জ্বলদর্চি

চিন দেশের গল্প: ৮ (তিন গেনজিয়ার গল্প)/বাংলা ভাষান্তর : নিখিলেশ ঘোষ

চিন দেশের গল্প: ৮ (তিন গেনজিয়ার গল্প)
/বাংলা ভাষান্তর :  নিখিলেশ ঘোষ 

(একটি তিব্বতীয় লোককথা। মূল চিনা ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন : জন মিনফোর্ড)

বহু বছর আগের কথা। এক  পাহাড়ি উপত্যকায় এক অদ্ভুত গ্রাম ছিল। সেই গ্রামে বাস করতেন তিনজন মানুষ, যাদের নাম ছিল একই— গেনজিয়া। নামের এই মিলের কারণে গ্রামবাসী তাদের পেশা দিয়ে আলাদা করত। একজন ছিলেন সেই অঞ্চলের প্রতাপশালী উপজাতি প্রধান গেনজিয়া, দ্বিতীয়জন ছিলেন কাঠ কাটার কাজে পারদর্শী ছুতোর গেনজিয়া, আর তৃতীয়জন ছিলেন প্রধানের ধূর্ত সহকারী গেনজিয়া। ছুতোর গেনজিয়া বনের কাঠ দিয়ে যেমন চমৎকার সব জিনিস বানাতেন, তেমনই তাঁর ভাগ্যও ছিল চমৎকার। তিনি বিয়ে করেছিলেন এক অনন্য রূপবতী নারীকে। তাঁর স্ত্রীর রূপের জ্যোতি যেন পূর্ণিমার চাঁদকেও হার মানাত। শুধু রূপেই নয়, গুণেও তিনি ছিলেন অনন্য। 

এদিকে, প্রধানের সহকারী গেনজিয়া ছিলেন ভীষণ লোভী প্রকৃতির। ছুতোরের স্ত্রীর এই রূপ দেখে তিনি মনে মনে ঈর্ষায় জ্বলে উঠতেন। কী করে তাঁকে পাওয়া যায়, সেই চিন্তায় তাঁর রাতের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল।সহকারী গেনজিয়া সুযোগ পেলেই ছুতোরের স্ত্রীর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করতেন, মিষ্টি কথায় তাঁকে ভোলাতে চাইতেন। কিন্তু ছুতোরের স্ত্রী ছিলেন অত্যন্ত সচ্চরিত্রা এবং পতিব্রতা নারী। সহকারীর মনের কুৎসিত উদ্দেশ্য তিনি প্রথম দিনই বুঝে গিয়েছিলেন। তাই তিনি সবসময় সতর্ক থাকতেন এবং সহকারী গেনজিয়াকে কঠোরভাবে এড়িয়ে চলতেন। 

সহকারী গেনজিয়া যখন বুঝলেন ছুতোরের স্ত্রীকে কোনোভাবেই মায়াজালে জড়ানো সম্ভব নয়, তখন তাঁর ভেতরের কামনার আগুন হিংস্র রূপ নিল। তিনি  কাঠমিস্ত্রি গেনজিয়াকে চিরতরে এই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার উপায় খুঁজতে লাগলেন। 

কিছুদিন পরই গ্রামে এক শোকের ছায়া নেমে এলো— আকস্মিকভাবে মারা গেলেন উপজাতি প্রধান গেনজিয়ার বৃদ্ধ পিতা। পুরো গ্রাম যখন শোকে মগ্ন, চতুর সহকারী গেনজিয়া তখন এর মধ্যে কাঠমিস্ত্রিকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ দেখতে পেলেন। তাঁর মাথায় খেলে গেল এক অদ্ভুত এবং ভয়ানক বুদ্ধি।লোকচক্ষুর আড়ালে, গভীর রাতে তিনি  গোপনে রহস্যময় বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের প্রাচীন হস্তলিপিগুলো  অতি নিখুঁতভাবে  নকল করার বিদ্যা রপ্ত করে ফেললেন। 
🍂
তারপর তিনি এই শৈলীতে একটি দলিল লিখে উপজাতি প্রধানের হাতে দিয়ে বললেন, "হুজুর, এখানে একটি দলিল রয়েছে যা আমি এই সেদিন দেখতে পেলাম। আমি এর একটি শব্দও বুঝতে পারছি না এবং এটি উদ্ধার করার জন্য বিশেষ করে আপনার কাছে নিয়ে এসেছি।" উপজাতি প্রধান  গেনজিয়া লেখাটি দেখে বিভ্রান্ত হয়ে পড়লেন এবং এটি পড়ার জন্য নথিপত্রের দায়িত্বে থাকা তাঁর সচিবের কাছে  বাড়িয়ে দিলেন। 

পড়ার পর সচিব বললেন, " হুজুর ,এই নথিটি  আপনার পিতার কাছ থেকে এসেছে। এতে লেখা আছে যে তিনি স্বর্গে আরোহণ করেছেন এবং সেখানে একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন, কিন্তু সেখানে তাঁর কোনো সরকারি বাসস্থান নেই। তাই তিনি আপনাকে,  তাঁর জন্য একটি প্রাসাদ নির্মাণের তদারকি করতে আপনার কাছে থাকা সবচেয়ে দক্ষ কাঠমিস্ত্রিকে স্বর্গে পাঠাতে অনুরোধ করেছেন।" আসলে এটি ছিল সহকারী গেনজিয়ার একটি ফাঁদ। চিঠির কথাগুলি শুনে প্রধান গেনজিয়া ক্রমাগত তাঁর বাবার কথা ভাবতে লাগলেন এবং স্বর্গে তাঁর মাথা গোঁজার মতো কোনো জায়গা নেই শুনে ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়লেন।

 তিনি ছুতোর গেনজিয়াকে ডেকে পাঠালেন, তাকে নথিটি দেখালেন এবং গম্ভীর ভাবে বললেন,"দেখো হে কারিগর, স্বর্গে আমার পিতার থাকার কোনো জায়গা নেই। তিনি ভীষণ কষ্টে আছেন। তুমিই এই রাজ্যের সবচেয়ে দক্ষ কাঠমিস্ত্রি। তাই অবিলম্বে তোমাকে স্বর্গে গিয়ে আমার পিতার জন্য একটি আলিশান প্রাসাদ নির্মাণ করতে হবে। এটাই আমার আদেশ!" প্রধানের অদ্ভুত নির্দেশে ছুতোর গেনজিয়া অত্যন্ত চমকে গেলেন। 

কিন্তু তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান  একটুও না ঘাবড়ে, অত্যন্ত বিনয়ের সাথে হাত জোড় করে অনুনয় করতে লাগলেন: "হুজুর! আমি এক সামান্য কাঠমিস্ত্রি। আপনার আদেশ অমান্য করার সাধ্য বা সাহস কোনোটিই আমার নেই। আপনার পিতার জন্য প্রাসাদ বানাতে আমি অবশ্যই স্বর্গে যাব। তবে এই মহৎ যাত্রার প্রস্তুতির জন্য আমার সামান্য কিছু সময় প্রয়োজন। অনুগ্রহ করে আমাকে মাত্র সাত দিন সময় দিন।

" তিনি আরও বললেন, "এই সাত দিনে আমি আমার পরিবারকে গুছিয়ে নেব এবং স্বর্গের প্রাসাদের নকশা তৈরি করব। সাত দিন পার হওয়ার পর, আমাকে বিদায় জানানোর জন্য দয়া করে একটি বিশেষ আয়োজন করবেন। আমার বাড়ির পেছনে যে শণ ক্ষেত রয়েছে, সেখানে একটি ডাল পোড়ানোর অনুষ্ঠান (চিতা সাজিয়ে আগুন দেওয়ার আয়োজন) করবেন। সেই পবিত্র আগুনের ধোঁয়ায় ভর করেই আমি পুরোনো প্রধান নেতার জন্য প্রাসাদ তৈরি করতে স্বর্গে আরোহণ করতে পারব।"

প্রধান গেনজিয়া এই অনুরোধটিকে যুক্তিসঙ্গত মনে করলেন এবং সানন্দে রাজি হলেন।
প্রধানের অনুমতি পেয়ে ছুতোর গেনজিয়া বিনীতভাবে কুর্নিশ করে রাজদরবার থেকে বিদায় নিলেন। তবে বাড়ি ফিরে ছুতোর গেনজিয়া হাত গুটিয়ে বসে রইলেন না। তিনি ভালো করেই জানতেন, পরলোকগত পিতার চিঠি আসার এই পুরো গল্পটি আসলে সাজানো। 

তাই তিনি অত্যন্ত গোপনে চারপাশে   খোঁজখবর নিতে শুরু করলেন, প্রধান নেতা হুট করে এমন অদ্ভুত ধারণা কোথায় পেলেন এবং এর পেছনে আসল খলনায়ক কে।   অবশেষে তিনি আবিষ্কার করলেন যে এটি  প্রধানের সহকারী  গেনজিয়ার পাওয়া একটি  পুরানো দলিল থেকে এসেছে। তখন তিনি  দুইয়ে দুইয়ে চার মেলালেন এবং এই সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন যে এটি অবশ্যই  তার বিরুদ্ধে সহকারীর  একটি কুৎসিত ষড়যন্ত্র।

তিনি বাড়ি ফিরে গেলেন এবং তাঁর স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করলেন, বললেন " জানো গিন্নি আজ সবচেয়ে অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটেছে। প্রধান চান আমি যেন স্বর্গে গিয়ে একটি প্রাসাদ তৈরি করি। তিনি নিশ্চয়ই সহকারী গেনজিয়ার দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন। আমি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার সাহস দেখাতে পারিনি, তবে আমি যাওয়ার আগে আমাদের বাড়ির পেছনে একটি জ্বলন্ত ডালপালার অনুষ্ঠান  আয়োজন করতে বলেছি।  আমার এখান থেকে বেঁচে ফেরার একটাই মাত্র পথ খোলা আছে। আমাদের দুজনকে রাতের আঁধারে মাঠ থেকে আমাদের শোবার ঘর পর্যন্ত একটি সুড়ঙ্গ খুঁড়তে হবে, এবং তারপর তুমি আমাকে পরে সেখানে লুকিয়ে রাখতে পারো। এক বছরের মধ্যে আমি প্রতিশোধ নেওয়ার কোনো না কোনো উপায় খুঁজে বের করব।"

এই গল্প শুনে ছুতোরের স্ত্রী হতবাক হয়ে গেলেন। সহকারীর প্রতি ঘৃণা তাঁর হাড়ের মজ্জা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল। তিনি তাঁর স্বামীকে বাঁচানোর জন্য যেকোনো কিছু করতে রাজি ছিলেন। তাই প্রতিদিন রাত নামলে তারা দুজনে গোপনে সুড়ঙ্গটি খুঁড়তে লাগলেন। সপ্তম দিনে এটি তৈরি হয়ে গেল। তারা পাথর দিয়ে এর প্রবেশপথ বন্ধ করে দিলেন এবং তার ওপর মাটি ছড়িয়ে দিলেন, যাতে মানুষ এটি খেয়াল না করতে পারে।
অষ্টম দিন এল, কাঠমিস্ত্রির স্বর্গে আরোহণের দিন। বয়োজ্যেষ্ঠ , সহকারী ও কর্মচারীদের এক বিশাল দল নিয়ে এবং বিউগল ও ঢাকের প্রচণ্ড আওয়াজের সাথে প্রধান (চিফ) তাকে বিদায় জানাতে এলেন। কর্মচারীরা শণ ক্ষেতের মাঝখানে কাঠের আঁটির একটি স্তূপ তৈরি করল এবং ছুতোর গেনজিয়াকে তার কাঁধে  যন্ত্রপাতির ঝুলিটি ঝোলাতে এবং এক হাতে তার ব্যাগটি নিতে বলল। তারা তাঁকে মাঝখানে দাঁড় করাল, কাঠে আগুন ধরিয়ে দিল এবং ধোঁয়া ওপরে উঠতে লাগল। তারা ভাবতে লাগল এই ধোঁয়া ছুতোর কে স্বর্গের ঠিকানায় নিয়ে যাচ্ছে।

প্রধান নিজেই এটি দেখতে এগিয়ে এলেন।সহকারী গেনজিয়া  উল্লাসের সাথে উদীয়মান ধোঁয়ার দিকে ইশারা করে বললেন: " মালিক, আপনি দেখছেন, ওই যে তার ঘোড়া যাচ্ছে। ছুতোর গেনজিয়া স্বর্গের পথে রওনা দিয়েছে।" প্রধান ব্যক্তিটি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন।

 যে মুহূর্তে কাঠের আঁটিগুলোতে আগুন জ্বালানো হলো এবং ধোঁয়া আকাশে উঠতে শুরু করল, সেই মুহূর্তে ছুতোর গেনজিয়া স্ল্যাবটি তুলে সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে নিজের শোওয়ার ঘরে ফিরে গেলেন। তিনি পুরো এক বছর নিজেকে নিজের ঘরের মধ্যে বন্দি করে রাখলেন। এই কঠিন সময়ে তাঁর স্ত্রী তার জন্য দুধ, মাখন এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করতে আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলেন।

বছরের শেষে যখন সুড়ঙ্গের ভয় কেটে গেল গেনজিয়া অবশেষে ঘরের দরজা খুললেন। তখন তাকে দেখে চেনার উপায় নেই! খাটাখাটনি না করায় তিনি আগের চেয়ে দ্বিগুণ হৃষ্টপুষ্ট ও মোটা-সোটা হয়ে উঠেছেন। আর ঘরের অন্ধকারে থাকতে থাকতে তার গায়ের চামড়া হয়ে গেছে রাজপুত্তুরদের মতো ধবধবে ফর্সা।

ইতিমধ্যে, সহকারী গেনজিয়া ছুতারের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করার জন্য হাজার একটা উপায় বার করতে লাগলেন । কাঠমিস্ত্রির স্ত্রী তাকে এড়িয়ে চলার জন্যও হাজার একটা উপায় অবলম্বন করলেন। ফলে সহকারী তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলেন।

এদিকে যখন ছুতার গেনজিয়া বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন, তখন তিনি মন দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের রহস্যময় লিপি শিল্প অনুশীলন করছিলেন। তিনি সেই খাঁটি শৈলীতে লেখা একটি নথি প্রস্তুত করে  তা নিজের কাছে রেখে দিলেন। 

গেনজিয়ার চতুর স্ত্রীই প্রথম বাইরে এলেন।প্রথমে সে বিস্ময়ের ভান করে  চিৎকার করে উঠল, "ওগো তোমরা দেখে যাও, আমার স্বামী স্বর্গ থেকে ফিরে এসেছে!" এরপর তিনি আর এক মুহূর্তও দেরি না করে সোজা গ্রামের প্রধানের দরবারে ছুটে গেলেন খবরটি দিতে।

 কাঠমিস্ত্রি গেনজিয়া ফিরে এসেছে শুনে প্রধান খুব খুশি হলেন। প্রধান নিজে এসে বিউগল এবং ড্রাম বাজিয়ে গেনজিয়াকে এক বীরোচিত সংবর্ধনা দিলেন এবং পরম আদরে তাকে নিজের রাজপ্রাসাদে থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। তারপর তিনি ব্যাকুল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, " গেনজিয়া, তুমি তো স্বর্গ থেকে ঘুরে এলে! বলো না, আমার স্বর্গবাসী বাবা সেখানে কেমন আছেন?" চতুর গেনজিয়া মনে মনে হাসল, কারণ তার পাতা ফঁদে বোকা প্রধান এতক্ষণে পা দিয়ে ফেলেছে!

প্রধানের সাথে দেখা করে ছুতার গেনজিয়া খুব গম্ভীর কণ্ঠে বলল, "হুজুর, আমি যখন স্বর্গে সরকারি প্রাসাদটি তৈরি করছিলাম, তখন পুরোনো প্রধান আমার সাথে অসাধারণ দয়াশীল আচরণ করেছিলেন, ঠিক যেমনটি আপনি সবসময় করেন। সেই কারণেই আমি এত ভালো অবস্থায় আছি! প্রাসাদটির কাজ শেষ হয়েছে এবং এটি একটি চমৎকার ভবন—পৃথিবীর যেকোনো প্রাসাদের চেয়ে দশ গুণ বড়! 

কেবল একটি জিনিসের অভাব রয়েছে: একজন ব্যবস্থাপক বা সহকারী। পুরোনো প্রধান তার পুরোনো সহকারীকে খুব বেশি মিস করছেন। তিনি খুব করে চান যেন ঐ সহকারী স্বর্গে গিয়ে তার জিনিসপত্র রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করেন। কিছুদিন পর তিনি আবার ফিরে আসতে পারবেন।" এই কথা বলে তিনি দ্রুত দলিলটি বের করে প্রধানকে দেখালেন এবং যোগ করলেন যে, পুরোনো প্রধানই এটি নিচে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করেছেন।

প্রধান গেনজিয়া সচিবের সাহায্যে দলিলটি পড়লেন এবং পুরো গল্পটি সম্পূর্ণ বিশ্বাস করলেন। এরপর তিনি সহকারী গেনজিয়াকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে স্বর্গে গিয়ে পুরোনো প্রধানের সদ্য নির্মিত প্রাসাদে কাজ করার জন্য আদেশ দিলেন। যখন সহকারী গেনজিয়া দেখলেন যে ছুতার গেনজিয়া সেখানে দাঁড়িয়ে আছে এবংস্বর্গারোহনের পর তাকে অত্যন্ত সুস্থ দেখাচ্ছে এবং যখন তিনি শুনলেন ছুতারের দেওয়া স্বর্গের সেই নিখুঁত বর্ণনা,  তিনি ঠিক ভেবে পাচ্ছিলেন না কী বলবেন। তিনি ভাবলেন ছুতোর গেনজিয়া সঠিক কথাই বলছেন।

তখন সহকারী গেনজিয়া কাঠমিস্ত্রিকে অনুসরণ করলেন এবং নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য সাত দিন সময় চাইলেন, আর তাকে স্বর্গে বিদায় জানানোর জন্য তার বাড়ির পেছনের পাটক্ষেতে একটি 'ডালপালা পোড়ানোর উৎসব' এর আয়োজন করতে বললেন। তিনি ভাবলেন যে ছুতার গেনজিয়া যদি ফিরে আসতে পারে, তবে তিনিও পারবেন।

অষ্টম দিনে, আগের বারের মতোই, সহকারী গেনজিয়া কাঁধে একটা বাক্স এবং হাতে একটা ঝুলি নিয়ে কাঠের স্তুপের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালেন। আগের বারের মতোই, বিউগল আর ঢাক-ঢোলের এক বিশাল শোরগোল পড়ে গেল এবং প্রধান নির্দেশ দিলেন কাঠের স্তুপে আগুন লাগিয়ে তাকে স্বর্গে পাঠিয়ে দিতে।

 কিন্তু বিধি বাম! এবারের যজ্ঞের  ফলাফলটি আগের মতো মোটেও সুখকর হলো না, বরং ঘটল এক্কেবারে উল্টো কাণ্ড। ধোঁয়া আর আগুনের খেলা যখন শেষ হলো, তখন দেখা গেল সেখানে জ্বলন্ত ছাইয়ের গাদার মধ্যে সহকারী গেনজিয়ার কোনো চিহ্নই মিলল না, শুধু পড়ে রইল এক গাদা পোড়া হাড়গোড়! ওই সহকারী গেনজিয়া আর কখনোই ফিরে আসেননি। তিনি বৃদ্ধ প্রধানকে তাঁর তথাকথিত প্রাসাদ পরিচালনায় সাহায্য করার জন্য সত্যি সত্যিই চিরকালের জন্য স্বর্গে রয়ে গেলেন।

Post a Comment

0 Comments