জ্বলদর্চি

তিনটি কবিতা/তপনজ্যোতি মাজি

তিনটি কবিতা
তপনজ্যোতি মাজি


ক্যাথারসিস

দুঃখের  বুদবুদগুলি মিলিয়েছে নির্জন বেলায়। তার
কাছে প্রত্যাশার সূচক যেন বালির উপর খেয়ালি 
বৃষ্টিফলক।

রেখেছো  কি গোপন ঐশ্বর্য  রহস্য  অতলে?সমাহার  সমষ্টিবাচক। তবুও চোখ কেন ফল্গু হলো বোঝেনি প্রত্যয়।

সংহার ক্রিয়া বীর্যজ্ঞাপক। সব ঢেউ নিভে যায় কোনও এক বিশেষ নির্দেশে। রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়েই ভেবেছে অভিমান অসাংবিধানিক।


ভাষ্য

ভাষ্য নিষ্ক্রিয় ক'রে মুখের আদল হয়ে ওঠে সার্থক
উপমা। পরিবর্তিত চালচিত্রে মুখ্য কি বিরুদ্ধ
আলোচনা? দূরে থাক দূরনিয়ন্ত্রিত সূক্ষ্ম প্রযুক্তি। হাতে হাত রেখে বলো হৃদয় সান্নিধ্যে আছি।

পুণ্য ও পাপ সুপ্রাচীন বিশ্বাস। এখনও সর্বাত্মক
ধারণা। প্রেম কি অবিচল ভালোবাসা?  দুঃখের
আগুন যথার্থ  হিরন্ময় অর্জন !

ভাষ্য ও ইঙ্গিত পাশাপাশি। সব  আরোহণ জানে
অবরোহনের ইঙ্গিত। জলস্তর কমে গেলে জেগে
ওঠে ভূমি।


লেভেল ক্রসিং

 অবনত শির পেরিয়ে যাব না। সীমারেখা অতিক্রম
না করার শিক্ষা মহাকাব্য  শিখিয়েছে নিষ্ঠ নীরবতায়।
সময় দিতে হয়। অপেক্ষা করতে হয়  শীলিত 
সংযমে । ধৈর্য্যহীন পেরিয়ে গেল যারা, যাক।

দুদিকে চলে গেছে পথ। সমান্তরাল।  সমমনষ্ক
স্বজনের অপেক্ষায় থাকি। কখনও পাই  সানন্দ
সঙ্গ। মেধা ও মননের জ্যোতির্ময় সঙ্গম। কখনও
নিরাশ হতে হয় দুর্ভেদ্য নীরবতায়।

দূরগামী ট্রেন চলে গেলে পথ খুলে দেয় পথ। স্বাধীন। শঙ্কাহীন।

🍂

Post a Comment

0 Comments