জ্বলদর্চি

জাতীয় স্টার্টআপ দিবস/ দোলনচাঁপা তেওয়ারী দে

জাতীয় স্টার্টআপ দিবস 

দোলনচাঁপা তেওয়ারী দে 

আজ ১৬ই জানুয়ারি , জাতীয় স্টার্টআপ দিবস। স্টার্টআপ কি, এর গুরুত্ব এবং তাৎপর্যই বা কি আসুন এই সবই সবিস্তারে জেনে নিই ।
 ভারতের উদ্ভাবন ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক
বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও উদ্যোগের যুগে প্রবেশ করেছে। প্রতিটি দেশই এখন নতুন চিন্তা, নতুন প্রযুক্তি এবং নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করতে চায়। এই প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতিকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে ১৬ই জানুয়ারিকে জাতীয় স্টার্টআপ দিবস (National Startup Day) হিসেবে ঘোষণা করেছে।
২০২২ সাল থেকে ভারতে এই দিনটি জাতীয় স্তরে উদযাপিত হয়ে আসছে। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো, স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি দেওয়া, নতুন প্রজন্মকে উদ্ভাবনী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করা এবং আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে বাস্তব রূপ দেওয়া।

🍂

স্টার্টআপ বলতে এমন একটি নতুন উদ্যোগ বা প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যা নতুন ধারণা, প্রযুক্তি বা পরিষেবার মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান করে। সাধারণত স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলো ছোট পরিসরে শুরু হলেও তাদের লক্ষ্য থাকে বড় পরিসরে কাজ করার।
স্টার্টআপের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো,
নতুন ও উদ্ভাবনী ধারণা
প্রযুক্তিনির্ভরতা
দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা
ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা
কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি
জাতীয় স্টার্টআপ দিবসের সূচনা
২০২২ সালের ১৬ই জানুয়ারি ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় স্টার্টআপ দিবসের ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছিল Startup India Innovation Week, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা নিজেদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ তুলে ধরেন।

এই দিবসের মাধ্যমে সরকার উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে এবং তাদের সমস্যা, অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প শোনে।
স্টার্টআপ ইন্ডিয়া উদ্যোগ
২০১৬ সালে ভারত সরকার চালু করে Startup India Mission। এর মূল লক্ষ্য ছিল,নতুন উদ্যোক্তাদের আইনি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।

ইনকিউবেশন সেন্টার ও মেন্টরশিপ সুবিধা প্রদান
উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া বর্তমানে ভারতে লক্ষাধিক স্টার্টআপ সক্রিয় রয়েছে এবং ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

জাতীয় স্টার্টআপ দিবস কেবল একটি দিবস নয়, এটি একটি আন্দোলনের প্রতীক। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হয়। আজকের যুব সমাজ চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের উদ্যোগ গড়ে তোলার সাহস পাচ্ছে।
কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলো লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে।
দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ হচ্ছে
বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উদ্ভাবনের বিকাশ ঘটছে।
গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে কৃষি, হস্তশিল্প, গ্রামীণ পরিষেবা ভিত্তিক স্টার্টআপ গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করছে।

নারী নেতৃত্বাধীন স্টার্টআপের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভারতের উল্লেখযোগ্য কিছু স্টার্টআপ হলো,ভারত আজ বহু সফল স্টার্টআপের জন্মভূমি,Flipkart  ই-কমার্স ক্ষেত্রে বিপ্লব এনেছে
Paytm – ডিজিটাল লেনদেনে নতুন দিগন্ত খুলেছে,Zomato ও Swiggy খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে,Ola ও Uber India পরিবহণ ব্যবস্থায় আধুনিকতা এনেছে
Byju’s অনলাইন শিক্ষায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে,
এছাড়াও কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, ফিনটেক ও এআই ক্ষেত্রে অসংখ্য স্টার্টআপ দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আত্মনির্ভর ভারত অভিযান–এর অন্যতম স্তম্ভ হলো স্টার্টআপ সংস্কৃতি। স্টার্টআপের মাধ্যমে—
দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে
আমদানির উপর নির্ভরতা কমছে,রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে
প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জিত হচ্ছে,ফলে ভারত ধীরে ধীরে একটি বৈশ্বিক উদ্ভাবনী শক্তিতে পরিণত হচ্ছে।
জাতীয় স্টার্টআপ দিবস 

এই দিনে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়—
স্টার্টআপ প্রদর্শনী
উদ্যোক্তা সম্মেলন
ওয়ার্কশপ ও সেমিনার
নতুন উদ্যোগের উদ্বোধন
সফল উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও স্টার্টআপ বিষয়ক আলোচনা ও প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।

ভারতের বিপুল যুব জনসংখ্যা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো দেশের স্টার্টআপ ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করে তুলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, বায়োটেকনোলজি, গ্রীন এনার্জি ও স্পেস টেকনোলজি ক্ষেত্রে আগামী দিনে ভারত বিশ্বনেতৃত্ব দখল করতে পারে।

জাতীয় স্টার্টআপ দিবস কেবল একটি তারিখ নয়, এটি ভারতের নতুন ভবিষ্যতের প্রতীক। এটি আমাদের শেখায় যে সাহস, উদ্ভাবনী চিন্তা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে যে কেউ নিজের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে পারে।আজকের তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের উদ্যোক্তা, যারা ভারতের অর্থনীতি ও সমাজকে নতুন দিশা দেখাবে। তাই জাতীয় স্টার্টআপ দিবস আমাদের সকলকে উদ্যোগী হতে, নতুন কিছু ভাবতে এবং আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন পূরণে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করে।

Post a Comment

0 Comments