গুচ্ছ কবিতা
অমিত কুমার রায়
যদি হতাম হকার
এখন যদি তখন পেতাম ফিরে
পঁচিশ বছর বয়স যদি হতো
চাপিয়ে তোমায় ভো ভো গাড়ি চড়ে
মিটার কাঁটা আশিতে না হয় ছুঁতো।
আশির গতি এতই যদি বেশি
ষাট সত্তরেও হচ্ছে যদিও বিয়ে
'গার্লফ্রেন্ড কিসে'র ফুটতো ফুল তোমার মুখে
পঁচিশ বছর থাকতো হাসি জড়িয়ে।
২৫ বছর কতই স্বপ্ন কথা কয়
স্মৃতির সরণি বড্ড শীর্ণা নদী
পাশাপাশি সাইকেলে তো চেপে
রাস্তা জুড়ে পিছু হর্ণ শুনতাম না যদি।
২৫ বছর কলেজ স্ট্রিট ঘেঁটে
ইউনিভার্সিটির টোপকে গেটটা পার
বিদ্যাসাগর লেকে গল্প সেরে
বই পাড়াতেই হতাম যদি তোমার হকার।
ভালোবাসি
যে কবিতা ঝড় তোলে চুল খোঁচা করে মূর্খদের,
যে কবিতা ভাবনা চূড়ায় চিন্তা ধরায় অন্যায়কারী মনে
যে কবিতায় নির্বোধের ক্রোধ তীব্রতর হয়
যে কবিতার স্পষ্টতা ঘূন পোকাদের ভাসিয়ে দেয় স্রোতে
এমন কবিতা আমি ভালোবাসি
এমন কবিতা কবিকে আমি ভালোবাসি।
অসভ্যের ভাষায় "বিতর্কিত" তাকেই আমি ভালোবাসি।
যে কবিতা হীনমন্য কুৎসিত মনে আগুন ধরায়
যে কবিতা গদ্য নাকি পদ্য পড়ে মাথা চুলকায় উন্মাদরা
ছন্দ আছে কি নেই বাত- বিচার চুলছেড়া চলে,
সেখানে পলাশ -"লজ্জা" গড়ে প্রেমের কবিতা।
যে কবিতায় বসন্তের কৃষ্ণচূড়া রজঃস্বলা হয়
যে কবিতা বইমেলায় আগুনের ফুলকি ছোটায়
যে কবিতা সমগ্র নষ্টবাদীদের প্রতি তর্জনী তোলে
সে কবি ফুল পাখি পশু মানুষকে ভালবাসে তার প্রেম।
কবিতা সৃষ্টিকে চুম্বন করো শ্রদ্ধা করো নত হও একবার।
শাখা ভরা আমের মত নত হও,
নম্র হও নত হও পশুরাও নত হতে জানে।
🍂
হায় বসন্ত
নদীর ওপারে ফোটে যে ফুল
আসে সুগন্ধ করে আকুল
এপারে বসন্ত কথা না কয়
কৃষ্ণচূড়ার ফুটতে যে ভয়
রক্তে ভাসে বা নদীর কূল।
সম্মুখে জানিনা কত হাতছানি
প্রলোভন আর মিছে হানাহানি
চেতনার শত শাখা ভাঙ্গা
ঝরে ঝরে পড়ে কামরাঙ্গা
অলিরাও করে পথ যে ভুল!
হৃদ তবে ফোঁটা কাগজ- ফুল।
কৌশিক মন বন খোঁজে হায়
আশা যৌবন ফুটে ঝরে যায়!
দক্ষিণা বাতাস ভরে উষ্ণতায়
শুষ্ক স্বপনে আসেনা মুকুল
বনে বসন্ত
মনে ফোটে কাঁটা ফুল।
বড়দিনের যিশু
আকাশগঙ্গা হাসছে দেখো তারায় তারায় ভরা
আজ বড়দিন আজ বড়দিন নবীন প্রবীণ হরা।
শিশির রাতে সুপ্রভাতে রঙিন সাজে শিশু
আকাশ থেকে আসছে ধ্বনি আসলো বুঝি যীশু।
যিশুর বাণী ক'জন জানি মানছি ক'জন বলো?
গির্জা মাঝে ঘন্টা বাজে শুভ সময় এলো।
সান্টাক্লজ গভীর রাতে শিশুর ফোটায় হাসি
উপহারের পাত্র ভারে খুশি রাশি রাশি!
যে তারাটা আকাশ থেকে খসলো ধরার বুকে
জন্ম হলো বেথেলহেমে মেরি জোসেফ সুখে।
শিশু যিশু আস্তাবলে আস্ত সোনার তারা
বিশ্বজুড়ে খ্রিস্ট-দ্যুতি বিশ্ব আত্ম-হারা।
সূর্য- শিশু শান্তি- যীশু সত্য ন্যায়ে স্থির
কষ্ট সয়ে সত্য জয়ে সদাই ছিলেন ধীর,
পথের দিশা মানি যদি জীবন পাবে গতি
বড়দিনটা হোক প্রতিদিন সুন্দর হবে মতি।
ভূতুড়ে কান্ড
শুনবে নাকি ভূতের কীর্তি অমাবস্যার রাতের
বলব নাকি ভূত কয় প্রকার কত রকম জাতের?
ভূত শুধু হয় মামদো মেছো গেছো স্কন্ধ-কাটা?
ভূত হয় তো গরু গাধা কালীপুজোর পাঠা!
ভূত ভবিষ্যৎ পাল্টে যাচ্ছে ভূত বাড়ছে অদ্ভুতুড়ে,
পোস্টমর্টেম হচ্ছে দেখি মাটির নিচে খুঁড়ে।
ভোটার লিস্টে ভূতের আড্ডা শ্মশান মশান ফাঁকা!
ভূতরা এখন ঘাড় মটকে নেয় ছিনিয়ে টাকা!
আলো দেখে ভয় পায় ভূত অদ্ভুত যত কথা!
দিনে রাতে ঘুরে বেড়ায় মুখোশ পরা হত্তা কর্তা।
ভূতের বেগার কে খাটে আর ভূত খায় মোটা ঘুষ,
প্রান্তিক ভূতে খায় খায় ছেঁকে পান্তা ভাতের জুস!
ভূতের বাড়ি ভূতের গাড়ি ভূতের বাসা খাসা,
ভূতরা রাখে বাজার গরম হাজার মিথ্যা ঠাসা।
ভেজাল ওষুধ জাল আধার ভেজাল ভূতের মেলা
ভূতের মাংস ভূতরাই খায় নিশি রাতের বেলা।
0 Comments