ছোটবেলা বিশেষ সংখ্যা: ২০৮
চিত্রগ্রাহক: ডঃ আনন্দ এস ভার্মা
সম্পাদকীয়
প্রিয় বন্ধুরা,
কেমন আছো সবাই? আজকের দিনটা কি জন্য স্পেশাল সেটা জানো তো? আজ ২১ শে জুন আজ আন্তর্জাতিক যোগ (Yoga) দিবস। প্রাচীন ভারতের যোগ চর্চা ৫০০০ বছরের ও বেশি পুরোনো সেটা জানো তো। যোগ চর্চা আমাদের শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক সব কিছু উন্নতির জন্য খুব দরকারি। তোমরা এখন ছোট, কাজেই প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট সময় তোমরা যোগ চর্চার জন্য রেখো। বাড়ীর বড়দের কাছে শিখে নিও তোমার বয়সের উপযোগী কোন কোন যোগাসন করা যাবে। গতকাল ছিল ২০ শে জুন। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিন । এই বছর থেকে শুরু হলো সবাই মিলে ২০ শে জুন দিন টি পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিন হিসেবে পালন করা। তোমরা হয়তো ভাবছো রাজ্যের ও বুঝি জন্মদিন হয়? তাহলে শোনো বলি, ১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্ট আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে এটা তো সবাই জানো। কিন্তু তার দুমাস আগে ২০ শে জুন তখনকার বঙ্গীয় আইনসভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের জন্ম হয়েছিল। অবশ্য এই প্রসঙ্গে বলা দরকার যে, এই বিষয়ে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নেতৃত্ব ছিল অনস্বীকার্য। আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় বিধান সভায় বিশেষ প্রস্তাব পাস করিয়ে এই ২০ শে জুন তারিখ টি কে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস রূপে স্বীকৃতি দান করেন।
এতগুলো বিশেষ ঘটনার সাথে আজ থেকে তোমাদের জন্য নতুন একটা বিভাগ শুরু হলো। "ডাক্তার বাবুর কলমে" । দেখো তো এই নতুন বিভাগ টা তোমাদের কেমন লাগে। আজকের চিঠি টা অনেক টা লম্বা হয়ে গেলো। সবাই ভালো থাকো, অনেক ভালবাসা নিও।
ইতি তোমাদের স্বাগতাদি।
আমরা আছি বেশ
বিশ্বজিৎ সিনহা
কচিপাতায় রঙ ধরেছে
পর্ণমোচীর শাখে
লুকিয়ে কোথাও গাছের ডালে
কোকিল কুহু ডাকে।
ঐ বুঝি বসন্ত এল
সাজিয়ে রঙের ডালা
পলাশ,শিমুল, কৃ ষ্ণচূড়া
লাল আবীরের খেলা।
কচিপাতারা শাখায় শাখায়
দ্যাখো,খিলখিলিয়ে হাসে
শুকিয়ে যাওয়া ঝরা পাতাকে
কে ই বা ভালোবাসে!
এমন করেই কাঁদা -হাসা,
এমন করেই ভালোবাসা,
এমন করেই পথের শুরু
এমন করেই শেষ।
এই উঠছি, এই পড়ছি
এই খেলছি, এই ছুটছি,
সন্ধ্যে হ'লে ঘরে ফেরা
খেলার থাকে রেশ ।
আমরা ভাই দিব্যি আছি
আমরা আছি বেশ।
লবণ
অরূপ কুমার পাল
সুমিতবাবু বাড়ি ফিরেই দেখলেন দুটো রেকাবিতে পেয়ারা আর কালোজাম নিয়ে মুখ কালো করে নাতি নাতনি বসে রয়েছে। খাচ্ছে না কিন্তু। বুঝলেন এদের অভিমান হয়েছে, নাহলে খাবার সামনে রেখে বসে থাকার পাত্র এরা নয়।
জিজ্ঞেস করলেন - কি হয়েছে দিদি ?
দিদি ভাই দুজনেই চুপ।
তিনি আবার নরম সুরে জিজ্ঞেস করায় ঋক গাল ঠোঁট ফুলিয়ে ছলছলে চোখে জানালো - মা আর ঠাম্মি আমাদের খুব বকেছে।
অলি - মা পেয়ারা আর জাম খেতে দিয়েছে কিন্তু নুন দেয়নি আলাদা করে।
ঋক অভিযোগের সুরে বললো - এইগুলো খেতে গেলে নুন লাগবে না ?
সুমিতবাবু - নুন মাখিয়ে দিয়েছে মা। আর প্রয়োজন নেই।
ভেতর থেকে মা জানালো - লবণ মাখানো আছে বলার পরও শুনলো না। নিজেরাই নিয়ে কেমন নষ্ট করছে দেখুন বাবা!
সুমিতবাবু- খেয়ে দেখো, দরকার হলে আরো নিয়ো। বেশী নুন খাওয়া ঠিক নয়। গা গুলোয়, বমি হতে পারে।
নুন ভীষণ দরকারি জিনিস, দাম বেশি না হলেও মোটেই নষ্ট করা উচিত নয়। তোমরা তো জানোই, খাবারে নুন দিলে তবে স্বাদ হয়, আমাদের শরীর এবং বুদ্ধি ঠিক রাখার জন্য প্রয়োজন। কিন্তু তোমরা অনেকেই জানো না নুনের জন্য আমাদের দেশের লোক, কত বছর কত কষ্ট সহ্য করেছেন! তোমরা বড় হলে সব কথা জানতে পারবে।
ভাইবোন দুজনেই জেদ ধরলো - দাদা এখনই বলো না কি হয়েছিল!
দাদা বলতে লাগলেন- প্রায় ৩০০ বছর আগে আমাদের দেশটা দখল করে নিয়েছিল ইংরেজরা। তাদের আইন মেনে আমাদের চলতে হতো। ১৮৮২তে আইন করে এদেশে নুন তৈরি বন্ধ করে দিল। ভারতের তিনদিকে সমুদ্র। শুরুর থেকে দেশবাসী নিজেরাই নুন তৈরি করতো। নতুন আইনে ইংরেজদের দেশ থেকে জাহাজে নুন আসবে সেই নুন আমাদের অনেক দামে কিনতে হবে। নইলে ভীষণ শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
আইনের খারাপ দিকটা প্রথমেই নজরে পড়ল উমেশচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের। তিনি জোরালো প্রতিবাদ জানালেন। কিন্তু কেউ তার সাথ না দেওয়ায় আইন মেনে নিতে হলো।
খাবার তৈরিতে নুন লাগে, এদেশে গরিব লোকেরা তো শুধু নুন দিয়েই ভাত খায়। এটা ভেবেই ৪৮ বছর পরে গান্ধীজী ১৯৩০ সালের ১২ই মার্চ এই আইনের বিরোধিতা করে গুজরাটের সবরমতি আশ্রম থেকে ডান্ডিতে গেলেন নুন তৈরি করার জন্য। প্রথমে মাত্র ৭৪ জন সঙ্গী ছিলেন, তারপর লাখো লাখো লোক সঙ্গী হলেন। সারা দেশের লোক মেতে উঠলেন। তারা সমুদ্রের জল থেকে নুন তৈরির চেষ্টা করলেন। ইংরেজরা পুলিশ সৈন্য নিয়ে তাদের উপর লাঠি, চাবুক দিয়ে প্রচন্ড অত্যাচার চালালো। গুলি চালালো। রক্ত ঝরলো, অনেক মানুষ মরলো।
সমুদ্রের ধারে দীঘা মন্দারমনি তোমরা জানো। আগে মেদিনীপুর জেলা অনেক বড় ছিলো। জেলাশাসক ছিলো পেডিসাহেব।
তিনি যুবক যুবতী বুড়োবুড়িদের লাঠি চাবুক এমন কি জুতো পরা পায়ে লাথি পর্যন্ত মারতো। মানুষ ক্ষেপে উঠলো। বিপ্লবীরা ইংরেজদের তাড়িয়ে দেশ স্বাধীন করার কথা ভাবতেন। বিপ্লবী বিমল দাশগুপ্ত, জ্যোতিজীবন ঘোষ ১৯৩১ সালের ৭ই এপ্রিল বিকেলে সাহেবের উপর গুলি চালালেন।
এরপর ঘটলো আরো অনেক কান্ড। পরে ১৯৪৬ সালে নেহেরুজী ইংরেজের আইন তুলে দিলেন। আমরা নিজেদের জন্য নুন বানাতে শুরু করলাম।
দুই ভাই বোন বলে উঠলো- ও মা নুন নিয়ে এত কান্ড! আমরা তো কিছুই জানতাম না।
দাদা বললেন- তবেই বোঝো। আর বায়না না করে খেয়ে নাও।
ভাইবোন দুজনেই বলে উঠলো- আমরা আর কখনো নুন নষ্ট করবো না দাদা।
বোনের জন্য
বিনোদ মন্ডল
এয় গুনগুন শোন্ ,
মুনমুন তোর বোন?
হাসলে গালে টোল
কাঠবেড়ালের দোল,
বোনটা -- কি চঞ্চল!
তুই কি নিস কোলে?
পুঁইডাটা হাত তোলে?
আবোলতাবোল বকে,
আঁচড় কাটে নখে?
নামালে কোল থেকে
ঠোঁটটা কি যায় বেঁকে?
তোর কখন ফেরে মা?
তার হাজার হাঙ্গামা
হাসপাতালে - কাজ?
পোশাকে আন্দাজ!
তোর বোনটা বড়ো হলে
কোয়ার্টারে -- যাস চলে।
গুনগুন তুই লাকি,
আমার মতো নাকি!
উদাস ও একাকী।
যেন খাঁচার -- পোষা পাখি
কেমন বদ্ধ ঘরে থাকি।
ভাবি, তোদের কাছে রাখি।
আমার মনখারাপ হলে
বোনটাকে দিস কোলে,
হামি দেবো গালে
নাচবো গানের তালে।
মুনমুন কি পাখি?
মায়া কাজল আঁখি।
দস্যি সে একরত্তি
সত্যি বলিস। সত্যি!
গুনগুন সোনা শোন্
ওকি শুধুই তোর বোন?
আমার কি নয় কেউ?
তবে মনে কিসের ঢেউ!
না, বোঝাতে পারবো না
ঠিক আছে। কাঁদবো না।
আমি চিলতে ঘরের কোণ
আহা! মুনমুন তোর বোন।
ওকি খাতার পাতায় আঁকা
রঙিন প্রজাপতির পাখা!
নাকি সত্যি তোর বোন?
দেবমাল্য দে
শ্রেণী - ষষ্ঠ, কিশোর নগর শচীন্দ্র শিক্ষা সদন কাঁথি। পূর্ব মেদিনীপুর।
🍂
ডাক্তার বাবুর কলমে
ডাঃ এ সামন্ত
M D (হোমিওপ্যাথি)
কুইকোটা, মেদিনীপুর
হাত দিয়ে আমরা প্রতিদিন প্রতিনিয়ত নানান রকমের কাজ করি। তারমধ্যে অন্যতম প্রধান কাজ হলো খাবার খাওয়া। তাই খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই আমাদের হাত ভালো করে ধোওয়া খুব দরকার। কারণ হাত ধুয়ে না খেলে হাত ও নখের কোনায় লেগে থাকা জীবাণুরা আমাদের শরীরে নানান রকমের রোগ তৈরী করে, যেমন জন্ডিস, ডায়রিয়া, আমাশয় ইত্যাদি। শরীর খারাপ হলে, আমরা অসুস্থ হলে আমাদের কতো কষ্ট হয় বলোতো! কিন্তু আমরা যদি একটু সচেতন হয়ে যাই তাহলেই এইসব রোগ জ্বালা কে খুব সহজেই এড়িয়ে যেতে পারব। তাই প্রথমেই আমাদের ঠিক মতো হাত ধুতে হবে। হাত ধোয়া আর ঠিক ভাবে হাত ধোয়া কিন্তু আলাদা সেটা জানোতো? ঠিক মতো হাত ধুতে হলে প্রথমে হাত টা ভালো করে জলে ভিজিয়ে নিয়ে তারপর সাবান মাখাতে হবে হাতে। আর তারপর প্রথমে দুই হাতের তালু একে অন্যের সাথে ভালো করে ঘষে নিতে হবে, তারপর এক হাতের তালু দিয়ে অন্য হাতের পিঠ ভালো করে ঘষতে হবে। আর তারপরে দুই আঙ্গুলের ফাঁক, নখ, বুড়ো আঙুল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ভালো করে ঘষে তারপর পর্যাপ্ত পরিমাণ জল দিয়ে সুন্দর করে দুই হাত ধুয়ে নিতে হবে। এরপর নরম ও শুকনো তোয়ালে বা গামছা অথবা টিসু পেপার দিয়ে হাত মুছে নিতে হবে। এই গেলো ভালো ভাবে হাত ধোয়ার পদ্ধতি। এই ভাবে কখন কখন হাত ধোবে বলতো? এই ভাবে হাত ধুতে হবে খাবার খাওয়ার আগে, খাওয়ার পরে, হাত কোনো কারণে নোংরা হয়ে গেলে, টয়লেট যাবার পরে এবং বাইরে থেকে ঘুরে এসে। আমার কথা শুনে আজ থেকে এইভাবে হাত ধুয়েই দেখোনা, অবশ্যই উপকার পাবে। ভালো থাকো সবাই।
ক্যুইজ: ৭
১. পশ্চিমবঙ্গের আয়তনে ক্ষুদ্রতম জেলা কোনটি?
2. পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘতম নদী কোনটি?
৩. পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন কবে UNESCO র ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পায়?
৪. পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মহিলা রাজ্যপাল কে ছিলেন?
৫. সবুজ বিপ্লবের জনক ডঃ এম এস স্বমীনাথনের স্মৃতি তে পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ কৃষি পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার টির নাম কি?
গত সপ্তাহের ক্যুইজ এর উত্তর:
১. তীরন্দাজী
2. গোয়া
৩. ভারতরত্ন
৪. ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন
0 Comments