জ্বলদর্চি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১৯৮

 বিশেষ সংখ্যা ১৯৮
চিত্রগ্রাহক - মৃণাল ঘোষ

গুলতির আজবনামা
অর্থিতা মণ্ডল 

- আরে এত দরজা ধাক্কানোর আছেটা কি? কলিংবেলটা বাজালেও তো হতো। বললাম তো আসছি।
বলতে বলতে, বেশ একটু রাগ দেখিয়ে দরজাটা খোলে গুলতি। ওমা! দেখে কী হোমরাচোমরা বাঘমামা দাঁড়িয়ে।
আর একটু হলেই ধপাস করে পড়ে যাচ্ছিল সে। বাঘমামা ধরে নিল।
- গুলতি তুমি এত ভীতু! ছিঃ! ছিঃ! আমায় দেখে কেউ ভয় পায় না কি? 
লজ্জা পায় গুলতি। 
- না না, ভয় পাইনি। তা আমাদের বাড়িতে কী মনে করে?
- এই বেলপাহাড়ির জঙ্গলে এসেছিলাম। বকছানা বকুয়া তোমার কথা বলল। তা ভাবলাম দেখে আসি তোমায়, সত্যিই তুমি ভালো কি না! তা হে কন্যা, তুমি আমায় ভেতরেও ঢুকতে বলবে না?
গুলতি ততক্ষণে সামলে নিয়েছে নিজেকে।
- এসো বাঘমামা। ভেতরে এসো। আমরা দুপুরের খাওয়া সারছিলাম। তুমি কী খাবে বলো।
- মানুষ দেখলেই খেতে ইচ্ছে করে। তা ভাই, তোমার বাড়ি ঘুরতে এসে তোমাদেরই খাব এমন নিমকহারাম নই। ভাতই খাব।
বলতে বলতে চেয়ারের উপর গুছিয়ে বসলো বাঘ।
গরম ভাতে ঘি, পোস্ত বড়া উফ্ জমে গেল।
খেতে খেতে বাঘের চোখ দুটো লোভে চকচক করছে।
তা বলছিলাম কী এই দই, মিষ্টি, চাটনি, পাপড় আছে? নেমতন্ন বাড়িতে তো এসবও দেওয়া হয়। আর একটু পাটিসাপটা হলে বেশ জমতো!
আরে বাঘমামা তুমি এসব খাবারের নাম জানলে কেমন করে? 
না জানার কী আছে শুনি? তবে শোনো আমি, আমি একবার একটা বিয়েবাড়িতে গিয়েছিলাম, তা হলো কী বেঞ্চি আর চেয়ার দিল পেতে। বেঞ্চের উপরে সাদা কাগজ দিল বিছিয়ে। মাটির গ্লাসে জল দিল। শালপাতার থালায় নুন দিল, লেবু দিল। বেগুনি, আলুভাজা, সোনামুগের ডাল, দুরকমের তরকারি দিল ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সঙ্গে। লুচি, মাংস, মিষ্টি, দই, পাপড়, চাটনি দিল শেষ পাতে। ও হ্যাঁ পানও দিয়েছিল। কোমড়ে গামছা বেঁধে হাসি হাসি মুখে পরিবেশন করেছিল পাড়ার ছেলেরা। তা এটা তো আর বিয়েবাড়ি নয়। তবুও আমি তো তোমার অতিথি বলো। যাকগে তোমার দেওয়া এই খাবারটাও বেশ ভালো। ওই একটু মিষ্টি আর দই হলেই জমে যেত!
এদিকে গুলতির ভেতর হাসিরা পাক খাচ্ছে। হাসা যাবে না একদম, ভাবতে ভাবতেই হেসে উঠল খিলখিলিয়ে।
অমনি বাঘ গেল রেগে।
এই মেয়ে হাসছো কেন?
হাসব না? এমন খাবার বিয়েবাড়িতে মোটেও দেয় না। বিয়েবাড়িতে স্টার্টার থাকে, মেইন কোর্সে বিরিয়ানি কিংবা পোলাও থাকে, কাটলেট, নান, চিকেন কাবাব থেকে মটন, শেষে ডেজার্ট। উফ্! কত কী! আর তুমি কীসব শালপাতার থালায় ভাত, লুচি বলছো! এ তো রোজকার খাবার।
বাঘমামা তো অবাক।  
এখন বুঝি বিয়েবাড়িতে এইসব খাওয়ায়! তা হতে পারে। এতে হাসির আছেটা কি শুনি? তোমার তো জানার কথা একদিন এমন সব খাওয়া ছিল। আহা! কী দারুণ! বলতে বলতে খসখসে জিভ দিয়ে চেটে নিল ঠোঁট। ঠোঁট চাটতে চাটতে হেসে উঠল হাঃ হাঃ হাঃ! ছিঃ! ছিঃ! গুলতি তুমি কতকিছু জানো না! নিজেদের পুরনো দিনগুলোর ব্যাপারস্যাপার জানতে হয় তো?

গুলতি তো অনেক কিছুই জানে না। সে তো মাত্র একটুখানি, জানবেই বা কেমন করে! তারজন্যে বাঘমামা হাসবে!  সে তো বাংলা পড়তে পারে। লিখতে পারে। তবে!
ও বাঘমামা আমি তো ছোটো, জানি না বলে তুমি হাসবে? তুমি জানো আমি কত বড়ো ইস্কুলে পড়ি। ইংলিশ মিডিয়াম। তাও তো বাংলা পড়তে পারি, লিখতে পারি।
এই গুলতি থামো, থামো। বাংলা পড়তে পারো, লিখতে পারো বলে বুঝি তুমি খুব খুশি?
হ্যাঁ, খুশিরই ব্যাপার তো। তুমি জানো, আমার বন্ধুরা অনেকেই বাংলা পড়তে পারে না, লিখতে তো পারেই না। তাই আমি খুব খুব খুশি।
আচ্ছা গুলতি তুমি তোমার মাকে ভালোবাসো? বাবাকে ভালোবাসো?
এ মা! বাঘমামা, মা, বাবাকে ভালোবাসি কি না এটা আবার জানতে চায় নাকি কেউ?
ঠিক বলেছো। বংলা তো তোমার মাতৃভাষা। মাতৃভাষা মানে বোঝো তো, মায়ের ভাষা। তাই মাকে যেমন ভালোবাসাটা স্বাভাবিক, বাংলা পড়তে পারা, লিখতে পারাটাও তো স্বাভাবিক।
ও বাঘমামা, এটা তো ভাবিনি।
ভাবো ভাবো। বরং বাঙালি হয়েও যে বাংলা পড়তে, লিখতে পারে না সে হচ্ছে গিয়ে বুদ্ধুরাম। বেশ ভারিক্কী চালে বলল বাঘ।
বাঘমামা, আমি তো এভাবে ভাবিই নি কখনো। 
হ্যাঁ, এবার থেকে নেমত্তন্ন বাড়িতে লুচি, ভাত খাওয়ানোর কথা শুনলেও হাসবে না একদম, বুঝেছো? তা এবার আমার জন্যে আরও কিছু খাওয়ার ব্যবস্থা করো দেখি।

গুলতি ফ্রিজ থেকে ক্যাডবেরির প্যাকেট এনে দেয়। ঠিক তক্ষুনি লোডশেডিং। অন্ধকারে বাঘমামার চোখ উঠল জ্বলজ্বলিয়ে।

এমন সময় ঝড় এল সাঁইসাঁই। অন্ধকারবুড়ি ঢেকে ফেলল চাদ্দিক। অন্ধকারের ভেতর কিছুই কি দেখা যায়!  গুলতি বুঝতে পারে সে উড়ছে, বাড়ি উড়ছে, বাঘ উড়ছে। কী হল! কী হল! সে এক হইহই-রইরই কাণ্ড!  নদীর জল ঝাঁপিয়ে উঠল মাথায়। অমনি ঝপাস! 
-আরে আরে বাঘমামা কই গেলে?
বহুদূর থেকে ভেসে এল আওয়াজ,
- গুলতি আমি ... ই...ই নিশুতি বনের হুতুমপাহাড়ে... এ... এ...
হুতুমপাহাড়ে হুতুমপ্যাঁচা নিশুতি রাতে ‘লাললাল’ ফুল ফোটাচ্ছে। চাঁদের আলো চুঁইয়ে নেমে আসছে গুলতিরই মতো এক ঝাঁক ছেলে মেয়ে। ওই, ওই তো বাঘমামা পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তায় শাল মহুয়ার  ফাঁক দিয়ে চলে যাচ্ছে। 
ও গুলতি এসো এসো। ডাক দেয়ে ছেলে মেয়ের দল।
ফুটফুটে এক ছেলে দৌড়ে আসে। গুলতির হাত ধরে।
চলো গুলতি গাছ লাগাই। সেই গাছে গাছে ফুটবে ‘খুশিখুশি’ ফুল। এই দেখো, আমি তোমার জন্যে একমুঠো জ্যোৎস্না এনেছি। এই নাও।
গুলতির হাত ভরে যায় জ্যোৎস্নায়। অমনি ‘খুশিখুশি’ ফুলের ছোটো ছোটো গাছ ঝাঁকঝাঁক ছেলে মেয়ের হাতে ঝিকমিকিয়ে ওঠে।
এদিকে হুতুম প্যাঁচা গমগমিয়ে বলে,
শোনো শোনো বাচ্চারা এই হুতুমপাহাড় থেকে লালফুল ছড়িয়ে দাও বুড়ো পৃথিবীটার আনাচেকানাচে। লালফুলের গা বেয়ে নেমে আসবে ভালোবাসা। জানো তো বাচ্চারা লালফুল মানেই হলো ভালোবাসা। ও হ্যাঁ, ‘খুশিখুশি’ গাছেদের গায়ে জল দিতে ভুলো না কিন্তু। বুড়ো হয়ে যাওয়া দাদু আমি, তোমাদের শিখিয়ে দেব ছমছমে অন্ধকারে হেঁটে যাওয়ার কায়দা।
অমনি ফুটফুটে ছেলে বললো,
- চলো চলো। হুতুমদাদুর দেওয়া কাজ সারতে হবে তো। বুঝলে গুলতি আমি তোমার বন্ধু। বড্ড ভালোবাসি তোমায়।
- আমিও তোমায় খুব ভালোবাসি ফুটফুটে।
ছেলে মেয়ের দল বলে ওঠে,
-আমরাও ভালোবাসি।
এমন সময় ঝাঁপিয়ে পড়া নদীর জল মাথা থেকে পায়ের কাছটিতে নেমে বয়ে গেল অনেক দূর। যেতে যেতে বললো,
তোমরাও এসো কিন্তু ছলাৎ ছলাৎ জল ছুঁয়ে আমার বয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে। ভালোবাসার ফুল এবং খুশির গাছ আমার জলেই লকলকে ডগা নিয়ে বেড়ে উঠবে বুঝলে।🍂

আচ্ছা নদী তাই হবে। বলতে বলতে, খেলতে খেলতে, সারা গায়ে জ্যোৎস্না মেখে, গুলতি ওদের সঙ্গে গাছ লাগালো। ফ্রকের পকেটে ভরে নিল লালফুল। 

ফুটফুটে ছেলেটি লালফুলের পাপড়িতে চাঁদের কুচি মুড়ে ওর হাতে দিল।
এটা রেখে দাও গুলতি। ফুল-জ্যোৎস্নার স্মার্টফোন এটা।
এটা তো আমাদের ফোনের মতো নয়? গুলতি তো অবাক!
নয়ই তো। এটা তো আর যন্ত্র নয়। এ হলো গিয়ে ভালোবাসা দিয়ে তৈরি যোগাযোগের মাধ্যম। আমার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে হলেই পাপড়ির মধ্যে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিও। অমনি জ্যোৎস্না মাখলেই আমার কথা শুনতে পাবে। আমরা তখন গল্প করব। আর হ্যাঁ, ইচ্ছে হলেই দেখা হবে আমাদের।
ঠিক তখুনি, গুলতি দেখে কী, অন্ধকাবুড়ির কোলে চেপে ভোরের পাহাড়ের দোরগোড়ায় অবাক শহরে পৌঁছে গেছে সে। ডালপালা মেলা শালগাছের কোটর থেকে পাখি ডাকল টু... উ... উ...  
ওদের উড়ে আসা ঘরটা দাঁড়িয়ে আছে পূবের আলো মেখে। সেই ভালোঘরের দরজা খুলে গুলতিকে কোলে তুলে নিল মা। বাবা তখন ভেঁপুর বাঁশি দিল বাজিয়ে। গুলতি করল কী, ওর ফুল-জ্যোৎস্নার স্মার্টফোনটাকে যত্ন করে তুলে রাখল। রোজ রাতে ঘুমিয়ে পড়ার আগে ফুটফুটের সঙ্গে কথা বলতে হবে তো। তারপর একদিন সারা পৃথিবীতে ‘লাললাল’ ফুল ফুটে উঠবে, ‘খুশিখুশি’ গাছ বড়ো হয়ে ছড়িয়ে দেবে খুশি। তেমনই এক দিনে ফুটফুটে  আর গুলতি হাতে হাত রেখে হেঁটে যাবে চাঁদের আলোর ভেতর দিয়ে জ্যোৎস্নার দেশে।
ধারাবাহিক উপন্যাস
গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ
পর্ব ১৪

রতনতনু ঘাটী

নবনীগঞ্জ জেলার ডি এম অফিসটা পাঁচতলা বাড়ির দোতলায়। বাঁ দিকে ঝুঁকে পড়া একটা ফুলে ভরতি রাধাচূড়া গাছ ডি এম সাহেবের অফিসের জানলা ছুঁয়ে বাতাসে দুলছে। তার গায়ে গা লাগিয়ে একটা পাতা ভরতি দেবদারু। যে রুমটায় অনেক মানুষ ডি এম সাহেবের ডাকে আজ হাজির হয়েছেন, সেটা কনফারেন্স রুম। অনেকজন অধ্যাপক এসেছেন, ক্রীড়াবিদ, চিকিৎসক, মেয়েদের স্কুলের দিদিমণি, সমাজ সেবক---কে নেই? গগনজ্যোতি স্কুলের হেডস্যার এবং মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতিকে ঘরে ঢুকতে দেখে জেলাশাসক কর্ণার্জুন পাল বললেন, ‘আসুন, আসুন! আপনাদের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। এবার আমরা আলেচনা শুরু করতে পারি।’
   ততক্ষণে অতিথি আপ্যায়নের চা এসে গেল। কর্ণার্জুন সাহেব বললেন, ‘নমস্কার, আপনদের সকলকে আগেই জানিয়েছি, আমাদের নবীনগঞ্জ জেলায় গর্ব করার মতো একটা ইভেন্ট শুরু করতে চাই। আমাদের জেলায় পঞ্চন্নটি ছেলেদের সরকারি স্কুল আছে, মানে হাই স্কুল। সেই স্কুলগুলোর ছাত্রদের নিয়ে একটা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু করতে চাই। আমার এটা এখন একটা স্বপ্ন। আর আমি এই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি নবীন ক্রিকেটার বিহারের ছেলে বৈভব সূর্যবংশীকে দেখে। এখন ওই যে ছেলেটি রাজস্থান রয়্যালস টিমে আই পি এল খেলে। তার বয়স মাত্র পনেরো। সেই ছেলেটি যদি এই বয়সে এতখানি প্রতিভা দেখাতে পারে, তা হলে আমরা কেন আমাদের জেলা থেকে একজন নবীন ক্রিকেটারকে আবিষ্কার করে ক্রিকেট-বিশ্বকে উপহার দিতে পারব না? আপনারা মতামত জানান।’
   অধ্যাপক সুবীন দেশপান্ডে, নামী ভুবনপুর মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক। তিনি বললেন, ‘স্যার, আপনার পরিকল্পনাটি ভারী সুন্দর! আমি শুনেছি গগনজ্যোতি স্কুলের ক্লাস এইটের ছাত্রদের নিয়ে একটা ক্রিকেট ম্যাচ শুরু হয়েছে ক’ মাস হল। শুনেছি ছাত্রদের মধ্যে বেশ একটা উন্মাদনা দেখা গেছে। তা হলে আপনার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করে তোলা কঠিন হবে না!’
   জেলাশাসক কর্ণার্জুন পাল গগনজ্যোতি স্কুলের হেডস্যারের দিকে মুখ তুলে বললেন, ‘এই তো, আমাদের আজকের সভায় গগনজ্যোতি স্কুলের হেডস্যার নবনীত মুখোপাধ্যায় আছেন। উনি কিছু বলুন!’
   হেডস্যার বললেন, ‘আমি আমার স্কুলে ক্রিকেট ম্যাচ শুরু করে দেখছিলাম, কেমন সাড়া পাওয়া যায়। শুরু থেকেই দেখছি, ছাত্রদের মধ্যে উৎসাহ প্রচুর। তা ছাড়া, আমরা এই ক্রিকেট ম্যাচে মেয়েদেরও ইনক্লুড করে নিয়েছি। আমার স্কুলের দেবোপম দত্ত বললেন, ‘ভারতের মহিলা ক্রিকেটাররা যদি এবছর মেয়েদের বিশ্বকাপ ক্রিকেট জিতে নিতে পারেন, তা হলে আমাদের স্কুলের মেয়েরা ক্রিকেট খেলবেই। তাই আমরা আমাদের ক্রিকেট ম্যাচে ক্লাস এইটের চারটটি সেকশন থেকে চারটি ক্রিকেট টিম করে নিয়েছি। চারটি টিমে মেয়েরাও খেলছে।’
   অর্কপ্রভ সামন্ত ইছাপুর সম্মিলনী কলেজের ফিজিক্সের অধ্যাপক। তিনি বললেন, ‘স্যার, এমন একটা উদ্যোগ আমাদের জেলাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, কোনও সন্দেহ নেই। তবে ছেলেদের মতো মেয়েদেরও একটা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হতে পারে। আপনি একবার ভেবে দেখুন! আমাদের জেলায় মেয়েদের স্কুল তো কম নেই!’
   জেলাশাসক কর্ণার্জুন পাল মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘স্যার, আপনি তো অনেকদিন ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। শুনেছি, বিখ্যাত ক্রিকেট পত্রিকা ‘উইজডেন’ আপনাকে নিয়ে স্টোরি করেছিল—ইডেন মাঠে হাজির থেকে সবচেয়ে বেশি ক্রিকেট ম্যাচ দেখা মানুষ আপনিই। উইজডেনকে বলা হয় ‘ক্রিকেটের বাইবেল’। স্কুলের ছাত্রদের মতো ছাত্রীদের নিয়েও ওরকম একটা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট করা দরকার আমাদের নবীনগঞ্জ জেলায়?’
