শ্রাবণী গুপ্ত


শ্রা ব ণী  গু প্ত


এভাবেও ভালবাসা যায়


এভাবেও ছুঁয়ে থাকা যায়,
যে ভাবে পারুলবন চম্পার মুখোমুখি দাঁড়ায়,
আমিও আকাশ দেখি, নীলাভ
তুমিও কি দূর থেকে দ্যাখো না? 
চাঁদের আড়ে কালো...

এভাবেই দূরে থাকো, জেনো দূরে থাকা আশ্চর্য প্রণয়,এভাবেই বিমূর্ত প্রেম ছুঁয়ে থাক অভুক্ত হৃদয়

জেনো এই অনন্তবীথি একদিন,
জেনো এই জেগে থাকা রাত্রিদিন,
ঠিক শেষ হবে, ঠিক পৌঁছবে
যেখানে তোমার ঠোঁটে খেলা করে আমার হাসির অনিঃসীম খেলা।

এভাবেই ভালবাসা যায়, জেনো
ভালবাসা মানে শুধু ছুঁয়ে থাকা নয় ...

ভালবাসা

এই যে তুমি,এই যে বারবার
ভালবাসি ভালবাসি বলো,
বলোতো এই চড়ুইপাখিহীন সভ্যতায় 
ভালবাসার সংজ্ঞাটা ঠিক কী?

আকাশের দিকে তাকিয়ে কবিতা লেখা যতটা সহজ, তার চেয়েও সহজ যখন ছেড়ে যাওয়া,তখন ভালবাসতে গেলে শক্ত খিলানের মতো একটা বুক লাগে, লাগে পাহাড়ের মতো দৃঢ় প্রত্যয়।

এই যে তুমি, 
এই যে বারবার কাছে আসতে চাও, 
ছুঁয়ে নিতে চাও চিবুক-নাভি-বুক,
বলোতো ছুঁয়ে নেওয়ার স্পর্ধাটা ঠিক কী?

সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে কবিতা লেখা যতটা সহজ,তার চেয়েও সহজ যখন ছুঁড়ে ফেলা,তখন ছুঁয়ে নিতে গেলে একটা পশম-নরম মন লাগে, 
লাগে প্রচ্ছন্ন মাদকতা।

এই যে বারবার ভালবাসা শব্দটা উচ্চারণ করে যাও,
একবার অন্তত, অন্তত একবার ভালবাসার সঠিক অর্থটা জেনে এসো ভালবাসা চাওয়ার আগে।


ঋণ

এই
পথ-ঘাট ধূলো-বালি দরজা-সদর
এই আবরণ এই পুরোনো-শহর 
এরাও তো বিশ্রাম চায়

বলো, এরা যদি বিশ্রাম চায়?

এই
ব্যস্ত-সড়ক এই অবসাদ-রোজনামচার
এই তিতির পাখির-ডেরা
এরাও তো বিছানা জড়ায়

বলো, এরা যদি বিছানা জড়ায়?

এই আলো-ছায়া মোহ-মায়া পরস্পর
এই টিফিনের ঘন্টারা
এরাও তো আবেশে হারায়

বলো, এরা যদি আবেশে হারায়?

থাক তবে
এক-রাত এক-দিন পথঘাট অমলিন
থাক রাস্তারা চুপচাপ, নেহাতই স্বাধীন|

থাক, সড়ক-জীবন কাল(রবিবার) একটু স্বাধীন ...


কবিজন্ম

এতো বেশি ভেবো না
কী হবে, কী আর হবার আছে বলো

রেখে যাও স্মৃতিটুকু, লিখে যাও কথা
পাঠকেরা পড়ে নেবে সব মৌনতা

এতো বেশি ভেবো না
কী যাবে, কী আর যাওয়ার আছে বলো

ছুঁয়ে নিও একলা বুকের কোণ, সব নিবিড়তা,
জেনো শূন্য ছিলেই বলে বেছেছিলে এই নীরবতা

এতো বেশি ভেবো না
কী পাবে, কী আর পাওয়ার আছে বলো

ভেবো 
আঁধারের বুক জুড়ে আরো এক কবি জন্মাল ...
গোপন কথা

গাছেরও তো ছায়া আছে,আলোর টানে
সেও মাটি ফুঁড়ে বেড়ে ওঠে,
বলো তবে গোপন কথা তার নেই কেন?

ভারে ভারে ঝুঁকিয়েছে মাথা,
খসিয়েছে পাতা,
বলো তবে তার কোন ক্ষোভ-রাগ-দুঃখ নেই কেন?

কত রঙে সেজে ওঠে-কত দেয় ঋতুর দোহাই,
মায়াবী-শরীর জুড়ে বেড়ে ওঠে তার অপত্যরাই,
বলো তবে তার কোন মায়ার বাঁধন নেই কেন?

আছে জানি প্রাণ,আছে দীর্ঘায়ত জীবন,
হয়তোবা মনও আছে, গোপন গোপন!

তবে শুধু ছায়া নিয়ে, কেন পাশ ফিরে শুয়ে?
খুঁজে খুঁজে কেন তার দুঃখ দেখি না কখনো?
------

Comments

Trending Posts

ড. সুকুমার মাইতি (গবেষক, শিক্ষক, প্রত্ন সংগ্রাহক, খড়গপুর)/ভাস্করব্রত পতি

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

খাঁদারাণী, তালবেড়িয়া, মুকুটমণিপুর ড্যামের নির্জনতা ও 'পোড়া' পাহাড়ের গা ছমছমে গুহা /সূর্যকান্ত মাহাতো

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সুন্দরবনের উপর গুচ্ছ কবিতা/ওয়াহিদা খাতুন