জ্বলদর্চি

নিউজিল্যান্ডের নর্থ আয়লানডের ওয়েলিংটন শহরে বেড়ানোর গল্প/শেষ পর্ব/কথাকলি সেনগুপ্ত

নিউজিল্যান্ডের নর্থ আয়লানডের ওয়েলিংটন শহরে বেড়ানোর গল্প

শেষ পর্ব

কথাকলি সেনগুপ্ত 

পয়লা ডিসেম্বর, দুহাজার পঁচিশের সকাল; আমাদের আজ ওয়েলিংটন শহরের বিখ্যাত কিছু জায়গা, যেমন সেই মিউজিয়াম 'তে পাপা' (Te Papa) আর বন্দরের তথা  হারবার এর চারিদিকে ঘুরতে যাওয়ার কথা। তারপর সন্ধ্যের দিকে এই কয়দিনের সদা সঙ্গী বাহন 'কিয়া - কারনিভাল' টিকে এয়ারপোর্টের 'কার রেনটাল' জমা করে দিয়ে প্লেনে করে ক্রাইস্টচার্চে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ব্যাপার ও আছে।

সেই মত সব মালপত্র গুছিয়ে নিয়ে গাড়ির পেছনে 'হেঁইয়ো হেঁইয়ো' করে তুলে নিয়ে হোটেল কে 'টা টা' করে সবাই প্রস্তুত হয়ে দেখা শুরু করতে বেশ অনেকটাই সময় পার হয়ে গেল। উপায় কী? প্লেনে নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজনের ব্যাগ ঢুকবে। ছয় ছয় জনের গড়ে দুটি করে ব্যাগ  - কারোর হয়ত মালপত্র একটু বেশি হয়ে গেছে! 'ওরে, কার ব্যাগে একটু জায়গা হবে রে' সে খোঁজ নেয়া, বাড়তি জিনিস পত্র তাতে চালান করা - এসব কি কম ঝামেলার ব্যাপার! 

তাই যতক্ষণে আমরা সবাই হারবার এর নির্দিষ্ট সেই বেড়ানোর পথে হাজির হলাম, বেলা বারোটা পার হয়ে গেছে। মেঘলা দিনটি, গরমের কোনও বালাই নেই তাই মহাসুখে জলের ধারে হাঁটা শুরু করলাম। 
🍂

বোধ হয় মিনিট দশেক পার হয়েছে কি হয় নি, ওয়েলিংটনের অপর সেই বিখ্যাত জিনিস টির সাথে বেমককা দেখা হয়ে বসল। কী সেটা? প্রচণ্ড তেড়ে হাওয়া বইতে লেগে পড়েছিল। আর তার ঝাপটের ই বা কি দাপট! সামনের দিকে যে এগুবো তার উপায় পাচ্ছিলাম না। ছয় সদস্যের তিনজন বয়স্ক বহু কসরত করে ও হাওয়া কে বাগ মানাতে অসমর্থ হলাম। আমরা বাধ্য হয়ে কার পার্ক এতে ফিরে গাড়ির মধ্যে ঢুকে বসে পড়লাম। বহু কষ্ট করে গুটিকয়েক ছবি ই তুলে নিতে পেরেছিলাম। 

তারপর 'তে পাপা' তে ঘুরে দেখা আরম্ভ হল। সুবিশাল আর পাঁচ তলা বিশিষ্ট মিউজিয়াম টিতে 'গালিপোলি (তুরস্কের)' গ্যালারি দিয়ে দেখা শুরু হোল। সামাজিক নানা দৃষ্টিকোণ থেকে নিউজিল্যান্ডের মাওরি আর উপনিবেশ কারী শ্বেতাঙ্গ ওদের দেড়শ থেকে পোনে দুইশ বছরের ইতিহাস এদিককার আগ্নেয়গিরি গুলো, ভূমিকম্পের অতিরিক্ত প্রবণতা গাছ গাছালি পশু পাখির বৈশিষ্ট্য বিজ্ঞান  - কী নেই সেখানে? তার ওপর রয়েছে এদের অসাধারণ সুন্দর পরিবেশনা আর তথ্যের উপস্থাপনা। সত্যিই বেলা একটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত সময় যেন এক আবেশ করা মুগ্ধ ভাবে কাটিয়ে দিয়েছিলাম!

মাঝে ওদের ই ওপরতলার ক্যাফে তে খানিক বসে আর দুপুরের খাওয়া সেরে নিয়েছিলাম। তারপর আর কি!  নির্দিষ্ট সময়ে ভাড়া গাড়িটি জমা করে দিয়ে প্লেনে চড়ে ক্রাইস্টচার্চে নিজের শহরে ফিরে চলে আসা হোল। এভাবেই আমাদের নর্থ আয়লানডে দশ দিনের অকল্যান্ড আর ওয়েলিংটন শহর দুটি কে কেন্দ্র করে বেড়ানোর পরি সমাপ্তি ঘটল।

Post a Comment

0 Comments