   এবার মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি বলতে উঠলেন। তিনি বললেন, ‘আমার জীবনের বেশির ভাগ সময়টা আমি ক্রিকেটের সঙ্গেই থেকেছি। ধরে নিন, প্রায় চল্লিশ বছরেরও বেশি সময়। কলকাতায় মেয়েদের ক্রিকেটের সূচনা বলা যায় উনিশশো আটাত্তর সাল নাগাদ। ইডেন গার্ডেন্সে প্রথম মেয়েদের ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল উনিশশো আটাত্তর সালের জানুয়ারি মাসে, যা ছিল মেয়েদের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ম্যাচ। সেই খেলাটা আমি দেখতে গিয়েছিলাম ইডেন গার্ডেন্সে। তবে আমাদের ভারতের মহিলা ক্রিকেটার মিতালি রাজের আমি ভীষণ ভক্ত।’
  জেলাশাসক বললেন, ‘আমাদের নবীনগঞ্জ জেলায় কত গরিব মেয়ে আছে, যারা সুযোগ পায় না!’
   ‘মিতালি রাজের জন্ম যোধপুরের একটি তামিল পরিবারে। বাবা দোরাই রাজ ছিলেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা। তিনি কঠিন নিয়মানুবর্তিতাকে বড় হওয়ার প্রথম সোপান বলে বিশ্বাস করতেন। পান থেকে চুন খসতে দিতেন না মেয়ের জীবনেও। মাত্র দশ বছর বয়সে মিতালিকে ক্রিকেট কোচিংয়ে ভরতি করে দেন। শৈশবে ভোরবেলা মেয়ের যাতে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যেস হয়, সেজন্যেই নাকি মেয়েকে  ক্রিকেট কোচিংয়ে ভর্তি করে দেন। ভোর পাঁচটায় মিতালির ক্রিকেট কোচিং শুরু হত। মাতালি ভরতনাট্যম নাচ ভালবাসতেন। কিন্তু ক্রিকেটের জন্যে তাও ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।’
   নবনীতস্যার জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি মিতালির সম্পর্কে পড়াশোনা করেছেন মনে হচ্ছে?’
   ‘তখন বয়স কম ছিল। নতুন ক্রিকেটারকে জানার কৌতূহল ছিল ভীষণ। তাঁর সম্পর্কে যেখানে যা পেতাম পড়ে ফেলতাম। শুরুতে ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট কোচিংয়ে যেতে হত মিতালি রাজকে। মিতালি দু’ হাজার দু’ সালে মেয়েদের বিশ্বকাপের সময় টাইফয়েডে পড়েন। তাঁর অসুস্থতার জন্যে ভারত বিশ্বকাপের মূল পর্বে খুব একটা এগোতে পারেনি।’ একটু থেমে মুকুলকৃষ্ণ বললেন, ‘মিতালি অনেক সম্মান আর পুরস্কার পেয়েছেন, এ কথা তো ঠিক!  লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, মেজর ধ্যানচাঁদ খেলরত্ন, অর্জুন পুরস্কার এবং পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে তিনি ‘লেডি সচিন তেন্ডুলকর’ নামেও পরিচিত।’
   জেলাশাসক কর্ণার্জুন পাল বললেন, ‘তা হলে আমরা স্কুলের ছেলেদের, মানে ক্লাস টেন পর্যন্ত ছেলেদের নিয়ে একটা স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু করি? সকলে কী বলেন?’
   মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি বললেন, ‘সেই সঙ্গে স্কুল লেভেলের মেয়েদের নিয়ে একটা মহিলা ক্রিকেট টুর্নামেন্টও শুরু করে দিন স্যার।  মেয়েরা ক্রিকেটেই বা পিছিয়ে থাকবে কেন? যখন আমাদের দেশের মেয়েরা ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতেছেন?’
   মুকুলকৃষ্ণবাবুর কথার শেষে হেডস্যার নবনীত মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘কর্ণার্জুনস্যার, আমি এখন থেকে আপনাকে বলে রাখছি, মেয়েদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু হলে প্রথম দল হিসেবে ‘গগনজ্যোতি স্কুলের গার্লস ক্রিকেট টিম’-এর নামটা লিখে রাখবেন রেজিস্টারে!’
