Posts

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১০১

Image
ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১০১ সম্পাদকীয়, গণেশ সর্ববিঘ্নহারী, মঙ্গলমূর্তি, সিদ্ধিদাতা - একথা কেনা জানে। একবার স্বর্গে কোন দেবতা সবচেয়ে বড়ো সে নিয়ে যুদ্ধ শুরু হলে মহাদেব সকল দেবতাকে ত্রিলোক ভ্রমণে পাঠান। যে আগে ফিরবে সেই শ্রেষ্ঠ এই যুক্তিতে সবাই যেযার বাহন নিয়ে বেরিয়ে গেলেও গণেশ নিজের মাতা-পিতা, হর-পার্ব্বতীকে তিনবার প্রদক্ষিণ করে প্রণাম সেরে বসে গেল মোদক খেতে। গণেশের এই  বিচক্ষণতার জন্যই তিনি শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা পেলেন। আর আমরাও তাই যেকোন পুজোর আগে গণেশ পুজো করি, কি তাইতো? এবারের উৎসব সংখ্যাও এই রীতি মেনেই করা হল। রামামৃত কাকুর লেখা থেকে আমরা প্রথমেই গণেশকে স্মরণ করে নেব।  শুধু গণেশ কেন, গণেশের বন্ধু হাতির কীর্তির কথা অনন্যা আন্টির গল্পে পড়ে নিও। এবারের উৎসব সংখ্যা শুরু হয়েছে দু দুটি উপন্যাস দিয়ে। একটি সুকুমার জেঠুর লেখা ধানের শীষে শিশিরবিন্দু, অন্যটি তপশ্রী আন্টির থ্রিলার। থ্রিলারের রোমাঞ্চ শুধু উপন্যাসেই নয় কৃষ্ণা পিসির গল্পেও আছে। আমি জানি তোমরা আজকালকার ছেলেমেয়েরা ভূত টুতে ভয় টয় পাওনা। তাকে তোমরা পুত বানিয়ে ফেলেছো। তাই ভূতের মজা ছড়ায় লিখে দিলেন প্রভাত জেঠু। ছড়ার কথায় একটুস জ্

ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় /বিশ্বজিৎ পাণ্ডা

Image
(বাংলা ছোটোগল্পের ইতিহাসের দিকে তাকালে দ্যাখা যাবে, মাঝে মাঝেই বাঁক বদল হয়েছে তার। বিষয়— আঙ্গিক সমস্ত দিক থেকেই বিস্তর পরিবর্তন ঘটেছে। আর এই বদলের সঙ্গে গভীরভাবে সংযোগ রয়েছে সময়ের। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে বিশ শতকের পঞ্চাশের বছরগুলিতে লিখতে আসা গল্পকারদের নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। কিন্তু পঞ্চাশ-পরবর্তী ছোটোগল্প ও গল্পকারদের নিয়ে তেমন আলোচনা আমাদের নজরে আসেনি। কিন্তু এই সময়ে বাংলা ছোটোগল্প বৈভব ও ঐশ্বর্যে ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে। এই সময়-পর্বে লিখতে আসা নির্বাচিত লেখকদের চারটি করে গল্প নিয়ে বিন্যস্ত হবে এই আলোচনা। কিন্তু ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় আলোচনা সম্ভব হবে না। বিভিন্ন সংখ্যায় বিভিন্ন সময়ের গল্পকার উঠে আসবেন। এভাবেই বাংলা গল্পের অভিমুখকে চিহ্নিত করবার চেষ্টা করা হবে।) বাংলা গল্পের পালাবদল— ১২  ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় বিশ্বজিৎ পাণ্ডা সুন্দরবন— দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বাদা অঞ্চলের রূপকার কথাশিল্পী ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় (জন্ম-১৯৪৮)। এই অঞ্চলের প্রকৃতি-পরিবেশ, সমাজ-রাজনীতি-অর্থনীতি সবই আলাদা। এখানে বসবাসকারী মানুষদের প্রতিনিয়ত যেমন প্রকৃতি-পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করতে হয়, তেমনি লড়াই করতে

পাখির সম্পদ পালক /নিশান চ্যাটার্জী

Image
জীবনের গভীরে বিজ্ঞান-১৮ পাখির সম্পদ পালক নিশান চ্যাটার্জী পাখির পালক প্রকৃতির এক অনবদ্য অবদান। এটি একদিকে যেমন জীব বিবর্তনের সাক্ষ বহন করে তেমনি সুন্দর দৃশ্যের অবতারণা ঘটায়। এত অপূর্ব বাহারের সমাবেশ পৃথিবীর অন্য কোনো প্রাণীর অঙ্গে নেই বললেই চলে। রামধনুর সাতটি রঙই পাখির পালকে নানা মিশ্রণে নানা গভীরতায় পাওয়া যায়। আবার রামধনুতে যে রং অর্থাৎ কালো রং নেই, তাও পাখির পালকে থাকে। কালো রঙের জন্য দায়ী রাসায়নিক উপাদান হল মেলানিন। এই মেলানিন উদ্ভিদজগতে থাকেনা কিন্তু প্রাণী জগতে উপস্থিত। পাখির পরিচয় তার পালকের রংই বহন করে। 

যেতে যেতে পথে-৩৭/রোশেনারা খান

Image
যেতে যেতে পথে রোশেনারা খান পর্ব ৩৭

আষাঢ়ে গল্পের আল ধরে / পর্ব -এগারো /তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য

Image
আষাঢ়ে গল্পের আল ধরে  পর্ব   এগারো  তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য   মরমী মেলা 

আলপনা দণ্ডপাট (রেলস্টেশনের মহিলা হকার, খবরের কাগজ বিক্রেতা, পাঁশকুড়া) /ভাস্করব্রত পতি

Image
মেদিনীপুরের মানুষ রতন, পর্ব -- ২০ আলপনা দণ্ডপাট (রেলস্টেশনের মহিলা হকার, খবরের কাগজ বিক্রেতা, পাঁশকুড়া) ভাস্করব্রত পতি মুখে হাসি লেগেই থাকে সবসময়। কোনো ক্লান্তির ছাপ নেই। অথচ হাজার যন্ত্রনা, কষ্ট, বেদনা, হাহাকার চেপে রাখেন ঐ হাসির অন্তরালে। তাঁর কাছে 'জীবন' মানে রসমালাইয়ের মিস্টি রস নয়। তাঁর জীবনদর্শনে 'জীবন' হল ধানীলঙ্কারও অধম। অনায়াসে খাওয়া যায়না, তবুও খেতে হয় -- রসনার তাগিদে। পেট ভরানোর তাগিদে। বেঁচে থাকার অছিলায়। তিনি আলপনা দণ্ডপাট। দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ের পাঁশকুড়া রেলস্টেশনের জনপ্রিয় হকার। একমাত্র মহিলা খবরের কাগজ বিক্রেতা। এটাই তাঁর পেশা। সংসারের হাঁড়ির হাল ওঠানামা করে তাঁর দৈনন্দিন বিক্রিবাটার ওপর। আর এভাবেই পেরিয়ে এসেছেন অনেকগুলো কোকিলডাকা বসন্ত। ট্রেনগাড়ির 'ভোঁ' আওয়াজও আজ ম্লান তাঁর মেয়েলী কন্ঠের 'ফেরিওয়ালার ডাক' আর ব্যস্ত নিঃশ্বাসের শব্দের কাছে। মেদিনীপুর প্রসব করেছে ভগবতী দেবীকে। মাতঙ্গিনী হাজরাকে। আভা মাইতিকে। ইন্দুমতি ভট্টাচার্যকে। সেই জেলার মেয়েদের শরীরে যে আলাদা বিদ্যুৎ থাকে তা বারবার প্রমানিত। এঁদের বিষয়ে এতো

তানসেন - এক অসাধারণ সঙ্গীতশিল্পী /নবম পর্ব /দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী

Image
তানসেন - এক অসাধারণ সঙ্গীতশিল্পী                নবম পর্ব          দেবী প্রসাদ ত্রিপাঠী এই দিন ছিল শুক্রবার বা জুম্মাবার। মিঞা খোদাবক্সের আজ গান গাওয়ার দিন। তাই তিনি নিজের আসন ছেড়ে উঠে সঙ্গীত পরিবেশন করার উপক্রম করবার সময় বীরবল সম্রাটকে কুর্নিশ জানিয়ে বললেন "জাহাঁপনা, আমার একটি আবেদন আছে। বেশ কিছুদিন হল আমরা যারা দরবারীরা প্রত্যহ এখানে উপস্থিত হই তারা সভাগায়ক সঙ্গীত সম্রাট তানসেনের কন্ঠ মাধুর্য শুনতে পাইনি। তাছাড়াও আজকের এই প্রচণ্ড দাবদাহে তানসেনের গান শুনে আমরাও শান্তি লাভ করতে পারি এবং আপনিও মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হতে পারবেন। আপনি অনুমতি করলে হয়তোবা তিনি গান গাইবেন। বীরবলের কথা শুনে সম্রাট বললেন "কবিবর আপনার প্রস্তাব অতি উত্তম। তাহলে মিঞা তানসেনের সংগীতের মাধ্যমেই আজকের সভা শেষ হোক"। সম্রাট একথা বললেন বটে কিন্তু তাঁর স্মরণে ছিলনা যে আজকে মিঞা খোদাবক্সের সংগীত পরিবেশন করার দিন। পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে তানসেনের জন্য কোন নির্দিষ্ট দিন ধার্য নেই। তিনি কেবল মাত্র সম্রাটের অনুরোধে গান গেয়ে থাকেন।                                         কবিবর বীরবলের প্রস্ত