করোনার কবলে খুশির ইদ/ রোশেনারা খান

করোনার কবলে খুশির ইদ 

রোশেনারা খান 

আজ খুশির ইদ।যদিও ২০২০ তে ইদ নামে মাত্র পালন হয়েছে। নিষ্ঠা ভরে একমাস রোজা পালন করেও করোনার জন্য শান্তিপূর্ণ ভাবে আনন্দের সঙ্গে সবাই একত্রে ইদের নামাজ আদায় করতে পারেননি।এবারও একই অবস্থা। তবুও ইদ মিলনোৎসব সবার কাছে। মুসলিমদের সবচেয়ে দুটি বড় উৎসবের মধ্যে ‘ইদুল ফিতর’ অন্যতম। এই উৎসবকে  আমরা সংক্ষেপে ‘ইদ’ বলে থাকি। সম্পূর্ণ  রমজান মাস রোজার পর মুসলিমরা খুবই আনন্দের সঙ্গে এই দিনটি পালন করে থাকেন।রমজান  মাসে একমাস রোজা বা সিয়াম পালনের পর ১ লা শাওয়াল ইদ পালন করা হয়।  বিশ্বের সমস্ত দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা যে রোজা পালন করেণ তা শুধু উপবাসে থাকা নয়।সমস্ত রকম পাপাচার, লোভ-লালসা,কামনা-বাসনাকে মন থেকে মুছে ফেলে সংযমের সঙ্গে রোজা পালন করলে তবেই আল্লহ পাকের কাছে সেই রোজা কবুল হয়। ইদ  রোজা ভাঙ্গার দিন। ধর্মীয় পরিভাষায় তাই ইদ হল এই একমাস কৃচ্ছ সাধনের পুরষ্কার।
  রমজানের শেষে পশ্চিমাকাশে একফালি বাঁকা চাঁদ উঁকি দিয়ে পরেরদিন যে  ইদ,সেই খুশির বারতা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়ে যায়। রোজা ও ইদে যে ধর্মীয় বিধানগুলি পালন করা আবশ্যিক তা হল,ফিতরা, জাকাত ও জামাতে ইদের বিশেষ নামাজ আদায় করা। প্রত্যেক বছর নতুন করে ফিতরা ধার্য করা হয়।ফিতরা দেওয়া হয় দরিদ্র ও ভিখারিদের। রোজা চলা কালেই ফিতরা না দিয়ে, ইদের পরে দিলে তা সাধারণ দান হিসেবে গণ্য হয়। রোজা রাখা কালে যদি কোনও দোষত্রুটি হয়ে থাকে তা থেকে মুক্তির জন্য ফিতরা দেওয়ার বিধান।  নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি ধন-সম্পত্তির মালিকদের জাকাত দেওয়ে ফরজ। জাকারেত টাকা জনহিতকর বিভিন্ন কাজে দান করা হয়ে থাকে। কেউ মসজিদ-মাদ্রাসায় দেন, কেউ গ্রামের উন্নয়নের জন্য,জেমন-রাস্তাঘাট তৈরি,স্কুল মেরামত বা স্কুল নির্মাণের কাজে দিয়ে থাকেন।অনেকে এই তাকা নির্দিষ্ট কিছু গরিব আত্মীয়স্বজনকে দান করেন। এছাড়াও দুস্থ ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা, বিবাহ এবং দুস্থদের চিকিৎসার জন্য দিয়ে থাকে।

  ফিতরা দেওয়ার অর্থ, যাতে গরিবরাও উৎসবে ভালোমন্দ খেতে ও আনন্দ করতে পারে। ইদের সময় কেউ ব্যক্তিগতভাবে গরিবদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করেন।  বিভিন্ন ক্লাবের তরফ থেকেও গরিবদের বস্ত্র বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক বার চাঁদ রাতে ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে। ইদ  মানেই নতুন জামাকাপড়, নতুন জুতো, লাচ্ছা-সেমুই, পোলাও-বিরিয়ানি,কোপ্তা-কাবাব,ফিরনি- পায়েস নানান খাবারের আয়োজন।মহিলাদের চাই রংবাহারি চুড়ি,মেহেন্দি,আরও কতকিছু। রাত পোহালেই ইদ। তাই মহিলারা পরের দিনের রান্নার সব গুছিয়ে  হাতে মেহেন্দি আঁকতে বসেন।

  ভোর থেকে শুরু হয় রান্নার প্রস্তুতি।কারণ মিষ্টিমুখ করে তবেই ইদের নামাজে সামিল হতে হয়। নামাজের পর শুরু হয় কোলাকুলি। ছোটরা বড়দের সালাম করে সালামি পায়। এইদিন বাড়িতে বন্ধু-বান্ধবদের  নিমন্ত্রণ।না থাকলেও আজকের দিনে সব বিভেদ-বৈরিতা ভুলে এক হয়ার জন্য একে অপরের বাড়ি সালাম ও শুভেচ্ছা জানাতে যান। এগুলি সবই ইদের খুশির অঙ্গ।
  ছবি- আজহারুল পাঠান

গতবছরের মত এবারেও অতিমারি করোনার কারণে ইদ খুশির উৎসব হয়ে উঠছেনা। এবারে করোনা তার রূপ পরিবর্তন করে, আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে। আমাদের দেশে, আমাদের রাজ্যে, আমাদের শহরে (মেদিনিপুর)দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বেড়ে চলেছে মৃতের সংখ্যাও।তাই সব দিক দিয়েই সাবধানতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।বাদ দিতে হয়েছে অনেককিছু। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য বেশি মানুষ একসঙ্গে ইদের নামাজ পড়তে পারবেননা।একে অপরের বাড়ি যাওয়া আসাও চলবেনা। এই পরিস্থিতিতে আক্রান্তদের কথা ভেবে উৎসবের ব্যয় কমিয়ে ওদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে ভালো হয়।বিশেষ করে জাকাতের টাকা চিকিৎসায় ব্যয় করা উচিত। এর থেকে বড় পুণ্যের কাজ আর কী হতে পারে? সবাইকেই ইদের শুভেচ্ছা রইলো।সকলে ভালো থাকুন,অন্যকে ভালো থাকতে সাহায্য করুন। ইদ মুবারক।

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇
 আরও পড়ুন 

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি