বাংলার ঘাস পাতা ফুল ফল, পর্ব -- ১২৯
খড়িগাছ
ভাস্করব্রত পতি
পানচাষের জন্য এই খড়িগাছ ভীষণ দরকার। পানের বরোজের মধ্যে খড়ি গাছের ব্যাবহার বেশ উল্লেখযোগ্য। তমলুক, পাঁশকুড়া, নন্দকুমার, ময়না, পটাশপুর এলাকায় প্রচুর পরিমাণে খড়ি গাছের চাষ হয়। দক্ষিণ বঙ্গের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুল্ম জাতীয় গাছ এটি। বিভিন্ন নদী ও নদী তীরবর্তী এলাকায় এর দেখা মেলে। বিশেষ করে এটি কেলেঘাই, কাঁসাই, ক্ষীরাই সহ বিভিন্ন জলাভূমির অন্যতম পরিচিত গাছ।
আর্থসামাজিক ব্যবস্থার সাথেও জড়িত খড়িগাছ। একসময় প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হত বা দেখা যেত। এখন দেখা যায় না। যে এলাকায় খড়িগাছের আধিক্য থাকতো, তা হয়ে উঠেছিল গ্রামনাম সৃষ্টির মূল ভিত্তি। এই খড়িগাছের নামেই সৃষ্ট হয়েছে খড়িবেড়িয়া এবং খড়িগেড়িয়া গ্রামের নাম।
খড়ি + বেড়িয়া > খড়িবেড়িয়া
খড়ি + গেড়িয়া > খড়িগেড়িয়া
খড়িগাছের বিজ্ঞানসম্মত নাম SACCHARUM FIESCUM। এটি গ্রামিনী গােত্রের অন্তর্গত। এছাড়াও এর বিভিন্ন প্রজাতির দেখা মেলে --
Miscanthus fuscus
Saccharum benghalensis
শুকনো খড়িগাছ
হিন্দিতে বলে রাটওয়া এবং আয়ুর্বেদিক পরিভাষায় এর নাম ইক্ষলিকা। এই গাছ কেটে শুকনো করে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করে গ্রামের মানুষ। তাছাড়া এর চিকন কাঠি বের করে এক শ্রেণীর মানুষ সুচারু হাতে সুন্দর সুন্দর ঝুড়ি তৈরি করে। যাঁরা খড়ি গাছের কাঠি দিয়ে ঝুড়ি বানানোর কাজ করে, তাঁদের বলে 'খড়িয়াল'। অত্যন্ত নিম্নবর্গীয় এই মানুষগুলোর সাথে খড়িগাছের ওতোপ্রতো সম্পর্ক।
নগরায়নের দাপটে গ্রামাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে খড়িবন। এই খড়িবন আসলে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রাণী বাঘরোল তথা মেছোবেড়াল বা বনবেড়ালের অন্যতম আবাসস্থল। ফলে অস্তিত্বের সঙ্কটে বাঘরোল। তাছাড়া শেয়াল, নেউল, সাপ ইত্যাদি প্রজাতির প্রাণীদের ও নিরাপদ আবাসভূমি খড়িকাঠির জঙ্গল। এর পাশাপাশি এই খড়ি গাছের মাথায় নানা পাখিরাও বসবাস করে। খড়িগাছ এগিয়ে চলেছে বিলুপ্তির দিকে, আর খড়িয়ালরা পেশাগত পরিবর্তনে সামিল। সেইসাথে উদ্বাস্তু হওয়ার উপক্রম মেছোবেড়ালদের।
0 Comments