রবীন বসু


র বী ন  ব সু


জন্মের প্রবাহিত ঋণ

জন্ম জন্ম চলে গেল 
  সব জন্ম জড়ো হয় হাতের তালুতে
জ্যোৎস্নায় কবিতা চাঁদ কলঙ্ক বৃক্ষ হয়ে ভাসে l

যে মুকুরে মুখ দেখি
  সারাবেলা ধান ভাঙে খুদকুঁড়ো খোঁজে
ঢেঁকিতে অন্নের প্রসাদ মেঘ-জন্ম নিয়ে আসে ঘ্রাণ l

ঘ্রাণের ওপার থেকে গতজন্ম বানভাসি প্রবল ইচ্ছে
    উজানে খড়কুটো ভাসে, কবিতা ভেসে যায়
অন্ধকারে ঢেউ ভেঙে শব্দশিল্প নির্মাণের স্রোতে l

আজন্ম ভিখিরি আমি হাত পেতে থাকি অনন্ত আগ্রহ
    যদি ভিক্ষা পড়ে কিছু অক্ষরের সাথে
মাধুকরী দান ভেবে রেখে দেব বালিশের পাশে l

যা কিছু প্রার্থিত আজ ঐতিহ্য সমুত্থিত লালনের গান
      মুহ্যমান যাপনের আকরিত বীজ
সব যেন শোধ নেবে পাই পাই জন্মের প্রবাহিত ঋণ l
এতদিন কোথায় ছিলেন

তিনটে জানালা পেরিয়ে চতুর্থ জানালায়
যে চাতুর্য খেলা করে
আপডেট কবিতা তাকে পাশ কাটায় l
অসম্ভব স্মার্টনেস নিয়ে জিনস পরা মেয়েটা
খোলাচুলে তার গতিবেগ বাড়িয়ে দিল
কেননা, বনলতা সুরঞ্জনা সুচেতনা আর 
আকাশলীনারা বসে আছে নন্দন চত্বরে,
একটু পরে কবিসম্মেলন শুরু হবে ;
মাইক্রোফোন হাতে ঘোষিকা-কবি
যে কোন সময় তাদের যে-কাউকে ডেকে নিতে পারে
আর এই ডাকার ফাঁকে যে অবকাশ
যে চলমান অস্থিরতা তাকে পাশে নিয়ে
এক অন্তর্জাল রহস্য মাখে মেয়েটি l
সরপুঁটির মত চিকন আর চন্দনফোঁটা নিয়ে
সে মঞ্চের কাছাকাছি যেতেই 
এক বয়স্ক কবি অভ্যর্থনার হাত বাড়িয়ে দিলেন l
হাতের পাঁচ আঙুলে দীর্ঘ নখ
নখের ভিতরে জমে থাকা প্রাচীন ময়লা—
আর ময়লার ভিতরে উঁকি দিতেই
কে যেন বলে উঠল, “এতদিন কোথায় ছিলেন?"


নিরন্নের ঘরে 

বৃষ্টির ধারাপাত তুমি তো লিখে রাখো
হে চরাচরজোড়া মৌন ;
গম্ভীর আকাশ তুমি তাতে রঙ দাও
বিষাদে ধৌত হয়
প্রান্তরে জমে থাকা প্রাক্তন মলিনতা। 

আমাদের সম্পর্কের ঘুণ ঝাড়ে বাড়ে 
মধ্যাহ্নদিনের হাহাকার
সেও দমকা বাতাসে ছোটে দূরে অথৈ
গোপন আস্তরণ পেতে
বসে আছে নিঃশব্দে বৈকালিক ভণ্ডামি। 

বৃষ্টির ধারাপাত তুমি এসে ধুয়ে দাও
আস্তিনে গোপন ষড়যন্ত্র
মুখোশের ছিন্ন টুকরো দু'হাতে সরাও 
সন্ধ্যার অভিলাষী হাওয়া
রেস্তোরাঁ ঘুরে আসুক নিরন্নের ঘরে। 


সংযোগ-সেতু

অগণন তারার মধ্যে যে আলো অস্পষ্টতা 
মিহিস্পর্শে তাকে ধরে রাখে মহাকাশ ;
উদ্বিগ্ন অন্ধকারে অস্থির সময়
ব্ল্যাকহোল টানে তছনছ হয়ে যায়
ঠিক যেন ঘরে ফেরা ধর্ষিতা মেয়ে। 
অবলোকনহীন এই দেখা, সমূহ বিনষ্টির
প্রান্ত ছুয়ে নির্বিকার রাত্রিজাগা ;
তোমাদের চিন্তার গভীরের সুতো
সেকি লাটাইবিহীন শূন্যতায় ভরা! 
দিন বদলের খড়িদাগ নাকি খোদাই করা গুহাগাত্র
সবটাই এখন অনুমান-নির্ভর ;
যেমন চন্দ্রপৃষ্ঠে বিক্রম… 
সংকেতহীন বিপর্যয়হীন প্রত্যাশা-উন্মুখ
এক অবতরণ ;

মাঝখানে কোথাও কি নিঃশব্দে ছিঁড়ছে গহিনাতীত
সম্পর্ক আর তার সংযোগ-সেতু! 
বর্ণের সবুজ ঘেঁষে জেগে উঠছে ঢেউ

ভিতর থেকে উঠে আসছে ঝড়
টাইফুন বিধ্বস্ত মানচিত্র
বর্ণের সবুজ ঘেঁষে জেগে উঠছে ঢেউ
পারাপার লোকহিতের বর্ম পরে
তবুও অনিকেত মানুষের বসবাস
শিকড় চুঁইয়ে পড়ে দুঃখের ফ্যান
হাভাত ভারতবর্ষ চেটে নেয় প্রসাদের পরমান্ন
ন্যুব্জ দেহে গণতন্ত্র বলড্যান্স রুমে
সম্মোহিত কারুকাজ অন্ধত্ব দু’পা বাড়িয়ে বলে
কেয়া তুম মুঝে কুছ দে সেকতে হো…

হোক কলরব বেয়ে উঠে আসছে প্রতিবাদ
বিপ্রতীপ মৃত্যু ডাকে সমূহ বিনাশ
গঙ্গাকে বাঁচাতে গিয়ে দীর্ঘ হয় অনশন
প্রলম্বিত উপত্যকায় উঠে আসছে যে ঝড়
তার গতিমুখ বরাবর উন্নয়ন নেই
আবহবিদ পরিবেশবিদ একই টেবিলে মুখোমুখি;
এবার বোধহয় সমাপতন কেঁপে উঠবে 
আকাশ ঝাঁপিয়ে নামবে বৃষ্টি, বৃক্ষরা বেঁচে যাবে
আর বেঁচে যাবে আমার হাড়-জিরজিরে ভারতবর্ষ। 

-----------

Comments

  1. আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিবাদন "জলদর্চি"।

    ReplyDelete
  2. sandip kanjilal
    বেশ ভালো কবিতা । আনন্দ পেলাম ।

    ReplyDelete
  3. বেশ সুন্দর। ভালো লাগলো।

    ReplyDelete
  4. অপূর্ব লেখা। কবিকে অনেক শুভেচ্ছা

    ReplyDelete

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি