জ্বলদর্চি

দুটি কবিতা /শুভশ্রী রায়

দুটি কবিতা 
শুভশ্রী রায়

কেশবতী

অতিথি এলেই চুল খুলে দিত মা,
লাফিয়ে নেমে আসত গোড়ালি অবধি ঘন কালো চুল,
চোখে পড়লেই অতিথি প্রশংসায় পঞ্চমুখ আর
অহঙ্কারে টকটক করত মায়ের ফর্সা দুই গাল।

গরীবের তস্য গরীব পরিবারের মেয়ে,
অপুষ্টি, অভাব সব সয়েও মায়ের অত চুল কী করে থেকে গিয়েছিল,
কে জানে!

শেষের দিকে নার্সিং হোম সেই চুল কেটে দিল।
তারপরেও বেশ কিছু দিন ছিল মা,
চুলের জন্য সে কি দুঃখ!

সময় সব ছিনিয়ে নেয়,
স্মৃতিটাও যদি কেড়ে নিত!

🍂


মায়া-চলাচল


খানিক জীবন আয়নায় প্রতিফলিত হয়,
কোনো দর্পণে ধরা পড়ে না বাকিটা,
আয়নায় অপ্রতিফলিত সেই নিগূঢ় জীবনকে ঘুরেফিরে দেখে কবিতা;
অস্পষ্টতা আর স্পষ্টতার মাঝে তার মায়া-চলাচল।

যেখানে তুমুল ঘটাপটা সমেত বেঁচে থাকা,
সেখানে কাব্য নিশ্চয় ঘোরাফেরা করে,
আপাত যাপনের গভীরে যে সমজীবন;
তার আনাচেকানাচেও নিজেকে খুঁজে ফেরে কবিতা।


Post a Comment

1 Comments

  1. Abhijit BanikJanuary 06, 2026

    তোমার কেশবতী আর মায়া চলাচল দুটো কবিতাই পড়লাম। তোমার প্রথম কবিতায় আমার ছোটবেলায় দেখা বাংলার শাশ্বত মায়েরা 'চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা'-র মায়াবী চেহারায় ধরা দিয়েছেন। কেশ-সম্পদের গরিমা মাকে এক বিশিষ্ট অনন্যতায় দাঁড় করিয়েছে। সময়ের নিষ্করুণ আচরণে সেই অনন্য সম্পদের বিনষ্টি আমাদেরও ছুঁয়ে যায়। মনকে ব্যথাতুর করে তোলে। দ্বিতীয় কবিতায় ধরা আছে কবিতার আয়নায় যাপিত জীবন। কবিতা সবকিছু ধারণ করতে পারে। জীবন- বৃত্তের নিখুঁত ছবি আঁকে কবিতা। হযতো সব ছবি সবসময় ধরা পরে না। তবু খোঁজের অভিযান জারি থাকে। এই অনুসন্ধানী মন জীবনকে উল্টে পাল্টে দেখে তার অর্থ খোঁজার চেষ্টা করে। দুটো কবিতাই সুলিখিত।

    ReplyDelete