জ্বলদর্চি

তিনটি কবিতা /বিবেক দাস

তিনটি কবিতা 
বিবেক দাস 


অমৃত আখরমালা 

বাবা অসুস্থ থাকলে পৃথিবীটা ছোট হয়ে যায়।
ঘর থেকে বাহির, বাহির থেকে ঘর
বিষন্ন ধুলো, মেঘময় প্রাচীন পথ মেপে নেয়
প্রতিটি পদচিহ্ন।

ওষুধের স্ট্র্যাপ, বাথরুম বিছানার বাইরে
কখন এসে ফিরে যায় হেমন্তের হিম;
শীতের কুয়াশা ফুরিয়ে গিয়ে কীভাবে ফিরে আসে
প্রতীক্ষার বসন্ত, খবর রাখে না কেউ।

বয়স বাড়লে মানুষ নীরব হতে শেখে;
নীরবতার সেই আশ্চর্য রূপকথা লিপিবদ্ধ করে
কুলুঙ্গিতে গুছিয়ে রাখে বাবা।

লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তে থাকি 
অমৃত আখরমালা, অথচ 
বাবা অসুস্থ থাকলে পৃথিবীটা ছোট হয়ে যায়।

🍂

স্মৃতিগন্ধা ফুল

বড় দূর থেকে দেখি তোমাকে 
যেন স্মৃতিগন্ধা ফুল, সকালের মত সুন্দর।
আমার বেলা অবেলায়, সাঁঝ সন্ধ্যায় 
কিশোর হাওয়ার মত ছুঁয়ে যাও বিনত অবজ্ঞা।
অথচ এ বড় দূর থেকে দেখা।

শুধুমাত্র তোমার নিজস্ব আরশি জানে 
তুমি খুলে রেখেছ মুচকুন্দ চাঁপার নোলক।
বিকেলের রোদের মত ফুরিয়ে যাচ্ছে মুগ্ধতা।
সেল্ফির আড়ালে লুকিয়ে রাখা বিষন্ন ছায়া
কখনও দেখেনি তোমার কাছের মানুষ।

মায়াময় ঈশ্বরীর মত দেখেছি তোমায় 
আওড়ে নিয়েছি সমস্ত ব্রতকথা।
ডালি সাজিয়েছি প্রিয় পারিজাত ফুলে;
অথচ ডিসেম্বরের কুয়াশায় হারিয়ে যাচ্ছে বছর।

প্রেম

তুমি ভালোবাসতে জানো না প্রিয়!

দেখ ঐ দূরের গাছটিকে।
শীতের রোদকে আপন করে নেবে বলে
এই হেমন্তেই সে ঝরিয়ে ফেলেছে তার সমস্ত পাতা।

অথচ কত সহজে তুমি লিখে ফেলো প্রেম,
লিখে ফেলো নিঃসঙ্গতা।

Post a Comment

0 Comments