অভিশঙ্কা /শ্রীজিৎ জানা

অভিশঙ্কা

শ্রীজিৎ জানা


শুধু অন্ধকারের থাবার নীচে অপরাধ লুকোয় না। ধবধবে আলোয় মিশে থাকে ভয়ানক ক্রোধ। বিভৎস ঈর্ষা। অজগর ক্ষুধা। ঘরের দেয়াল জুড়ে লাল চেরি রঙ। অনেকটা দাউদাউ করছে আগুনের মতো।বেগুনী রঙের মায়াবী একটা আলো তরঙ্গ তুলেছে মসৃণ দেয়ালে। ভেতরের নিষ্প্রাণ কংক্রিট প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে আলোর সমুদ্রে। আহ্লাদভরা সেই আলোর বৃষ্টিতে আনমনে ভিজছে একটা গঙ্গাফড়িং। অনতিদূর রাক্ষুসে খিদে নিয়ে ওৎ পেতে বসে আছে মোটাসোটা একটা টিকটিকি। দেখে মনে হবে ভীষণ শান্ত- সভ্য। অন্তত এখুনি গঙ্গাফড়িংটা গিলে খাবে না। দুজনেই আলোর নীচে। দুজনেই দুজনের খুব চেনা। রুমের ভিতর আশেপাশে কোথাও একবিন্দু কালো রাতের চিহ্ন নেই। যত অন্ধকার সব মনের অতলে জায়মান। সেই নিকষকালো কুটিল আঁধার সহজে কারুর চোখে পড়ে না।
অন্ধকারের রকমফের হয়। সময় বুঝে তার কুৎসিত চেহারাটা বেআবরু হয়ে যায়। অনেকদিন ধরেই হারুর মনের ভিতরে একটা অন্ধকার থিতিয়ে পাহাড় হচ্ছে। সেই অন্ধকারটার নাম সন্দেহ। হারাধন মাল। স্বপন হালদারের ধান-পাটের গোলায়  থাকে। গায়ের জোরটুকু কেড়ে নিয়ে ভগবান বসিয়ে দিয়েছে হারুর মুখের উপর। মুখে রোজ বাঘ হাতি মেরে চলে সে। গোলার মুটেরা হারুর মুখের খিস্তিকে বেদম ভয় পায়। কথার এপিঠে ওপিঠে কাঁচা দুটো খিস্তি হারু যোগ করবেই করবে। শাঁস ছাড়ানো নারকেল মালার মতো চোখের কোটরে তারাদুটো লাটিমের মতো পাক খায়। কত বস্তা ধান গোলায় ঢুকল,কত বস্তা পাট বেরোলো হারুর তরমুজের মতো লম্বা মাথায় ধরা থাকে। বুক পকেটে থাকে ছোট্ট একটা ডাইরি। সাথে লাল নীল কালো রঙের তিনখানা কলম। গাড়ি অথবা মেশিনটলি গোলার গেট পেরোলেই ডাইরিতে চরচর করে লিখে নেয়। কোন মোটা মুখ ফসকে যদি বলে ফেলে,
--হারুদা পাটের গাঁট কটা ঢুকলো তুলেছো ত।আমরা কিন্তু গনি নি
---তা ত জানি। রামছাগলে হাল করলে গরুর দাম থাকত নি।
---তার মানে আমরা গরু আর তুমি রামছাগল।
---খুব পুলকানি দেখাচ্ছু যে। দুব বিচির গড়ায় এক লাত। পুলকানি ছুটে যাবে। 
কথা আর এগোয় না তারপর। সবাই জানে স্বপন হালদারের খাস লোক হারু। মনিব হালদারকেও দেবতার মতো মানে হারু।তবে হালদার যতই মালিক হোক গোলার চৌহদ্দির মধ্যে হারুর কথাই শেষ কথা।লোকে হামেশাই বলেই--হারু কাজ ছাড়লেই হালদার গলা ব্যাবসা কানা মেরে যাবে।

হারু তলতা বাঁশের মতো লম্বা আর ঢ্যাঙা ত্রিশূল। গায়ে তার বিধাতা যেন সযত্নে কালোপিচ লেপে দিয়েছেন। হাসলে কালো রঙ ছাপিয়ে লাল মাড়ির উপর সাজানো সাদা দাঁতের সারি টিউবলাইটের মতো আলো ঠিকরায়। মাস গেলে একটা মাইনা পায হারু। জল-কালা মিলে বিঘে দুই জমিও আছে। তার উপরে বাপের এক সে। হালদারের দৌলতে ক'বছরের মধ্যে একটা একতলা পাকার ঘর করেছে সে। কিন্তু হারুর মন ভিতরে ভিতরে মুষড়ে থাকে। জমিজমা ঘরদোর থাকলেই যে সুন্দীয় বৌ জুটবে আজকের দিনে তা বলা যাবে না। মাঝেসাঝে হারু মনে মনে বাপকেও গালিগালাজ করতে ছাড়ে না,
---বাপটাকেও বলিহারি। নিজে কালো কেলতা তার উবরে মাকেও এনেছে কালিন্দী। ক্যানেরে বাবা! একটা ফর্সা মা যেদি আনত তাইলে মোর এমন রঙ হয়। ছোটবেলায় পাড়ার অনেকেই বোলতো --অই কালুয়া বাচ্চা। শালা শুনে মাথা পুরা খঁচে যেত।
শুধু বাপকে নয় মাথা গরমের সময় ভগবানকেও এক হাত নেয় হারু।
---ঢ্যামনা ভগমান সবদিনের একচোখা। যাকে দিবে সব দিবে। হালদারকে টাকাও দিয়েছে তার উবরে গায়ের রঙও দিয়েছে বামুনপারা। আর মোর বেলায় ঘুমে লেউটে গেইলে বোধায়। শালা রঙ দিছে কেলতানি সঙে কপালও দিছে ফেলতানি।

কদিনে হারুর বেশ কয়েকটা সম্বন্ধ এলেও সবই কেটে যায় তার গায়ের রঙের জন্য। এদিকে বয়সের তো আর থামাথুমি নেই। হারুর মা-বাবার মনেও চিন্তা শ্যাওলার মতো দলা পাকিয়ে বসে থাকে। ভূতা ঠাকুরকে যতবার তারা ঘটকালির কথা বলে,ততবার সে ক্যাটকেটে গলায় বলে,
---হাল ফেশানের মেইছ্যানারা একটু সুন্দরটুন্দর বর খুঁজে। ব্যাটাকে হয় বাইরে পাঠি দাও। বাইরের জল পেয়ে যেদি রঙ ফিরে। নাইলে ফস্সা হবার বহু কিরিম আছে মাখতে বল।
---মেইছ্যানার বাপকে বলেছো পনটন কিচ্ছু লুবুনি
---লেকুচি করেছে তমার বরপণ। এম্নি খাঁদির বিয়া হয়নি তার উবরে চিৎ বাজনা।উসব আগের দিন চলে গ্যাছে খুড়া।এখন রূপ চাই।
হারুকে এসব কথা সহজে বলে না তার মা-বাবা। সেদিন বলতেই গরম কড়ায় তেলের মতো চড়চড়িয়ে রেগে উঠে,
---ফের যদি অই ভুতা ঠাকুররে কথা মোর কাছে বলেচু তবে তোদেরকে ত জাংলাবোই, শালা ঠাকুরের নামও ভুলি ছাড়ব।

শেষ অব্দি হারুর পাত্রী ঠিক করে হালদার। পাশের গাঁয়ের মেয়ে। রঙ চাপা হলেও হারুর মতো মিশকালো নয়। মুখের আদল,শরীরের গড়ন দেখলে সবার চোখেই লাগে। তবে মেয়ের বাপের ভিটে সম্বল।গোলায় সেদিন বিকেলে হনহনিয়ে হালদার ঢুকেই তক্তপোশে ধাপাস করে বসে পড়ে। বলে,
--হারু তোর জন্যে একটা মেইছ্যানা দেকলম। তোর সাঙ্গে ভালই মানাবে। তুই কাল দেখে আয়। মেইয়ার বাপকে আমি বলেছি। রঙ চাপা হলেও চোখ ফিরাতে পারবিনি।
হালদারের কথা হারুর কাছে বেদবাক্য। চাপা রঙ শুনে মনটা মিয়ানো মুড়ির মতো হয়ে যায়। তবু ভাবে,
---হালদারের চোখে লেগেছে যখন একবার দেখে এসি না।
বিকেলে সাইকেল ছুটিয়ে একাই মেয়ের বাড়িতে পৌঁছে যায় হারু। দুয়ারে পাতা মাদুরে বসে উসখুস করতে থাকে মেয়েকে দেখবার জন্য। সিঙাড়া-মিষ্টিতে তার একটুও মন নেই। তারপর সামনের পাতা আসনে অনিমা এসে বসেই হারুর মাথা ঘুরে যায়। মনের ভিতরে কত কথা বুড়বুড়ি কাটে,
--যাশ্লা!কাল মেইয়া এরম দেখতে হয়। হালদারের চোখ আঁচে মাইরি। যেমন মুখের কাটিং তেমন গতর।যেখিনে যতটা মাষ লাগবে ততটাই আছে।বিয়া করলে অ্যাকেই কোরবো। তোর ফস্সা রঙের লেকুচি করেচি যা।

হালদার দাঁড়িয়ে থেকে হারুর বিয়ে দ্যায়। আমুড়িয়ার কালী মন্দিরে দু'পক্ষের জন দশেক লোক থেকে হারু সিঁদুর দ্যায় অনিমার কপালে। বিয়ের খরচা থেকে লোকজনকে খাওয়ানো সবই হালদার সানন্দে দ্যায়। যত হোক হারু তার গোলার মেইন লোক। হালদারের ব্যবহারে সবাই অবাক হয়ে যায়।
গায়ে সেন্ট মেখে সন্ধ্যা নামতেই অনিমার কাছে সোজা চলে যায় হারু। তক্তপোশে অনিমার পাশটিতে বসে পড়ে। নরম গলায় বলে,
---জান ত কালো বলে মোকে কেউ বিয়া করতে চাইনি। তুমি ক্যানে রাজি হলে বল দিখি।
---আমিও ত কালো
---কুন শা..বলে!তাদের চোখ আছে নাকি!কালো হলম আমি। তমাকে দেখার পর থেকে আমি ঘুমাতে পারিনি। ভাবতম কালোরাও এমন গড়নের হয! ভেবেছিল তুমি রাজি হবেনি। কথা আমি কালুয়া আর তুমি কিষ্ণকলি।
---কি যে বল তুমি। কালী ঠাকুর, কিষ্ণ ঠাকুর অরাও ত কালো। তাবলে কি তাদের পুজা করবেনি লোক।
---শুদু কি আজকের রাতে কথাই বলে যাবে।
---তুমিও ত বোলছো। কিছুই করোনি।
সম্মতি পেতেই হারু তার সোহাগ উজাড় করে দিতে থাকে।

বিয়ের কদিন পেরিয়ে গেলেও হারু গোলার মুখ দেখে না। হালদার লোক পাঠিযে জানতে পারে হারু ঘর থেকে বের হয়না সহজে। গতিক বুঝে একদিন হালদার নিজেই হাজির হয় হারুর কাছে। উঠানে দাঁড়িয়ে হাঁক পাড়ে হালদার
---কিরে হারু মোর গলাটাকে কী তুই তুলে দিবি। তোর বিয়া দিয়ে ত নিজের পায়েই কুড়াল মাল্লম দেকচি।
হুড়মুড়িয়ে ঞর থেকে হারু ছুটে আসে। পিছু পিছু অনিমা। হালদার অনিমাকে হাঁ'করে দেখতে থাকে।মনে মনে বলে,
--- যে জিনিস পেইছে তাতে হারুর না যাবারই কথা।
চট করে হালদার নিজের মেজাজ ফিরিয়ে আনে চোখেমুখে। বলে,
--কালকেই যেন তোকে গলায় দেখি।
তারপর অনিমার দিকে চোখ ফিরিয়ে বলে,
---বৌমা, ছ্যানাটাকে একটু ঠেলেঠুলে পাঠাবে--বুইলে।

