জ্বলদর্চি

দুটি কবিতা/ ইন্দ্রদীপ সিনহা

দুটি কবিতা 
ইন্দ্রদীপ সিনহা

ভাঙা হলের স্মৃতি


যে হলের দরজায় ভিড় জমতো সন্ধেবেলায়,
আজ সেখানে নিঃশব্দ ধুলো উড়ে নির্জন খেলায়।
পোস্টারে ঝুলে থাকা নায়কের হাসি ম্লান,
টিকিট কাটা বুড়ো দারোয়ান আজ হারিয়েছে প্রাণ।

চেয়ারগুলোর নিচে লুকানো শিশুর হর্ষধ্বনি,
প্রেমিক যুগলের গোপন কথা মিশে গেছে বালির ধ্বনি।
প্রজেক্টরের আলোয় কাঁপত একটুখানি স্বপ্ন,
এখন সেই আলো নিভে গেছে, রয়ে গেছে কেবল অপূর্ণ কল্পন।

চায়ের দোকানে এখনো কেউ কেউ বলে গল্প পুরনো,
“চারু হলে প্রথম দেখি ছবিটা—কি দিন ছিল সোনার মতো!”
ইটের নিচে চাপা পড়ে গেছে কত হাসি, কত গান,
তবু মনে বাজে সেই রিলের ঘূর্ণির টান।

শহর বড়ো হয়েছে, কিন্তু ফাঁকা রয়ে গেছে প্রাণ,
ভাঙা হলের ধ্বংসস্তূপে ঘুরে বেড়ায় এক নস্টালজিয়া নাম।
🍂


গরম ভাত

খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘর 
 টালি ফুটো দিয়ে জল পড়ে 
 ভিজে স্যাটস্যাতে বিছানায় সোহাগ 
 লোকটি ফেরে পরিশ্রান্ত কপালে ঘাম 
 গরম ভাতের গন্ধ সাথে নুন আর কাঁচা লঙ্কা
 শ্রী আদরের গলায় বলে এসো 
 ফাটা থালায় দুমুঠো ভাত 
 লবণ যদি মেলে 
 তাতেই যেন সুখের ঢেউ খেলে যায় প্রাণএ 
 ঘরের ভীতর লেখা হয় ভালোবাসার ভাষা 
 না আছে  সোনা, না আছে ধন 
 তবুও সেই ঘরে ভালবাসার চিরন্তন

Post a Comment

0 Comments