ছাতাপরব /ভাস্করব্রত পতি

পশ্চিমবঙ্গের লৌকিক উৎসব, পর্ব -- ৩৭

ছাতাপরব

ভাস্করব্রত পতি

"জয়পুরের রাসপূর্ণিমা, বরাবাজারের ইঁদ রে
কাশীপুরের দূর্গাপূজা, চাকলতোড়ের ছাতা রে"

ছাতা টাঁড়ে 'ছাতাপরব'। পুরুলিয়ার চাকলতোড়ের ছাতাপরব। আসলে ছোটনাগপুর মালভূমি এলাকার প্রচলিত বিশ্বাস যে, বৃষ্টি কামনার অনুষ্ঠানই 'ছাতাপরব'। শুধু মানভূম নয়, বরাভূম, ধলভূম, সিংভুম, ভঞ্জভুম, মল্লভূম এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর লৌকিক উৎসব এই ছাতাপরব। মল্লরাজ্যে ইঁদকে বলে 'সনপেটা'। আর বড়াবাজারে বলে 'সুনিয়া'। ভাদ্রের শুক্লা একাদশীতে জাওয়া করম পরব, শুক্লা দ্বাদশীতে ইঁদপরব আর সংক্রান্তিতে 'ছাতাপরব' আয়োজিত হয়। এই ছাতাপরব আসলে স্বর্গের ইন্দ্র দেবতার কাছে মর্তের রাজাদের আনুগত্য প্রদর্শন। 

"রাজার বিটির ইঁদ আর হামদের জাওয়া গো
ডেগে ডেগে পঞ্চডেগে উঠে রাজার ইঁদ গো
কে কে যাবে ইঁদ দেখতে হামরা দিব কড়ি গো
ভেগে ডেগে পঞ্চডেগে উঠে রাজার ইঁদ গো"!

'ইন্দ্র' থেকে এসেছে 'ইঁদ' কথাটি। ইন্দ্র হলেন বৃষ্টির দেবতা। 'ইঁদ টাঁড়ে' ইন্দ্র দেবতার নামে ছাতা উত্তোলন করা হয় বলে এই লৌকিক উৎসবটি পরিচিত 'ইঁদ টাঁড়ে ছাতা পরব'। ইন্দ্র দ্বাদশীর দিন রাজবাড়িতে বেজে ওঠে ইঁদ ভেরী। এইদিনে বহু যায়গায় হয় ভাঁজো পরব। আর  ইঁদ পরব অনুষ্ঠিত হয় এইদিনেই। কিন্তু ছাতাপরব অনুষ্ঠিত হয় ভাদ্র সংক্রান্তিতে। 

কৃষিপ্রধান মানভূমের টাঁড় জমিতে জল না এলে চাষ হবে কি করে? তাই দেবরাজ ইন্দ্রকে তুষ্ট করার জন্য এই ছাতাপরবের জন্ম‌। 'টাঁড়' অর্থে শুকনো বিস্তৃত মাঠ বোঝায়। অষ্টাদশ শতকে দেবরাজ ইন্দ্রের পূজা বন্ধ হয়ে গেলেও মানভূম এলাকায় কখনো বন্ধ হয়নি। এখানে ভাদ্র সংক্রান্তিতে ছাতাপরবে ইন্দ্রপূজা হয়। পঞ্চকোটের রাজধানী যখন কাশীপুরে স্থানান্তরিত হয়, তখন সেখানেই ভাদ্র সংক্রান্তিতে ছাতা তোলা হত। পরবর্তীতে এই উৎসব চাকলতোড়ের রাজাদের কাছে চলে আসে। তবে কাশীপুরে 'ছাতামাড়া' নামে একটি স্থান রয়েছে এখনও।

