কথাবার্তা/পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়

কথাবার্তা
পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়


-কি হতে চাও?
--খ্যাত।
--তারপর কি করবে?
--যা ইচ্ছে তা করব না।
--এ কথার মানে কি? 
-- ধ্বংসে মতি নেই।অযোগ্যেরা খ্যাতি 
   পেলে যা করে।
--তুমি কি করবে?
--উল্টোটা। শিষ্টাচারের শিকলে বাঁধা পড়ে
  থাকা বিশ্বস্ত হব।
--এ বিশ্বাসের কারণ?
--কারণ, আমি অযোগ্য নই।
--নিজেকে যোগ্য ভাবার যুক্তি কি?
--যোগ্য ভাবিনি। অযোগ্য নই ভেবেছি।
--যোগ্য আর অযোগ্য নয়'এর পার্থক্য কি?
--দ্বিতীয়জন সাধারণ মানুষ।
--সাধারণ মানুষের খ্যাতিতে লাভ কি?
--তারা রসগ্রহীতাকে ঠকায় না।
--তাতে কি এল গেল?
--সুতরাং ঠকানো তাদের মজ্জায় নেই?
--তাতে কি লাভ?
--যোগ্যেরা মাটি পাবে। জল পাবে। আর
  আকাশ পাবে উড়ানের?
--কি করে?
--অযোগ্য নয় যারা, তারা পথ ছেড়ে
  দেবে।
--পথ তো সবার?
--যোগ্যের অযোগ্যের থেকে অধিকার 
  বেশি। 
--তুমি এসব ভাবো কেন?
--সুন্দর সৃষ্টিতে ভরা সুন্দর পৃথিবী 
  ভালোবাসি। তাই।
--যোগ্যেরা তাদের অধিকার তো নিজেরাই
  চেয়ে নিতে পারে!
--না। পারেনা।
--কেন? 
--তারা অভিমানী। আত্মসম্মানী।
  নিজেদের চেনাতে তাদের কোনো দায়
  নেই।
--তুমি কতদিন তাদের মুখে গ্রাস তুলে
  দেবে? পথ দেখাবে?
--তাদের মুখে নয়। আমি ক্ষুধার্ত
  পৃথিবীকে তৃপ্তির পথ দেখাতে চাই।
--পৃথিবী অতৃপ্ত কেন?
--বঞ্চনায়।
--কিসের বঞ্চনা?
--খাঁটির বদলে মেকি সৃষ্টিতে মজে বেঁচে 
  থাকার বঞ্চনা।
--তোমার সাধ্য কতটুকু?
--সাধারণের পায়ে পায়ে চলা পথ হয়।
--পৃথিবীকে সুন্দর হতেই হবে?
--সে তো সুন্দরই ছিল। আমাদের মেকি
  মানুষেরা হানি করেছে তার সৌন্দর্য্য।
--কি করে প্রায়শ্চিত্ত হবে?
-- ফিরিয়ে দিতে হবে যোগ্যের  অধিকার।
--কিসের অধিকার?
--নিজেকে আবার সুন্দর করার।
--তাতে কি হবে?
--যোগ্য অযোগ্যের যুদ্ধে যোগ্য জিতবে।
--অযোগ্যেরা কোথায় যাবে?
--নরকে
-কি খাবে?
--ওটা  নিয়ে ভাবিনা।
--কেন নয়?
--তাতে সমাধান নেই।
--কি কর তবে?
--ভাবি ,পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে আবার ফুটবে
  পবিত্র সৃষ্টির ব্রহ্মকমল।
--তাতে কান্না কমবে?
--কান্নার শেষেই তো রোদ ঝলমলে 
  আকাশ। রসিক ও  বিনীত জ্ঞানীরা  ঘুম 
  ভেঙে উঠে পাবে সে খবর। হাতে হাতে 
  হবে মানবশৃঙ্খল। যাতে অন্তত এটা
  বোঝা যায়, এখনো পৃথিবীকে 
  কিছু  তথাকথিত নির্বোধেরা চক্রান্ত     
  করলেও সৃষ্টি আকুল চোখ চেয়ে বসে 
  আছে বিপন্নতা। বিশ্বকে বাঁচাবে বলে।
--তোমার উদ্দেশ্য সফল হোক।
--সৎ সৃষ্টিতে আবারো   ভরে উঠবে
  পৃথিবী।
  একমাত্র সততাই আমাদের, পশুদের, 
  গাছেদের স্মৃতিসুখের কান্না ।
--নইলে?
--নইলে যন্ত্রণার প্রতীক্ষার শেষে আবার
  শুরু হবে শোকের গভীরে তলিয়ে 
  যাওয়া। ফুল ফোটার বদলে।
  বরং ,আবার ফুলই ফুটুক।
  ফুটুক।

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇
আরও পড়ুন 

Comments

Trending Posts

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

পুঁড়া পরব /ভাস্করব্রত পতি

পতনমনের ছবি /শতাব্দী দাশ

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া