হালদারের স্ত্রী গত হয়েছে অনেক বছর হল। একটিমাত্র ছেলে পড়াশুনা করে ভিন রাজ্যে। ভাই-ভাইপোরা থাকলেও সবাই আলাদা। অকুড় টাকাকড়ি হালদারের। বয়স হলেও স্বভাবের দোষ আছে তার। হারু সেকথা ভালমতো জানে। ইদানীং হুটহাট তার বাড়িতে চলে আসে হালদার। আগে জল পর্যন্ত ছুঁয়েও দেখত না। এখন অনিমার হাতে এককাপ চা তার খাওয়া চাই। হারু অনিমাকে সাবধান করে দিয়েছে,
--হালদার মোদের মুনিব। তার সাথে বেশি হাহা হিহি করে কথা বোলোনি।
হারু কারো কোন কথা গায়ে মাখতে নারাজ। সেদিন চা দোকানে জগার কথাটা তার মোটেই ভাল লাগেনি --আজকাল হালদার যে দেখিঠি ঘনঘন তোর দয়রে ঢুকে পড়েঠে।  বেপার কিরে হারু। তোর পতি হালদারের এত দরদ তোর বিয়ার পরেই বেড়ে গেল দেখিঠি।
---ক্যানে তার জন্নে কি তোর গায়ে আলকুশি ফুটছে।
---না না চোখে দেখিঠি তাই!
----চোখে তর জ্বালা কল্লে বুজি রাখ
মুখে হারু জোর রাখলেও। ভিতরটা নড়ে উঠে। তাকে অন্য কিছু ভাবতে হবে বলে স্থির করে।

বছর ফুরাতেই ছেলের বাপ হয় হারু। হাসপাতাল থেকে সোজা বাপের ঘরে রেখে আসে অনিমাকে। বেশ ফুটফুটে ছেলে হয়েছে তার। অনেকেই বলেছে ছেলেটা ফর্সা হবে। বাপ-মায়ের রঙ পায়নি সে। ছেলে হলেও হারুর মনে কোন আনন্দ নেই। দিন দিন হারু ক্যামন যেন আনমনা হয়ে যেতে থাকে। সারাদিন চুপচাপ কাজ করে যায়। আগের মতো মুখের ঝালটাও অনেকখানি কমে গ্যাছে। 
নাতির অন্নপ্রাশন ধুমধাম করে সারে হারুর বাপ। হালদার বেশিরভাগ খরচ দ্যায়। হারু ঘোর আপত্তি করলেও হালদার শোনে না। অনিমা কতবার জিগ্যেস করে হারুকে,
---তমার কী হয়েচে বল দিখি। ক্যানে অ্যাত চুপচাপ থাক। ব্যাটা হইচে ত!খুশি হও নি তুমি?
---ব্যাটা হইচে ত কী কোরবো? লাচব?
ছেলের বয়স এক বছর পেরোলেও আজ অব্দি তাকে কোলে নেয় নি হারু। পাড়ার লোকেরা তার ছেলেকে নিয়ে কত কথা বলে,
---সত্তি তোদের ছ্যানা যে এমন দেখতে হবে কে জানত! পুরা বামুন ঘরের ছ্যানা।
হারুর এসব কথায় গা-মাথা আগুনের মতো দাউদাউ করে জ্বলে উঠে।
---ক্যানে! মোদের ঘরে এমন ছ্যানা ক্যানে হবে নি! ইটা কী তবে পরের ছ্যানা!
গোলায় মুটে স্টাফরা পর্যন্ত হারুকে কথায় কথায় খোঁচা দ্যায়। সবার রাগ এসে পড়ে অনিমার উপর।
---শালী, এমন একটা ছ্যানা দিলু যার জন্নে উঠতে বসতে লোক পিছনে লাগচে। ক্যানে কালো ছ্যানা কত্তে পাল্লুনু।
---তুমি বাপ নাকি রাক্কস! তমার ইকি কথার ছিরি।অমন চাঁদের মত ছ্যানাকে লিয়ে আর যদি কিছু বলেছো ত তমাকে আঁশবটি দিয়ে চটিযে কাটব।
সেই মুহুর্তে হারু আর কিছু বলে না। গোখরা সাপের মতো ভিতরে রাগে গরগর করতে থাকে।

সবে মাত্র আলো ফুটছে চরাচরের গায়ে। ইতিউতি এখনো ছোপ ছোপ কালো আঁধার লেগে আছে। হঠাৎ হারুদের পাড়াটা একটা মেয়ের বিভৎস চিৎকারে ধড়পড়িয়ে উঠে। কোনকিছু না ভেবেই ছুটে আসে সবাই কান্না অনুসরণ করে। কান্না যেখানে আছাড়বিছাড় খাচ্ছে সেটা হারুর বাড়ি। কাঁদছে হারুর বৌ অনিমা। তুলসীতলায় মাথা ঠুকছে হারির মা। হারু বেপাত্তা। বিছানায় নাতির পাশে পাথরের মতো বসে আছে হারুর বাপ। পাড়ার মেয়েরা বাচ্চাটার গায়ে হাত দিয়ে দেখে ঠান্ডা শক্ত কাঠ হয়ে গ্যাছে শরীরটা। কেউ কিছু বলার অবস্থায় নেই।
এমন সময় পুলিশের গাড়ি এসে দাঁড়ায় বাড়ির সামনে। হারুর কোমরে বাঁধা দড়ি। দেখামাত্রই অনিমা রাক্ষুসে হায়নার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে হারুর উপর।দাঁত-নখ দিয়ে যেন ফালাফালা করে দিতে চায় হারুর শরীর। কোনক্রমে তার হাত থেকে বাঁচিয়ে হারুকে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশকর্মীরা।
হারু তার জবান বন্দীতে জানিয়েছে গত রাতে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে নিজেই সে তার ছেলেকে খুন করেছে।
কোর্টে হারুর কেস চলছে এখন। গোটা গ্রাম উত্তাল হারুর কঠিন সাজার দাবীতে। অনিমা জেদে অনড়-- হারুর যেন ফাঁসি হয়। আদালতে বিচারক জিগ্যেস করলেন,
---হারাধন তুমি এমন নিষ্ঠুর কাজ কেন করলে?
দীর্ঘক্ষণ চুপ থেকে হারাধন বলতে শুরু করে,
---ওই ফস্সা রঙটাই মোর মাথাটাকে যেন চিরে দিল। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আমরা কালো। কিন্তু ছ্যানার গায়ের রঙ দুধআলতা। লোকে কতরকম কথা বোলতে থাকে। ভাবলম সবাই কি মিথ্যা কথা বোলছে। বউটাকেও দ্যাখতম যেন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। তবু চেপেচুপে ছিলম। কিন্তু সেদিন যখন মোর মাসী এসে বল্ল -হারু তর ব্যাটার মুখটা তদের হালদারের মতো পুরা। যেন কেটে বসি দিছে। রঙটাও ত তার মত। অম্নি আগুন ধরে গেল মাথায়। রাতে যখন বউ ঘুমে কাদা তখনই বালিশটা চেপে ধল্লম ছ্যানাটার মুখে।
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে যায় হারু। সেই সময়ও তার চোখ থেকে যেন গনগনে আগুনের আঁচ উপচে পড়ছে।

পেজে লাইক দিন👇

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

মহাভারতের স্বল্পখ্যাত চার চরিত্র /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শিবচতুর্দশী /ভাস্করব্রত পতি