এদিন সারা ভারত জুড়ে বিশ্বকর্মা পূজা হয়। বিশ্বকর্মা পূজার আগের দিন তথা ৩০ শে ভাদ্র ভাদুর জাগরণ হয়। আর ৩১ শে ভাদুর বিসর্জন হয়। পরের দিন ১লা আশ্বিন হয় 'ফসলি সন'। একসময় এটির চল ছিল। এখন বিলুপ্তপ্রায়। জ্যৈষ্ঠের ১৩ তারিখে রোহিণী পরবের দিনে বৃষ্টির দেবতা ইন্দ্রদেবের মর্তে আগমন হয়। টানা তিন মাস পৃথিবীতে থেকে পৃথিবীর রুখাসুখা জমিকে শষ্য শ্যামল করে ভাদ্রের পুর্ণিমা তিথিতে তিনি ফের স্বর্গে ফিরে যান। ইন্দ্রের স্বর্গে ফিরে যাওয়ার পর ইন্দ্রদেবের উদ্দ্যেশ্যে ছাতা তোলা হয় ভাদ্র সংক্রান্তিতে। তাই বলা যায় 'ছাতাপরব' হলো শস্যের উৎসব। বৃক্ষ পুজোর উৎসব। কিন্তু এতদঞ্চলের রাজারা এই উৎসবকে নিজেদের কায়েমী স্বার্থের পরিচয়বাহী করে তুলেছে জনমানসে। কিন্তু সব কিছু ছাড়িয়ে প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের বিশ্বাস, ভক্তি, ভয় আর শ্রদ্ধার উপঢৌকনে চলে আসছে 'ছাতাপরব'।

পুরুলিয়ার বিখ্যাত চাকলতোড়ের ছাতাপরব এরাজ্যের বিখ্যাত। এখনো প্রতি বছর ভাদ্র সংক্রান্তিতে আয়োজিত হয় তা। তবে বর্ধমানের জামুড়িয়া থানার দামোদরপুর গ্রামে সাঁওতালরা ছাতাপরবের আয়োজন করে ১ লা আশ্বিন (সূত্র - মদন গুপ্তের ফুলপঞ্জিকা)। অধ্যাপক শিবশংকর সিং এরকমই কিছু বিখ্যাত ইঁদ ও ছাতাপরবের মেলার তালিকা তুলে ধরেছেন। সরবাড়ির ছাতা পরব (নিতুড়িয়া), মালথোর ছাতা পরব ( পুরুলিয়া ২), সঁটরা গ্রামের ছাতা পরব (আড়ষা), বলরামপুরের ছাতা পরব (পুরুলিয়া), বোঙ্গাবাড়ির ছাতা পরব ( পুরুলিয়া), বান্দোয়ানের ছাতা পরব, চিতোড়া গ্রামের ছাতা পরব (কেন্দা), গড়িয়া ভিটারির ইঁদ পরব (পাড়া), বড়াবাজারের ইঁদ পরব (পুরুলিয়া), জয়পুরের ইঁদ পরব (পুরুলিয়া), ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির ইঁদ পরব (ঝাড়গ্রাম), মল্লভূম রাজবাড়ির ইঁদ পরব (বিষ্ণুপুর), খাতড়ার ইঁদ পরব (বাঁকুড়া), কুইলাপালের ইঁদ পরব (বাঁকুড়া), অম্বিকানগরের ইঁদ পরব ( বাঁকুড়া), সায়বুড্ডি গ্রামের ইঁদ পরব (বলরামপুর), খাতড়ার ইঁদ পরব (বাঁকুড়া), মাঠা গ্রামের ইঁদ পরব (বান্দোয়ান) ইত্যাদি। লোকের মুখে মুখে ফেরে, "বরাবাজারের ইঁদ আর চাকলতোড়ের ছাতা রে / মেলা দেখিতে লোক চলে কাতারে কাতারে"।

