জ্বলদর্চি

দুটি দীর্ঘ কবিতা /অমিত কুমার রায়

 
দুটি দীর্ঘ কবিতা

অমিত কুমার রায় 

সুখের লিফট 

কালকে ছিল বিশ্ব সুখ দিবস।
বিশ্বাস কর সত্যি বলছি 
কালকে ছিল বিশে মার্চ ২০২৬
বিশ্বাস করো আমি জানতাম না 
রেডিওতে বলেছে, টিভিতে বলেছে অনলাইনে বলেছে।
বিশ্ব সুখ দিবস বিশে মার্চ 
একটু কি অন্যরকম 
বিষে পরিণত হয়নি?
বলো, কেউ কি এমন সুখের দিনে 
প্রাণ দিতে চায় বলো বলো?
ছেলের অসুখ হাসপাতালে ভর্তি 
বাবা মায়ের সুখ দিবস হয় কি?

লেফট রাইট লেফট রাইট 
কদম কদম ব**** হে যা 
এসব অনেকদিন ধরে শুনেছি কিন্তু
লিফট দেওয়া 
লিফটে চড়া 
কলকাতায় গিয়ে শিখেছি, তবে 
যত তলা বিল্ডিং হোক 
হঠাতে কেউ আমাকে লিফটে ওঠাতে পারেনি!
সিঁড়ি গুনতে গুনতে কখন যে
ওপরে উঠে যাই 
হাঁটু টের পায় না!
ভেবে নিন কারেন্ট নেই 
জেনারেটর নেই, তখন তো উঠতে হবেই তাই না?
ইদানিং লিফটে ফ্লোর নিজেকেই ঠিক করতে হয়। 
আমি মূর্খই হই বা 
টেনেটুনে সই করতে পারি !
মোবাইল যখন ঘাড়ে নিশ্বাস প্রশ্বাস দেয়া নেয়া করছে 
স্মার্ট ফোন ঘেঁটে ঘ করছি আর তাই এখন 
তুমি লিফটে উঠছো তুমি লিফট এই নামছো 
তুমিই লিফট ম্যান!
লিফটে উঠতে আমার ভয় করে 
হঠাৎ যদি লোডশেডিং হয় !
হঠাৎ যদি লিফট বিকল হয় !
বিকল্প তখন তথৈবচ!

আজ বিশ্ব সুখ দিবস 
সে আজই হোক বা কালই হোক 
যে যন্ত্র যন্ত্রণা দিচ্ছে কয়েকদিন ধরে 
সে ঘরে কেন অসুস্থ রোগীকে চাপানো হল?
সন্তানের সঙ্গে মা-বাবা ছিল 
লিফটের দানবিক আচরণে তার 
বাবা না ফেরার দেশে চলে গেল !
বছরের মধ্যে আরো অঘটনা !
সে সভয়া হোক আর অভয়া হোক।
একেই কি বলে উদাসীনতা?
রক্তের সম্পর্ক নেই তবুও 
মন হাহাকার করে 
বুক ফেটে বিস্ফোরণ ঘটতে চায় 
কেন এত অবহেলা?
কেন কেন কেন?
এর নাম কি প্রাণ হরণের কেন্দ্র?
বিশ্বাস আর নিঃশ্বাস যখন সঙ্গে থাকেনা 
তখন পড়ে থাকে ছাই ভস্ম।

ঈশ্বরের সুখ যদি না কপালে থাকে 
সুখ দিবস কালো রাত হয়ে দেখা দেয়।
কালো রাতে যখন আগুন জ্বলে ওঠে
কেউ বলে ফাগুন কেউ বলে আতঙ্ক !! 
সুখ সুখ সুখ বলে চিৎকার করলে 
সুখ তোমাকে ছুটতে ছুটতে এসে জড়িয়ে ধরবেনা।
দুঃখ বেশ ধরে সুখ তোমাকে পরীক্ষা করে।
তুমি কতটা কষ্টে থাকতে জানো 
সেই কষ্টের মধ্যে সুখী হলে 
ধনী  তোমাকে হিংসে করবে 
সেই আসল সুখ।

যে গাছ কেটে তোমার আকাশ স্পর্শী অট্টালিকা, তার 
রং করা দেয়ালে আঁকছো গাছ !
লিখছো একটি গাছ একটি প্রাণ !
‘সত্য সেলুকাস কি বিচিত্র এই দেশ !’
এই সবুজের প্রতি প্রতারণা বৈকি?
সুখ নয় তোমার মনের ভেতর অ-সুখ !
আমাদের মত দরিদ্রের কপালে সুখ থাক বা না থাক 
হৃদয়ে থাকুক জমা সুখ।
তোমাদের সুখ ভাগ্য থাকুক 
ঈশ্বর করেননা যেন তারে ক্ষমা।
ক্ষমতার বলে যা ইচ্ছে তাই ভেবেছো এটাই সুখ 
শুকিয়ে যাবে লালসার নদী 
দেখাবে কি কালো মুখ?
মানুষের পাশে মানুষকেই মানায় ফুলের পাশে ফুলকে।
দেখতো আমি মানুষ কিনা 
চিমটি কাটো !
দ্যাখো, তোমার পিঠটা চুলকে!
 লিফট ওঠানামা 
দ্যাখো, কত সিঁড়ি কর পার মানুষকে মানুষ ভাবো?
সাবধান না হলে পরে 
নামতে হবে বৃহৎ আন্দোলনে।

🍂

 পথে পথে 

সময়ের তালে তালে পা ফেলে পথ 
পথ চলতে থাকে চলতে থাকে
দূর থেকে দূরে 
বাড়ির উঠোন পেরিয়ে 
গলি পথ ছেড়ে 
রাজপথে উঠে 
এগিয়ে চলতে হয় দূর থেকে দূরে।
পথ কত রূপ ধরে 
কখনো মন্দির কখনো মসজিদ 
কখনো গুরদোয়ারা  
কখনো গির্জা 
কত ভিন্ন ভিন্ন পথ 
বাঁকা পথ আঁকা পথ 
শূন্য পথ পাতাল পথ 
কত আরো ভিন্ন ভিন্ন পথ 
শতমত শত পথ সহশ্র পথ 
অন্যের পথ ন্যায়ের পথ 
হিংসার পথ অহিংসার পথ 
লজ্জার পথ নিন্দার পথ 
সত্যের পথ অসত্যের পথ 
হেঁটে চলি এগিয়ে চলি 
হৃদয়ের রচনা পথে 
মনের গড়া পথে 
শিরার পথে ধমনীর পথে 
মৃত্যুর পথে এগিয়ে চলি এগিয়ে চলি।
মেঠো পথে হেঁটে চলি 
শ্মশানের পথে 
গোরস্থানের পথে 
হেঁটে চলি 
অজ্ঞানের পথে অন্ধকারের পথে 
হেঁটে চলি 
জ্ঞানের পথে আলোর পথে 
ভালোর পথে 
কেউ কেউ হাঁটে 
কুসুম বিছানো পথে 
কুসুমকে কেউ পায়ে দলে 
কেউ কেউ ফুল না মাড়িয়ে হাঁটে।
কেউ কেউ কাঁটার পথে হাটে 
কেউ কেউ দুর্গম পথে হাঁটে 
কেউবা জলপথে কেউবা স্থল পথে 
পথ বেরিয়ে পড়ে পথে 
পথকে যারা নোংরা করে 
সে পথের নাম নোংরা পথ 
পথকে যারা পূজা করে 
সে পথের নাম শ্রদ্ধার পথ।
পথের বহু ঠিকানা 
তুমি কোন গন্তব্যে পৌঁছাবে 
তোমাকেই ঠিক করতে হবে।
আমি যে পথকে আশ্রয় করি 
হেঁটে চলি অনন্তকাল 
আলোকবর্ষ ধরে 
সে পথের নাম 
সত্য শিব সুন্দর সুন্দরের পথ।
আনন্দের পথ আলোকের পথ 
আশ্রয়ে করি কবিতার পথ 
কবিতার পথ 
কবিতার পথ 
কবি তার পথ।

Post a Comment

0 Comments