জ্বলদর্চি

বাণেশ্বর চক্রবর্তী (পত্রিকা সম্পাদক, লেখক, গবেষক, প্রাবন্ধিক, পাঁশকুড়া)/ ভাস্করব্রত পতি

মেদিনীপুরের মানুষ রতন, পর্ব -- ২২২
বাণেশ্বর চক্রবর্তী (পত্রিকা সম্পাদক, লেখক, গবেষক, প্রাবন্ধিক, পাঁশকুড়া) 

ভাস্করব্রত পতি

পরনে সাদা ট্রাউজার্স। গায়ে সাদা পাঞ্জাবি। মুখময় লম্বা লম্বা সাদা দাঁড়ি। কথা বলেন মেপে। আপাতদৃষ্টিতে সাধুদের মতো লাগে। আদপে তিনি সাধকই। পুরোনো ইতিহাসের সাধক। ঐতিহ্যের সাধক। আঞ্চলিক ইতিহাস তুলে আনাই তাঁর নেশা। একসময় লেটার প্রেস, কালি, ব্লক, ডাবল ডিমাই কাগজ, বিজ্ঞাপন, সংবাদ সংগ্রহ, রিপোর্টিং ইত্যাদি টার্মগুলো তাঁর জীবনের সাথে জড়িয়ে ছিল। তখন তিনি ছিলেন ছোট পত্রিকার সম্পাদক। আজ সেই পত্রিকা হয়তো প্রকাশিত হয়না। কিন্তু সেই সংবাদ লেখার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আজ তিনি আপাদমস্তক এজন কৃতি লেখক এব গবেষক। প্রাবন্ধিক। আঞ্চলিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার অন্যতম কারিগর। তিনি পাঁশকুড়ার বাণেশ্বর চক্রবর্তী। 

পাঁশকুড়ার সুন্দরনগর গ্রামের বাসিন্দা এই গবেষক মানুষটি ১৯৫০ এর ২৭ শে এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র দু বছর বয়সে পিতৃবিয়োগ ঘটে। তবুও তিনি ভেঙে পড়েন নি। মামাবাড়িতে মানুষ। প্রাথমিক শিক্ষা ভূপতিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রথমে ভর্তি হন মহিষাদল গোপালপুর হাইস্কুলে। মামাবাড়ি থেকে ফিরে আসেন বাড়ি। এখানে এসে ভর্তি হন ধুলিয়াপুর পল্লীশ্রী বাণী মন্দিরে। এখানে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। এরপর তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ে প্রথমে বাংলা সাম্মানিক বিভাগে ভর্তি এবং সবশেষে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন বাংলা সাহিত্যে। 
বানেশ্বর চক্রবর্তীর সাথে লেখক

কিন্তু গতানুগতিক চাকরিতে আগ্রহ কখনও দেখাননি তিনি। নেশা এবং পেশা হিসেবে লেখালেখিকেই আঁকড়ে ধরেছেন। সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্কুলে বিদ্যাসাগর বিষয়ক প্রবন্ধ লিখে প্রথম স্থান অর্জন করেন। সেটাই প্রথম লেখা। ড. অসিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, ড. আশুতোষ ভট্টাচার্য, সুবোধ কুমার ধাড়া প্রমুখ প্রোথিতযশা শিক্ষকদের সান্নিধ্য পেয়েছেন। তমলুক শহরের বিশিষ্ট লোকগবেষক ড. কমলকুমার কুণ্ডুর প্রিয় পাত্র ছিলেন। তাঁর কাছেও পেয়েছেন বিশেষ ধরনের লেখার অনুপ্রেরণা। ফলে অচিরেই একটা প্রেম জন্মে যায় লোকসাহিত্যের প্রতি। যা পরবর্তীতে আলোকবর্তিকা হয়ে এসেছে তাঁর জীবনে। 

১৯৯১ থেকে সাংবাদিক হিসেবে পথচলা শুরু করেন। তমলুক থেকে প্রকাশিত কালীপদ পাল সম্পাদিত 'গ্রামের ডাক' পত্রিকায় তমলুক পৌরসভার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের খবর প্রকাশিত হয় তাঁর নামে। সেই শুরু। তখন থেকেই তিনি এই পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন। তখন অবশ্য তমলুক থেকে প্রকাশিত হচ্ছে দি প্রদীপ, তাম্রলিপ্ত, সিগন্যাল ইত্যাদি বিখ্যাত ছোট পত্রিকা। তাঁর আগমনে 'গ্রামের ডাক' পত্রিকায় প্রাণ সঞ্চারিত হল বলা যায়। কিন্তু সেটি যখন বন্ধ হয়ে গেল, তখন বানেশ্বরবাবুর অন্তর্নিহিত 'সাংবাদিক সত্ত্বা' চাইলো সাংবাদিক হিসেবেই নিজেকে আটকে রাখতে। শুরু করলেন নিজের সম্পাদনায় নিজস্ব পত্রিকা প্রকাশ। মেদিনীপুরের রোজনামচা। 
পাঁশকুড়ার ইতিবৃত্ত (প্রথম খণ্ড)

