বিশ্বজিৎ ঘোষ


বি শ্ব জিৎ ঘো ষ


পুনর্জন্ম

ক্রমে ত্বরান্বিত হচ্ছে পদচালনা, সরে যাচ্ছে ভাইরাসজনিত মৃত্যুশোক, তোমার ঝরে পড়া ভূষণ--- অলীক অহংকারের, ছুঁয়ে যাচ্ছে স্তূপীকৃত শবদেহ, শ্মশান যাত্রার আগে---।

বিস্তৃত রেলপথ অথবা অবেলার জাতীয় সড়ক, যন্ত্রণার সারি, অনবরত হেঁটে যাচ্ছে পরিযায়ী শ্রমের বিনিময়ে।

রাজনীতির সাথে অর্থনীতির বোঝাপড়ায় পুরাকালের শ্লোক--- একই পয়ার গৎ-এ বাঁধা, তাতে আত্মবিশ্বাস নয় অবিশ্বাস-ই বেড়েছে।

সম্বলহীন পদধ্বনিই শেষ সম্বল, মারী-মড়কের বিশিষ্ট দিন, গন্তব্যে যদি পৌঁছাতে পারি, অবশিষ্ট পরিজনদের গল্প শোনাবো--- 

সব হারানোর পর ঘর ফিরে পাওয়ার সেই পুনর্জন্মের গল্প।
সংক্রমণের পদাবলি

কৃষ্ণচূড়ার আবেশে আকাশ মোড়া
কবিতারা ডুবে সৃষ্টির অভিধানে
মৃত্যু ভয়ে নীরবতাকামী দেশ
সংক্রমণে নিস্তেজ হলো পাড়া

শূন্য কলম শব্দের সন্ধানে---
কোন ঝিনুকে প্রতিষেধকের মুক্তো?
দিশাহীন প্রেম দূরত্বে নিরাপদে
বিষণ্ণতা গাঢ় হল যেই প্রেমিকার চুম্বনে

ধোঁয়াশায় ঢাকা ভাবনার পরিসর
তবুও ভিড়েছি কবিতা-চাষার দলে
যে মরে মরুক আমি যেন থাকি বেঁচে
আত্মচেতনা---? প্রবঞ্চনা, আজকে স্বার্থপর


আরোগ‍্য

এবারেও ভেবেছি
স্বাস্থ্য কেন্দ্রে না যাওয়ার ভাবনা
এই বৈশাখে বুড়া মহাদেবের মাড়ো
গা-জনহীন যেমন!

গত বার যখন জলবসন্ত হল
মশারির মধ্যে ফুলে ফেঁপে ভাবনা
নিয়ম মতো চুপষে গেল
ঘরের মধ্যে গজিয়ে ওঠা
আর একটি ঘর, তাদের প্রেমালাপ
নিম-হলুদ নিয়ে গেল শীতলার থানে।

এবার একটু অন্য রকম
সবাই সবাইকে এক-ঘরে করেছে
কেউ কারো শব দাহ করবে না
অথচ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে 
মাস্ক মুখে বের হতে পারলেই
শঙ্খ ও ঘন্টা ধ্বনিতে পুষ্পবৃষ্টি হবে।


ছন্দপতন

সাদা পাতার উপর কলম তুলে নিলেই
সে এক বিফল কাম কবির 
ছায়া এসে পড়ে। 
অ-থেকে খণ্ড-ত 
অক্ষর থেকে শব্দে 
নিঃসম্বলের ভীষণ চক্রব্যূহে  
ঘুরপাক খায় আমার জীবন।

ভাব ও ভাবনায়
একটি কবিতা লেখার কথা ছিল
সন্ধ্যার আলোয়
ঝড় এসে উড়িয়ে নিয়ে গেল
উপমার খাতা ও কলম।

এখন ছন্দপতনের খতিয়ান মেলাই।
আদিখ্যেতায় বিড়বিড় করতে থাকা 
অশ্রুহীন উৎপ্রেক্ষায় 
জানালা টপকে বেরিয়ে গেল 
সেই না লেখা কবিতা।

অনাত্মীয়


হাসপাতালে যেতে যেটুকু সময়
তার চেয়েও কম সময়ে
তাকে ডেডবডি ঘোষণা করা হলো

সংক্রমণ গোপন করে
সে চেয়েছিল আত্মীয়তায় বাঁচতে
আত্মীয়রাও আঁকড়ে ধরেছিল তাকে

শব দাহ করতে এলো না কেউ
ছোটগল্পের বাঁক নেওয়ার মতো
তৈরি হল সংক্রমনের ক্ষত, দেয়ালে দেয়ালে

অসমাপ্ত কবিতার জন্য
বিলাপ করলেন কবি

একটা ডেড বডি খুন করল
সকল আত্মীয়তা

--------

Comments

  1. কবি তার লেখায় করোনা আক্রমণ কালকে ভালো ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। রোগটার ফলশ্রুতি ও বড় মর্মবিদারী ভাষায় প্রকাশ করেছেন।

    ReplyDelete

Post a Comment

Trending Posts

ড. সুকুমার মাইতি (গবেষক, শিক্ষক, প্রত্ন সংগ্রাহক, খড়গপুর)/ভাস্করব্রত পতি

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

খাঁদারাণী, তালবেড়িয়া, মুকুটমণিপুর ড্যামের নির্জনতা ও 'পোড়া' পাহাড়ের গা ছমছমে গুহা /সূর্যকান্ত মাহাতো

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সুন্দরবনের উপর গুচ্ছ কবিতা/ওয়াহিদা খাতুন