জ্বলদর্চি

যুদ্ধে অনাথ শিশুদের জন্য বিশ্ব দিবস /দোলনচাঁপা তেওয়ারী দে

যুদ্ধে অনাথ শিশুদের জন্য বিশ্ব দিবস 

দোলনচাঁপা তেওয়ারী দে 

আজ ৬ই জানুয়ারি যুদ্ধে অনাথ শিশুদের জন্য বিশ্ব দিবস। এই দিবসটি কেন পালন করা হয় এর গুরুত্ব ও তাৎপর্যই বা কি আসুন এই সবকিছুই আমরা বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।

এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে অনাথ হওয়া শিশুদের মর্মান্তিক দুর্দশা, মানসিক সংকট এবং তাদের অধিকার ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা, যাতে তারা একটি স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে পারে। 
এই দিবসের মূল বিষয় হলো,
সচেতনতা বৃদ্ধি: যুদ্ধ-বিধ্বস্ত এলাকায় শিশুদের ওপর এর ভয়াবহ প্রভাব তুলে ধরা।
সমস্যা চিহ্নিতকরণ: অনাথ শিশুদের মানসিক, সামাজিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সকলকে অবগত করা।
সহায়তার আহ্বান: এই শিশুদের যত্ন, সুরক্ষা এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উৎসাহিত করা। 

🍂

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপে লক্ষ লক্ষ শিশু অনাথ হয়েছিল, যা এই দিবসের প্রেক্ষাপট তৈরি করে। এটি কেবল পিতামাতা হারানো শিশুদের নয়, বরং সহিংসতার শিকার সকল সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার আদায়ের একটি প্ল্যাটফর্ম। 

যুদ্ধ মানবসভ্যতার জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ। যুদ্ধ শুধু দেশ ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিই ঘটায় না, বরং অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের জীবন ধ্বংস করে দেয়। যুদ্ধের সবচেয়ে করুণ শিকার হলো শিশুরা—বিশেষ করে তারা, যারা যুদ্ধের ফলে বাবা-মা দুজনকেই বা একজনকে হারিয়ে অনাথ হয়ে যায়। এই অনাথ শিশুদের দুর্দশার কথা স্মরণ করা এবং তাদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়ে বিশ্ববাসীকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ৬ই জানুয়ারি “যুদ্ধে অনাথ শিশুদের জন্য বিশ্ব দিবস” পালন করা হয়।
যুদ্ধে অনাথ হওয়া শিশুদের জীবন অত্যন্ত কষ্টকর। পরিবারহীন এই শিশুরা খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তার অভাবে ভোগে। অনেক ক্ষেত্রে তারা শারীরিক নির্যাতন, মানসিক আঘাত, মানবপাচার বা শিশু শ্রমের শিকার হয়। যুদ্ধের বিভীষিকা তাদের শৈশব কেড়ে নেয় এবং ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তোলে। মানসিকভাবে তারা ভয়, ট্রমা ও হতাশায় আক্রান্ত থাকে, যা তাদের স্বাভাবিক বিকাশে বড় বাধা সৃষ্টি করে।
এই বিশ্ব দিবসের মূল লক্ষ্য হলো, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত অনাথ শিশুদের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এ দিনে আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং ত্রাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়। পাশাপাশি যুদ্ধ বন্ধে শান্তির গুরুত্ব ও শিশুদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন কার্যকরের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।
যুদ্ধে অনাথ শিশুদের দায়িত্ব শুধু কোনো একক দেশ বা সংগঠনের নয়; এটি সমগ্র মানবজাতির দায়িত্ব। তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, মানসম্মত শিক্ষা, মানসিক সহায়তা ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ আজকের এই অসহায় শিশুরাই আগামী দিনের বিশ্ব গড়ার কারিগর।
পরিশেষে বলা যায়, যুদ্ধে অনাথ শিশুদের জন্য বিশ্ব দিবস আমাদের মানবিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। যুদ্ধ নয়, শান্তিই হোক পৃথিবীর ভবিষ্যৎ—এই প্রত্যাশায় আমাদের সবাইকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে, যেন কোনো শিশুকে আর যুদ্ধের কারণে অনাথ হতে না হয়।

Post a Comment

0 Comments