তাঁর পত্রিকায় প্রকাশিত হত তাঁর নিজস্ব ভালোবাসার জগৎ ছেঁচে আনা মনিমুক্তো। প্রাধান্য পেত তাঁর মনের ভালোলাগার বিষয়। তাঁর নিরন্তর ইতিহাস চর্চার দলিল কালো অক্ষরে প্রাণ পেতো তাঁর পত্রিকায়। ১৯৯৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সুন্দরনগর গ্রামে বসেই প্রকাশ করেছেন সাপ্তাহিক পত্রিকা 'মেদিনীপুরের রোজনামচা'। এখনকার অনেক লেখক, সাংবাদিক একসময় তাঁর পত্রিকায় লিখেছেন। তিনি হয়ে উঠেছিলেন একজন যথার্থ গ্রামীণ সম্পাদক। মনে সাধ অনেক, কিন্তু সাধ্য সীমিত। অভাব, অনটন ছিল। সমস্যা ছিল। কিন্তু তাঁর মনের শক্তিও ছিল। সবকিছু তুড়ি মেরে তিনি সচল রেখেছিলেন তাঁর সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদনার কাজ। 

বাণেশ্বর চক্রবর্তী দুটি কারণে পত্রিকা প্রকাশ করতেন। তাঁর কথায়, "মুখ্য কারণটা হল কাকার সঙ্গে অসম লড়াইয়ে আমার হাতিয়ার ছিল এই পত্রিকা, আর গৌণ কারণটা অবশ্যই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা। এখন এই দুটিই আর আমার জীবনের সঙ্গে যুক্ত নয়। প্রথমত কাকা মারা গেছে, লড়াই শেষ। আর কে না জানে লড়াই-এর উত্তেজনা শেষ হলে আসে এক ধরনের অবসাদ। আমারও সেটা তৈরি হয়েছে। তথাপি কাজ চালিয়ে যাওয়ার একটি মানসিকতা থেকে পত্রিকাটি চালাচ্ছিলাম। কিন্তু বয়স ষাটের কোঠা বহুদিন পেরিয়ে এসেছে। ফলে পার্থিব কাজের প্রতি এমনি আমার একটি অনীহা তৈরি হয়ে গিয়েছে।" ফলে পত্রিকা প্রকাশ বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু লেখক মানুষ তিনি। সাহিত্যচর্চা তাঁর অন্তরের আত্মীয়। সেই আত্মীয়কে তিনি জড়িয়ে রেখেছেন আদ্যোপান্ত। 

বাণেশ্বর চক্রবর্তীর কলমে উঠে এসেছে অনেক গ্রন্থের সম্ভার। তাঁর কলমের আঁচড়ে লিপিবদ্ধ হয়েছে আঞ্চলিক ইতিহাসের গোপন এবং লুপ্তপ্রায় কাহিনি। পাঁশকুড়ার রঘুনাথবাড়িতে অবস্থিত প্রায় ২৭০ বছরের প্রাচীন রঘুনাথজীউর প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আধুনিককাল পর্যন্ত একটি ক্রমানুসারী ইতিহাস এবং এর সঙ্গে শ্রীশ্রী 'রঘুনাথজীউ'র ঔপনিষদিক মাহাত্ম্য গাথা নিয়ে লিখেছেন 'ইতিহাস কথা রঘুনাথ গাথা'। 
ড. রমেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় স্মারক সম্মান সহ প্রাবন্ধিক বানেশ্বর চক্রবর্তী

আগে পাঁশকুড়া জনপদ নিয়ে কোনও প্রামাণ্য  নথি বা ইতিহাস ছিল না। দুই মলাটের মধ্যে সেই নথি দাখিল করার প্রয়োজনীয়তা কেউ অনুভব করেনি। পাঁশকুড়া নিয়ে ছিল কিছু ছড়িয়ে ছটিয়ে থাকা উপকথা এবং মিথ। কিন্তু তিনি হলেন অনন্য। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিশ্লেষণাত্মকভাবে সেই পাঁশকুড়ার লুক্কায়িত ইতিহাস ২০০৬ তে সন্নিবিষ্ট করেছেন তাঁর 'পাঁশকুড়ার ইতিবৃত্ত' (১ম খণ্ড) বইতে। এরপর ২০০৯ সালে এই বইয়ের দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয়। এই দুটি বই পুরোনো পাঁশকুড়ার সম্পর্কে জানতে অন্যতম আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। বিশেষত স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষেত্রে তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের প্রেক্ষাপটে পাঁশকুড়ার গর্বের ইতিহাসকে হেয় প্রতিপন্ন ও পাঁশকুড়াকে অবহেলা থেকে নিরসনের প্রয়াস অনুসৃত হয়েছে এই দুই খণ্ডের বইতে। 

