বিজ্ঞানের ব্যবহার ও জীবনের অস্তিত্ব /নিশান চ্যাটার্জী


জীবনের গভীরে বিজ্ঞান-৯

বিজ্ঞানের ব্যবহার ও জীবনের অস্তিত্ব

নিশান চ্যাটার্জী


আমরা যাকে বিজ্ঞান বলি তা প্রকৃতির মাঝে নিহিত রয়েছে, তা উদ্ভিদ তত্ত্ব, প্রাণী তত্ত্ব, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, জ্যোর্তিবিদ্যা যাই হোক না কেন সবকিছুরই  মূল কিন্তু প্রকৃতি।

 আমরা নিখুঁত পর্যবেক্ষণ এবং যুক্তির উপর নির্ভর করে, নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সেই গুলি আবিষ্কার করে চলেছি।

 প্রকৃতির মাঝে যে বিজ্ঞান রয়েছে মানুষ তা আবিষ্কার করে ইচ্ছে মতো কাজে লাগিয়েছে। দেখা গেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাতক্ষনিক সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কে ব্যবহার করা হয়েছে ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা না করেই। মানুষের জীবনে যা আপাত আরামদায়ক বলে মনে হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ওই গুলোই আজ মানুষের অস্তিত্ব রক্ষায় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। 

 বিজ্ঞানের ইতিহাস থেকে জানা যায় মানুষ তার স্বরুপ জানতে কোনো দিন তেমন আগ্রহ প্রকাশ করেনি। অনন্তকাল ধরে প্রকৃতির মধ্যে এই বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব গুলি যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার মধ্যে বিস্তর প্রভেদ লক্ষ্য করা যায়। জীব বিজ্ঞানে বিবর্তনবাদ প্রসঙ্গে একটি কথা বলা হয়- "যেকোনো জীবের শৈশবকাল থেকে পরিণত অবস্থা প্রাপ্তি পর্যন্ত যে পরিবর্তন গুলি ঘটে তার মধ্যেই ওই প্রজাতির বিবর্তনের ইতিহাস খুঁজলে পাওয়া যেতে পারে"। পারস্পরিক সহযোগিতা যেখানে জীবনের মূলমন্ত্র সেখানে বর্তমানে, যুদ্ধ জীবনের প্রধান শত্রুতে পরিণত হয়েছে। প্রকৃতির মাঝে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুধু মানুষই করে। যুদ্ধ প্রবেশ করেছে মানব সংস্কৃতির মধ্যে, একান্ত ভাবেই এগুলো মানুষের নিজের হাতের সৃষ্টি।
 কিন্তু মানুষ কি একা যুদ্ধবাজ প্রাণী? যুদ্ধের ইচ্ছে কি মানুষের জিনের সাথে জড়িয়ে আছে? আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় না, মানুষ কখনোই যুদ্ধবাজ প্রাণী নয়। তার জিনের সাথেও এই বৈশিষ্ট্য জড়িয়ে নেই। প্রকৃতির কতটা রহস্যই বা আমরা ভেদ করতে পেরেছি? এই নিখিল বিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণাই পরস্পরের সঙ্গে কোনো না কোনো ভাবে সম্পর্ক যুক্ত। তাই একথা সত্য  হিংসা এবং বিজ্ঞানের অপব্যবহার জনিত ত্রুটি সমগ্র জীবজগত কেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ধর্মের পাশে যেমন অপধর্মের সৃষ্টি হয় তেমনি বিজ্ঞানের সাথে অপবিজ্ঞান ও সহাবস্থান করে। পরমাণু বিজ্ঞান মানুষকে বিপুল শক্তিদান করেছিল সমাজের অগ্রগতির জন্য। কিন্তু মানুষ তাকে প্রয়োজনে যতটা না ব্যবহার করলো তার থেকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেল অনেক বেশি। মানুষ শুধু ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা করেই ক্ষান্ত হলোনা তার সাথে যুক্ত করলো দুরারোগ্য রোগের জীবাণু। যাকে আমরা জীবাণু বোমা বা বায়োলজিক্যাল weapon বলে থাকি। পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় চার লক্ষ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয় ধ্বংসাত্মক অস্ত্র নির্মাণের জন্য। যদিও প্রচলিত আন্তর্জাতিক মানবকল্যাণ আইন এবং নানান আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী জৈব অস্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সশস্ত্র যুদ্ধে জৈব পদার্থের ব্যবহার যুদ্ধাপরাধ হিসেবেই গণ্য করা হয়। ফিরে ফিরে তবুও একটাই কথা বলতে হয় আইন করে কখনো মানুষের হৃদয়ে শুভবুদ্ধি জাগ্রত করা সম্ভব নয় যতক্ষণ না সম্পূর্ণ বেড়াজালের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ প্রকৃত সত্য অনুধাবন করতে না পারে।

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇


Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি