স্বপ্নচোখ
পুলককান্তি কর
ঘুম থেকে ধড়মড় করে উঠে বসল সোহিনী। স্বপ্নেও নিস্তার নেই। কাল সারাদিন এত ধকল গেল, রাত্রে দু দুটো ঘুমের বড়ি খেয়েও স্বপ্নে সেই চোখের তাড়া খেয়ে বেড়ালো সে মাঝ রাত পর্যন্ত। এবার সত্যি সত্যি কিছু একটা ভাবতে হবে সিরিয়াসলি। কাকে বলবে সে? নির্ঝরকে বলা যাবে না, ফালতু অশান্তি ডেকে আনা হবে তাতে। ডাক্তার বদ্যি কি করা যাবে এই নিয়ে? ঠিক জানে না সে। শুনেছে কাউন্সিলিং করানো গেলে নাকি এসব বিষয় মিটে যায়, তবে পরিষ্কার ধারণা নেই তার, পর্ণাকেও বলতে সংকোচ হয়, ও আবার মনে মনে আর্যকে পছন্দ করে। আর্য যেদিন প্রথম অফিসে জয়েন করলো, এমন মুগ্ধ দৃষ্টি নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে ছিল, ওর নিজের মনেই নিজের প্রতি একটা ভালোবাসা তৈরী হয়েছিল। কিন্তু ইদানিং বিষয়টা তাকে আর প্রীত করে না, বরং কোথাও একটা অস্বস্তি কাজ করে। নাকি বিরক্তি? ঠিক অনুভূতিটা তার কাছেও পরিষ্কার নয়। প্রথম প্রথম চোখাচুখি হয়ে গেলে সোহিনী নিজেই চোখ সরিয়ে নিত, আজকাল কটমট করে তাকায়। আর্য ইদানিং চোরা চাউনি দিয়ে তাকে দেখে। সোহিনী তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় দিয়ে বুঝতে পারে এই চুরিটুকু; কিন্তু কিছু বলা যায় না। তবে এটা ঠিক, দৃষ্টিটা ঠিক গিলে খাওয়ার মতো নয়। এই চোখ কিছুই জরিপ করে না; বরঞ্চ মুগ্ধ ভাবে উপভোগ করে সবকিছু। চোখ গুলোয় কেমন যেন একটা মায়া আছে, ওতে বেশ ভেসে বেড়ানো যায় অনেকক্ষণ, অনেক দূর। সোহিনী উঠে গিয়ে বাথরুমের আয়নায় নিজেকে দেখল খুঁটিয়ে। এত কী দেখার আছে তার মধ্যে? সুন্দর ছিমছাম চেহারা তার, এটা সে নিজেই বোঝে। কিন্তু মুখের মধ্যে অতিরিক্ত কিছু তার আছে কি? কই, নির্ঝর তো কিছু বলে না! ওই ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে টুকটাক প্রগলভতার বিকার ছাড়া কোনও প্রশংসা বাক্যই তো ঝরে না ওর মুখ থেকে। বন্ধুবান্ধবরা অবশ্য ওকে সুন্দরীই বলে, তবে ওর নিজের কাছেই পরিষ্কার নয়, তার সৌন্দর্যটা ঠিক কোথায়? ওর সৌন্দর্যটা কি ওভার অল? সবমিলিয়ে চকচকে একটা লাবণ্য? ওর নিজের মনে হয় ওর চোখ দুটো তেমন গভীর নয়। আকারে হয়ত বড়ই, তবে ডুবে যাবার মতো কিছু নয়। মুখটা গোলগাল, ভ্রূ জোড়াও বেশ সাধারণ। প্লাক-ট্লাক করে একটু বেশী আকর্ষণীয় করে তোলা। ওর চুলও বিরাট কিছু একটা নজর কাড়ার মতো নয়। সিম্পল স্টেপ কাট। একটু লালচে বাদামী। হেয়ার কালার করে না সে, অরিজিনাল। এল ই ডি বাল্বের আলোয় সোহিনী খেয়াল করলো, ওর ডান গালে ছোট একটা মেচেতার মত স্পট পড়েছে। চোখ মুখে জল দিয়ে আবার শুয়ে পড়লো সে।
🍂
বালিশটা একটু খাট এর হেডরেস্টটা থেকে নীচের দিকে সরিয়ে আনতেই একটা তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ নাকে এলো সোহিনীর। মোবাইলটা টিপে দেখলো, নির্ঝর তার রুমালটা ফেলে গেছে। প্যান্টের পকেট থেকে রুমাল কী করে খুলে পড়ে, মাথায় এল না তার। রুমালটাকে সরাতে গিয়ে কেমন করে উঠল গা টা। এই পুরুষালি গন্ধটা একদমই সহ্য করতে পারে না সোহিনী। অথচ নির্ঝর হাতটা উপরে তুললেই এই ঘামের গন্ধটা টের পায় সে। এই জন্মদিনে ভালো ভালো পারফিউম আর ডিওডরেন্ট গিফট করেছিল সোহিনী। তবে এসব দিয়ে কি ভেতরের গন্ধ চাপা দেওয়া যায়? জামা কাপড় পরে যতটুকু লুকোনো। একটু অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সোপ টোপও তো ব্যবহার করতে পারে নির্ঝর! এত রাতে হঠাৎ মোবাইলটা বিপ করে কেন? নির্ঘাত বসের মেসেজ। ঠিক তাই। সকালে আর্জেন্ট মিটিং। কিছু না, শুধুমাত্র ওর সাথে খানিকক্ষণ একা ঘরে গল্প করার বাহানা। ব্যাটা আধ বুড়ো, সকাল সকালই মিটিং এর নাম করে ওকে ঘরে ডাকে, সেই সময় অফিসের বাকী লোকেরা বসের ঘরে কম যায়।
ফাইল দেয়া নেওয়ার ফাঁকে ওর হাত বা কব্জি ছুঁয়ে দেওয়াটা কি বোঝে না সোহিনী? ব্যাটা পচা পটেটো। আর আর্য সেই সময় এমন হাঁ করে ওর বসের ঘরে ঢোকাটা দেখে যেন এক্ষুনি একটা বিরাট কিছু খোওয়া যাবে, এক্ষুনি ভূমিকম্পে ধসে যাবে অফিস বাড়ীর পুরো ছাদটা। পর্ণা টিটকিরি কাটে, তোর ইনক্রিমেন্টে ডাবল ইনসেনটিভ বাঁধা রে সোহিনী! এত চিপ লাগে কথাটা শুনতে, মনে হয় সারা দেহটাকে গঙ্গা জল দিয়ে ধুয়ে দেয়। বস কি বুঝতে পারে না – ওর চালাকী সোহিনী বোঝে? নাকি বেপরোয়া? বুঝলে বুঝুক। আমি যখন বস, যা খুশি করব। এই একটু ছুঁয়ে দিয়ে আদৌ কোনও আনন্দ হয় মানুষের? যে স্পর্শ মানুষকে বিরক্তি দেয়, তা কি কোনও ভাবে নিজের সুখের কারণ হতে পারে? ইন্দ্র অবশ্য একদিন ক্লাসে বলেছিল, বাসে কনুই ফনুই চালাতে নাকি বেশ থ্রিল হয়। তাও না হয় ওদের তখন যুবক বয়স, অনেক কিছুরই অভিজ্ঞতা হয়নি। কিন্তু বিবাহিত আধ বুড়োদের এতে কী আনন্দ হয়?
মনে হয় আজ আর ঘুম আসবে না। ঘুমের বড়ি খেয়ে খেয়ে এই বদভ্যাস হয়েছে সোহিনীর। নর্মাল ঘুম তার হয়ই না। আর ঘুমের বড়ি খেয়ে ঘুম ভাঙলে সে ঘুম আর কিছুতেই আসে না। এ.সির সুইচটা বন্ধ করে জানালার পাল্লাটা অল্প একটু খুলে দিল সে। ওদিকের বিল্ডিংটায় দাস কাকুদের ঘরে এখনও আলো জ্বলছে। ভর্দলোকেরও নির্ঘাত অনিদ্রা আছে। কাকীমা বেশ ঘুমোচ্ছে শোবার ঘরে। কাকু বসে বসে কী সব লিখছে! সোহিনীর মনে হল ও যদি লিখতে পারতো, বেশ ভালো হত। রাত জেগে যতখানি সময় নষ্ট হয় তার, দুটো চারটে বড় উপন্যাস লেখা হয়ে যেত এতদিনে। ওর মা ভালো লিখতে পারতেন। সংসারে চাপে আর বাপির আওয়াজ খেয়ে সেই কুসুম ফুটে উঠতে পারেনি কোনওদিন। সোহিনী বেশ বোঝে, ওর মায়ের লেখার মধ্যে কিছু একটা ব্যাপার ছিল। ও সাহিত্যের তেমন একটা কিছু বোঝে না, তবে এটুকু বোঝে কোনটা একটু উৎকৃষ্ট বা আলাদা ধরনের। ও যখন পড়াশোনার সময়ে ব্যাঙ্গালোরে থাকতো, মা নিয়ম করে চিঠি লিখতেন ওকে। ও সব গুছিয়ে রেখেছে যত্ন করে। মাঝে মাঝে পড়ে। মায়ের ডায়েরী লেখার অভ্যাস ছিল। ওঁর মৃত্যুর পরে সারা বাড়ী তন্ন তন্ন করেও খুঁজে পায়নি সে। তখনও বাপি বেঁচে। কে যে ওটাকে হাপিস করে দিয়েছে চিরকালের মতো, কে জানে? মা কি নিজে নষ্ট করে দিয়েছে? না কি বাপি? অবিশ্বাসও করা যায় না। হয়তো বাপি নিজের ভাবমূর্তি বজায় রাখতেই নষ্ট করে ফেলেছে সব। একেবার ডাইরী লেখার চেষ্টা করে দেখবে না কি সে?
২
অনেকক্ষণ ধরেই সোহিনীর মনে হচ্ছে, আর্য আজ তাকে কিছু বলতে চাইছে; কিন্তু সাহস করে বলতে পারছে না। থাক, বেশী সাহস বাড়িয়ে লাভ নেই। এমনিতেই শরীরটা সকাল থেকেই বিগড়েছে। ইদানিং খেয়াল করছে নির্ঝরের সাথে মেলামেশার পরই ওর তলপেটে খুব ব্যথা করছে। ইউরিনের জায়গাটাও বেশ জ্বালা জ্বালা ভাব। গতকাল সন্ধেতে নির্ঝর এসেছিল ঘরে। সেই ব্যথার রেশ এখনও স্বস্তি দিচ্ছে না তাকে। ইউরিনের টেস্ট ফেস্ট করেও দেখা হয়ে গেছে, তেমন স্পেসিফিক কিছু পাওয়া যায়নি। ডাক্তারবাবু ইউ.এস.জি করতে বলেছিলেন, এখনো করা হয়ে ওঠে নি। ওর পিরিয়ড টিরিয়ড গুলো বেশ রেগুলার। ওই জন্যই অতখানি গা করছে না এখন। আজ মনে হচ্ছে, ইমিডিয়েট করিয়ে নিতে হবে ব্যাপারটা। নির্ঝরকে কি বলে দেখবে? অবশ্য ওর সময়ও কম। বেসরকারী কোম্পানির জোনাল ম্যানেজার। মাসের অধিকাংশ সময়ই ট্যুরে যায়। ওর সাথে প্ল্যান করে কিছু করা মানে খুবই চাপের ব্যাপার। পর্ণাকে বলবে কি? লোকটা তো বড্ড বেহায়া। খালি তাকিয়ে আছে। কী দেখছো বাবা তুমি এত? গত আট মাস দেখে দেখে মুখস্থ হয় নি? সোহিনী মনে করার চেষ্টা করলো, নির্ঝর কি আদৌ ওকে দেখে? গত রবিবার পায়ে ওয়াক্সিং করিয়েছিল, কই নির্ঝর তো খেয়াল করেনি! এই সপ্তাহে তো গতকালই প্রথম এলো নির্ঝর। প্রথম প্রথমও কি দেখতো? মনে পড়লো না সোহিনীর। ওর অভিব্যক্তিগুলো একেবারে বাঁধা, মাপা সবকিছু। ঠিক দশ মিনিটের প্রতিটি ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া সোহিনী মুখস্ত বলতে পারে। সোহিনীর মনে পড়ল, কালকে ও সুন্দর করে সেজেছিল। অবশ্য ওটা ঠিক নির্ঝরের জন্য নয়। ওদের অফিস কলিগের কাল বার্থডে পার্টি ছিল বিকেলে। তার জন্য লম্বা একটা ওয়েস্টার্ন ড্রেস কিনেছিল সে। চুলগুলো চুড়ো করে বেঁধে কাজল চোখে অনেকেরই দৃষ্টি প্রশংসা কালকে পেয়েছে সে। যদিও আর্য কাল বড় একটা তাকায়নি। কারণটা যদিও তার বোধগম্য হয়নি, তবু মনে হয় এটা একটা অপারগতার ঈর্ষাবোধ। এতজনের নজর ওর শরীরে পিছলে পড়েছে – হয়তো হজম হচ্ছিল না তার। সোহিনী প্রথম হাফে বিষয়টা খেয়াল করেছে, কিন্তু পাত্তা দেয়নি। আজকাল ধীরে ধীরে পাত্তা না দেওয়াটা রপ্ত করতে শিখেছে সে। তবে কিনা, কালকের ব্যাপারটা একটু বিপরীত হতে, বিষয়টাকে একেবারে উড়িয়ে দিতে পারছে না। কাল সারাটা দিন আর্য একটু বিমর্ষ হয়েই ছিল। আচ্ছা ও সব কিছু নিজের অ্যাঙ্গেল থেকে ভাবছে কেন? আর্যর কোনও ব্যক্তিগত সমস্যাও তো হতে পারে। বা হয়তো শরীর খারাপ। ভাবতে ভাবতেই চোখটা তুলে সে তাকালো আর্যর দিকে। ওর চোখে একটা প্রশ্রয়ও আছে এখন। হয়তো সেই কারণে আর্য একটুখানি শুকনো হাসি হেসে চোখটা নামিয়ে নিল।
– আর্য বাবু, কিছু বলবেন?
– না, না।
– অনেকক্ষণ থেকেই মনে হচ্ছে আপনি উশখুস করছেন? যদিও সোহিনীর এমন করে সরাসরি আক্রমণ করার স্বভাব নয়, তবু আজ যেন মুখ থেকে কথাটা বেরিয়ে গেল।
– তেমন কিছু না। শান্ত গলায় জবাব দিল আর্য।
– যেমন কিছুই হোক, আপনি বলুন।
– আচ্ছা। লাঞ্চ টাইমে বলবো।
ক্যান্টিনে গিয়ে দু প্লেট লুচি মাংস অর্ডার দিতে গেল আর্য। সোহিনী বলল, ‘আমি লাঞ্চ নিয়ে এসেছি, আপনি এক প্লেট অর্ডার দিন।’
– আজকের দিনটা আমার অনারে খানই না, আপনার খাবারটা না হয় একদিন নষ্টই হল।
– আমি বাইরের খাবার খুব একটা খাই না আর্য বাবু। আর তাছাড়া এটা আপাতত বিষয় নয় – আপনি কী বলেছিলেন বলুন। আমার টেবিলে অনেক কাজ জমে আছে।
– আমার যা বলার, তা তো এমন গরম তাওয়ায় বসে হয় না মিস চৌধুরী।
কী আবার কথা বলবে ছেলেটা? প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বসবে নাকি? বিশ্বাস নেই। নির্ঝরের কথা তো অফিসে কেউ জানে না। ভাবছে বোধহয় বেওয়ারিশ মাল।
– কী এমন কথা? গলাটা যতটা সম্ভব নির্লিপ্ত করে বলল সোহিনী।
– তেমন গুরুতর কিছু না, তবে আপনি যে মেজাজে রয়েছেন, তাতে সেই কথা ঠিক জমবে না।
– জমানোর দরকার নেই। আপনি শুধুমাত্র কথাটুকু বলুন।
– আপনাকে সকাল থেকেই খুব আপসেট লাগছে। মনে হচ্ছে আপনার যেন ভারী অসুখ হয়েছে।
– আপনি কি হাত গুনতে জানেন নাকি?
– না না। তবে মুখ দেখে বুঝতে পারি। কালকে আপনি অনেক সাজগোজ করে এসেছিলেন বটে, তবে আপনার চেহারায় কিন্তু সেটা ধরা পড়ছিল না। বরং কোথাও একটা প্রবল বিষাদ যেন আপনার সাজগোজের ভেতর থেকে বাইরে আসতে চাইছিল।
– আপনি সারাক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন কেন?
এই অতর্কিত প্রশ্নের জন্য প্রস্তুত ছিল না আর্য। তবু বেশ সপ্রতিভ ভাবে বলল, ‘সব সময় তাকাই না; তবে কাজের ফাঁকে ফাঁকে আপনাকে দেখি এটা ঠিক কথা।’
– কিন্ত আদতে ব্যাপারটা কি ঠিক?
– তা তো জানিনা মিস চৌধুরী। আপনার দিকে কেন জানিনা আমার চোখ চলে যায়।
– বস কে বলে আপনার কিউবিকলটা চেঞ্জ করিয়ে দেব?
– বস বুঝি আপনার এতখানি বাধ্য? শ্লেষটা কঠিন হয়ে গেছে ভেবে আর্য আবার বলল, ‘বদলাতে পারেন, তবে খুব একটা লাভ হবে না।’
– কেন?
– শোনেন নি প্রাচীন অরণ্যের প্রবাদ – অরণ্যদেবের পেছনেও দুখানা চোখ থাকে? ঈষৎ রসিকতা করল আর্য।
– কেন এমন করেন আর্যবাবু? আমি একজনের সাথে রিলেশনে আছি।
– তো?
– তো মানে? একজনের সাথে আমার সম্পর্ক রয়েছে, সেখানে আপনি উঁকি মারছেন কেন?
– আমি তো আপনার সম্পর্কে কোনও উঁকি মারিনি মিস চৌধুরী।
– আপনি কি বলতে চান আমার প্রতি আপনার কোনও ফিলিংস নেই?
– তা কেন? যথেষ্ট ফিলিংস আছে। আমি আপনাকে বেশ ভালোবেসে ফেলেছি এই আট মাসে।
– আমার তো তাতেই আপত্তি আর্যবাবু। আপনি জানতেন না ঠিক আছে; আর যখন জানলেন, দয়া করে আপনার এই ভালোবাসা থেকে আমায় রেহাই দিন।
– মিস চৌধুরী, আপনি মিছেই বিব্রত হচ্ছেন। এই ব্যাপারে আপনার তো কোনও দায় নেই। আপনি চাইলে আমায় ভালবাসতে পারেন, নাও পারেন।
– মানে টা কী? ভালোবাসতে পারি? কীভাবে?
– দেখুন মিস চৌধুরী, ভালো যে কাউকেই বাসা যায়। সম্পর্ক তৈরী করাটাই শুধু সমস্যার। সেখানে বিশ্বাস, সমাজ, সমঝোতা এসে প্রশ্ন তোলে। ভালো তো লোক হৃদয়ে বাসে – তার অনেক কুঠরি, অনেক দরজা – চাইলেই কাউকে সেখানে বসানো যায়, চাইলেই কাউকে বের করে দেওয়া যায়।
– এতটা সহজ বুঝি?
– যতটা সহজ করে বললাম, ততটা নয়। তবে এটা একটা অভ্যেস।
– আমার অনেক কাজ থাকে। অনর্থক এই বিষয় অভ্যাস করে কাজ নেই।
– সে ঠিক আছে মিস চৌধুরী। তবে আপনাকে একটা কথা বলার আছে আমার। আপনি বোধহয় আপনার সম্পর্কটায় ভালো নেই। সম্পর্কটাকে ভালো করে সাজান।
লোকটা মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ওকে এখানেই থামানো দরকার। সোহিনী বলল, ‘এটা অনধিকার চর্চ্চা হয়ে যাচ্ছে আর্যবাবু।’
– হয় তো। তবে আমি আপনার শুভ চিন্তক। যার সাথেই আপনি থাকুন, ভালো থাকুন – এটাই আমি চাই। যখনই চোখ তুলে আপনাকে দেখি মনটা বিষণ্ণ হয়ে যায়। আপনি ভালো থাকার যে আপোষটা করেন, ওটা আমার দৃষ্টি এড়ায় না মিস চৌধুরী।
– আপনি দয়া করে ওই দৃষ্টিটা আর আমার উপর দেবেন না আর্যবাবু। বোঝেন না কেন, এতে আমার অস্বস্তি হয়।
ক'দিন ধরেই বন্ধু-বান্ধবেরা বলছে সোহিনীর চোখের কোলে নাকি গাঢ় কালি পড়েছে। ও নিজে কেন আয়নার সামনে ধরতে পারছে না বিষয়টা? আমাদের দৃষ্টিটাও কি দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সমঝোতা করে চলে? চোখ দুটো কি এই ডার্ক সার্কেল দেখতে চাইছে না? আজ বস এই বাহানায় ওর হাত দুটো মুঠোয় চেপে বলল, ‘কী ব্যাপার মিস চৌধুরী, আমার অফিসে কি আপনার কোনও বিষয়ে অতিরিক্ত স্ট্রেস পড়ে যাচ্ছে?
– না স্যার।
– এত বিষণ্ণ লাগছে কেন আপনাকে? আমার এক বন্ধু ডাক্তার। অ্যাপয়েনমেন্ট করিয়ে দেব?
– নো স্যার। থ্যাংকস। ধীরে ধীরে নিজের হাতটাকে মুঠোর থেকে বের করার চেষ্টা চালালো সোহিনী।
– কোনও সমস্যা হলে বলবেন কাইণ্ডলি। আই অ্যাম অলওয়েস অ্যাট ইওর সার্ভিস।
শালা, এরা হল টিপিক্যাল রজ প্রবৃত্তির লোক। সব সময় ভাবে মানুষের যাবতীয় সমস্যা যেন ওরই অফিস কেন্দ্রিক। নিজস্ব কোনও বিষয় যেন থাকতেই নেই। অবশ্য নিজস্ব কী বিষয় থাকতে পারে ভেবে পেল না সোহিনী। সেদিনের পর আর্য নিজের চেয়ার ঘুরিয়ে নিয়েছে। লুকিয়ে চুরিয়ে আর যখন তখন ওকে দেখার উপায় নেই। সেই চেষ্টাও সে করে না। তবে সোহিনীর সমস্যাটা কি? কেন এখনও ওই চোখের দৃষ্টি ওকে তাড়া করে। ওকে আর্যর না দেখাটা কি ওর অবচেতনকে পীড়িত করছে? না, না, তা কেন? ওর মনে তো আর্যর প্রতি কোনও ফিলিংস নেই; ও নিজের সম্পর্কের প্রতি দায়িত্বশীল। ও মনে করে, ভালবাসার প্রথম শর্তই হল কমিটমেন্ট। অবশ্য আর্য নিশ্চই বলত, না মিস চৌধুরী, ওটা ভালোবাসা নয়, ভালোবাসার কোনও শর্ত হয় না। কমিটমেন্টটা সম্পর্কের প্রতি হয়। ব্যাপারটা নিয়ে সোহিনী কখনও ভাবেনি আগে। ভাবাটা দরকার বোধহয়। সেদিন নির্ঝরকে জিজ্ঞাসা করেছিল সোহিনী, ওর মধ্যে কোন বিষয়টা নির্ঝরকে আকৃষ্ট করে? ওর উত্তর ছিল পাক্কা সেলসম্যানের মতোই, ‘তোমার পুরোটাই’। ‘তোমার পুরোটাই’ আর ‘পুরোটা তুমিই’ – এই দুটো কথার মধ্যে ফারাক অনেক। নির্ঝরের নিশ্চই এসব বোঝার মতো মনের সূক্ষ্মতা নেই। তবুও কিছুটা ঝোঁকের মাথায় আবার বলল, ‘যখন আমাকে প্রথম দেখেছিলে, আমার কোন ব্যাপারটা সবচেয়ে আকর্ষণ করেছিল?’ নির্ঝর পাস কাটিয়ে বলেছিল, ‘মানুষ কি অঙ্গ বিশেষে বা কোন স্পেশিফিক বিষয়ের প্রেমে পড়ে? ব্যাপারটা সব মিলিয়ে হয়।’ বি.এস.সি পড়ার সময় মৈনাক একবার ক্লাস ঘরে একা পেয়ে জাপটে ধরেছিল ওকে, ‘তোর চোখটা আমাকে পাগল করে দেয় মাইরি।’ ওই ‘মাইরি’ শুনে বিরক্তিটা চতুর্গুণ চড়ে গিয়েছিল সেদিন। শুভ্র ওর চোখ নিয়েই কয়েক লাইন কবিতা লিখে ফেলেছিল একবার। সোহিনী জানে, চোখ নয়, অন্য কোথাও আছে ওর সম্মোহিনী। জয়িতা, ওর সবথেকে কাছের বন্ধু, একবার বলেছিল বটে, যে শুধু তোর দেহে আকৃষ্ট হয়, সে বলতে পারবে না ওই ঠিকানাটা। অপেক্ষা কর, কেউ না কেউ একদিন তোর জীবনে নিশ্চই আসবে – সে দিতে পারবে এইসব সুলুক সন্ধান। নিউ জার্সিতে এখন কটা বাজে? নির্ঘাত রাত দেড়টা দুটো। এত রাতে ওকে জাগিয়ে বলা যাবে না আর্যর কথা। কে জানে আর্য হয়তো সেই লোক। এই ইচ্ছেটাও তো আসলে আর্যই জাগিয়ে দিয়েছে। এই শেষ ক’বার যতবারই ও নির্ঝরের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছে, ওর অবচেতন কোথাও খুঁজে বেড়িয়েছে সেই চোখ দুটি। কখনও কখনও ভুল ভেঙেছে নির্ঝরের অভিব্যক্তিহীন চোখে চোখ পড়ে গিয়ে। ‘কী দেখছ অমন করে নীর?’ নির্ঝর উত্তরে যে সব শব্দ অতি ঘনিষ্ঠতার সুযোগে উচ্চারণ করেছে, সোহিনীর সমস্ত হর্মোনাল ক্রিয়া-কলাপ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে মুহূর্তে। নির্ঝর কি সত্যিই ওর সঠিক যোটক নয়? জীবন তো একটাই। শুধুমাত্র কমিটমেন্ট এর মর্যাদা দিতে গিয়ে একঘেয়ে হয়ে যাবে না তো সম্পর্কটা? আচ্ছা ‘সম্পর্ক’ র সঠিক সংজ্ঞাটা কী হবে? এটাও কি আর্য বলে দেবে?
এত আর্যময় হয়ে যাচ্ছ কেন হে সোহিনী? ও তোমার চিন্তাভাবনা বদলে দিচ্ছে। ও তোমার সনাতন সংস্কারকে ভেঙে দিতে চাইছে ওর মুগ্ধবোধ দিয়ে। ও ভেঙ্গে দিয়েছে এতদিনের স্হবির অচলায়তন। আরেকটা কোম্পানির ভালো অফার এসেছিল মাসখানেক আগে। কেন ছাড়তে পারেনি সে? এই পেঁচো মুখ, টাকলা বসের রোজ আঙুলে আঙুলে চকমকি জ্বালানোর অপচেষ্টা থেকে তো রক্ষা পেত বরাবরের মতো! কিছুই ভালো লাগছে না আজকাল। বছর দেড়েক আগেও নির্ঝর বিয়ের জন্য বায়না ধরতো। দু একবার দিনক্ষণও ঠিক করে ফেলেছিল। আজকাল আর এই নিয়ে একটা শব্দও উচ্চারণ করে না। অবশ্য এতকাল নানা ওজর আপত্তি তুলে ও-ই বাধা দিয়ে এসেছিল। কারণ যদিও ছিল তার। বাবার মৃত্যুর এক বছর হয়নি তখন। এখন নিজের মুখে প্রসঙ্গটা তুলতেও কেমন যেন বোধ হয়। মনে হয় বিয়েটা করেই বুঝি নির্ঝর কৃতার্থ করবে ওকে। নাকি সব পাওয়া হয়ে গিয়েছে? মিছিমিছি বিয়ের ঝামেলায় জড়িয়ে লাভ কি? আচ্ছা নির্ঝর কি ওর প্রতি লয়্যাল? এত ট্যুরে যায়! ছি ছি! যার যেমন ভাব, তার তেমন লাভ। শুধু শুধু কল্পনার বশে এমনটা ভাবা ঠিক হবে না।
ওর টেবিল থেকে আর্যর পেছনটা দেখতে পাচ্ছে সোহিনী। এক মনে কিছু একটা কাজ করছে। আজকাল ওর সাথে তেমন একটা কথাবার্তা হয় না। হঠাৎ কী একটা কারণে উঠে ওর দিকেই তাকালো আর্য। একী – ওর চেহারা এতখানি খারাপ দেখাচ্ছে কেন? যেন বহুদিন ঘুমোয় নি। আজকাল ও কি আর্যর মতো ফেস রিডিং করতে শিখে গেল নাকি? একটু মুচকি হেসে বলল, ‘কী খবর আর্যবাবু, শরীর ভালো নেই?’
– ঠিকই আছে তো।
তবে কি সোহিনীর কাছ থেকে ঝাড় খেয়ে ওর মন ভালো নেই? ওকে দেখতে পাচ্ছে না বলে কি রাতে ঘুম হচ্ছে না আর্যর? দূর দূর! ও তো সেই বসের মতো ভাবছে। পৃথিবীতে আর্যর সব খারাপ লাগা কি সোহিনী কেন্দ্রিক? আর সেটা যাতে না হয়, তাও তো সোহিনীরই সবথেকে বেশী কাম্য ছিল। ‘কেমন যেন লাগছে আপনার চোখ মুখ!’
– কেমন লাগছে?
– চোখের কোণা দুটো ফুলো ফুলো লাগছে। আপনি দেখেন নি?
– দেখেছি।
– ডাক্তার দেখিয়েছেন?
– হুঁ। আর্য ঘুরে গিয়ে নিজের কাজে মন দিল। সোহিনী নিজের চেয়ার ছেড়ে আর্যর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘ডাক্তার কী বলেছে?’
– ও, তেমন কিছু না। কিছু টেস্ট ফেস্ট করাতে দিয়েছে।
যে মানুষ বলতে চাইছে না, তাকে বেশি খুঁচিয়ে জিজ্ঞেস করাটা কি ঠিক? টেস্টের কথায় মনে পড়ে গেল ওর নিজের ও ইউ এস জি টা ইমিডিয়েট করানো দরকার। প্রায়শই তলপেটে ব্যথা হচ্ছে। আর্যর কি মনে মনে উত্তেজনা হচ্ছে না? ও নিজে থেকে ওর টেবিলে কথা বলতে এসেছে। না কি সেদিনের ঘটনার পর একেবারে জল ন্যাকড়া দিয়ে ওকে মুছে দিয়েছে। এই যুগে এতখানি পুরুষ-সিংহ পাওয়া তো বড় দুর্লভ। নাকি ওর নিজের সেই সম্মোহিনী শক্তি কমে গেছে? কই, আর্য মুখ তুলে তাকাচ্ছে না তো! অস্বস্তি কাটাতে নিজে থেকেই বলল, ‘টেস্টগুলো করিয়েছেন?’
কিছুটা যেন অপ্রত্যাশিত, সেই রকম মুখ করে আর্য বলল, ‘আমাকে কিছু বলছেন?’
– টেস্টগুলো করিয়েছেন কি?
– আরে দাঁড়িয়ে রইলেন কেন? বসুন না!
– তার দরকার নেই। আপনি বলুন।
– হুঁ। করেছি। বলেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইল আর্য।
বলতে চাইছে না কেন? সিরিয়াস কিছু? এমনটা ভাবছে না তো, রোগ-টোগের কথা বললে একটা সিমপ্যাথেটিক অ্যাটিচিউড কাজ করবে। তিরিশ সেকেন্ডের মতো দাঁড়িয়ে সোহিনী যখন নিজের চেয়ারের দিকে যেতে উদ্যোগী হল, আর্য বলল, ‘ডাক্তার বলেছে কিডনিতে জল জমেছে।’
– তাই নাকি? এটা কি সিরিয়াস কিছু?
– রোগকে সিরিয়াসলি নিলেই সেটা সিরিয়াস হয়ে দাঁড়াই মিস চৌধুরী? আমি বিষয়টাকে ততটা সিরিয়াসলি ভাবছি না।
– আপনার চোখের তলা ফুলেছে কি সেইজন্য?
– হতে পারে। নাও হতে পারে।
– কেন? অন্য আবার কী ব্যাপার ঘটেছে আপনার?
– কিছু পারিবারিক সমস্যা।
এই ব্যাপারে কৌতূহল দেখানোটা সমিচীন হবে না ভেবে সোহিনী চুপ করে রইল। আর্য ব্যাপারটা বুঝে বলল ‘আমার বোন বাবা-মায়ের অমতে একজনের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছে।’
– থাক না এসব কথা।
– আপনার অস্বস্তির কারণ নেই। আমি নিজে থেকেই তো আপনাকে বলছি।
– বলছেনই বা কেন?
– এইটাই তো আপনার সিক্রেট মিস চৌধুরী। আপনার মধ্যে এমন একটা অরা আছে, এটা মানুষকে খুব নিকট ভাবতে সাহায্য করে। আপনি মনে করে দেখবেন, আপনার কাছের মানুষজন খুব নিশ্চিন্তে আপনার সাথে সিক্রেট শেয়ার করে।
– তা ঠিক। আমি সেই বিশ্বাসটা রক্ষা করি আর্যবাবু।
– জানি। সেটা হওয়ায় স্বাভাবিক।
– কিন্তু আপনি আধুনিক মানুষ। বোনের ইচ্ছার মর্যাদা কি আপনার তরফ থেকে দেওয়া উচিৎ ছিল না?
– ইস্যুটা ওটা নয় মিস চৌধুরী। ছেলেটি তেমন ভালো নয়। লোকাল মস্তান টাইপ। তা জেনেও যদি টুসী ওকে পছন্দ করে, আমি কিছু বলতাম না। কিন্তু বাবার এর পরেই হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। মাইল্ড, তবু একটা ঝটকা তো বটে! মা খাওয়া-দাওয়া ঘুম ছেড়ে দিয়েছে, সমস্যা ওটাই।
– ওনারা কি আপনার সাথেই থাকেন?
– না, না গ্রামের বাড়ীতে থাকেন। হুগলিতে।
– দেখুন আর্যবাবু, আপনাকে ঠিক কী বলা উচিৎ, আমার মাথায় আসছে না। আপনি নিজের যত্ন নিন।
মনটা ভারী ভারাক্রান্ত হয়ে গেল সোহিনীর। মানুষের কত রকমের সমস্যা। ওর বাবা-মা বেঁচে থাকলে নির্ঝরের সাথে এরকম সম্পর্ক মেনে নিতেন কি না কে জানে? পুরোনো মানুষ। মানতেন না নিশ্চিত। অবশ্য তখন এ ধরনের সম্পর্ক হওয়ার সুযোগও হত না। তাঁরা জামাই হিসাবে নির্ঝরকে আদৌ মানতেন কি? মায়ের পছন্দ ছিল সুবোধ বালক টাইপের জামাই। যে ছেলের মতো এসে পাশে দাঁড়াবে। নির্ঝর কি আদৌ তেমন এলিমেন্ট? বাপি তো একেবারে সাবধানী টাইপের লোক। সরকারী চাকরি ছাড়া আদৌ জামাইকে ভাবতেন না নিশ্চই। বেঁচে থাকতে যে ক'টা বিজ্ঞাপন দিয়েছেন ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে, সব কটাতেই সরকারী চাকরের উল্লেখ ছিল। নির্ঝরকে প্রথম দিকে সোহিনী বলত সরকারী চাকরীতে ঢোকার জন্য পরীক্ষার প্রিপারেশন নেওয়ার কথা। ও কখনও আমলই দেয়নি। অবশ্য আজকাল কজন ছেলেই বা সরকারী চাকরী পায়? বেশীর ভাগই তো বেসরকারী। পর্ণা বলছিল আর্য নাকি ডব্লিউ. বি. সি. এসের প্রিলিমিনারী পাশ করে গেছে। বাপি নিশ্চই এমন কাউকেই পছন্দ করতেন।
আর্যর চোখটা সোহিনীর মনে ভীষণ ভাবে গেঁথে আছে আজ; তার তলায় ফুলো ফুলো ভাবটা কেমন যেন মাথার ভেতরটা গুলিয়ে দিচ্ছে। মনে হচ্ছে, এটা যেন অন্য কারো চোখ। গুগলটা সার্চ করতে করতে মনে করল, কী যেন বলেছিল আর্য? কিডনিতে জল জমেছে! এই তো, কারণ হিসেবে কী সব লিখেছে – ইনফেকশন, টিউবাল ব্লকেজ, স্টোন। এ মা, এখান থেকে রেনাল ফেলিওরও হতে পারে? হঠাৎ একটা ঠান্ডা চোরাস্রোত বয়ে গেল সোহিনীর মেরুদণ্ড দিয়ে। ওর বাপি তো রেনাল ফেলিওরেই মারা যান। সপ্তাহে দুবার করে ডায়ালিসিস করতে হত। না না, ঈশ্বর এই পরিণতি না করুন ছেলেটার! সারা পৃথিবীতে তাকে দেখার জন্য ওই দুটো চোখ থাকবে না, ভাবতে চারিদিকটা বড় অন্ধকার হয়ে গেল তার।
0 Comments