মাটিমাখা মহাপ্রাণ-৩ /শুভঙ্কর দাস

মাটিমাখা মহাপ্রাণ-৩

শুভঙ্কর দাস 

"অতীতের সূর্যাস্তের কাল
আপনার সকরুণ বর্ণচ্ছটা মেলে
মৃত্যুর ঐশ্বর্য দেয় ঢেলে
নিমেষের বেদনারে করে সুবিপুল"

এমন বৃষ্টি ছিল সারারাত যে, মনে হয়, সকালের সূর্যদেব পুবদিক থেকে মাটি নয়, যেদিকে তাকাবেন,দেখতে পাবেন, শুধু জল আর জল।মাঠ-হাট-ঘাটভরা জল,নদী-খাল-বিলভরা ভরা,আঙন-প্রাঙ্গণজোড়া জল,যেন জলের মস্ত বড় এক আয়না, এমন রাতারাতি বৃহৎ জলীয় আয়না হয়তো কোনোদিন দেখেননি,সুজ্জিঠাকুর। ঠাকুরদাস সারারাত চোখের পাতা এক করতে পারেননি,ধানের যে ছোট গোলাটি ছিল, অতি বৃষ্টির ফলে তার একদিকের মাটির দেওয়াল ভেঙে যায়,তাই নিজে ভিজে ভিজে সেখানকার সব ধান সরিয়ে রাখছেন শোওয়ার ঘরে।লক্ষ্মীদেবী সেই কাজে ধান রাখার জায়গা তৈরি করে দেন, নিজের নতুন কাপড় পেতে।

একি! এ যে নতুন কাপড়! এ পাতলে কেন? নিজে একখানি ছেঁড়া মলিন কাপড় পরে থাকো,তাই দেখে আমার কষ্ট হয়,যার নাম লক্ষ্মী,তার কী মলিন অবস্থা! এখন আবার ধান রাখতে...

ধানই তো লক্ষ্মী গো, 

এমনভাবে ভক্তিভরে কথাগুলো উচ্চারণ করলেন লক্ষ্মীদেবী যে,
ঠাকুরদাস নিজের কথাগুলো শেষ করতে পারলেন না!নীরবে কাজ করতে লাগলেন।
ধান বয়ে ঘরে নিয়ে যাওয়ার কাজ সবে শেষ হয়েছে, তখনই গোয়ালঘর থেকে গরুগুলির আর্তনাদ পাওয়া গেল, কী হল?
ঠাকুরদাস সেই ভিজে গায়েই ছুটলেন গোয়ালঘরে।টালির ছাওয়া।তার মধ্যে কয়েকটি টালি জোর বৃষ্টিপাতে ভেঙে গেছে।সেখান দিয়ে বৃষ্টির জল সজোরে আছড়ে পড়তে গরুগুলি ভয়ে চিৎকার করে উঠেছে। গরুগুলিকে দেখে তাঁর ভারি কষ্ট হল।অসহায় অবলা জীব!কেমন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিজছে!
ওরে দাঁড়া,দাঁড়া,ঠিক করে দিচ্ছি, ওতো চেঁচাসনি!
স্নেহমাখা কণ্ঠে কথাগুলো বলে
 ঠাকুরদাস কোমরে গামছা বেঁধে সিঁড়ি লাগিয়ে গোয়ালঘরের ওপর ওঠার চেষ্টা করলেন।হাতে ছিল কয়েক আঁটি খড়।
কিন্তু ওঠার সময় সিঁড়িটি বৃষ্টিজনিত কারণে একটু হড়কে যায়,তখন খড়গুলো চালার গায়ে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যায়।
কী হবে এবার! নিজের প্রতি খুবই বিরক্ত হলেন।আবার নিচে নামতে হবে।এদিকে বৃষ্টিতে পিছল সিঁড়ি! 
কিন্তু সেই আধো অন্ধকারে একটি শাঁখা-পলার হাত দেখা যায়,খড়ের আঁটিগুলো তুলে ধরে।
ঠাকুরদাস অবাক।
হ্যারিকেনের এক ছটাক আলো গোয়ালের সামনে পর্যন্ত এসেছে। 

একি গো! বাচ্চাদের ছেড়ে এলে কেন? মাথায় শুধু গামছা থাকলে কি বৃষ্টি আটকায়!

