বিমান কুমার মৈত্র
বিষণ্ণতা ও শহরায়ন
যেসব কোমল ও অরন্ধিত পাখিরা শীতের শুরু থেকে
সাঁতরাগাছির ঝিলে বেড়াতে আসে, ফড়িয়ারা তাদের নিয়ে
তোমাদের শিল্পাঞ্চলে চৈত্র সেলের ব্যবস্থা করেছে।
দেখে স্পষ্ট মনে হল গোটা-সেদ্ধর অরন্ধন প্রস্তাবনার আড়ালে
কিছু জটিল ছানাকাটা দুধের গন্ধ আছে, তামাকের
সুবাসের চেয়ে যা আকর্ষণীয় ও তেতো।
এই বসন্তের কলুষ বাতাসে
পোড়া জাজিমের মত অন্ধকার,
বিষাক্ত আত্মা আবিস্কার করে জলভরা আদল
ভাঙলে নতুন রস আর রোদ্দুর।
২।
তবুও, এই শহরের অবিচ্ছিন্ন অতীতে
পক্ষাঘাতগ্রস্থ আমাদের অতীত
রুমালি বাতাসে তোমার সুগন্ধিত দেহ
নিশাচর ব্যারোমিটার
কোমাচ্ছন্ন হৃৎস্পন্দন
সান্নিধ্যের কম্পাঙ্ক আর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের
শিথিল হয়ে আসা মৃত ঠোঁটের পেটের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়লে
শীতল ও রুগ্ন হাত দুটিকে স্থির হতে
বলি -সংখ্যার ঘোলাটে চোখ আমাদের
ভয় দেখায় এই শহর, এই একাকীত্ব—তবু নির্জন নয়
৩।
ধ্বংসাবশেষ এবং শেষকৃত্যের প্রেক্ষাপটে
এক প্রশান্তদায়ক তেলছবির খেলায়
সে বেছে নিয়েছিল একটি কামার্ত ঘোড়া
এবং বাগানের সমস্ত পুষ্পস্তবককে সাক্ষী রেখে
ঘোড়ার সামনের পা-দুটো উঁচুতে তুলে
লিঙ্গে সংস্থাপন করল এক রাজকীয় আচরণ
উদবৃত্ত-বিদ্যুতে এ শহরের আলোকিত আভিজাত্য
গুদামজাত লক্ষাধিক মোমবাতির উপর নজরদারি আর
সহাবস্থান সংবিধানের সাথে একটি খোলা-গোপন চুক্তির শান্তিপূর্ণ
মিছিলের দীর্ঘায়ু কামনায় … আমাদের সভ্যতার ধ্বজা যেমন।
0 Comments