কৌস্তুভ শতপথী


কৌ স্তু ভ  শ ত প থী 


শহর অন্তরঙ্গ 

মনে পড়ে, পোড়ে মন, একা আমি দুইজন 
স্মৃতির শহর,শহরে স্মৃতি, অনুমিত অনুক্ষণ
ছোটবেলা, বেলা ছোট, সময় স্রোতের মতো 
সারবে না, সার জানি, কিছু ক্ষত, অক্ষত

পরিচিত, পরিজন, স্বজন সে জনপদ
আবছায়া, ছায়াছবি তবু চেনা প্রচ্ছদ 
কাল ছিল, চিরকাল, আছে খুব কাছে 
ভালো লাগে,ভালোবাসা আনাচে কানাচে

সেই পথ, সে শপথ, স্মরণীয়, স্মরণিকা 
আলো দেয়, আলোময় প্রহরের প্রহেলিকা
যাপনে,আলাপনে, সংরাগ, বিরাগের সুর 
ব্যাধি, নিরাময়ে নিরবধি, মেধাবী মেদিনীপুর

গ্রাস

কামড় যেমন বেহিসেবী, ফলের ওপর
কিছুটা শাঁস বেশী তোমার, আমার কম
তীক্ষ্ণ দাঁতের চোয়াল দিয়ে ছিনিয়ে নেয়
অংশ, ভাগ, খণ্ড তবু্ও খিদে আমরণ।

সমান্তরাল গভীর ক্ষত তোমার আমার
ন্যাসপাতিতে, রোজ পেরিয়ে যায় গণ্ডি।
এক খাবলে মুখের ভিতর পুরেছি অঞ্চল,
পরের গ্রাস থামিয়ে দিল সারথি শিখণ্ডী।

পিতার কাছে আমানত আদ্ধেক যৌবন
আমার শরীর কামড়ে ধরে অকাল জরা
থাকবে হাতে মোক্ষ,একটি ত্যাগের ফল
খোসাগুলি আশ্লেষে চিবোয় পরম্পরা।


অভিসার 

একটা মেয়ে হারিয়ে গেছে প্লাবন এসেছিল
ভেসেছিল অথৈ জলে খড়কুটোটি পায়নি
চায়নি তবু ফিরতি ঢেউ পৌঁছে দিক তীরে
ফিরে আসার ইচ্ছেটুকু জলেই গেছে জলে
আঁচলে মা গন্ধ খোঁজে তারই গায়ের গন্ধ
বন্ধ যেন দরজাগুলি আটকে থাকে দিন
প্রদক্ষিণ করে না কেউ কেন্দ্র করে তাকে
ডাকে কেবল সম্মোহনে উদাস পথের বাঁক
হারাক সে যাক হারিয়ে দারুণ প্লাবন দিনে
চিনে নেবে অসীম তাকে অলীক মোহনায়
দায় নেই তার আঁকড়ে থাকার শিথিল শিকড় টান
স্নান সেরেছে নূতন রোদে পুড়েছে কাল্ রাত
হাত ধরেছে প্লাবন তার মুহুর্তের ই আলাপ
ঝাঁপ দিয়েছে গহীনে মেয়ে ভালোবেসেছিল
প্লাবন এসেছিল আর শ্রাবণ হেসেছিল


লক্ষীমন্ত

পাথর ভাবো, কিংবা ভাবো শালগ্রাম 
মহানগর কেবল নাকি তিনটি গ্রাম ? 
দুটো ভালো, কিন্তু যখন তিনটে এল,
বিজোড় অঙ্ক সমানুপাত গিলে খেল।
চা তো গরম, কফি নাকি ধূমায়মান
গোসল বুঝি একপ্রকার নতুন স্নান?
স্নান ভালো, কিন্তু আবার অবগাহন! 
ডুবলো দেবী, সঙ্গে করে তাঁর বাহন।
অর্থ দেখো, নইলে তেমন অভিজাত 
পূজার দিনে শঙ্খ তবে সেই বাজাতো
শঙ্খ থাক। চক্র, গদা, পদ্ম কি দরকার? 
কোন শুভ চিহ্ন দেখে গড়েছ সরকার? 
যত্ন নাও, অথবা খুব আবেগপ্রবণ কেউ
সাঁতার কাটো নিয়মিত, আসবে যাবে ঢেউ
ঢেউ তো চেনা, কিন্তু আবার জলোচ্ছ্বাস! 
জল নেয়নি, মাটিও না, বেওয়ারিশ লাশ।

শরিকি

তারিয়ে তারিয়ে চিবিয়ে খেলাম মাথা
যদিও আঁচল দিয়ে ঢেকে রাখি পায়ের
দিকে কাঁপুনি দেয় কম পড়ে যায় কাঁথা
সেলাই কেমন যেন বাতিক ছিল মায়ের 
আবার সন্ধ্যা হলেই গায়ে গতরে ব্যথা
সয়ে যাবে নিমেষে বিষিয়ে ওঠা ঘায়ের 
রক্ত শুকিয়ে এলে শুনিয়ে জন্ম গাঁথা
মালা নিয়ে শালা সেঁধিয়ে গেল হাঁ-য়ের
ভিতর থেকে মিটিয়ে দিলে সবই অযথা 
উস্কে দিতেই পুরাতন দ্বন্দ্ব ভায়ে ভায়ের 
ধড়ের থেকে কোপে নামিয়ে দিল মাথা
ঝাঁকাই সম্মতিতে কেড়ে নিইনি গায়ের 
জোরে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করাও বৃথা

------

Comments

Trending Posts

ড. সুকুমার মাইতি (গবেষক, শিক্ষক, প্রত্ন সংগ্রাহক, খড়গপুর)/ভাস্করব্রত পতি

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

খাঁদারাণী, তালবেড়িয়া, মুকুটমণিপুর ড্যামের নির্জনতা ও 'পোড়া' পাহাড়ের গা ছমছমে গুহা /সূর্যকান্ত মাহাতো

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সুন্দরবনের উপর গুচ্ছ কবিতা/ওয়াহিদা খাতুন