জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা /আলোকরেখা চক্রবর্তী


গুচ্ছ কবিতা 
আলোকরেখা চক্রবর্তী 

গণতন্ত্র

তোমার গরম নিঃশ্বাস বুঝিয়ে দেয়,
তুমি বেঁচে আছো।
মহাকাশে-
একটি বছর অনায়াসে
কাটিয়ে দেয়।
সোনার হরিণীর মতো
ছোটাছুটি করে।
তবুও
মেয়েরা,
আজও 
এক
বিশ্বস্ত পুরুষ সঙ্গী খোঁজে।
প্লিজ!
ভিড়ের মধ্যে তুমি
ঠাণ্ডা হয়ে যেওনা।


ভয় নয়
আলোকরেখা চক্রবর্তী
আমি,
সেই মুখগুলোকে ভয় পাই-
যাদের মুখে
রামধনু দেখি।
আমি
সে-ই মুখগুলোকে ভয় পাই-
যারা তেল খায়।
আমি তাদের ভয় পাই
যারা দিনে যা খায়,
রাতে তার
স্বাদ ভুলে যায়।
আমি তাদের ভয় পাই
যাদের ভেতরের আগুন-
কেবল পরের সুখে জ্বলে।

মাঝে মাঝে আমি
আয়নাতে মুখ দেখিনা।
চলে যাই কোনো দুর সাগরে-
নোনা জলে ছায়া খুঁজি।
চলে যাই খোলা মাঠে
যখন তৈলাক্ত খাবারে 
অরুচি ধরে।
অন্ধকারে থেকে
বাঁচিয়ে রাখি আগুনটাকে,
ভয়ে নয়
যদি কেউ ভালোবাসে।

🍂

বীরভোগ্যা বসুন্ধরা
আলোকরেখা চক্রবর্তী
সেদিন বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো
হাতে ছোটো ছোটো লাঠি নিয়ে
শ্লোগান দিচ্ছে,
"লড়াই লড়াই লড়াই চাই"
মনে মনে আমি
বাকিটা পূরণ করেদিলাম-,
লড়াই করে জেতা চাই,
তবেই সুখে বাঁচবে ভাই।
এই প্রবাদটা আমি
ভীষণ ভাবে মানি।
একসময়ে আমি
ভোরে ঘুরতে বেরোতাম-।
বাতাসে অক্সিজেন কমে যাচ্ছে,
তা ভোরে গেলে 
একটু বাড়তি পাওয়া যায়।
ফ্রি তে।
রাস্তায় পড়লাম কবলে-
কখনো লড়াই ক্লান্ত কুকুরের,
কখনো বা ছুটকো ছিনতাইবাজের।
ভাবলাম
এই যুদ্ধে না হয় বিরতি দিলাম।
আরও একবার!
তখন লড়াই হিমোগ্লোবিনের সাথে।
সে ব্যাটা
কোনোমতেই রক্তে থাকতে চায় না
নানা নির্দেশ-উপদেশ শোনার পরে
বাড়িতে কলা গাছ, ডুমুর গাছ,
সজনে গাছ লাগালাম।
একটু বড় হতেই
পাশের বাড়ি নানা অজুহাত তুলে
বিদ্রোহ ঘোষণা করলো।
যাইহোক এবার
জয়ী হলাম।
গাছেরা আমার 
খুশি মতো বেড়ে উঠলো।
কলা গাছে ঝুলছে
মোচা সহ কলার কাঁদি,
সজনে গাছে কুঁড়ি।
বুঝলাম,
ডুমুর ও তার ভালোবাসা থেকে
বঞ্চিত করবে না।
হিমোগ্লোবিনকে 
হারিয়ে দেওয়ার অস্ত্র হাতের মুঠোয়।
কিন্তু
একদিন সকালে-
কেউ একজন
কলা গাছে পিন দিয়ে আটকে
রেখে গেছে একটা চিরকুট।
তাতে লেখা-
গাছটি আপনার বহাল তবিয়তে
বেঁচে থাক।
আমার জন্য এই ছোট্ট কাঁদিটা
কাফি।
সেদিন পরিবারের সবাই
একটি কলা গাছ হত্যা করা থেকে-
আমাকে বাঁচিয়েছিল।
সম্ভবত, এটি ছিল
আমার শেষ বৃহত্তর লড়াই।
যারপর আমার বোধদয়।
একদিন প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে আক্রান্ত
এক অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়ে
তার মুখে শোনা
তার ওপর হওয়া অন্যায়ের
প্রতিবাদ করেছিলাম
প্রতিষ্ঠানের আলোচনা সভায়
সবার সামনে। 
তারপর!
তাকে যখন প্রধানের দল চেপে ধরল-
সে বেমালুম অস্বীকার করলো সবটা।
আড়ালে 
আমার কানে কানে বলল,
"তুই পার্সোনাল ম্যাটারটা 
এমন পাবলিক করে দিবি, ভাবিনি।
বোধদয়ের সেই আপ্তবাক্য-
বীরভোগ্যা বসুন্ধরা!

সংগ্রহ করতে পারেন 👇

Post a Comment

0 Comments