কমলিকা ভট্টাচার্য
পুজোর আর বেশি নেই দেরি।
এদিকে সমস্যা যে ভীষণ ভারী। লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক আর গণেশ একদিন মিলে ডাকল এক জরুরি বৈঠক। মাকে ডেকে চারজনেই একসঙ্গে বলে উঠল, “মা, এবার কিন্তু মর্তে যাওয়ার ক্যানসেল করো ঘোটক!”
মা দুগ্গা অবাক হয়ে বললেন, “কী হয়েছে বাছারা? আমায় তো বল! মামার বাড়ি তো ভারী মজা, একবার তো চল!”
“মা, ভেজ-ননভেজ খাওয়া নিয়ে সেখানে বিবাদের নেই শেষ। কে কী খাবে, কী খাবে না—এই নিয়ে ঝামেলা, গিয়ে যদি খাবারদাবার না মেলে ভরে ডালা, তাহলে গিয়ে লাভ কী শেষমেশ?” বলল চিন্তিত সুরে সিদ্ধিদাতা গণেশ।
কার্তিক সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল, “শুধু খাবারের ঝামেলা নয় মা, চারিদিকে আজ যুদ্ধ আর যুদ্ধ। দুপক্ষই অসুর, দুপক্ষই বদ। বলো দেখি, আমি কোন পক্ষ নেব? কাকেই বা করব বধ? তাই আমিও মর্তে যাওয়ার ইচ্ছে করছি রদ।”
সরস্বতীও মাথা নেড়ে বলল, “ঠিকই বলেছ ভাই। ছাত্ররা আগে খাতায় করত চুরি-নকল, এখন দেখি করছে চুরি পরীক্ষকদল! এমন হলে আমি বলো বিদ্যে দেব কোথায়? কেউ পড়ে না ধরা সেথায়। সবাই গেছে বড় বিদ্যা শিখে, বিদ্যার দেবী হয়ে আমারই লজ্জা এসব দেখে।”
এবার দেবী লক্ষ্মী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “আমার কথাই বা বাদ দিচ্ছ কেন? ভাণ্ডার ভরা সম্পদ রেখেও চুরি থামে না তবু জেনো। আমার নামেই কত কাণ্ড, কত চুরি হচ্ছে! এমন মর্তে যেতে এবার আমারও ভয় করছে।”
দুগ্গা এতক্ষণ সবার কথা শুনে বললেন, “বুঝলাম, তোমাদের সবারই যুক্তি বেশ ঠিক। তবে এই ব্যাপারে তোমাদের বাবাই বিধান দিক। দেবের দেব মহাদেবের ভাঙানো যাক ধ্যান। তিনিই নিশ্চয়ই মর্ত্যযাত্রার দেবেন একটা সমাধান।”
চারজনেই এবার হাজির মহাদেবের কাছে। সবাই মিলে বলল, “বাবা, তোমার কাছে কি এর কোনো সমাধান আছে?”
মহাদেব চোখ মেলে মন দিয়ে কথা শুনলেন সবার । বেশ কিছুক্ষণ ভাবলেন তারপর। শান্ত গলায় বললেন, “সমাধান একটা আছে, পুজো থেকে অঞ্জলি—সবই যখন অনলাইনে হচ্ছে, তখন তোমাদের আর কী কাজ মর্তে গিয়ে? চাইলে খালি আশীর্বাদ দাও পাঠিয়ে।”
চারজনে একসাথে ভিসম খেয়ে উঠল, জোরে কেশে।
মহাদেব তখন বললেন মুচকি হেসে,
“ইউজিং সাম অ্যাপ—সেন্ড আশীর্বাদ অনলাইন,
0 Comments