   কর্ণার্জুন পালের মুখে যেন হাসি উপচে পড়ল। বললেন, ‘আমাদের জেলার এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টের জন্যে আপনার গগনজ্যোতি স্কুলের বয়েজ ক্রিকেট টিমের নামটাও আজ থেকে বুক করে দিন নবনীতস্যার। আপনার স্কুলের ক্লাস এইটের ছাত্ররা ক্রিকেটে যা পারফরমেন্স দেখাচ্ছে! আমি মুকুলকৃষ্ণস্যারের মুখ থেকে ডিটেইলে সব শুনেছি। আপনার স্কুলের বয়েজ ক্রিকেট টিমই আমার এই উদ্যোগের প্রেরণা। আপনি কী ভেবে এই ক্রিকেট ম্যাচটা শুরু করে দিয়েছেন জানি না, ভাবলে আমি অবাক হয়ে যাই। আর-একজনও আমার এই নবীনগঞ্জ জেলার ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পরিকল্পনাকে বাস্তব করে তুলতে আমাকে এগিয়ে দিয়েছে।’
   মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি জানতে চাইলেন, ‘কে স্যার?’
   ‘ওই যে ক্রিকেটের বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী! ওই-ই তো আমাকে ভাবতে শিখিয়েছে, স্কুলের ছেলেদের নিয়ে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট করতে। স্যার, আপনি বৈভবের খেলা দেখেছেন?’
   ‘দেখেছি তো বটেই! সেবার আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে মাত্র সতেরো বলে বাহান্ন রানের ঝোড়ো ইনিংস খেললেন, আমি টিভিতে দেখেছি। বিহারের তাজপুরে খুবই সাদামাটা কৃষক পরিবারে বৈভবের জন্ম। চার বছর বয়স থেকে ক্রিকেট খেলছেন। তাঁর বাবা সঞ্জীব সূর্যবংশী। তিনি নিজে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন ছেলের লক্ষ্য পুরণে সত্যি হয়ে উঠল। তিনি চাষের জমি বিক্রি করে ক্রিকেট কোচিংয়ে দিলেন ছেলেকে। তখন বৈভব মাত্র আট বছরের কিশোর, বাবার হাত ধরে সমস্তিপুর থেকে পাটনায় মণীশ ওঝার ক্রিকেট একাডেমিতে কোচিং নিতে যেতে লাগলেন একশো কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে।  ওইটুকু ছেলের কী টেনাসিটি দেখেছেন ডি এম সাহেব? এসব আমাদের নবীনগঞ্জ জেলার ছেলেদের কাছে প্রেরণা হবে। মা ভোর চারটায় উঠে ছেলের জন্য খাবার তৈরি করে দিতেন। ক’জন মা এমন কষ্ট করেন?’ এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে থামলেন মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি।
   জেলাশাসক কর্ণার্জুন পাল বললেন, ‘আপনি স্যার এশিয়া কাপে বৈভবের বত্রিশ বলে সেঞ্চুরিটা দেখেননি? ওটা আমার জীবনে দেখা সেরা সেঞ্চুরি বলতেই পারি। আপনি যদি এই খেলাটা না দেখে থাকেন, তা হলে আপনার এই সেঞ্চুরিটা গ্রেট মিস।’  
   ‘কেন, বিজয় হাজারে ট্রফিতে চুরাশি বলে বৈভবের একশো নব্বই রানের ইনিংস খেলে বিশ্বরেকর্ড গড়েলেন, সে খেলা দেখে রাতে আমার ভাল করে ঘুমই আসেনি স্যার!’
   ডি এম সাহেব বললেন, ‘আমি বৈভবের খেলা দেখার সুযোগ পেলে ছাড়ি না! ক্ননা, আমিও কিশোর বয়সে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকতাম।’ বলে থামলেন কর্ণার্জুনস্যার। চোখ দুটো জলে টলটল করে উঠল! বুজো আসা গলায় বললেন, ‘বাবা বেঁচে থাকলে, আমি হয়তো ক্রিকেটারই হতাম!’
   মিটিং শেষ হয়ে গেল। জেলাশাসক বললেন, ‘এর পরের মিটিংয়ে আমরা ‘নবীনগঞ্জ জেলা ক্রিকেট বোর্ড গঠন করব। সে বোর্ডের মাথার উপর আপনাকে থাকতেই হবে মুকুলকৃষ্ণস্যার!’
   বিনয়ের গলায় মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি বললেন, ‘শরীরে কুলোলে ক্রিকেটের ব্যাপারে আমাকে আটকাবে কে? ডাকবেন, চলে আসব!’
   মিটিং থেকে বেরিয়ে মোবাইলে সময় দেখলেন নবনীতস্যার। বললেন, ‘চলুন মুকুলকৃষ্ণস্যার, আমাদের গগনজ্যোতি স্কুলের মাঠে দেবোপমের ক্রিকেট কোচিংয়ের তোড়জোড় শুরু হতে বেশি দেরি নেই। আমরা স্কুলে ফিরেই আমার অফিসে বসে এক কাপ চা খেয়ে আমরা কোচিংয়ে চলে যাব, কী বলেন!’ পিছন ফিরে হেডস্যার বললেন, ‘কী কাণ্ড! গত বছর প্রধামমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার অর্জন করেছেন বৈভব সূর্যবংশী!’
   মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতির মুখে চিকচিক করে উঠল বিকেলবেলার আলো। হেসে সাইকেলের প্যাডেলে চাপ দিলেন। নবনীতস্যারও পিছন-পিছন এগিয়ে চললেন গগনজ্যোতি স্কুলের দিকে!
(এর পর ১৫ পর্ব)


