লোককথা - বোকাতাঁতি- ৯


লোককথা- বোকা তাঁতি
গল্প - ৯

সু ব্র ত কু মা র  মা ন্না    

মাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে পুকুরঘাটে গেল

ধান পাকার সময় এল, বােকা সকাল সকাল গামছাতে মুড়ি, পেঁয়াজ বেঁধে, পেতলের ঘটিতে একঘটি জল আর কাস্তে নিয়ে মাঠে গেল। মহা উদ্যমে কাজ শুরু করল, কোনােদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। এককদম কাজ করার পর যখন সে ঘাড় তুলল তখন সে দেখল চড়া রােদ। বােকার খিদে পেল। কাস্তেটা ধানের গােছার উপর রেখে মুড়ি খেল। তারপর আবার ধান কাটতে শুরু করল। রােদ বাড়ে বােকা ঘেমে ওঠে। হঠাৎ বােকার হাতে ছ্যাকা লেগে গেল। কাস্তেটাতে হাত দিয়ে দেখে দারুণ গরম, হাতে ফোস্কা হওয়ার জোগাড়। বোকা ভয় পেল, কাস্তের নির্ঘাত জ্বর হয়েছে। না হলে এত গরম হবে কেন ? হায় রে বােকার কাস্তের কি হবে তাহলে?
এই ভেবে বােকা হাত পা ছড়িয়ে কাঁদতে লাগল, যত বেলা বাড়তে লাগল কাস্তের জ্বর তত বাড়তে লাগল। বােকাও তত উচ্চস্বরে কাঁদতে লাগল। কাছাকাছি জমি থেকে চাষিরা ছুটে এল। বােকা কাঁদতে কাঁদতে কাস্তের জ্বরের কথা বলল। বােকাকে সবাই মােক্ষম চেনে, তারা হাসতে লাগল। তাদের হাসি দেখে বােকা আরও কাঁদতে লাগল। তারাই বােকাকে বলে, “বােকা কাস্তেকে জলে ডুবিয়ে আন তাহলেই জ্বর ছাড়বে। জলের মধ্যে একটু ডুবিয়ে রাখবি।" বােকা প্রথমে কথাটা বিশ্বাস করল না। কিন্তু উপায়ও তাে নেই। তাই আর কথা না বলে সামনের এক ভােবাতে কান্তেটা ডুবিয়ে রাখল। কাস্তের শরীর ঠাণ্ডা -- সত্যিই জ্বর নিমেষে উধাও। বােকা মহানন্দে মাঠে ফিরে এল। বােকা আবার কাজ শুরু করল।

দুপুর হয় হয়। বােকার বড় খিদে পায়। মা নিশ্চয় তার জন্যে ভাত বেড়ে বসে আছে। ছুটতে ছুটতে ঘরে এসে দেখে রান্না ঘরে ভাত বেড়ে দেওয়া আছে, আর মা দাওয়ায় কাঁথা গায়ে শুয়ে আছে। বােকা জিজ্ঞাসা করে, “মা তােমার কি হয়েছে?" মা বলেন, “জ্বর হয়েছে মনে হয়, খুব জাড় লাগছে।" বােকা মায়ের কপালে হাত দিয়ে দেখে সত্যি জ্বর, ঠিক তার কাস্তের মতাে। বােকা খাওয়া ভুলল। বলল, "মা তােমার কিছু চিন্তা নাই। এক্ষুনি জ্বর ভাল হয়ে যাবে।" এই বলে বােকা মাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে পুকুরঘাটে গেল। মা জিজ্ঞাসা করেন, কি করিস বোকা...

মা ছটফট করে নামার চেষ্টা করেন, বােকা মাকে জাপ্টে ধরে পুকুরে ডুবিয়ে রাখে। মা যত ছটফট করে, বােকা তত জেঁকে ধরে। কিছুক্ষণ পরে মাকে তুলল, কিন্তু মা আর তাকাচ্ছে না? কথা বলছে না কেন ? গা-টা কেন ঠাণ্ডা, জ্বর তাে কেটে গেছে। পাড়ার লােক ছুটে এল। কাণ্ড দেখে সবাই বােকাকে গালমন্দ করল। বােকা ভয় পেয়ে গেল। ছুটে পাড়ার ডাক্তারকে ডেকে আনল। ডাক্তার অনেক কষ্টে মায়ের পেট থেকে জল বার করলেন। মা এ যাত্রায় রক্ষে পেলেন। বােকার বােকামিতে মায়ের প্রাণটাই যাচ্ছিল আর কী!

Comments

Trending Posts

মেদিনীপুরের কৃষিবিজ্ঞানী ড. রামচন্দ্র মণ্ডল স্যারের বর্ণময় জীবনের উত্থান-পতনের রোমহর্ষক কাহিনী /উপপর্ব — ০১ /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১১

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

ড. সুকুমার মাইতি (গবেষক, শিক্ষক, প্রত্ন সংগ্রাহক, খড়গপুর)/ভাস্করব্রত পতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শিবচতুর্দশী /ভাস্করব্রত পতি

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

জঙ্গলমহলের 'জান কহনি' বা ধাঁধা /সূর্যকান্ত মাহাতো