একটা নির্ধারিত ফাঁকা মাঠে বিশাল একটা শাল গাছের গুঁড়ির মাথায় বাঁশ বেঁধে আরো লম্বা করা হয়। সেই বাঁশের আগায় কাপড় দিয়ে ছাতা বানানো হয়। বিকেল নাগাদ রাজবাড়ির কোনো বংশধর (এখন যান অমিত সিং দেও ) গিয়ে দেবরাজ ইন্দ্রকে স্মরণ করে ঐ বিশাল ছাতা তোলেন। পালকি চড়ে, ঘোড়ায় চেপে, উটে চেপে কিংবা দামী গাড়িতে চেপে ছাতা তুলতে আসেন ছাতাটাঁড়ে। চারিদিকে লোকে লোকারণ্য। মেলা আদিবাসীদের। কিন্তু ছাতা তোলেন ক্ষত্রীয়। কোনো সংস্কৃত মন্ত্রপাঠ নয়। নিজস্ব ভাবনা এবং নিজস্ব ঘরানার মিশেলে পূজা হয়। আর তারপর রাজা ছাতা তোলেন মহা উৎসাহে।

বিশ্বকর্মা পূজার দিন চাকলতোড়ে যে ছাতা পরব হয় তা অভিনব। ছাতাপরবে ব্রাম্ভণ্য সংস্কৃতির স্থান নেই। আদিবাসীদের সামাজিক রীতিনীতি প্রাধান্য পায়। কথিত যে, এখানে প্রেম দেওয়া নেওয়া চলে সারারাত ধরে। এখানে নাকি হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যায়। ভাদ্র সংক্রান্তিতে মেলার মাঠে ছলকে ওঠে আদিম তৃষ্ণা। আদিবাসী সম্প্রদায়ের লৌকিক বিশ্বাস যে, ছেলেদের অন্তত একবার চাকলতোড়ের ছাতাপরবে এবং অযোধ্যার শিকার উৎসবে যেতেই হবে। আর মেয়েদের একবার হলেও যেতে হবে ছাতাপরবে। এখানে তাই মেয়েদের ভিড় বেশি হয়। মূলতঃ যে সব মেয়েরা অসুখী কিংবা শ্বশুরবাড়িতে স্থান পায়না কিংবা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে -- সেইসব অসহায় মেয়েদের বুকে উঁকি দেওয়া ভালোবাসা এখানে অনুরণিত হয়। মেলা প্রাঙ্গণে খুঁজে বেড়ায় মনের মরদকে। নিয়ম, লোকলজ্জা, মানসম্মানের ভয় সবকিছুই তখন তুচ্ছ হয়ে ছাতাপরবের 'ছাতা' যেন ঢাল হয়ে রক্ষা করে তাঁর 'ভালোবাসা'। তরুনদেব ভট্টাচার্য লিখেছেন, "শ্বশুরবাড়ি থেকে পালানো বধূদের হদিস পাওয়া যায় চাকলতোড়ের মেলায়। সেসব বধূদের ধরা হয় এখানে। এখানে ফুল ও সঁয়া পাতানোও চলে। মেলার মাঠে বন্ধুত্ব গ্রথিত হলে বজায় থাকে আজীবন"। একসময় বহু এলাকায় এই ছাতাপরব অনুষ্ঠিত হত। কিন্তু কালে এবং কালেত্তরে এগুলোর বেশিরভাগই হয় ম্রিয়মান অথবা বন্ধ হয়ে গেছে।
মেলার মুখ্য আকর্ষণ নানা ধরনের ধামসা মাদল বিক্রি। এছাড়া নানা ধরনের দোকান ভরপুর। প্রসাধনী দ্রব্য থেকে হাঁস মুরগি, হাঁড়িয়া, মহুল, মদ, বইপত্র, আসবাবপত্র থেকে আনাজপাতি -- সব উপস্থিত উৎসবে। মূলতঃ মাঝি, মাহাতো আর আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন যেখানে নাচগান করেন সেখানে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের প্রবেশাধিকার নেই। একান্ত নিজস্ব সংস্কৃতি বজায় থাকে এখানে।

তরুনদেব ভট্টাচার্য লিখেছেন, "পুরুলিয়া জেলায় বরাবাজারের ইঁদ এবং চাকলতোড় ও বোঙ্গাবাড়িতে ছাতা পরব প্রসিদ্ধ। রাজা ছাড়াও বড় বড় ভূস্বামীরাও উৎসবটি পালন করতেন । এখনও কোথাও কোথাও পালন করে থাকেন । রাজা পালন করতেন ইঁদ, ভূস্বামীরা পালন করেন ছাতাপরব। ইঁদে জাঁকজমক ছিল বেশী। পরবের কদিন আগে সপারিষদ রাজা বেরুতেন শিকারে। বাছাই করতেন ইন্দ্রদণ্ড বা ইঁদ ডাং করার মত উপযুক্ত গাছ। পূজো করার পর কুঁড়ুল দিয়ে রাজা আগে আঘাত করতেন গাছটিকে। পরিষদেরা পরে সেটি কেটে এনে তুলতেন ইঁদটাড়ে। সাধারণত গাছটি হত দীর্ঘ ও ঋজু শালবক্ষ। ইঁদ ডাংয়ের মাথায় বাঁধা হত কাপড় দিয়ে মোড়া বাঁশের ছাতা। পরবের দিনে ছাতাসহ দন্ডটি উত্তোলিত করতেন রাজা"।

এই উৎসবের শুরুর কাহিনী বেশ চমকপ্রদ। বর্তমান পঞ্চকোট রাজবাড়ির প্রজন্মের পূর্বসুরী জনৈক শত্রুঘ্ন প্রসাদ সিং দেও আজ থেকে বহু বছর আগে এটির সূচনা করেছিলেন বলে কেউ কেউ বলেন। সেসময় হানাদার বর্গীর দল গ্রামে ঢুকে আক্রমন করে লুঠ করে নিয়ে যেত হাঁস মুরগি গরু ছাগল সবকিছুই। এমনকি মহিলা সহ ছোট ছোট ছেলে মেয়েদেরকেও। চারিদিকে শ্মশান হয়ে যেত লুটপাটের পর। তখন এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা মাঝি, মাহাতো, আদিবাসীরা সমবেত হয়ে রাজার কাছে নালিশ জানায়। রাজা তখন সকলকে বৃদ্ধ বটগাছের তলায় জড়ো হতে নির্দেশ দেন। সবাই হাজির। এদিকে বর্গীরা আসতেই রাজার আদেশে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়লো বর্গীদের ওপর। বহু আদিবাসী মারা গেলেন। তেমনি সর্দার সহ বর্গীরাও বন্দী হলেন। তখন বর্গী সর্দার উপায়ন্তর না পেয়ে সন্ধির আহ্বান জানান। রাজা রাজী হলেন প্রজাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। তিনি একটা উঁচু মঞ্চ তৈরি করে সেখানে উঠে শান্তি ঘোষনা করলেন ঐ বৃদ্ধ বটবৃক্ষকে সাক্ষী রেখে। এবং ঠিক করলেন যে, তাঁর এই শান্তির বাণী যাতে সবাই জানতে পারে সেজন্য খুব উঁচু একটা দণ্ডের মাথায় ছাতা বেঁধে দেওয়া হবে। যাতে অনেক দূর থেকেও দেখা যায়। এই 'ছাতা' আসলে রাজার দৃপ্ততা, প্রজাদের নিরাপত্তা রক্ষা, শৌর্য, বীর্য এবং প্রজাদের প্রতি চরম আনুগত্যের প্রতীক হয়ে বিরাজমান। এখন যে মাঠে ছাতাপরব হয় সেটির নাম 'ছাতা মাঠ'। উল্লেখ্য, বর্গীনেতা ভাস্কর পন্ডিত এখানে ছাউনী ফেলেছিলেন ১৭৪৩ সালে। তাই সেই বর্গীনেতা কি ইনিই? কারো কারো অভিমত, অনেক কাল আগে চাকলতোড়ের রাজা শত্রুঘ্ন সিং দেও পরাজিত করেছিলেন ভূমিজ সর্দার রাজা গঙ্গানারায়ণ সিং দেওকে। তারপর গঙ্গানারায়নের অনুগত সৈন্য সামন্ত, ভূমিজ, সর্দার, আদিবাসী প্রজারা শত্রুঘ্নর ছত্রছায়ায় আসেন। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি বছর ভাদ্র সংক্রান্তিতে এই চাকলতোড়ের রাজা ছাতা উত্তোলন করেন।

তবে আরও ভিন্ন মত রয়েছে ছাতাপরবের চালুর বিষয়ে। একসময় পুরুলিয়ার পঞ্চকোট রাজবংশের কোনো এক রাজা যুদ্ধে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ফিরে আসেননি বহুদিন। সবাই চিন্তিত। তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন -- কোনো খবরাখবর ছিল না। অবশেষে একদিন সত্যি সত্যিই রাজার যুদ্ধ জয় করার খবর এলো রাজবাড়িতে। আনন্দের ঢেউ বয়ে গেল তখন। সেদিনটা ছিল ভাদ্রের সংক্রান্তি। রাজার যুদ্ধজয়ের বিজয়বার্তা প্রজাদের বাড়িতে বাড়িতে পৌছে দিতে সেদিন উঁচু দণ্ডের মাথায় সাদা কাপড়ের ছাতা তুলে আনন্দে মেতে উঠলো সবাই।

ড. সুভাষ রায় পুরুলিয়ার অন্যতম লোকগবেষক। ছাতাপরবের সূচনালগ্ন সম্পর্কে তিনি এক ঐতিহাসিক কাহিনীর সন্ধান দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, "পঞ্চকোটরাজ নীলমণি সিংদেও স্বাধীনতা আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁরই নেতৃত্বে ১৮৫৭ সালের ৫ ই আগস্ট পুরুলিয়ার মানুষ বিদ্রোহে ফেটে পড়ে। ট্রেজারি থেকে ১ লক্ষেরও বেশি টাকা লুট হয়। দু তিনশো কয়েদিকে জেল থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়। ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ইংরেজরা পুরুলিয়া থেকে পালিয়ে গিয়ে রানীগঞ্জে আশ্রয় নেয়। দীর্ঘ ২৩ দিন পুরুলিয়া জেলা ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়। ঠিক একই সময়ে সাঁওতালরাও ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এই সাঁওতাল শক্তিকে কাজে লাগান নীলমণি সিংদেও। সকলেই সম্মিলিতভাবে ব্রিটিশ বিরোধীতায় নামে। প্রচলিত কথায় শোনা যায়, ভাদ্র মাসের এই সংক্রান্তির দিনটিতে পঞ্চকোটরাজ এর নির্দেশে হাজার হাজার সাঁওতাল আবালবৃদ্ধবনিতা সকলেই সমবেত হন এই চাকলতোড়ের বিস্তীর্ণ মাঠে এবং তাঁরা সকলেই শপথ নেন সমবেত আন্দোলনে নামার। এবং এই দিনটিতে সমস্ত আদিবাসী প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন তাঁরা প্রতি বৎসর এই দিনটিতে যথাসময়েই মিলিত হবেন অন্তত একদিনের জন্যও। সমস্ত সাঁওতাল সমাজ রাজার সঙ্গে এদিন মিলিত হবে। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৮৫৭ সাল থেকে সমানভাবে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে"।

পেজে লাইক দিন👇

Comments

Popular posts from this blog

মেদিনীপুরের বিজ্ঞানীদের কথা

মেদিনীপুরের চোখের মণি বিজ্ঞানী মণিলাল ভৌমিক /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

মেদিনীপুরের রসায়ন বিজ্ঞানী ড. নন্দগোপাল সাহু : সাধারণ থেকে অসাধারণে উত্তরণের রোমহর্ষক কাহিনী /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

মেদিনীপুরের পদার্থবিজ্ঞানী সূর্যেন্দুবিকাশ কর মহাপাত্র এবং তাঁর 'মাসস্পেকট্রোগ্রাফ' যন্ত্র /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

ঋত্বিক ত্রিপাঠী / আত্মহত্যার সপক্ষে

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

আসুন স্বীকার করি: আমরাই খুনী, আমরাই ধর্ষক /ঋত্বিক ত্রিপাঠী

শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজই আদর্শ সমাজ 'কালের যাত্রা' নাটকের শেষ কথা/সন্দীপ কাঞ্জিলাল

অংশুমান কর

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল