গুচ্ছ কবিতা
কিশোর নাগ
তালাশ
যতই মুগ্ধতা ছড়াক ভোরের বাহার
তবু ছুটে যাই দূরে ---- তালাশ তাহার
এঁকে চলি সংবৃত স্বপ্নের মতো
অবিনাশী অক্ষর
নিজেকে দেখার চশমা বদলে দেয়
আমার এ অন্তর...।
প্রাপ্তি
পথ বদলাই বারবার
অথচ দিনশেষে তোমার মোহনাতেই
মেশে আমার নদী।
এ তোমার অনুগ্রহ নাকি আমার
সমর্পণ,
থাক না সে তর্ক আজ।
তার চেয়ে এসো নিবিড় আলিঙ্গনে
প্রাপ্তবয়স্ক হই।
রোদ
রোদ লিখব বলে কাব্য - মোহে
শব্দ খুঁজি ;
অথচ সমাজ - সংসার ভালোই জানে
কতখানি অভিমানে ---
রোদ বলতে আমি আসলে
ভাত - কাপড়কেই বুঝি !
নীল মায়া
নিঃসঙ্গ বারান্দায় নামে অন্ধকার,কুড়িয়ে নিই
ঝরেপড়া কিছু চেনা শব্দ। খন্ডিত আয়নায়
পুরো মুখচ্ছবি দেখা যায় না। তবু প্রেম ও প্রসন্ন
মনন --স্বপ্নঘোর, মাতাল সময়। শেষ কথা বলবে
একদিন পথ ও পথের কাঙাল মানুষ।
বিনতি
চিকনরোদে বারান্দা ভেসে যায়
ওদিকে হংসীর গা-ডোবানো ঝিল
তখনও কি এলেবেলে চোখমুখ
শূন্য ছিল বিল ?
ঘাসে ঘাসে ফড়িং খেলা করে
বাতিল তো নয় বুক
ব্যথাকে আড়াল না-করো যদি
হৃদয়ে থাকুক সংরক্ত-সুখ ।
আগুনের গান
কিশোর নাগ
যতবার খসে পড়ে বুকের বোতাম
ততবার আমি নিজস্ব নিয়মে তাকে
লালন করি।
বেড়ালের মতো নি:শব্দ পায়ে এসে
উঁকি দেয় খর্বিত আকাশ আর
ছিন্নমূল শোকের সঙ্গীত ,
ভয়ার্ত দেয়াল চেনে ছাইচাপা আগুন।
কুড়িয়ে পাওয়া গল্প
প্রতিটি প্রাপ্তির মেয়াদ ফুরোয়,
তবু কুড়িয়ে পাওয়া গল্পের মতো
যা মেলে ---
তার সবটুকুই ত্রিমাত্রিক ।
বিষাদ-বিষন্নতা যতই থাকুক
বিপরীতে,
মাতাল হাওয়ায় না ভেসে
0 Comments