অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়
অ্যালগরিদম
একটা প্রস্থান
কতটা কষ্টদায়ক হতে পারে
তা বুঝেছিলাম
শেষ দেখার সময়।
অ্যালগরিদম সাজিয়ে রাখে-
কাকে মনে রাখব
কাকে আর মনে পড়বে না
কোন এক দিনভোর বৃষ্টিদিনে
উড়ে আসবে হলুদ চিঠি।
অ্যালগরিদম জানে-
নিস্তব্ধতার ভেতর
লুকিয়ে থাকে একটা জীবন
আর কিছু শব্দ
চিরতরে শব্দহীন হয়ে যায়
শুধু মানুষ বিস্মিত হয়
সমুদ্রসকাল
অজান্তে এসে দাঁড়াল এক সমু্দ্রসকাল
সমুদ্র জলতল থেকে উঠে আসে রঙিন সূ্র্য
এক অলৌকিক প্রতিবিম্ব ছড়িয়ে যায়
যেন ক্লড মনেটের তুলির টানে ল্যান্ডস্ক্যাপ
ঘুম ভাঙে, আড়ষ্টতা ভাঙে ক্রমে ক্রমে
একটা একটা সমুদ্রঢেউ
গড়িয়ে গড়িয়ে পাড় ভূমি ছুঁয়ে যায়
কৃষ্ণ কালো মেঘে ছেয়ে যায় আকাশ
শীতল হাওয়া উড়ে যায় ভুমি থেকে দিগন্তে
দূর খেকে বাবা আলাউদ্দিন খাঁর সুর ভাসে
আর ও আরও যেন সমুদ্র ঢেউ......
রঙিন হয়ে যায় জলতল
মায়াজালে ঢাকে সমুদ্রভূমি
জলের দীর্ঘ নীরবতা
নদীস্রোতে বাউলের মরমিয়া সুর।
কেমন করে
পূর্ণ নদীর বুক থেকে
জন্ম নেওয়া আরও এক নদী
জলশূন্য হয়ে গেল।
চর জেগে ওঠে
হারানো স্রোতের মাঝে।
জলের স্মৃতি
এখনো খুঁজে বেড়ায়
ঐ নদীপথে
যেখানে বজরায় রাজা চলে যেত।
এখনও নৌকার দাঁড় বায়
হারানো ভাটিয়ালি গান গেয়ে ওঠে মাঝি।
আমি দাঁড়িয়ে থাকি-
শুকিয়ে যাওয়া নদীর ধারে
শুনি
জলের দীর্ঘ নীরবতা।
0 Comments