অরুণ পাঠক


অ রু ণ  পা ঠ ক 


আয়ু

আয়ু উড়ে যাচ্ছে,  কতগুলো ডানা তার, ছায়া ছায়া  ডানা শরীরে মেঘের  স্রোত,  বৃষ্টিহীন ধোঁয়া ধোঁয়া । সময় তো একটাই তার কোনও মায়াচোখ নেই, কাজলের সর্বস্বান্ত আমরাই স্বচ্ছ জলে আত্মার প্রতিমূর্তি চাই । প্রাণ তুমি থেকো না আঁধারে; তোমার বিদ্যুতে ভস্মীভূত রেখে দৌড়চ্ছে ক্রিয়া। আমার রাস্তার পাশে গোছানো গুল্মের মতো হাসি, ধুলো খাই, আলোর পাগলপারা খেলা হৃদয়ের জানালা বন্ধ করে দেয় । সাহস তো মৃত্যুতে লাগে, বাকি রাস্তা সহ্য করে যাই। ছায়া কাঁপে,  নিজের মুখের দিকে দেখি---- ঈশ্বর প্রকৃতি হয়ে যান। আমার অজস্র অজানা থেকে এ জগৎ নিজস্বতা গড়ে। আমার অস্তিত্ব থেকে একে একে খসে যায় ছায়া ছায়া বোধের পালক, প্রজাপতি। 


আনুগত্য

সন্তের মতন কিন্তু সন্ত নও তুমি
কবির মতন কিন্তু কবি নও তুমি
আগুনে বিশ্বাস রেখে একটি প্রজন্মের
এই মুহূর্ত পার হওয়া কীভাবে সম্ভব?

আমাদের অনুকৃতি অস্পষ্ট এমন
দিব্য উন্মাদের পায়ে শিকল পরানো
আনুগত্য সন্ত নয়, সন্তের মতন
আনুগত্য কবি নয়, কবির মতন

ধুলো থেকে রৌদ্রকণা শিকড়সম্ভব
নেই তবু আছে এই সমস্ত পৃথিবী
কবি তাকে সত্য দিয়ে অর্জন করেছে
গাছেদের যৌনগাথা স্বপ্নের ভেতরে

আমি শুধু সন্ত সাজি কবির মতন
কবি শুধু সন্ত সাজি আমার মতন
আমার বলার অর্থ

এই যে থেকে গেলাম, মরণ মূর্ছায় ভেঙে গেলাম কিছুটা, এরপরও তর্ক নেবে? বিস্ময়ে ভিজে গেছি, পুতুল পুতুল সব স্থানাধিকারের চাঁদ ধুলোমাখা, সংযম –সন্ধির সংঘর্ষ থামিয়ে দিতে তেমন বিরাম থেকে রক্ষা পেয়েছি আর ভেঙে যাওয়া প্রজ্ঞান থেকে ফিরে পেলাম সব বাক্য স্রোত, শরীরের।

আমার বলার অর্থ সাদা জবা ফুটে গেল শূন্যতা থেকে, যে কোনও সময় তার বিশেষণ তৈরি করে আমরা হাওয়ার মতোই তার লুণ্ঠন নিয়ে কৃপণতা করি। গানের সঞ্চারী থেকে দুরের আত্মরক্ষা দেখা যাচ্ছে না। টাই অসময়ে এগিয়ে আসছে কিছু ক্ষুব্ধ ধমনী, যাদের ভেতরে ফুটছে কিছু নীলচে অপরাজিতা।

আকাশের বিসর্জন ধ্বনি, তাহলে কোথায় মাথা তুলব, রক্তমাংস মেপে মেপে বেঁচে যাও প্রতিশোধকামী, বেঁচে যাও খিদের দঙ্গল, আমি শুধু ঘুরে যাওয়া আগুনটির নীচে একটু একটু জমা রাখব অসারতা, আর কোনও শোক নয় ধীরে –সুস্থে যাব একটা মুরুব্বি বানাতে, জার কথা কোনোদিন প্রকৃতি শোনেনে।


কাক

কাকেদের কথা শোনো খেতে দাও লক্ষ্মীটি মা
আয় কাক আয় কাক আমাদের এঁটোকাঁটা খা
সুখের সামান্য দাম তাবু আজ পিতৃহীন ছেলে
নুন খোঁড়ে সারাদিন শরীরে ঝিনুক ঘুটি চেলে
মা-ও বড় ব্যাস্ত নয়, পরিবারে বাবাদেরই নাম
আমি কি বাবার ছেলে—প্রশ্ন তোলে প্রতিবেশী, গ্রাম
লক্ষ্মীপেঁচা কাল রাতে বসেছিল উঠোনেতে এসে
আমার শরীর তবু বিকয় বিপথগামী ক্লেশে
ভোর হোলে কাকেদের কর্কশ চলে দাপাদাপি
পিতৃহীন ছেলে আমি গোপনে অশ্রুতুকু চাপি
আয় কাক আয় কাক আমাদের এঁটোকাঁটা খা
মা এসব বলে নাকো বলে শুধু ‘দূর হয়ে যা’—
কাকেদের কথা শুনি দিন বারে সামান্য সস্তায়
নুন কিনতে আজকাল দোকানেতে বাকি পড়ে যায়
বাকি পড়ে বাকি বাড়ে, তবু আমি কাকেদের ঝাঁকে
ভাত দিতে গিয়ে ঠিক চিনতে পাড়ি অসুস্থ বাবাকে।

দাগ

হয় তুমি নয় নক্ষত্র

মন থেকে একবার তুমি সরে গেলে সারাটা দিন আমি
                        সপ্তর্ষি কাঁধে নিয়ে হাঁটি
পায়ের নীচে কত যে প্রবাহ টের পাই
উন্মাদ ভালুকের মতো ক্ষণস্থায়ী জ্বরের জন্য
একটা গোটা পৃথিবীকে কত সহজেই আপন ভেবে ফেলি

তুমি এলে সারাটা দিন সন্ধ্যে, চুপি চুপি অন্ধকার সাঁকো
ভেঙে পড়া মানসিক ইচ্ছায় যত মস্তিষ্ক  -ক্ষরণ
যত স্বপ্নের কাল জল, নেমে আসে দেবদূত
চিনতে না পারার মতো ব্যর্থ সব স্পর্শের স্পষ্ট আলোকিত দাগ...

--------

Comments

  1. অপূর্ব সুন্দর পাঁচটি কবিতা উপহার দেয়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। কয়েকটি বানান ভুল থেকে গেছে। দেখে নেবেন।

    ReplyDelete

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

মহাভারতের স্বল্পখ্যাত চার চরিত্র /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শিবচতুর্দশী /ভাস্করব্রত পতি