অংশুমান চক্রবর্তী


অং শু মা ন  চ ক্র ব র্তী 


শাস্তি

বাতিল সময় থেকে দু-দণ্ড আমি পেতে পারি?
নীরব সময় দিও, নিজেই ফুটিয়ে নেবো ভাষা,
চাওয়া কি দীর্ঘ হল? শূন্য হাতে ফিরতে হবে বাড়ি?
পূরণ হবে না আজও গোপনে সাজানো প্রত্যাশা?

হলুদ পাতার দশা, মাঝেমধ্যে অস্থির লাগে
কৃষ্ণ-কেশরে কেউ যদি রাখে সচল আঙুল--
পদাবলী পাঠ নেব, পৌঁছে যাব দ্রুত পূর্বরাগে...
হিসেব মেলে না, শুধু জন্ম নেয় রাশি রাশি ভুল।

চেয়েছি দু-দণ্ড মাত্র, বিনিময়ে দিলে নিষ্ঠুরতা?
নিরীহ ভিক্ষুক, তাকে টেনে আনলে রাজার সভায়,
সমুদ্রস্নানের শর্তে কেড়ে নিলে সমস্ত কথা
কী আমার অপরাধ, না জেনেই শাস্তি হয়ে যায় ...

প্রথাহীন

তুমি কি চেনা কেউ? হাওয়ায় ঢাকো মুখ
রেখেছো বুকে পুষে মেঘের অভিমান,
রোপন করে যাও বেগুনি ধুকপুক
শিখি সমর্পণ, লিখি রাতের গান।

বর্ণহীন কোনো ঈর্ষা যদি আসে
অথবা অশরীরী মায়ার প্রলোভন,
তুমি কি ভীত হয়ে বসবে তার পাশে? 
শুকিয়ে কাঠ, নাকি  বৃষ্টি-ভেজা মন।

কিছুই বলছ না, তুমুল প্রথাহীন
অচেনা শরীরের যেন গোপন তাপ,
মোক্ষ লাভ হলে বাড়বে দ্রুত ঋণ
ঘটলে বিপরীত, অসহনীয় পাপ।

তুমি কি চেনা কেউ? শরীরে সংকট? 
সতেজ রোদ্দুরে বিরহ বুনে যাও,
চরণ সুর পেলে উধাও হবে জট
রাতের কালো মেখে আমাকে গিলে খাও ...


ছাই

কে আমাকে ঘুম পাড়াতে এলে?
বুকে-মাথায় রাখলে নরম হাত,
খানিক বাদে একলা যাবে ফেলে
জানবে শুধু অবিশ্বাসী রাত।

কী কারণে বলয় এঁকে রাখো?
বিপদ যাতে ঠোঁট না ছুঁতে পারে?
বাদলদিনে সতর্ক তাই থাকো
আলোয় কিংবা রাতের অন্ধকারে।

একতারাতে আঙুল রাখে কেউ
স্পর্শদোষে জন্ম নিল গান,
ঘুম আসেনি, বুকের মধ্যে ঢেউ
তবু তোমার রেখেছি সম্মান।

কে আমাকে ঘুম পাড়াতে এলে?
ব্যর্থ হয়ে চাইলে পাশে ঠাঁই,
সহসা কেউ আগুন দিল জ্বেলে
ইচ্ছাকৃত পুড়ে হলাম ছাই...


শুদ্ধ 

উদাসী চাঁদ একা শরীরে খিদে নিয়ে 
কার প্রতীক্ষায় জাগছে রাত?
কেউ কি চুপিচুপি আসবে না ঘুমিয়ে 
মাথায় ছুঁয়ে দেবে নরম হাত ?

উহ্য থাক কিছু, কিছু প্রকাশ পাক
চাঁদের কথা শুধু চাঁদ জানুক
সোজা চলার পথ, কোথায় আছে বাঁক?
সব খবর রাখে আলোর মুখ।

দিনের কারবারি, পসার জমে কই?
আলোর মুখ হারে, দেওয়ালে পিঠ 
কখনো মনে হয় যেন সে খোলা বই
কখনো মনে হয় অধম কীট

উদাসী চাঁদ একা, থাকে না কেউ পাশে
আলোর মুখ যদি হয় হাজির 
জ্যোৎস্না ঢেলে চাঁদ অলীক জলে ভাসে 
শুদ্ধ করো তাকে, এসো হে বীর

শেষের কবিতা

শেষ ট্রেন চলে গেছে। অন্ধকার ভারী হয়ে আসে
শ্মশানের পোড়া গন্ধ হাহাকার ছড়ায় বাতাসে

শৃগালের পদধ্বনি, অতি সাবধানী সরীসৃপ
শেষ পংক্তি লিখে যায়, চাঁদও নেই, কে জ্বালাবে দ্বীপ?

ঘুমের ভিতর থেকে মনে হচ্ছে ভেসে আসছে গান
অথচ এসবই সত্যি, ঈশ্বরীর মুখখানি ম্লান

আগুনের শিখা নাচে, কেঁপে ওঠে ভীরু ধানক্ষেত
জনশূন্য প্লাটফর্ম, বসে আছি, দুই পাশে প্রেত

শেষ ট্রেন চলে গেছে। ওই ওড়ে শ্মশানের ছাই
কে যেন বলল 'ওঠো, সময় হয়েছে, চলো যাই' ...


--------

Comments

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি