উপস্থাপনার সাতকাহন - ১


উপস্থাপনার সাতকাহন || পর্ব - ১

পৌ লো মী  ভ ট্টা চা র্য্য 

উপস্থাপনার মোদ্দাকথা

"ইন্ট্রোডিউস ইয়োরসেল্ফ"... খুব সাধারণ শব্দগুচ্ছ এখন।বাংলা সাহিত্য নিয়ে কলেজস্ট্রিট ক্যাম্পাসে লেখাপড়া করার সময় আমরা মাথা ঘামাতাম বেশি, লেখ্য ভাষা ও মুখের ভাষার তফাৎ নিয়ে। তবে এমবিএর দৌলতে ততদিনে গ্রুপ ডিসকাশন ঢুকে পড়েছে। কাজেই নিজেকে এবং নিজের কাজকে অন্যের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজন তুঙ্গে। আমার জীবনের শুরুটাই ছিল কবিতা আবৃত্তির মঞ্চ থেকে সরাসরি কলেজ লেকচারের ডায়াস। ছোটবেলার পার্টটাইম ঐ কাজটাই তাই বুঝিয়ে দিয়েছিল আমাকে, উপস্থাপনা বিষয়টা আদতে কি। হ্যাঁ ছোটবেলাই বটে। বছর তেইশের প্যাকাটি চেহারার বাংলার দিদিমণিকে সেদিন প্রায় কাছাকাছি বয়সের ছাত্রদের সামনে "উপস্থাপন" করতে হয়েছিল। তখন গায়ক নচিকেতার 'পৌলোমী 'গানটি রিলিজ করে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই বৈষ্ণব পদাবলীর ক্লাস শুরুর আগে আমার স্নেহের ছাত্রকুল লাস্ট বেঞ্চের কোণ  থেকে সুর ও শ্বাস সহযোগে "ও পৌলমী" শুরু করবে এটাই বাস্তব তখন। খুব সামান্য কদিনের অভিজ্ঞতা হলেও একেবারেই মুছে ফেলার নয় সেগুলো।

আসলে, কি বলব ...কেন বলব... আর কি করেই বা বলবো, এই সবটা ঘেঁটে জগাখিচুরির নামই 'উপস্থাপন'। আমাদের সাধারণভাবে অনেকের ধারণা আছে, উপস্থাপন এমন একটা বিষয় যা শুধুমাত্র প্রফেশনাল কাজে ব্যবহার হয়। বাস্তবে তা একেবারেই নয়। মাইক্রোফোনের সামনে সারাজীবন না এসেও ঝাঁ-চকচকে এমএন সি র টাই গলায় না ঝুলিয়েও আপনি তুড়ি মেরে উপস্থাপনায় হায়েস্ট স্কোর করতে পারেন। আপনি মাঝেমাঝেই এমনটা করেনও। কিন্তু ঠিক খেয়াল করেন না। খালি আপনার সামনের ভ্রু কুঁচকানো মানুষটার চওড়া হাসি দেখলে 
নিজের অজান্তে ভরে যান নিজেই। আপনার এই অজানা মোড়ক গুলোকে একটু খুলে দেখলেই বেরিয়ে আসবে উপস্থাপনার হাল-হকিকত। শিল্পাচার্য রামানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় এক জায়গায় বলেছিলেন, "মানুষ যখন অন্যের খাবার কেড়ে খায়, তখন তাকে বলে প্রবৃত্তি। মানুষ যখন নিজে খাবার খায় তখন তাকে বলে নিবৃত্তি। আর মানুষ যখন অন্যের সঙ্গে খাবার ভাগ করে খায়, তখন তাকে বলে সংস্কৃতি।".... এই সংস্কৃতির সিংহভাগটুকুই মোদ্দাকথা। আমাদের রোজকার ঘেরাটোপে এর ছিটেফোঁটাও যদি থাকে, তবে উপস্থাপনায় আপনিই ষোলআনা।
২০০৫ সাল, আকাশবাণীর ক্যান্টিন থেকে স্টুডিও অব্দি যে মানুষটি এই মোদ্দা কথাটুকু বারবার শিখিয়ে গেছেন, তিনি (শ্রী দেবাশিস বসু) জগৎ ও জীবনে স্বনামধন্য। তার ডান পাশে কখনো বা তার বা বাঁপাশে বসে এক্কেবারে একটি আদ্যন্ত প্রফেশনাল জায়গায় নিজেকে ধাতস্থ করার যে চেষ্টা শুরু করেছিলাম, তা আজও আমার চলছে। বেশ বুঝতে পেরেছি নিজেকে বাইরে এবং ভিতরে একটি পজিটিভ ওয়েভে বেঁধে না নিতে পারলে অবধারিত কপালে লবডঙ্কা। এই আলোটাকে খুঁজে ফেরাই উপস্থাপনার গুপ্তমন্ত্র। জীবনের বাঁকে বাঁকে ছড়ানো আলপনার কারুকাজটাকে দেখা এবং দেখানো। (চলবে)

------

Comments

Popular posts from this blog

মেদিনীপুরের বিজ্ঞানীদের কথা

মেদিনীপুরের চোখের মণি বিজ্ঞানী মণিলাল ভৌমিক /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

মেদিনীপুরের রসায়ন বিজ্ঞানী ড. নন্দগোপাল সাহু : সাধারণ থেকে অসাধারণে উত্তরণের রোমহর্ষক কাহিনী /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

মেদিনীপুরের পদার্থবিজ্ঞানী সূর্যেন্দুবিকাশ কর মহাপাত্র এবং তাঁর 'মাসস্পেকট্রোগ্রাফ' যন্ত্র /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

ঋত্বিক ত্রিপাঠী / আত্মহত্যার সপক্ষে

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

আসুন স্বীকার করি: আমরাই খুনী, আমরাই ধর্ষক /ঋত্বিক ত্রিপাঠী

শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজই আদর্শ সমাজ 'কালের যাত্রা' নাটকের শেষ কথা/সন্দীপ কাঞ্জিলাল

অংশুমান কর

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল