কমলিকা ভট্টাচার্য
সন্ধ্যা নামছে ধীরে ধীরে।
আকাশে রঙ মিশে গেছে—নীল, ধূসর আর একটু কমলা। বাতাসে কেমন একটা ক্লান্ত গন্ধ, দিনের অবসানের। বারান্দায় জামাকাপড় গুটিয়ে তুলছিল জয়িতা। হঠাৎ কোথা থেকে যেন একটা করুণ ডাক ভেসে এল—
“হাম্বা... হাম্বা..”
চমকে উঠে বারান্দা থেকে নিচে তাকাল সে। দেখল, পুকুরের ধারে একটা ছোট বাছুর দাঁড়িয়ে কাঁদছে। গলার স্বরটা এমন অসহায়, যেন পুরো পৃথিবীটাকে হারিয়ে ফেলেছে সে। চারদিক ফাঁকা, কোনো গরু নেই আশেপাশে।
প্রতিদিন সন্ধেবেলায় জয়িতা দেখত, ওরা—গরুর দলটা—ওই পুকুরপাড়ের আল বেয়ে সারি করে ঘরে ফিরে যায়। ধুলোর সঙ্গে মিশে যায় তাদের পায়ের শব্দ, আলো-আঁধারির মধ্যে তৈরি হয় এক গোধূলি দৃশ্য। কিন্তু আজ, এই একটি বাছুর দল থেকে ছিটকে পড়েছে। কেউ নেই ওর পাশে।
বাছুরটা ডাকছে বারবার, থামছে না। যেন অন্ধকারের ভেতর থেকে সে নিজের পৃথিবীটাকে খুঁজে ফিরছে। জয়িতার বুকটা হঠাৎ কেঁপে উঠল। মনে হল—যদি কোনোদিন সে-ও এমন করে হারিয়ে ফেলে নিজের চেনা পথটা? যদি কোনোদিন তারও চারপাশে কেউ না থাকে, শুধুই এই নিঃসঙ্গতা?
মুহূর্তের মধ্যেই আলো নিভে গেল চারপাশে।
আকাশের রঙ বদলে গেল গভীর কালোয়।
জয়িতার মনে হলো, তার পা হঠাৎ কেমন যেন থেমে গেল।
বারান্দার সিঁড়ির ধারে পা দুটো পাথরের শিলার মতো ভারী হয়ে উঠতে লাগলো।
🍂
বাতাসে উঠল বাছুরটার করুণ ডাক—
একটা উপলব্ধি ধীরে ধীরে জয়িতাকে ঘিরছে ,সে বুঝতে পারল, অন্ধকার নামলে
জীবনে সবাই কোনো না কোনো সময় দলছুট হয়ে পড়ে।
দলছুট হওয়াটা হয়তো অপরিহার্য—
কারণ দলছুট মানে শুধু দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়,
এটি এক অন্তর্জগতে হারিয়ে যাওয়া,যেখানে ফেরার পথ কেউ দেখায় না।
আর সেখানেই শুরু হয় নিজের পথে ফেরার যাত্রা—
আত্মশক্তিকে সম্বল করে,
2 Comments
দিনের শেষে আমরা সবাই দলছুট 😊😊
ReplyDeleteভীষন ভালো লাগলো।
ReplyDelete