গরুগুলোর ডাক তুমি কি একাই শুনতে পাচ্ছিলে,আমায় কি কান দেননি ঠাকুর?

তা বেশ,এবার যদি বাচ্চাগুলো ভয়ে কেঁদে ওঠে, কী করবে?

সেখানে দেবেন আছে,চিন্তা নেই। তুমি কাজটা তাড়াতাড়ি শেষ করো,গরুগুলি একবারে ভিজে কুঁকড়ে যাচ্ছে! 

খড় দিয়ে টালিগুলি যথাযথ জায়গায় সরিয়ে এমনভাবে বেঁধে দিলেন,যাতে গোয়ালের ভেতর জলের ছিটে না যায়।
ঠাকুরদাস বারান্দার জ্বলা হ্যারিকেনের আলোতে বাইরেটা দেখতে পেলেও গোয়ালের ভেতরটা সেভাবে দেখতে পেলেন না।
যদি দেখতেন,তাহলে দেখা যেত,একটি কাপড় এনে লক্ষ্মীদেবী কীভাবে পরমযত্নে গরুগুলির পিঠ মুছিয়ে দিচ্ছেন,সেই অন্ধকারে মায়ের মতো...

ঠাকুরদাস ফিরে এসে দেখেন,গৃহের মধ্যে একটা চিল চিৎকার।এই মাঝরাতে বৃষ্টির ধারাকে যেন চিরে দেবে এই ক্রন্দনধ্বনি।
কী হল আবার?
শোওয়ার ঘর থেকে এই চিৎকার আসছে...
দরজা ঠেলে ঠাকুরদাস উপস্থিত হলেন মাথা ও গা মুছতে মুছতে।বিছানা থেকে নেমে এসে ছোট্ট শিশু মাটিতে বসে কান্না জুড়েছে।পাশেই তার দাদা শান্ত করার চেষ্টা করছে,কিন্তু শিশুটির কান্না কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না! হাত-পা ছুঁড়ে কেঁদেই চলছে এই মাঝরাতে।
হয়তো কোনো ভয়ের স্বপ্ন দেখেছে,তাই এই অবস্থা অথবা বৃষ্টির জলের ছিটে হয়তো ঘুমন্ত শিশুর গায়ে এসে লেগেছে! 
কারণ ঠাকুরদাস প্রথমে খুলে যাওয়া জানালাটা বন্ধ করলেন।শিশু কুমারের কাছে এলেন,কোলে তুলে নরম কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,কী হল? বাবা,এতো কান্না কিসের জন্য, বাইরে আকাশ আর ভেতরে তুই,এ যেন প্রতিযোগিতা চলছে বেশ! থাম, বাবা, থাম..

শিশু কিন্তু এইসব কথায় কোনো কর্ণপাত করল না।বড়পুত্র দেবেনে র দিকে তাকিয়ে ঠাকুরদাস প্রশ্ন করলেন,ভাইয়ের কী হল রে? কিছু কামড়ালো নাকি!
দেবেন কিছুই বলার আগে ঘুমন্ত চোখে মধুসূদন উত্তর দিল,কী জানি!ওর কান্নাতে ঘুমটা ভেঙে গেল,কখন যে কাঁদছে,বুঝতে পারিনি!
দেবেন যোগ করল,আমি তো পাশের ঘরে বৃষ্টির জন্য একটু আগে ঘুম ভেঙেছে,নিজের হিসেবের খাতাগুলো সরিয়ে রাখছিলাম,তখনই চিল চিৎকার শুনে ছুটে এলাম..এসে দেখি,তুমিও নেই, মাও

এবার ঠাকুরদাস বুঝলেন,লক্ষ্মী তো এখনও এলো না! কী হল? গোয়ালে ঢুকতে দেখলাম,বৃষ্টি থেকে হয়তো নিজেকে বাঁচাচ্ছে! কিন্তু এখানে এখানে আসেনি কেন!
কুমারকে দেবেনের কোলে দিয়ে বারান্দায় এলেন ঠাকুরদাস। হ্যারিকেনের আলোটা একটু উঁচিয়ে দিলেন,একটা বাছুরকে ধরে লক্ষ্মীদেবী পরম মমতায় গোয়ালে নিয়ে যাচ্ছেন।হয়তো ভয়ে গোয়াল থেকে বেরিয়ে এসেছিল।যাতে না ভেজে,সেই জন্য গোয়ালে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন।
ঠাকুরদাস চেঁচালেন,ওরে লক্ষ্মী, এদিকে এসো,তাড়াতাড়ি, এদিকে তোমার আর এক বাছুরের অবস্থা সামলাও,সে কেঁদে কেঁদে ঘরবাড়ি মাথায় করছে...

