স্বপন কুমার দে
তুমিও একদিন
সেদিন তোমায় দেখেছি।
যেমন ছোট্ট নদী,
দুই পারে শ্যামলী চর!
হারিয়ে যাওয়াই যেত,
তবু অনিশ্চিতের উৎকণ্ঠায় আবেগ সংযত থাকে।
আবার দেখেছি,
মাঘের দুপুরে শালগাছের তলায়।
খোঁপায় ছিল বুনোফুল,
একটা নগ্ন হাত ছুঁয়েছে গাছের নিচু ডাল।
এ সময় সাহসী হওয়াই যায়।
তবু অদৃশ্য সতর্ক বার্তায় থেমে যাই।
আরও একবার, গ্রীষ্মের প্রখর রোদে,
মিছিলে দেখেছি অথবা গণজাগরণের সভামঞ্চে।
কাঠিন্যভরা সেই হাত আগে দেখিনি।
হাতটা ধরাই যেত। কিন্তু, তবুও...
আমার অনেক না বলা ইচ্ছার মতো
হাতটা গুটিয়ে নিই।
একা একা
সেই বালকের আনাগোনা এখনও, অন্দরে।
শক্ত পাথরচাপা পাতালে,
ফাঁক গলে বার বার।
সিঁড়ি ভাঙা অঙ্কের ক্লাসে চেয়ে চেয়ে দেখে নেয়
দূরে বসা কিশোরীর মুখ।
টিকালো নাকের 'পরে যাদুকরী চোখ,
ভাবনায় সুখ, হতাশায় দীর্ঘশ্বাস।
তখনও বালক, এখনও বালক।
দেখা হয় মাঝে মাঝে,
কথা হয় গোপনে গোপনে।
তবু ফাঁক রয়ে যায়— ফাঁকা মনে হয়,
তখন অন্ধকারে একা একা লাগে।
🍂
না ফুরানো গল্প
সাদা কাপড়ে শুয়ে আছে শব।
সব স্বপ্ন, —
পাপপুণ্যের যত অংশীদারী,
সব কিছু নিয়ে ঠাণ্ডা শীতল দেহ।
নিঃসাড় অন্ধকারে জেগে ওঠার স্বাদ
কোনও দিন পাবে না আবার।
একদিন স্বপ্নেরা কথা বলেছিল,
তাই ক্লান্তি হননের শেষে ফুটেছিল রক্তগোলাপ।
গন্ধে স্পর্শে ছুঁয়েছিল উত্তাল তরঙ্গ।
আজ আর নেই। স্বপ্ন শেষ।
অস্থির মরণ হাঁড়িকাঠে প্রাণ টানে।
অনন্ত শয্যায় পড়ে থাকে স্বপ্ন, সাধ।
0 Comments