্লান্তি নিয়ে। তরুলতা। আমার বান্ধবী। প্রথম ভালোলাগা যেমনটি হয়; তুই আমার সই হবি?  কেটে গেছে দিন কেটে গেছে সময় ছোটবেলা আর ছেলেবেলা দুই পেরিয়ে বড়বেলায়  আমার গাঁয়ের কথা আমার গাঁয়ের মেয়ে তরুলতা যুবতী হয়েছে আমি যুবক। হাজার চেষ্টার পর খোঁজ মিলে নি কে ভাঙল সম্পর্কে ব