স্বাধীনতা পরবর্তীকাল থেকে কাশ্মীর ভারতের এক জ্বলন্ত সমস্যা। এর মূল কারণ এর ভূ-রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য। এই বিরোধ সহজে মেটার নয়। তেমনি আসামের ক্ষেত্রে তাদের জাতি বৈশিষ্ট্যের বিপন্নতা প্রতিভাত। পাঞ্জাবেরও একটা সমস্যা খুব মাথাব্যাথার কারণ। আবার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী তিনবিঘার ক্ষেত্রেও ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ইতিহাসই মূল কাঁটা। এই চার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এঁটুলির মতো লেপটে থাকা  সমস্যাই স্বাধীনোত্তর ভারতের গলার কাঁটা। সেইসব সমস্যার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ এবং কাটাছেঁড়া করেছেন তাঁর 'কাশ্মীর আসাম পাঞ্জাব তিনবিঘা সমস্যার নেপথ্য কাহিনি' (২০১১) বইতে। 

মেদিনীপুরের স্বনামধন্য সন্তান ড. প্রবোধকুমার ভৌমিক নৃবিজ্ঞানের একজন প্রথিতযশা মানুষ। তিনি তাঁর নৃতত্ত্বের ফলিত গবেষণায় নারায়নগড়ে 'বিদিশা' গঠন করেছিলেন। এখানে আদিবাসী সমাজের উন্নয়নে কাজ করেও তিনি যথোপযুক্ত মর্যাদা বা সম্মান লাভ করেন নি। যা বাণেশ্বর চক্রবর্তীকে কুরে কুরে খেয়েছে। এই ঘটনায় তিনি তাঁর নিজস্ব অনুভবের বহিপ্রকাশ ঘটিয়েছেন ছোট্ট পুস্তিকা 'আমার অনুভবে ড. প্রবোধকুমার ভৌমিক ও বিদিশা'তে।

'তাম্রলিপ্তের উৎসভূমে ডেবরা' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেছেন। উনিশ শতকে একদল ইংরেজ প্রাচীন তাম্রলিপ্তকে বর্তমান তমলুকে অবস্থিত বলে উল্লেখ করায় সেই মতটিই প্রচলিত। কিন্তু এই ইতিহাসকার মনে করেন অন্য। তাঁর কথায়, "কোনো একটি বিষয়কে যথার্থ বলে পরিগণিত হতে গেলে তাকে সর্বাঙ্গানুমোদিত হতে হয়। কিন্তু তমলুক তাম্রলিপ্তের ক্ষেত্রে তার কিছু প্রত্যয় লক্ষ্য করে আমি তাম্রলিপ্তের উৎসভূমি হিসাবে ডেবরার লোয়াদাকে স্থান দেওয়ার পক্ষপাতী। আমার সেই মতের সমর্থনে এই পুস্তিকা।"
বক্তব্য রাখছেন পত্রিকা সম্পাদক বানেশ্বর চক্রবর্তী

২০১৯ সাল থেকে তিনি ডেবরার ইতিহাস রচনার কাজে হাত দিয়েছেন। এজন্য একটি কমিটি গঠন করে তার মাধ্যমেই কাজ করে চলেছেন নীরবে নিভৃতে। সেই কমিটির সম্পাদক নারায়ণ রুইদাসের সাথে যৌথভাবে লিখেছেন 'ডেবরায় প্রাক্ ঐতিহাসিক যুগের অধিবাসীদের উৎসসন্ধানে' বই। এটিকে একটি অমূল্য আকরগ্রন্থ বলা চলে। এছাড়াও তাঁর লেখা ডেবরা বিষয়ক অন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হল 'ডেবরার নকশাল আন্দোলন', 'ডেবরার ভূম্যাধিকার' এবং 'ডেবরার মুসলমাননামা'। 

বাণেশ্বর চক্রবর্তীর কথায়, "আমরা সবাই জানি মেদিনীপুর জেলা বিপ্লবের পীঠস্থান। কিন্তু স্বাধীনতা আন্দোলন একমুখী ছিলনা। বিপ্লববাদ দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীকালে গান্ধীজী এসে স্বাধীনতা আন্দোলনের হাত ধরে নতুন রাজনৈতিক এক দিশা দেখালেন - অহিংসা। কিন্তু গান্ধীজী প্রদর্শিত অহিংসা নীতি স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্ষেত্রে পরে পরে ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। তিতিবিরক্ত গান্ধীজী অবশেষে ১৯৩৪ সালে স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল দিশা কংগ্রেসের সদস্য পদ ত্যাগ করে সেবাব্রত গ্রহণ করেন। মহাত্মাজীর সেই আদর্শ কতিপয় মানুষের কাছে প্রধান গ্রহণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ডেবরার নগেন্দ্রনাথ সেন তেমনই একজন মানুষ যিনি নির্বিবাদে মহাত্মাকেই আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করে তাঁর সেবাব্রতে আত্মনিয়োগ করে 'আলোককেন্দ্র' নামে এক আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।" সেই নগেন্দ্রনাথ সেনের জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে বাজকুল কলেজের অধ্যাপক ড. গোবিন্দ প্রসাদ করের সাথে যৌথভাবে লিখেছেন এক মূল্যবান গ্রন্থ 'ডেবরায় মহাত্মার ভাবযুক্ত সৈনিক নগেন্দ্রনাথ সেন'।

স্বাধীনতা সংগ্রামের কাহিনি নিয়ে আরও একটি কাজ তাঁর হাতে হয়েছে। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীর জীবনের অকথিত কাহিনি লিপিবদ্ধ করেছেন 'একটি স্বপ্নের অপমৃত্যু' গ্রন্থে। এই স্বাধীনতা সংগ্রামী হলেন পঞ্চানন ডাকুয়া। তাঁর স্বপ্নের অপমৃত্যুর প্রতিফলন পরিস্ফুট এখানে। 

'শ্রী নীলমাধব' ছদ্মনামে লিখেছেন একটি গল্পসংকলন 'কিছু নয়' (২০১৩)। এই গল্পগুলি একসময় প্রকাশিত হয়েছিল দুটি সাহিত্য পত্রিকা 'শবনম' ও 'পূজা অবকাশ' পত্রিকায়। আসলে নিজেকে প্রাবন্ধিক হিসেবে মনে করেন। নিজেকে গল্পকার হিসেবে মান্যতা দেননি। তাই ছদ্মনামে লিখেছেন এটি। 

'মেদিনীপুরের রোজনামচা' পত্রিকা সম্পাদনার পাশাপাশি প্রতাপপুর দরবার শরীফ থেকে প্রকাশিত 'দি ভয়েস অব ওয়াদি' পত্রিকায় নিয়মিত কলম লিখতেন ২০১৪ সাল থেকে করোনার আগে পর্যন্ত। এখানে প্রকাশিত সমসাময়িক রাজনীতির প্রেক্ষাপট, পরিবেশ, ধর্ম, দর্শন, সমাজ ও অর্থনীতি বিষয়ক প্রবন্ধগুলিকে দুই মলাটের মধ্যে এনে প্রকাশ করেছেন (২০১৫) 'দি ভয়েস অব ওয়াদির পাতায় শ্রীনীলমাধব'। এতে বিষয় নির্বাচন, তথ্যনিষ্ঠতা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতার নিদর্শন পাওয়া যায়। এছাড়াও লিখেছেন 'আমি ও শ্রীনীলমাধব মুখোমুখি'(২০১৫)। নিজের ব্যক্তিগত জীবনে মুসলিম সমাজ এবং মুসলিম ব্যক্তিরা কিভাবে জড়িয়ে ছিলেন তার স্মৃতিচারণ করেছেন 'আমার জীবনে মুসলমান সঙ্গ প্রসঙ্গ' গ্রন্থে। এই মুহূর্তে পূর্ব মেদিনীপুর নদী গবেষণা সংস্থার পত্রিকার নিয়মিত লেখক তিনি। একজন করিৎকর্মা লোকগবেষক তথা আঞ্চলিক গবেষক হিসেবেই মেদিনীপুরের মানুষ তাঁকে চেনে এবং জানে। সম্প্রতি তাপস বৈদ্য সম্পাদিত 'শব্দমালা' পত্রিকার ৬০ তম সংখ্যায় এই বিদগ্ধ ব্যক্তির জীবন ও কর্মকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে এবং দেওয়া হয়েছে ড. রমেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় স্মারক সম্মান। যা বাণেশ্বর চক্রবর্তীর জীবনের কৃতিত্বের মুকুটের অন্যতম পালক বৈকি। 

বিশেষ ঋণ : শব্দমালা, ৬০ তম সংখ্যা, সম্পাদক - তাপস বৈদ্য

🍂

Post a Comment

0 Comments