লক্ষ্মীদেবী বৃষ্টির দাপটে শুনতে পেলেন না! কিন্তু ঠাকুরদাসকে বারান্দায় দেখে বুঝলেন কিছু একটা হয়েছে!
 ছুটে এলেন এবং অতি দ্রুত কাপড় বদলে ঘরের ভিতরে গেলেন। শিশু কুমারকে কোলে নিয়ে বিছানায় বসে,কান্না থামানোর চেষ্টা করলেন।
ঠাকুরদাস পাশে দাঁড়িয়ে, কী হল বলতো? পেট কামড়াচ্ছে নাকি! 
লক্ষ্মীদেবী একবার বিছানায় চারপাশটা ভালো করে দেখে নিলেন,তারপর ক্রন্দনরত শিশুকে জিজ্ঞেস করে চললেন,কী হল কুমার?  কী হল বাবা আমার? 
মায়ের কোলে এসে কুমারের একটু কান্নার রেশ থামল বটে কিন্তু তার চোখ দেখে মনে হল, কিছু একটা সে খুঁজেই যাচ্ছে! ছোট ছোট
হাত নেড়ে বার বার বিছানার দিকে দেখাচ্ছে! 
কী চাই বাবা?  কী? 
দেবেন জলের গ্লাস নিয়ে ভাইয়ের মুখের কাছে ধরল,শিশু তা সরিয়ে দিল।এবার কান্না আবার বেড়ে গেল,সেই সঙ্গে এক টুকরো কথা,অ আ বন্ন বন্ন...

কী বলছে মা ভাই? 
অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল মধু।

ঠাকুরদাস আবার কাছে গিয়ে বুঝতে চাইলেন, কী বলছে! 
শিশু বলেই চলেছে,বন্ন...  বন্ন...

বন্নটা কী? বাবা কিছু বুঝতে পারছ?  জিজ্ঞেস করল দেবেন।

মনে হয় বড়ি খেতে চাইছে,আজ সকালে তো বড়ি দিয়ে ভাত খেতে খেতে খুব খুশি হয়েছিল, যোগ করল মধু। 

এই মাঝরাতে বড়ি খাবে!  খিদে পেয়েছে, তাহলে! চট করে বড়ির কৌটোটা নিয়ে আয়...নিশ্চয়  কুমাররের জন্য তোদের মা ভেজে রেখেছে , ঠাকুরদাস বললেন।

মধু ছুটে গিয়ে রান্নাঘর থেকে ভাজা বড়ির কৌটো এনে, একটা বড়ি মুখের কাছে তুলে ধরতে, আবার চিল চিৎকার শুরু করে দিল কুমার। তার মধ্যে ককিয়ে বলে উঠল,বন্ন..  অ আ বন্ন...

ঠাকুরদাস চিন্তিত হলেন।
এ এই মাঝরাতে কী বলছে, বাপু, বুঝি না!এর থেকে গুরুগুলির ভাষা বোঝা সহজ!

লক্ষ্মীদেবী সন্তানকে বিছানায় সযত্নে শুইয়ে দিয়ে,  নিজেই গোটা বিছানায় হাত বোলালেন,তারপর ট্রাঙ্কের ওপর, কলুঙ্গীর ভেতর খুঁজতে লাগলেন।
ঠাকুরদাস জিজ্ঞেস করলেন,আরে কী খু্ঁজছ?বাচ্চাটা খিদের জন্য ওরকম করছে মনে হয়!

না,খিদের জন্য নয়।

তাহলে?

একটা বই নিয়ে ঘুমিয়ে ছিল,সেই বইটি খুঁজছে,তাই কান্না!

বই? কী বলছ?

বিদ্যেসাগরের বই

ওহো হরি,বন্ন মানে বর্ণপরিচয় 


বাসুদেবপুর নামক অজপাড়াগাঁয়ের এক হতদরিদ্র চাষীপরিবারে মাঝরাতে যখন এই দৃশ্য, তখন সময়ের সুতো ধরে মহানগরের বাদুড়বাগানে পৌঁছে গেলে দেখা যাবে অদ্ভুত এক দৃশ্য। 

বাদুড়বাগানের দ্বিতল কক্ষ।বিছানায় ওপর জরাজীর্ণ ও রোগগ্রস্ত একজন মানুষ। সামান্য আড় হয়ে শুতে পারছেন না,মারাত্মক  হাঁপানি এবং সেইসঙ্গে ধুম জ্বর।
কিছুদিন আগেই স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য ফরাসডাঙায় গঙ্গার ধারে বাড়ি ভাড়া করে ছিলেন।সঙ্গে থাকতেন জ্যেষ্ঠকন্যা হেমলতা। পেটের রোগ এমন মাত্রা ছাড়ানো ছিল যে,বিছানা থেকে নামতে পারতেন না।সেদ্ধ বার্লি,পালো খাওয়ানো হচ্ছিল, তাও খেতে পারছিলেন না জেদি পিতা,একসময় ভাতের সঙ্গে আরশোলা পর্যন্ত চিবিয়ে খেয়েছে।অ্যালোপ্যাথি,হোমিওপ্যাথি এবং কবিরাজি সবরকম চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়েছে, এমন কি হেমলতা জ্যোতিষীর পরামর্শে বাড়িতে হোম-যজ্ঞ,শান্তি-স্বস্ত্যয়ন কি না করেছেন! তাতেও কিছুতেই কিছ হল না!
রোগ আরও বৃদ্ধি পেল মারাত্মকভাবে।যে মানুষটি একদিন কলেজের করিডর দিয়ে হেঁটে গেলে বাঙালি অধ্যাপক-ছাত্রগণ,সেই সঙ্গে ইংরেজ কর্মকর্তারাও ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকতেন,সেই মানুষটির মুখ বেঁকে যাচ্ছে, ঠোঁটের পাশ দিয়ে লালা নিঃসৃত হয়ে শুকিয়ে কাঠ,সেই মানুষটি একটু আফিম খাওয়ার জন্য শিশুর মতো জেদ করছেন!
এসব দৃশ্য দেখে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী,শেখ আবদুল লতিব,ডা. সান্ডজার,পুত্র নারয়ণচন্দ্রসহ সকলেই কষ্টে চোখের জলে ভাসছেন!

