গৌতম বাড়ই
ছিন্নকথা
ক্ষয়ে যাওয়া মানুষের কান্না জমে থাকে
গাছের ওপারে যে গাছ তারও ওপারে
যে বনভূমি প্রান্ত প্রদেশ
যেখানে ঘুম আর খিদের বিবর্ণ সময়
যেখানে ক্লান্ত বালিয়াড়ি মাটির পিলসুজ
জানি মূল্যহীন এ পৃথিবীর সব
আমাদের যা কিছু সন্তান-সন্ততির জন্য
আমাদের গৃহঘর ভেঙে গেছে
হৃদয় ভেঙে গেছে
ভেঙেছে মাথার ভেতরে মাথার
কলকব্জা গুলি...
ক্ষমতা
এক একটা ইটের পাঁজরে লেখা থাকে
কিছু মূল্যহীন কায়িক পরিশ্রমের কথা
ক্ষমতার অলিন্দে যে মানুষগুলো বড় হচ্ছে
তাদের কোনো লিঙ্গ নেই
তারা মা মাসি পিসি খুড়ো জ্যাঠা মামা কেউ নয়
আসলে একদল গৃধ্নুদের সমষ্টি সমাহার
সমস্ত আলো নিভে গেলে এক বীভৎস অন্ধকার
সমগ্র সমাজকে গ্রাস করে
সেই অন্ধকার আসলে একটি ছায়ামূর্তি
আমাদের মানুষেরা ভজনা করে সেই অন্ধকার মূর্তির
তারপর কিছু ভজনার টাকা বাম হাতে গুঁজে
খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়ি
আজ পৃথিবী ভেসে যায় চোরাগল্পের স্রোতে
বড় নির্বিকার এই সময়
রোজনামচা
তোমার বসন্ত তোমার কাছেই থাক দি-দাদা ভাই
আমরা তো সারাদিন খেটে দু- আনা দু-পাই।
তোমার গান রবি ঠাকুর প্রাণে ইউরোপিয়ান
বাংলা নয় তারা সিঙ্গাপুর কী তাইওয়ান ।
তারা বই পড়ে কথা বলে ভিনদেশিদের ভাষা
তারাও বাঙালি আমিও তাই ছোট্ট ছোট্ট আশা।
তারা মেদিনীপুর তারা ভবানীপুর তবুও তারা ই টি
মনের গভীরে তারা পুষে রাখে এই ভাবনাটি ।
এক ইঞ্চি ডান কাত কিংবা এক ইঞ্চি বামকাত
বছর বছর চলছে আমাদের এই জীবনের ধারাপাত।
0 Comments