ক্যানভাসের বাইরে
অস্মিতা ঘোষ 
সপ্তম শ্রেণি, সেন্ট জেভিয়ার্স, পানিহাটি, উত্তর ২৪ পরগণা


অর্ক এই বয়সের আর পাঁচটা ছেলের মতো নয়। তার নেশা ক্রিকেট বা ভিডিও গেম নয়, তার জগৎটা রং আর তুলির। শিলিগুড়ির এক সাধারণ স্কুলে ক্লাস টেনে পড়ে সে। সামনেই মাধ্যমিক, তাই বাড়ির সবার চাপ— "আঁকা কমিয়ে বইতে মন দাও।" কিন্তু অর্কর মনে হয়, সে যখন তুলি ধরে, তখন সে এক অন্য জগতে চলে যায় যেখানে কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই।
সবে মার্চ মাস পড়েছে। স্কুলের বার্ষিক প্রদর্শনীতে একটা বড় ঘোষণা এল। শহর জুড়ে একটা অঙ্কন প্রতিযোগিতা হবে, যার থিম— 'ভবিষ্যতের ভারত'।প্রথম পুরস্কার হিসেবে কলকাতার এক বিখ্যাত আর্ট কলেজে মাসখানেকের বিশেষ কর্মশালায় যোগ দেওয়ার সুযোগ মিলবে। অর্কর বুকটা দুরুদুরু করে উঠল। এটাই তো তার স্বপ্ন!কিন্তু সমস্যা হলো বাড়িতে। বাবা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, "এখন ওসব ফালতু কাজে সময় নষ্ট করো না। রেজাল্ট ভালো না হলে আর্ট কলেজ দিয়ে কী হবে?" অর্ক দমে গেল না। সে ঠিক করল, রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে সে তার ক্যানভাস তৈরি করবে।টানা সাতদিন সে ঠিকমতো ঘুমাল না। তার 'ভবিষ্যতের ভারত' কোনো কলকারখানা বা রোবটের ছবি ছিল না। সে আঁকল একটা বিশাল বটগাছ, যার প্রতিটি পাতায় এক একটি ছোট ছোট গ্রাম আর শহরের মানুষ মিলেমিশে আছে। গাছের শিকড়গুলো মাটির গভীরে প্রাচীন ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত, আর ডালপালাগুলো মহাকাশের দিকে ছড়ানো। আধুনিকতা আর ঐতিহ্যের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন।
প্রতিযোগিতার দিন অর্ক গুটিয়ে গিয়ে এক কোণায় দাঁড়িয়ে ছিল। বাকিরা সব দামী তেলরং আর বড় বড় ক্যানভাস এনেছে। অর্কর ছিল সাধারণ জলরং। বিচারক হিসেবে এসেছিলেন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী সুশোভন রায়। তিনি প্রতিটি ছবি মন দিয়ে দেখছিলেন। অর্কর ছবির সামনে এসে তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন।পুরস্কার ঘোষণার সময় যখন অর্কর নাম ডাকা হলো, সে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। সুশোভন বাবু মাইকে বললেন, "অনেকেই খুব সুন্দর ছবি এঁকেছে, কিন্তু অর্কর ছবিতে আমি একটা প্রাণ খুঁজে পেয়েছি। ও কেবল ছবি আঁকেনি, ও একটা দর্শন এঁকেছে। ১৫ বছর বয়সে এই গভীরতা সত্যিই বিরল।"
পুরস্কার হাতে নিয়ে অর্ক যখন বাড়ি ফিরল, তার বাবার চোখে জল। তিনি বুঝতে পারলেন, ছোটবেলা থেকে তিনি যাকে 'সময় নষ্ট' ভেবেছিলেন, সেটাই আসলে অর্কর পরিচয়। তিনি অর্কর পিঠে হাত রেখে বললেন, "আমি ভুল ছিলাম রে। তোর তুলির টানে যে শক্তি আছে, তা কোনো বইয়ের পাতায় বন্দি করা সম্ভব নয়।"সেইদিন থেকে অর্ক বুঝল, পৃথিবীর সেরা প্রতিভার দাম কেবল তখনই পাওয়া যায়, যখন মানুষ নিজের স্বপ্নের প্রতি সৎ থাকে। মাধ্যমিকের পড়াশোনাও সে করল, কিন্তু তুলিটা আর কখনো আলমারিতে তুলে রাখল না। তার কাছে জীবনটা এখন একটা বিশাল ক্যানভাস, যেখানে সে নিজের ইচ্ছেমতো রং ছড়াতে পারে।
অনুশ্রুতি মন্ডল
ষষ্ঠ শ্রেণি, কোন্নগর হিন্দু উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, হুগলি