কে দেখে বলবে,ইনি সেই বিদ্যাসাগর,যিনি ভারতবর্ষের যে-কোনো রাজা-মহারাজার নাকের ওপর টক করে জুতো রাখতে পারেন!যিনি একক ইন্ডিয়ান,লাটসাহেবের সঙ্গে খালি পায়ে সাক্ষাৎ করতে পারেন!সেই তিনি, নিজে ব্রাহ্মণ হয়েও কোনোদিন শাস্ত্রীয় আচার-অনুষ্ঠানকে প্রশ্রয় দেননি!যাঁর কাছে পিতা-মাতাই ছিল জীবন্ত দেবতা। মাতৃশোকে একবছর স্বহস্তে নিরামিষ রান্না করে খেয়েছেন,খালি পায়ে হেঁটেছেন,ছাতা ব্যবহার করেননি,নরম বিছানায় শোননি, দীনদুঃখীর মতো দিনযাপন করেছেন। সর্বদা মায়ের গুণাবলী ধ্যান করেছেন।
বার বার স্বগোতক্তির মতো বকবক করছেন,আমি যদি আমার মায়ের গুণের একশোভাগের একভাগও পেতাম,তাহলে কৃতার্থ হতাম"
বলেই বিছানায় থেকে ওঠার চেষ্টা করছেন।
আমি বীরসিংহ যাব,মায়ের কাছে যাব,আমি মায়ের কাছে যাবরে...
মা আসছি...
বলেই মাথাটা ঘুরে পড়ে গেছেন।কাছেই হেমলতা ছিলেন, ধরে ফেলেছিলেন,না হলে মাথা মেঝেতে পড়ে ফেটে চৌচির হয়ে যেত!
সন্ধ্যেবেলা আবার এক কাণ্ড।
বাইরে বৈঠকখানায় পিতা ও মাতার বৃহৎ জলরঙের ছবি টাঙানো আছে, যাতে প্রতিদিন প্রণাম করে বিদ্যাসাগর কোনো না কোনো কাজে বেরোতেন!
এখন অসুস্থতার জন্য তা  সম্ভবপর নয়!
তাই জেদ,সেখানে গিয়ে মায়ের ছবির নিচে বসবেন।মাকে ক্ষমা চাইবেন,মায়ের সঙ্গে কথা বলবেন।
কিন্তু দৃষ্টিশক্তি প্রায় হারাতে বসেছেন।তাই দেখতেও পারছেন না ভালো করে!
পুত্র নারায়ণ মায়ের ছবিটি দেওয়াল থেকে নামিয়ে এনেছেন, পিতার প্রচণ্ড অস্থিরতা ও অসহায়তা লক্ষ্য করে।যাতে ছবিটি দেখে শান্ত হয়,ঔষধপত্র ঠিক মতো খায়!
বিদ্যাসাগর  মায়ের ছবিটি চোখের ওপর হাত রেখে দেখার চেষ্টা করলেন,কিন্ত মায়ের ছবি দেখে চিনতে পারলেন না!হাত দিয়ে ছোঁয়ার চেষ্টা করছেন।
অথচ মুখে পরিষ্কার উচ্চারণ করলেন,মা,আমি তোর অবাধ্য ছেলে,আমায় ক্ষমা করে দিস্ আমি আর তোকে ফেলে কোথায় যাব না!

নারায়ণচন্দ্র রাতের দিকে একেবারে কানের কাছে গিয়ে বিদ্যাসাগরকে জিজ্ঞেস করলেন,কী কষ্ট হচ্ছে বাবা?
শেষ সময়ে বিদ্যাসাগর ককিয়ে উঠে বললেন,দুঃখ হচ্ছে খুব,বুঝলি, দুঃখ হচ্ছে, মেট্রোপলিটনের শিক্ষকদের চাকুরীর শেষে গ্রাসাচ্ছদনের কোনোও ব্যবস্থা করতে পারলাম না! তাদের চলবে কী করে?
তারপর সেই বর্ষণময় রাত্রি।
১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই,রাত ২টার সময় মায়ের ছবির দিকে তাকিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মায়ের কোলে ফিরে যেতে যাওয়া এক দুরন্ত ও দুর্বার সন্তান।চোখের জলের দাগ তাঁর গালে তখনও স্পষ্ট! 
যাঁকে যুগের পর যুগ সত্যিকারের কোনো বঙ্গমাতারা কোনোদিন ভুলতে পারবে না! 
ঢাকায় ছিলেন সাধক বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী। ভাবাবেশে দেখলেন,সোনার রথ উড়ে যাচ্ছে, তাতে দেবকন্যারা চামর দোলাচ্ছেন,হলুদ রঙের পতাকা উড়ছে, সেই রথের সিংহাসনে বসে আছেন বিদ্যাসাগর।পৃথিবী ছাড়িয়ে রথ স্বর্গের দিকে চলে যাচ্ছে, আলোকময়, সঙ্গীত ও নৃত্যময়,  সেই দৃশ্য!  আহা!ধন্য! ধন্য! কী শোভা!কী সুন্দর! 

আর সেই মেদিনীপুরের অজপাড়াগাঁ বাসুদেবপুর, সেখানে ভোররাতের একটা দৃশ্য হয়তো কোথায় লিপিবদ্ধ করা হয়নি।
লক্ষ্মীদেবীর কোলের কাছে একটি শিশু ঘুমিয়ে আছে,যার কচি গালে এখনও চোখের জলের দাগ।হাতে ধরা একটি বই,বর্ণপরিচয়। যার প্রচ্ছদের সেই বীরসিংহের সিংহের ছবিটি জল পড়ে কিছুটা ছিঁড়ে গেছে!

ক্রমশ...

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇


Comments

Trending Posts

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

পুঁড়া পরব /ভাস্করব্রত পতি

পতনমনের ছবি /শতাব্দী দাশ

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া