জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা /কিশোর নাগ

গুচ্ছ কবিতা 
কিশোর নাগ

তালাশ


যতই মুগ্ধতা ছড়াক ভোরের বাহার 
তবু ছুটে যাই দূরে ---- তালাশ তাহার 

এঁকে চলি সংবৃত স্বপ্নের মতো 
অবিনাশী অক্ষর 

নিজেকে দেখার চশমা বদলে দেয় 
আমার এ অন্তর...। 


প্রাপ্তি 


পথ বদলাই বারবার 
অথচ দিনশেষে তোমার মোহনাতেই 
মেশে আমার নদী। 
এ তোমার অনুগ্রহ নাকি আমার 
সমর্পণ, 
থাক না সে তর্ক আজ। 
তার চেয়ে এসো নিবিড় আলিঙ্গনে 
প্রাপ্তবয়স্ক হই। 

🍂


রোদ

রোদ লিখব বলে কাব্য - মোহে 
শব্দ খুঁজি ;
অথচ সমাজ - সংসার ভালোই জানে 
কতখানি অভিমানে --- 
রোদ বলতে আমি আসলে 
ভাত - কাপড়কেই বুঝি ! 


নীল মায়া  

নিঃসঙ্গ বারান্দায় নামে অন্ধকার,কুড়িয়ে নিই 
ঝরেপড়া কিছু চেনা শব্দ। খন্ডিত আয়নায় 
পুরো মুখচ্ছবি দেখা যায় না। তবু প্রেম ও প্রসন্ন 
মনন --স্বপ্নঘোর, মাতাল সময়। শেষ কথা বলবে
একদিন পথ ও পথের কাঙাল মানুষ।


বিনতি

চিকনরোদে বারান্দা ভেসে যায় 
ওদিকে হংসীর গা-ডোবানো ঝিল 
তখনও কি এলেবেলে চোখমুখ 
শূন্য ছিল বিল ? 

ঘাসে ঘাসে ফড়িং খেলা করে  
বাতিল তো নয় বুক 
ব্যথাকে আড়াল না-করো যদি 
হৃদয়ে থাকুক সংরক্ত-সুখ ।

আগুনের গান
কিশোর নাগ 

যতবার খসে পড়ে বুকের বোতাম
ততবার আমি নিজস্ব নিয়মে তাকে
লালন করি। 
বেড়ালের মতো নি:শব্দ পায়ে এসে
উঁকি দেয় খর্বিত আকাশ আর
ছিন্নমূল শোকের সঙ্গীত , 
ভয়ার্ত দেয়াল চেনে ছাইচাপা আগুন।


কুড়িয়ে পাওয়া গল্প 

প্রতিটি প্রাপ্তির মেয়াদ ফুরোয়, 
তবু কুড়িয়ে পাওয়া গল্পের মতো 
যা মেলে ---
তার সবটুকুই ত্রিমাত্রিক । 

বিষাদ-বিষন্নতা যতই থাকুক 
বিপরীতে, 
মাতাল হাওয়ায় না ভেসে 
যাই কোথা ?

Post a Comment

0 Comments