পাঠ প্রতিক্রিয়া
আলোচক - মহুয়া মীল

লিঙ্ক এবং  সময় দুটোই যদি ঠিকঠাক মিলে যায় তবে আমার জ্বলদর্চি ছোটোবেলা পড়া ঠেকায় কে!  আসলে অনেকের মতই আমার মধ্যেকার ছোট্ট আমিটা নিজেকে খুঁজে পায়  তিতলি, লোকন, নাতাশা, পারুলমণিদের মধ্যে। এই ১৯৭ সংখ্যায় প্রথমেই আমায় লজ্জায় ফেলল ছোট্ট টুনটুনি। কারণ? আমরা মানুষরা আজও প্রকৃতির বন্ধু হয়ে উঠতে পারলাম না, তাই। লেখক, সৌমেন রায়ের   'টুনটুনি  ও তিতলি' পড়ে ছোট্ট বন্ধুরা নিশ্চয়ই কিছুক্ষণের জন্য পড়ার বই থেকে মুখ তুলে প্রকৃতির দিকে তাকাবে। এই গল্পের বাড়তি পাওনা টুনটুনির বাসা বানানোর স্কেচ। অসিত কুমার সেনাপতি এত সুন্দর স্কেচ করেছেন যে দেখে  মনে হলো এই পাখিটাকেই আজ সকালে আমার বাগানে দেখেছি। ক্লাস সিক্সের প্রিয়ান্য দাস তো আমায় চমকে দিয়েছে। ' সায়েন্টিস হাঁদা ' পড়ে তো আমি ব্যাঘ্র উচ্চবিদ্যালয়ের ঠিকানা খুঁজছি। দেবক দিদির বিয়ে থেকে  ফিরে এলে কি লোকনের আর উইকেট কিপিং করা হবে না? নাতাশার মত আমারও এটাই জিজ্ঞাসা।   দেবোপম স্যার কি সিন্ধান্ত নেবেন  তিনিই জানেন! হেডস্যার আর মুকুলকৃষ্ণ স্যার ডিএম সাহেবের কাছে গেলেন ছাত্রীদের ক্রিকেট ম্যাচ শুরু করার পারমিশন আনতে, কি হবে  জানার জন্য আবার একসপ্তাহের অপেক্ষা! হ্যাঁ, আমি এতক্ষণ রতনতনু ঘাটীর 'গগনজ্য্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ '  ধারাবাহিকের কথা বলছিলাম। একের পর  এক পর্ব  জমে উঠেছে,  রমরমিয়ে চলছে  দেবোপম স্যারের ক্রিকেট কোচিং। এই পর্ব আরও  আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে  রাজীব ঘোষের  ইলাস্ট্রেশনের জাদুতে।
এইসময় পুরুলিয়া  ভাবলেই চোখে ভেসে ওঠে পলাশ রাঙানো আকাশ। তবে সে চেনা ছবি নয়  আলপনা সাজানো  দেওয়ালের ছবি  তুলে এনেছেন নীলাব্জ ঘোষ আর সেই ছবিই ১৯৭ সংখ্যার প্রচ্ছদ। 
সম্পাদিকা মৌসুমী  ঘোষকে ধন্যবাদ এরকম  একটা  সুন্দর  সংখ্যার জন্য। ছোটোদের মনের যত্ন নেওয়া সহজ নয়!

Post a Comment

0 Comments