দেবাশিস তেওয়ারী


দে বা শি স  তে ও য়া রী


মাথুর বিকেল

পর্যাপ্ত দেখা ও না-দেখার মাঝখানে থাকা
আমাদের সেই পুরাতন বাসরঘর আরেকবার
ঝলসে উঠল বারুদগন্ধী এই রোদে।
এ প্রণয়বেলায় কোন ভোজসভা থেকে
আসা তুমি হে মহামান্য আমার দেরাজ ঘেঁটে
বের করছ পুরাতন বাস্তুপচা টুকরো ভণিতা।
যথেষ্ট ছন্দে বলা এইসব কথাদের গায়ে যেন
বাতাস না লাগে।বলতে বলতে একফোঁটা
মেঘ এসে কালো করে ঢেকে দেয়
আমাদের মাথুর-বিকেল।

গন্তব্য

এভাবে পণ্ডশ্রম করে জীবনের বৈধব্য ঘেঁটে
তুলে আনি এক-একটি গন্তব্য।অপমানিতের
চরম ছায়ায় যারা আজও হেঁটে বেড়ায়।কবে
কোন দিকশূন্যপুর থেকে আসা এক-একটি
গন্তব্যের কিনারা ছোঁয় তালপুকুর রোড।যেখানে কোনও ঘটিও ডোবে না।আর অসহিষ্ণু আলোয়
দেখি এক-একটি বৈধব্য,তালপুকুর রোডের উপরে তৈরি
করা ওভারব্রিজে সারসার দাঁড়িয়ে থাকে আর
প্রত্যাশা করে পুরুষ -হৃদয় 


মায়াবন বিহারিণী হরিণী

এক-একটি কিনার থেকে আরেক কিনারে উঠে আসা
সূর্য-সকাল বাতাস প্রত্যাশা করে কথাবার্তা বলে----
সে-সব কাগুজে আলাপ।মুড়ি-মুড়কির মতো
খদ্দেররা কিনে কিনে খায়----ঠোঙায় ঠোঙায়।
তারপর বিকেলের ছায়াচ্ছন্ন চড়াই আলোয় সেই সব
ঠোঙা থেকে জন্ম নেওয়া সূর্যাস্তের রঙে
দেখি দূরে দীপ জ্বলে ওঠে।মায়াবন বিহারিণী হরিণীরা চরে বেড়ায়।


বাতিল

বাতিল ঘরের গল্প এসে বসে আমাদের ঘরে
যে নদী উজান ছিল তার ঢেউয়ে সদা-ভাসমান
ভাঙা ভাঙা চূর্ণ-কথা অভিমুখ থেকে অভিমুখে
বদলে যেতে যেতে দেখি সেখানেও পাড় ভেঙে পড়ে
পাশে ধানক্ষেত,পাশে মাঠ মাঠ,একাকার জমি
মন্ত্রের সাগর থেকে উঠে আসা কৃষক তোমায়
এই আমি প্রণতি জানিয়ে রাখি,এই ভোরবেলা
প্রচণ্ড সূর্যের তেজে আমাদের কঙ্কাল-মাটিতে
মিশে মিশে একাকার গল্প করে সে সব বাতিল।

সমাধির বুকে

অক্ষর চেয়েছি বলে অক্ষরের কাছে ফিরে গেছি
সুর-তাল-ছন্দ-লয় সবকিছু ফিরে ফিরে আসে
উদাস হাওয়ার টানে, সন্ন্যাসী এসেছে কোনও মতে
তার ভৈরবীও সাথে ব্যাকুল সাঁঝের বাসনায়
কারুশিল্পে ভাসমান, সদা কর্ণে সুরের ঝংকার।
পটের বিবির মতো আঁকা থাকে শিল্পের সে গতি
সে যেন সুনীল দাস পটে আঁকা অন্য কোনও ঘোড়া
কিংবা কোনও কাকিনীর চিত্র এটা শুভাপ্রসন্নের
শয্যা থেকে ধূলো ওড়ে অক্ষর-সমাধি বুকে নিয়ে
জেগে থাকা লাশ ওরা----- এ কি তবে কঙ্কাল-আখড়া
বলতে বলতে টান ওঠে,সন্ন্যাসী তো কবে ফিরে গেছে
রেখে গেছে আলখাল্লা,আলোয়ান-----সমাধির বুকে।
-----

Comments

  1. বাহ্ । খুব ভালো লাগলো । কাব্যভাষা আর তার প্রয়োগ বেশ যথাযথ । স্বল্প পরিসরে যেন এক একটা মুক্তো । বেশ ঝলমল করছে । কবির আরও শ্রীবৃদ্ধি ঘটুক ।

    ReplyDelete

Post a Comment

Trending Posts

ড. সুকুমার মাইতি (গবেষক, শিক্ষক, প্রত্ন সংগ্রাহক, খড়গপুর)/ভাস্করব্রত পতি

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

খাঁদারাণী, তালবেড়িয়া, মুকুটমণিপুর ড্যামের নির্জনতা ও 'পোড়া' পাহাড়ের গা ছমছমে গুহা /সূর্যকান্ত মাহাতো

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সুন্দরবনের উপর গুচ্ছ কবিতা/ওয়াহিদা খাতুন