জ্বলদর্চি

কবির চোখে কুবাই/সুব্রত মাইতি


কবির চোখে কুবাই / সুব্রত মাইতি


কবির চোখে কুবাই একটি নদী হলেও কুবাই তার মানুষ প্রতিমা তার প্রেমিকা ছায়া। এক বুক অপেক্ষা নিয়ে কবি বলতে থাকেন সহজ কথা বলে যখন পাশে আশা দুরুহ তাই ভুল করে যদি তোমার নজর কাড়া যায়।যে সিঞ্চনে পরম সুখের অনুভূতি বুকে নিয়ে বেঁচে থাকা কবি সেখানে শ্রাবণ সিঞ্চন এর বিরহ কেই সুখ বলে আঁকড়ে ধরে রেখেছে।কবির কাছে কুবাই শৈশব থেকে কৈশোরের প্রতিক্ষণে ফিতের মতো জড়িয়ে থাকা অজস্র স্মৃতি রোমন্থন করে অহরহ। কোন প্রশ্নের জবাব নয় গানের কথা মোহর সাজিয়ে যে কবি বলতে চেয়েছেন পাতার আড়ালে আলো-আঁধারি চুপিসারে নীরবে ভাবনা বুননগুলো ধরে ধরে সাজিয়ে মর্মর মত জীবন। আবার বসন্তের বাতাসে যে নিবিড় মায়া মাখানো স্নিগ্ধতা থাকে কবি তাকে মন্দ বলে ভূষিত করেছে । এক অসাধারণ ব্যঞ্জনায় বলছে -”যে নুপুর পরেনি পায় তার অভিসার নিঃশব্দে ঘটে”। তার চোখে যত্নে তোলা গচ্ছিত তার প্রিয় মুখের অবয়ব যে অবয়ব মহাকাশের সুন্দরী নক্ষত্রকেও হার মানায়। সমস্ত ব্যস্ততা কাজের বাইরে বুকের ভেতর তোলপাড় করতে থাকে একবুক দ্বন্দ্ব। অবাধ্য মন ঠিক চিনে ফেলে ক্যানভাস রং। কবি কখনো কখনো একা হয়ে যায় তবুও মনের ভেতর চলতে থাকে আশৈশব আলপথ ধরে হাঁটতে থাকা জল নুপুরের ধ্বনি।কবির মানুষ প্রতিমা নানা রূপে ধরা দেয় কবিতায় ক্যানভাসে গানের কলিতে। সবকিছুর বাইরে যখন একাকিত্বে ভুগতে ভুগতে অন্ধকার আর দুঃখকে আপন করে নিয়েছে,।জীবনের এই স্বপ্নগুলো খুচরো পয়সা হয়ে যায়। একদিন জীবনের শেষ নগ্নে এসে শান্ত হতে চায় কবি-”শরীরে হাত রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমাবো একদিন “।অজান্তে দিনের শেষে নিজেকে সমর্পণ করতে চেয়েছে সন্ন্যাস লোকে,অঞ্জলি আর ধ্যানমগ্ন হয়ে সুখ নামক অচিনপুরে ঘর বাঁধতে চায়। 
🍂
   বাস্তব হলো এই যে মানুষ প্রতিমা চলে যায় তাকে ধরে রাখার কোন উপায় থাকে না। শুধু ধরা থাকে মনের মনিকোঠায় -”সুগন্ধি স্মৃতি তো অবাধ্যের মতো “।কবি দ্বন্দ্বে দ্যোতনায় আগলে রাখে জীবন -”লেগে আছে বৃষ্টির ফোঁটা, সে তবু যত্নে রেখেছে “।
সব দ্বন্দ্ব ভুলে আগলে রাখতে চায়-
“কথা দিচ্ছি এ বসন্ত পার হয়ে যাবে ঠিক 
নদী তীরে অহেতুক ঘুরে 
বুকে ধরে তোমার রুমাল”।
অগাধ ভালোলাগা থেকে কিনা ভাবনা আসতে পারে তাই নিজেকে এই বন্দীদশা থেকে জামিন চাইছে। এক বুক অভিমান নিয়ে বলতে থাকে -
“সমাজ মাধ্যমে স্নান করে প্রতিদিন দূর থেকে দেখে সে তো বাজিমাত “।
অজস্র ব্যঞ্জনায় কবিতাগুলি জীবন্ত হয়েছে -
“শূন্যতা মাটিতে যেমন ভারী আকাশে তেমন নয়”।
আবার ঠিক সমান্তরাল ভাবে অন্য রূপে ধরা দেয় কবির মননে- “সাঁকো অর্থে সমার্থক দুই বাহুতে টান”। কবি স্মৃতি রোমন্থন করে কুয়াশা ভোরে। এক চঞ্চল অনুভবে একাকার হয়ে যায়। নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে পরস্পর জোড় হয়ে নতুনের স্বপ্নে। সবকিছু ভুলে থাকার প্রশ্নই নেই বিবর্ণ চোখে আজও নিজেকে লালন করেন বেঁচে থাকার - “যে বাড়ির দালান নেই দেওয়াল নেই সে তো আমার কাছে ভাস্কর্য”।
আসলে জীবন্ত নদীর মতো এখনই উচ্ছল এক্ষুনি স্থির স্নিগ্ধ নির্মল আবার শান্ত ও। কবি সুমন রায়ের মানস পটের এই চিত্র ময়তা পাঠক মহলে সমাদৃত হবে এ আমার বিশ্বাস। শ্রীলিপি থেকে প্রকাশিত কবি সুমন রায়ের কাব্যগ্রন্থ বুকে ধরে তোমার রুমাল।প্রচ্ছদ সৌগত চট্টোপাধ্যায়।

Post a Comment

0 Comments