দীপশ্রী সেনগুপ্ত
এরপরেও
ধানক্ষেতের ঠিক পাশেই এক ফালি চাঁদ উঠেছিল,
সরু আলপথ বিছানো ক্ষেতের গা ঘেঁষে,
সবাই ঘরে ফিরছিল ঐ পথ ধরেই, বলাবলি করছিল
এবছর ধান ভালই হয়েছে;
বাতাসের ঢেউয়ে বুক ফুলিয়ে ধানক্ষেতও সায় দিয়েছিল এ কথায়।
সুদিনের আশ্বাসে তারা ভুলে গিয়েছিল গতবছরের কথা।
গতবছরে খরায় কাদের ঘর ভেঙেছিল, তাদের সবাই ভুলে গেছে,
বন্যায় যাদের ঘর ভেসেছিল,
তাদেরও মনে রাখেনি কেউ
আলপথ পেরিয়ে দুই নর নারী হাতে হাত রেখেছিল, বলেছিল 'ভালবাসি'।
আকাশের এক ফালি চাঁদ মুচকি হেসে বললো 'মরণ'।
মধুর স্বপন
সামনেই পরীক্ষা, মাধ্যমিক
মনেতে প্রবল ঝড়, ভুল দশদিক।
ঐ বুঝি বেল বাজে, দরজায় কড়া নাড়া,
ঝড় এলো সিঁড়ি বেয়ে, পথ চাওয়া হল সারা।
এইবার আলো যাবে, ঘুরবে না ফ্যানও আর,
তুমুল আলিঙ্গনে সব কিছু তোলপাড়।
বেপাত্তা বই' খাতা, টেবিলের জলের গ্লাস,
সব কিছু মুছে গেছে কবে কার কোন ক্লাস।
কথা সব থরো থরো, দেহ -মন জরো জরো,
ভেঙে গেছে সাবধানী যা ছিল আগল।
এইবার নাও তুলে, তোমার চরণ তলে,
তোমাতেই সপিনু এ প্রাণ।
হঠাৎ কোথায় কি, খোলা আছে জ্যামিতি,
পুরোটাই কেবল স্বপন।
🍂
সেই নাম
তুমি সেই নামে ডাকলেই, বুকের ভিতর বকুল,
শরীরে মণিপুরী নৃত্য, চোখে কথাকলি।
আকাশের ঘন যামিনী জ্যোৎস্না ধারায় ধুয়ে যায়,
সফেন সমুদ্র হয়ে পুকুরের জল প্লাবিত করে দুই পাড়।
তুমি সেই নামে ডাকলেই, বিদেশের প্রিয়তম চিঠি;
গিফট বক্সে দামী চকোলেট।
দারুণ দহন গ্রীষ্মে হঠাৎ মেঘ-ছায়া।
এইবার বৃষ্টি নামবে।
এইবার সব দরজা খুলে যাবে, বাতাসে ভাসবে হাসনুহানা,
নীলাম্বরী শাড়িতে নূপুরের রুমঝুম।
0 Comments