নরেন হালদার


ন রে ন হা ল দা র


নির্বাচিত জীবনপ্রান্তে

ফুল দেখতে দেখতে বড়ো হয়েছি বলেই কী
কাঁটার সামনে আমাকে দাঁড় করিয়ে দেবে?
এ ভালোবাসা নয়! শীতের রাতে বৃষ্টির ছবি আঁকি
তৃপ্ত শবের পরে। দেখেছি সোঁদাল পাতার গন্ধ হবে।
এ আমারি উচ্ছ্বসিত পিতৃভূমির সকালবেলার রেণু
ভালোবাসা বলে দাবি করতে পারি না। তীব্র বিষ-নিঃশ্বাস
অপাপবিদ্ধ জীবনে। আসুক বিস্ফোরণের পরমাণু
তবু দেবো না তাকে অন্তরের নিত্য নব বিশ্বাস।

দেখিয়েছো বলে দেখিলাম তারে, এ সত্য নয়,
কাঁটার মুখে যা ছিল পৃথিবী, উপ্ত বাসনাবৃন্তে
'এ আমার‌ই তিন হাত ভূমি' নির্বাচিত ব্যাপ্ত জীবনপ্রান্তে
এগিয়েছি যত, ভুলিয়েছি যত, তবু থেকে গেছে দেহোত্তর সময়।

জীবন যেমন দেবে

জীবন যেমন দেবে তেমনি নেব।
রক্তনদীর খেয়া এসে যদি থামে প্যারিসে
চোখ না বুঝেই তাকাবো গ্ৰীষ্ম সূর্যের চোখে
ফুটন্ত বুলেটের বৃন্ত থেকে আগুনঝরা গন্ধ এনে
ছড়িয়ে দেবো রবি ঠাকুরের ভস্মের উপর
নারীর সৌন্দর্য থেকে যদি গোলাপের গন্ধ নিতে পারি
তবে কেন ঘেয়ো কুকুরের গন্ধালু পচনে তাকাতে পারবো না?
এক জীবনে এসে সমষ্টির নিদ্রা দেখলাম বলে
বারুদের গন্ধে জীবনকে ঝালিয়ে নেবো না?
তা ইতিহাস লেখে না, কাব্য লেখে ঘুমন্ত বাজে'রা
এক জীবনে প্রাপ্তির মরীচিকা, মধুভূমি বিলাসের
এ.কে. ফর্টি সেভেন আর নীতির রাজার আধিপত্য,
আইসিস আর ওয়েসিস, সবাই হৃদয়ের বসন্ত কোণে
তবু ভালোবাসতে পারি জীবনের বিনিদ্রাকে।


বেমানান

ভাঙা পাখনার কাছে মৃত অজগর কেমন বেমানান লাগে!
যেমন ফুলের গন্ধে মৃত্যুর পদযাত্রা।
হায়রে বৈশালী -
তুমিও কর্ণকে পথ দেখাতে পারলে না?
অস্তিত্বই আজকের যুগের সবচেয়ে বড় ধর্ম
আমিও যেমন বেঁচে আছি আমার নীরবতায়।
মৃত অজগরের পিঠে চেপে
আহ্বান করেছি শ্বাপদকে - দাঁত খিঁচিয়ে।
হাসুয়ারা পথ দেখায় - স্বর্গের পথে -
তীব্র কাঁটা ছিল, এ পথের শীর্ষ বিন্দু
কিম্বা কাতানের তীক্ষ্ণতা - দু'পায়ের পরেই,
না কাটলেও জ্বালা ধরিয়ে দেয় বিষবাষ্পের রক্তবীজ
আমি বাঁচলেও রক্ষা পায় না আমার জীবন।


একটি কবিতা

খামে ভরা স্বপ্নগুলো
এখনো গুছিয়ে রেখেছো যত্ন করে?
দাম্পত্যে থাকে না বলে
তাই তার এত প্রয়োজন!

এইতো ভালো আছি মাটির গন্ধে
মন ভুরভুর আজ অমাবস্যা
নোয়ানো বাঁশ প্রদীপের সলতে,
তেলরঙে আজ আমি জ্বলন্ত।
বৃষ্টির ঘরবাড়ি

বেঁচে আছি বা বাঁচতে চেয়েছি শূন্য আকাশের পৃথিবীতে
কাঁসাইপাড়ের নীল খিলান প্রান্তরের চিত্র আঁকি
ডুমুরেও ফুল ফোটে গত শত বর্ষ হতে
গেরুয়া গেলাস ভরা, গন্ধ। বনে সবুজপাখি
 আভা তার ছড়িয়েছে, সুপ্তির দৃপ্ত কুটির পাড়ে
বাসাহীন শূন্য সংসার অবেলা শূন্যেতে ঢাকি
প্রিয়া মোর রাত জাগে মটকাতে চাঁদ উপবাসী
বৃষ্টিতে বিষ ঝরে আর ঝড়ের মুখে ঘর বাঁধি

------

Comments

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি