গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ
পর্ব- উনিশ
রতনতনু ঘাটী
আজ সকাল থেকে পারুলমণির শরীরটা ভাল নেই। জ্বরার ঘোরে পারুলমণির মনে একটাকথাই তোলপাড় করছিল। সে যে লোকনকে কথা দিয়েছিল, লোকন যেদিন স্কুলের ক্রিকেট কোচিংয়ে প্রথম খেলবে, সেদিন লোকনের ব্যাটিং প্রথম থেকে দেখবে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে। আর মনে-মনে পারুলমণি এও ভেবেছিল, লোকন ওভারের প্রথম বলটায় ছক্কা মারবে! কিন্তু আজ তার শরীর মোটেও সায় দিচ্ছে না খেলার মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে।
বিজনডিহি গ্রামের ছোট্ট মাঠে সকাল-সকাল ক্রিকেটের আসর বসে প্রতিদিনই। ছেলেরা ক’ ওভার বল পিটিয়ে স্নান করেই দে-ছুট স্কুলে। কতটুকুনই বা মাঠ! একদিকে কাঠের প্যালাং তিনটে খুঁটি পুঁতে নকল উইকেট গড়া হয়। জনা ছয়েক ছেলেকে নিয়ে চলে ক্রিকেট সকাল আটটা পর্যন্ত। এই ক্রিকেট খেলার ক্যাপ্টেন হল লোকন দাস। সকাল ছ’টার পর যে ক্রিকেটার মাঠে এসে পৌঁছবে, সে আর সেদিন ব্যাটিং বা বোলিং, কিছুতেই চান্স পাবে না—এই কঠিন নিয়ম করে দিয়েছে লোকন নিজেই। ছ’টার পরে যে মাঠে আসবে, তাকে সেদিন গোটা সময়টাই ফিল্ডিং খাটতে হবে।
আজও সকালে লোকন যখন মাঠে এসেছিল, তখন মাত্র দু’জন ক্রিকেটার মাঠে এসেছে। তারপর দেখতে-দেখতে মূহুর্তের মধ্যে দশজন চলে এল। ছ’জনকে নিয়ে ব্যাটিং আর বোলিং টিম সাজানো হয়ে গেল লোকনের। বাকি চারজন ফিল্ডিং প্লেয়ার হয়েছে। এক-একজন ব্যাট করবে, তিনটে বল খেলবে। বোলারও তিন বলের এক-একটা ওভার খেলবে—এটাই ঠিক করে দিয়েছে লোকন।
নয়ন আর বিজয় ব্যাটিং করার জন্যে দু’দিকে দাঁড়িয়ে গেল। এ মাঠে ক্রিকেটারদের সাকুল্যে একটাই মাত্র ব্যাট। আর কারও ব্যাটই নেই। মোট ক্রিকেটার এই মাঠে বারোজন। বারোজনই সমান-সমান চাঁদা দিয়েছিল ব্যাট কিনতে। বাড়িতে অনুমতি নিয়ে বারোজনই একদিন শিমুলতলা বাজারের ‘মাই স্পোর্টস’ দোকান থেকে চারশো নব্বই টাকা দিয়ে নতুন ব্যাট কিনে এনেছে। আর বারোজন বারোটা চকোলেট কিনেছে পাঁচশো টাকার ফেরত দশ টাকা দিয়ে। দু’ টাকা দোকানদারকাকু ছাড় দিয়েছেন।
এখন নয়নের হাতে সেই ব্যাট। ফলস ক্রিজে দাঁড়িয়েছে নয়ন। ওদিকে ফলস ক্রিজে দাঁড়িয়ে বিজয় শ্যাডো প্র্যাকটিসের মতো করে একটা সরু কাঠের ফালি হাতে নিয়ে ব্যাটিং করার জন্যে তৈরি। লোকন আম্পায়ারের ভঙ্গিতে হাত তুলে বোলিং শুরু করার নির্দেশ দিল। মাঠের চারদিকে একজনও দর্শক নেই। এত সকালে কে-ই বা আসবে বিজনডিহি গ্রামের ছোট্ট মাঠে?
পর পর তিনটে বল করল বিল্টু কামিলা। বিল্টু ভাল স্পিন বোলিং করতে পারে। ভালওবাসে। তাই আজ শুরু থেকে স্পিন বোলিং শুরু করল বিল্টু। পরপর দুটোই স্পিন বল করল। রান নিতে পারল না নয়ন। থার্ড বলটা যতটা জোরে করবে ভেবেছিল বিল্টু। তা হল না। বলটা কেমন করে যেন হাত থেকে ফসকে গিয়ে ফুলটস হয়ে গেল! সুযোগের অপেক্ষায় ছিল নয়ন। সপাটে বলটাকে বিজনডিহির ছোট্ট মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিল। মানে কচুরিপানা ভাসা ডোবার জলে। ফিল্ডারদের একজন হাঁটু জলে নেমে বলটা তুলে ছুড়ে দিল বোলার অনিলের দিকে। নয়নের সংগ্রহে জমা হয়ে গেল চার রান!
এবার বিজয় ব্যাট বদল করে নিয়ে ক্রিজে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল। ব্যাট করবে বিজয়। লোকন এর পরের বোলার অনিল দুবেকে বল করার জন্যে হাত তুলে ডাকল। বিল্টু বলটা অনিলের হাতে দিয়ে চলে এল উইকেট কিপিংয়ের পজিশানে। হাত তুলে তিনটে আঙুল দেখাল লোকন। মানে, এবারও তিন বলের ওভার খেলতে হবে অনিলকে।
অনিলের প্রথম বলটা উইকেটের অনেকটা বাইরে ছিল। বিজয় খেলার চেষ্টাই করল না। এটা ওয়াইড বল হয়ে গেল। লোকন ডিক্লেয়ার করল, ‘ওয়াইড!’
একটা বল এক্সট্রা খেলার সুযোগ পেয়ে গেল বিজয়। তার মানে বিজয় এখনও তিনটে বলই খেলবে!
দ্বিতীয় বলটা করল অনিল। বেশ জোরে ছিল বলটা। কেমন যেন শাঁ করে বলটা ব্যাটে না লেগে সোজা উইকেটের দিকে ঢুকে এসে ভেঙে দিল উইকেটটা! শূন্য রানে আউট হয়ে গেল বিজয়। লোকন এবার ব্যাটিংয়ে আসতে বলল হারান দাসকে!
হারান দাস ক্লাস এইটে পড়ে বিজনডিহি গ্রামেরই জনিয়ার স্কুলে। পুঁচকে ক্রিকেট মাঠের অন্যতম সেরা স্পিন বোলার সে। বিজনডিহি গ্রামে একমাত্র ধরণীধর সামন্তদের টিভিতে খেলা চালান ধরণীধর। খেলা হলে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের খেলা দেখবেই দেখবে হারান! সে মনে-মনে ঠিক করে নিয়েছে যে, বড় হয়ে যদি ক্রিকেটারই হতে পারে, তবে সে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো স্পিন বোলারই হবে।
হারান দাস স্কুলের লাইব্রেরি থেকে ‘খেলা’ নামের একটা পত্রিকা ইসু করে এনেছিল বাড়িতে। সেই পত্রিকায় অশ্বিনের একটা ছেলেবেলার স্মৃতিকথা পড়েছিল। সেই লেখার কথাটা অশ্বিন সকলকে শোনানোর জন্যে ডাকল মাঠের মাঝখানে। বলল, ‘শোনো লোকনদা, কেন আমি স্পিন বোলিংটা বেছে নিয়েছি, শুনবে? এটা আমার একটা স্বপ্ন! তোমাদের সেই গল্পটা বলি!’
পিছন থেকে কেউ যেন বলে উঠল, ‘গল্পটা যেন ছোটই হয় ভাই। না হলে স্কুলে যাওয়ার সময় হয়ে যাবে!’
হারান দাস দমে গেল না। গল্পটা শুরু করল, ‘তখন অশ্বিনের বয়স চোদ্দো কি পনেরো বছর হবে। তখনকার দিনে চেন্নাইয়ে টেনিস-বল ক্রিকেটের খুব চল ছিল। অশ্বিনের এক বন্ধু তাঁকে টেনিস-বল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট খেলতে নিয়ে যেত সঙ্গে করে। কিন্তু অশ্বিনের বাবার পছন্দ ছিল না, ছেলে টেনিস-বল ক্রিকেট খেলুক। এমনকী, গলির-ক্রিকেট খেলাও তিনি মোটেও পছন্দ করতেন না। তাই বাবার অফিস থেকে বাড়ি ফেরার আগেই অশ্বিনকে বাড়ি ফিরে আসতে হত।’
রিঙ্কু জিজ্ঞেস করল, ‘তোর গল্পটা আর কতখানি বাকি আছে রে হারান? তাড়াতাড়ি শেষ করবি?’
হারান একটা জোর ধমক দিয়ে বলল, ‘শোন না! তারপর কথা বলিস। যে আঙুলে অশ্বিন অনায়াসে ক্রিকেট ক্রিজে বল ঘোরান, সেই আঙুলই নাকি খোয়াতে চলেছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
লোকন দাস জিজ্ঞেস করল, ‘সে কী কাণ্ড? কীভাবে এমন ঘটনাটা ঘটল?’
হারান বলল, ‘সেই সাক্ষাৎকারে অশ্বিন লিখেছেন, তাঁর বলের স্পিন বুঝতে না পেরে বিরোধী দলের সমর্থকরা তাঁকে অপহরণ করে তাঁর আঙুল কেটে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছিল একবার। আর কোনও দিন ম্যাচ খেলবেন না কথা দেওয়ার পর তারা ছেড়ে দেয় অশ্বিনকে।’
বন্ধুদের মুখের দিকে এক পলক তাকিয়ে নিয়ে হারান ফের শুরু করল, ‘এরকমই আর-এক টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ খেলতে বাড়ি থেকে বেরোচ্ছিলেন অশ্বিন। তখন চার-পাঁচজন যুবক মোটর বাইকে চড়ে তাঁর বাড়িতে এসেছিল। তারা অশ্বিনকে বলেছিল ম্যাচের জন্য তাঁকে নিয়ে যেতে এসেছে। শুনে খুশি হয়ে অশ্বিন বাইকে চড়ে বসেন। তাঁকে তারা নিয়ে যায় এক হাইফাই টি-শপে। সেখানে নানারকম খাবারের অর্ডার দিল। তারা বলল, ‘চিন্তা কোরো না, তুমি খেতে থাকো।’ সাড়ে তিনটে-চারটে নাগাদ অশ্বিন বললেন, ‘ম্যাচ শুরু হবে যে এবার, আমাকে যেতে হবে।’ তখন তারা বলল, ‘আমরা আসলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের লোক। যাতে তুমি ফাইনাল ম্যাচ খেলতে না পারো, তাই তোমাকে এই রেস্টুরেন্টে নিয়ে এসেছি। এর পরেও তুমি যদি ফাইনাল খেলতে যাও, তবে তোমার আঙুল থাকবে না।’ শুনে ভয় পেয়ে তক্ষুনি অশ্বিন জানিয়ে দিলেন, ‘ম্যাচ আমি খেলব না। কিন্তু বাবা এবার অফিস থেকে বাড়ি ফিরে আসবেন, আমাকে এখনই বাড়ি ফিরতে হবে। ম্যাচ খেলব না, কথা দিচ্ছি।’ তখন তারা অশ্বিনকে নিজেরাই বাইকে করে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসে।’
লোকন দাস বলল, ‘বাঃ! এই গল্পটা আমাদের স্কুলের দেবোপমস্যাকে গিয়ে বলব!’
তক্ষুনি ছুটতে ছুটতে মাঠের মাঝখানে এসে পিন্টু পাল বলল, ‘লোকনদা! তুমি এক্ষুনি বাড়ি চলো! তোমার পারুলমণিদির শরীর খুব খারাপ লাগছে। কোনও রকমে উঠোন থেকে আমাকে ডেকে বলল, তোমাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার কথা। তুমি চলো লোকনদা। আজকের মতো খেলা ছুটি করে দাও!’
লোকন চেঁচিয়ে বলল, ‘তোরা সক্কলে বাড়ি চলে যা। এর পর স্কুলের সময় হয়ে যাবে। আমি বাড়ি গিয়ে দেখি, দিদির কী হয়েছে?’ বলেই বাড়ির দিকে প্রাণপণে দৌড়ল লোকন। ওর সঙ্গে দৌড়ল থাকল পিন্টু পাল। লোকন যখন বাড়ইতে ঢুকল, তখন পারুণমণির কম্প দিয়ে জ্বর এসেচে। লোকনকে দেখে বলল পারুলমণি, ‘ভাই, তুই আমার গায়ে আর একটা কম্বর চাপিয়ে দে! তারপর ডাক্তারবাবুকে একবারটি ডেকে আন!’
পিন্টুকে লোকন বলল, ‘তুই একটু দিদির পাশে বোস তো! আমি দেবেন্দ্র ডাক্তারকে এক্ষুনি ডেকে আনছি!’
বলেই ছুটে বেরিয়ে গেল লোকন। ডাক্তারবাবু লোকনের কতা শুনে বললেন, ‘পারুলমণিকে দেখতে যেতে তো হবেই!’ তক্ষুনি বেরিয়ে পড়লেন ডাক্তারবাবু স্কুটার নিয়ে। পিছনে লোকনকে বসতে বললেন, ‘লোকন আমার পিছনের সিটে উঠে পড় বাবা!’
দেবেন্দ্র ডাক্তারকে দেখে যেন বড় করে দম ফেলল পারুলমণি।
ডাক্তারবাবু দেখুন তো, ভোর রাত থেকে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এসেছিল খুব। একটু আগেও বেশ শীত করছিল!’
ডাক্তারবাবু নিজের ব্যাগ থেকে ওষুধ বের করলেন। লোকনের হাতে দুটো ওষুধ দিয়ে খাওয়ার নিয়ম বলে দিলেন। ঠিক হয়ে যাবে পারুলমণি! তুমি চিন্তা কোরো না!’
পারুলমণি হাতড়ে হাতড়ে ওষুধটা নিজের মুঠোয় নিয়ে বলল, ‘কত দিতে হবে ওষুধের জন্যে ডাক্তারকাকা?’
দেবেন্দ্র ডাক্তারের মুখে হাসি ছড়িয়ে পড়ল। বললেন, তুমি আমাকে ওষুধের দাম দেবে? তা হলে মরেও যে আমি সুখ পাব না গো পারুলমণি! তুমি ভালো থাকো, এতেই আমি খুশি! ওষুধের টাকা দিতে হবে না!’
‘আপনাদের কাছে আমার ঋণের যে শেষ নেই ডাক্তারকাকা! ভাই বড় হোক, ভাইকে আশীর্বাদ করবেন, আপনাদের সব ঋণ যেন ও শোধ করে দিতে পারে! জানেন তো ডাক্তারকাকা, অন্ধ মানুষদের ঋণ রেখে মরতে নেই?’ বলেই চুপ করে গেল পারুলমণি।
ডাক্তারকাকা হেসে বললেন, ‘তুমি তো অনেক কথা শিখে গেছ পারুলমণি? দুঃখের কথা বেশি দিন মনে রাখতে নেই! ওতে মন ভারী হয়ে থাকে জগদ্দল পাথরের মতো! দুঃখের কথা মানুষের মনে বরাভয় এনে দেয় না। ভালভাবে ভাইটাকে বড় করে তোলো! চলি পারুল?’
ডাক্তারকাকা চলে যাচ্ছিলেন। তখন পারুলমণি বলল, ‘আমাকে আজ বিকেলের দিকে কি বাড়ি থেকে বেরনোর অনুমতি দেবেন ডাক্তারকাকা?’
‘আজ তো না বেরনোই ভাল গো মা! আজকের দিনটা বিশ্রাম নিলে ভাল হয় !’
‘আজ আমার ভাইটার গগনজ্যোতি স্কুলে বিকেলে ক্রিকেট কোচিং ক্লাস আছে। লোকন অনেক আশা নিয়ে এবং অনেক চেষ্টায় চান্স পেয়েছে! আমি ভাইকে বলেছি, ওর প্রথম কোচিংয়ের দিন আমি স্কুলে যাব ওর প্রথম বলটায় ছয় মারা দেখব!’
‘সাবধানে যেও! ভাইকে বলো, যেন তোমাকে হাতে ধরে নিয়ে যায়!’
পারুলমণির মুখে হঠাৎ ঝুঁকে পড়ল মেঘলা দিনের মলিন মেঘের রামধনু! বলল, ‘হ্যাঁ, ডাক্তারকাকা! ভাই তো আমার দিবানিশি, আমার পূর্ণিমার জ্যোৎস্না, আমার অন্ধকারের আলো! ভাইয়ের জন্যে আমার বেঁচে থাকা! আমাকে বাঁচতে হবে!’
ডাক্তারকাকা স্কুটারে স্টার্ট দিলেন। উঠোনে গিয়ে ডাক্তারকাকার চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে উদাস হয়ে গেল লোকন।
(এর পর ২০ পর্ব)
ভবিষ্যতের ভাবনা
বিনোদ মন্ডল
বানভাসি সে পলির পরত --
ফসল হাসে জমির কোলে।
কিষাণ এসে কাস্তে শিষে --
সোনালীধান গোলায় তোলে।
হাটের পথে হাঁটছে দুটি --
স্বপ্নমুখর -- পত্নী পতি
গেরস্থালির জিনিস কেনে
মুখেমাখা খুশির জ্যোতি।
অতীত কালের এসব ছবি
মুছে দিয়ে আজ দুনিয়া --
হাহুতাশ সে ভাবছে বসে
হারায় কোথায় চিলমুনিয়া!
বিজ্ঞানে আর বিজ্ঞাপনে --
সহজ সরল জীবন খেলো
বিশ্বায়নের বিষ শাসনে --
যৌথ যাপন এলোমেলো।
আজ নিখিলের মানুষগুলো
আত্মসুখের নেশাতে বুঁদ
বসতে শুতে শেয়ার বাজার
কখন কোথায় বাড়তি সুদ!
মা বাবা আর মাসি পিসি --
কেমন করে কাটায় দিন
ফোনে কথার ফুরসত নেই
শেষ দেখাটার আশাও ক্ষীণ।
বলো তবে বিশ্ববাসীর --
ভবিষ্যতে কী যে হবে !
আর কি সে বিশ্বাস আর
ভালোবাসায় মগ্ন হবে ?
পাবলিক বাস
অনিন্দিতা শাসমল
দ্রুত গতি বাস এসে স্টপেজে দাঁড়ায়
যত্রীরা পা দানিতে এক পা বাড়ায়,
ঠেলাঠেলি , হাতাহাতি যে যাকে পারে
কোনোক্রমে ঢুকে কনুইয়ের গুঁতো মারে
ঘামে ভেজা শার্টের ঘিনঘিনে গন্ধ
রুমালে চাপা দেওয়া , নাক মুখ বন্ধ
পেছনে হঠাৎ কেন সাংঘাতিক চাপ ?
কন্ডাক্টর দাদার গলা,বোঝায় ভুঁড়ির মাপ
মাঝে যদি খালি হয় একটাও সিট
সকলে হুমড়ি খায়,ভাঙে যেন পিঠ ,
এরই মাঝে ছুটে চলে ,হর্ণ বাজে অহরহ
জানলায় চোখ দেখে সবুজের সমারোহ ,
গালাগালি হাসাহাসি সব পাওয়া যায়
নেমে পড়ে একে একে যে যার জায়গায়,
যাওয়া যায় কম পয়সায় সঠিক গন্তব্যে
বেঁচে থাক পাবলিক বাস সরস মন্তব্যে।
ক্যুইজ :
১. "বৌ কথা কও " পাখির গায়ের রং কেমন ?
২. গাছের পাতা সেলাই করে ঝুলন্ত বাসা তৈরী করতে পারে কোন কোন পাখি ?
৩. "সারহুল" উৎসবে কিসের পূজো করা হয় ?
৪. এমন একটা পোকা যার পূর্ব পুরুষরা ৩২০ মিলিয়ন বছর পুরনো "কার্বনিফেরাস " যুগে ও ছিল, এবং এই পোকা টির মাথা কেটে ফেললেও এরা এক সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে। পোকাটি র নাম কি ?
৫. কোন পোকা র বমি মানুষ খেতে খুব ভালোবাসে ?
গত সপ্তাহের উত্তর : ১. সং অফারিংস
২. ভানুসিংহ, আন্নাকালী পাকড়াশী , দিক শূন্য ভট্টাচার্য ইত্যাদি।
৩. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
৪. জালিয়ান ওয়ালাবাগ
৫. ভারত ও বাংলাদেশ
0 Comments